শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:২১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, January 18, 2017 7:25 pm
A- A A+ Print

অনলাইনে বিল পরিশোধে সাড়া নেই

বছর কয়েক আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এখন আর সে ঝামেলা নেই। যেকোনো জায়গায় বসে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারছেন অনলাইনে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের মতো অনলাইনে বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবার (ইউটিলিটি) বিল দেওয়ারও সুযোগ আছে। ব্যাংকে না গিয়ে ঘরে বসেই বিল দেওয়া যায়, অনলাইনে বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। সমীক্ষা বলছে, এ ধরনের ই-সেবা নাগরিকদের সময় বাঁচাচ্ছে, ঝামেলা কমাচ্ছে। কিন্তু তারপরও এই ই-সেবা নাগরিকদের টানতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রচারের অভাব, প্রযুক্তি ভীতি ও আস্থার সংকট এর জন্য দায়ী। ঢাকা ওয়াসা অনলাইনে বিল পরিশোধের সেবা শুরু করে ২০১০ সালে। ওয়াসার ওয়েবসাইটে গিয়ে বিল পরিশোধের সুযোগ আছে। ক্রেডিট কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা দেওয়া যায়। এর ফলে যেকোনো গ্রাহক যেকোনো জায়গা থেকে তাঁর বিল পরিশোধ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁকে সশরীরে ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিতে হবে না। বখতিয়ার আহমদ নামে ঢাকা ওয়াসার একজন গ্রাহক বলেন, গত অক্টোবরে তিনি ওয়াসার বিল দিতে মিরপুরে একটি ব্যাংকে গিয়েছিলেন। সেখানে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে ওই দিন বিল দিতে পারেননি। পরে পরিচিত একজনের কাছে জানতে পারেন অনলাইনে বিল দেওয়ার সুযোগ আছে। কিছুটা সংশয় থাকলেও তিনি অনলাইনে বিল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সফল হন। এরপর থেকে তিনি অনলাইনেই বিল পরিশোধ করছেন। তিনি বলেন, এতে সবচেয়ে সুবিধা হচ্ছে নিজের সুবিধামতো সময়ে বিল দেওয়া যাচ্ছে, ব্যাংকে যাওয়ার দরকার হচ্ছে না। ঢাকা ওয়াসার এই সেবা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকল্প একসেস টু ইনফরমেশন—এটুআইয়ের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই সেবা বিল দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকের সময় কমিয়েছে ৭৪ শতাংশ। গড়ে ৫ টাকা খরচ কম হচ্ছে। ১৫৫ জনের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা যায়, মাত্র ২৫ শতাংশ গ্রাহক অনলাইনে বিল পরিশোধ করছেন। ৬৫ শতাংশ পুরোনো পদ্ধতিতেই বিল দিচ্ছেন। আর ১০ শতাংশ অনলাইনে ও পুরোনো পদ্ধতি মিলিয়ে দিচ্ছেন। অনলাইনে বিল দিতে এক ঘণ্টার কম সময় লেগেছে ৯০ শতাংশের, আর যাঁরা ব্যাংকে গিয়ে দিয়েছেন মাত্র ৩০ শতাংশ এই সময়ে বিল দিতে পেরেছেন। ৮৪ শতাংশ বলেছেন, এই সেবায় তাঁদের শ্রম এবং ঝামেলা কমেছে। কিন্তু গ্রাহকদের বড় অংশ এই সেবা সম্পর্কে জানেন না। ফলে এটি খুব বেশি গ্রাহককে টানতে পারছে না। জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানবলেন , ওয়াসা এখন পুরোপুরি রিয়েল টাইম অনলাইন বিলিং সিস্টেম চালু করেছে। ৩২টি ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে বিল দেওয়া যায়। পাশাপাশি ওয়াসার ওয়েব সাইটে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেও বিল দেওয়া যায়। কিন্তু তাঁর ধারণা, ৯০ শতাংশ গ্রাহক এখনো ব্যাংকে গিয়ে বিল জমা দেন। এর কারণ হলো, এখনো গ্রাহকদের মানসিকতা সেভাবে পরিবর্তন হয়নি। আর সাধারণত ঢাকা শহরে বেশির ভাগ বাড়ির পানির বিল বাড়ির মালিক নিজে জমা দেন না, কেয়ারটেকার জমা দেন। তাঁদের ইন্টারনেট একসেস সেভাবে নেই। তিনি বলেন, তবে এখন মানসিকতার পরিবর্তন হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও হবে। ওয়াসার মতো ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) ২০১০ সালের ৪ জুন অনলাইনে বিল দেওয়ার সুবিধা চালু করে। ডেসকোর এই ই-সেবা নিয়ে এটুআই ১৫২ জন গ্রাহকের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়েছে। তাতে দেখা গেছে, যাঁরা অনলাইনে বিল পরিশোধ করছেন তাঁদের ৮৪ শতাংশ বলেছেন বিল দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ৩০ মিনিটের কম সময় লাগে। অন্যদিকে যাঁরা সশরীরে গিয়ে বিল দিচ্ছেন তাঁদের ৪৫ শতাংশ বলেছেন, বিল দিতে ৩০ মিনিটের বেশি সময় লাগে আর ২০ শতাংশের এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, ডেসকোর ই-সেবা ৬৩ শতাংশ সময় কমাচ্ছে। অনলাইনে বিল পরিশোধে কম সময় লাগলেও এই সেবা এখনো খুব বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। ডেসকোর ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে ২৪ হাজার ৬১৮টি বিল অনলাইনে (ক্রেডিট কার্ড) পরিশোধ করা হয় (৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা)। মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে বিল পরিশোধ হয়েছে ৫ লাখ ৯২ হাজার ৭৯৬টি (১১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা)। এ ছাড়া ডেসকোর লাইভ পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে বিল পরিশোধের সুযোগ আছে। নির্ধারিত কিছু ব্যাংকের গ্রাহকেরা এই সুবিধা পান। গত অর্থবছরে এই মাধ্যমে ৬ লাখ ২৪ হাজার ৫২টি বিল পরিশোধিত হয়েছে (২২৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা)। এই তিন মাধ্যমে বিল পরিশোধ হয়েছে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার মতো। আর ওই বছর ডেসকোর মোট আদায় ছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি। এটুআইয়ের সমীক্ষাতেও একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে ৫৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাঁরা ম্যানুয়ালি বিল পরিশোধ করছেন। আর অনলাইনে বিল দিচ্ছেন মাত্র ২৫ শতাংশ। বাকি ২২ শতাংশ অনলাইন এবং সশরীরে দুভাবেই বিল দেন। অনলাইনে বিল পরিশোধ করার ক্ষেত্রে মোবাইলে ৭৩ শতাংশ টাকা পরিশোধ করছেন। ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, অনলাইনে বিল পরিশোধ করতে গিয়ে গ্রাহকদের অনেকে অনিশ্চয়তায় ভোগেন। বিল আসলেই পরিশোধ হয়েছে কি না তা নিয়ে অনেকে সংশয়ে থাকেন। আর বেশির ভাগ গ্রাহক এই সেবা সম্পর্কে জানেন না। অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনলাইনে কোনো ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে বিল দেওয়ার সুযোগ আছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের গত বছরের সেপ্টেম্বরের হিসাবে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লায় তাদের ৩১ লাখ ৬ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৬ লাখ ৯১ হাজার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করেন। শতকরা হিসাবে এটি মাত্র ২২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-ডিপিডিসির হিসেবে গ্রামীণফোনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের এপ্রিলে ১৩ হাজার ১৭৬টি বিল পরিশোধ করা হয়। আর গত বছরের নভেম্বরে এই সেবা নিয়েছে ৬৮ হাজার ৭৬৯টি।

Comments

Comments!

 অনলাইনে বিল পরিশোধে সাড়া নেইAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

অনলাইনে বিল পরিশোধে সাড়া নেই

Wednesday, January 18, 2017 7:25 pm

বছর কয়েক আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এখন আর সে ঝামেলা নেই। যেকোনো জায়গায় বসে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারছেন অনলাইনে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের মতো অনলাইনে বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবার (ইউটিলিটি) বিল দেওয়ারও সুযোগ আছে। ব্যাংকে না গিয়ে ঘরে বসেই বিল দেওয়া যায়, অনলাইনে বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে।

সমীক্ষা বলছে, এ ধরনের ই-সেবা নাগরিকদের সময় বাঁচাচ্ছে, ঝামেলা কমাচ্ছে। কিন্তু তারপরও এই ই-সেবা নাগরিকদের টানতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রচারের অভাব, প্রযুক্তি ভীতি ও আস্থার সংকট এর জন্য দায়ী।

ঢাকা ওয়াসা অনলাইনে বিল পরিশোধের সেবা শুরু করে ২০১০ সালে। ওয়াসার ওয়েবসাইটে গিয়ে বিল পরিশোধের সুযোগ আছে। ক্রেডিট কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা দেওয়া যায়। এর ফলে যেকোনো গ্রাহক যেকোনো জায়গা থেকে তাঁর বিল পরিশোধ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁকে সশরীরে ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিতে হবে না।

বখতিয়ার আহমদ নামে ঢাকা ওয়াসার একজন গ্রাহক বলেন, গত অক্টোবরে তিনি ওয়াসার বিল দিতে মিরপুরে একটি ব্যাংকে গিয়েছিলেন। সেখানে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে ওই দিন বিল দিতে পারেননি। পরে পরিচিত একজনের কাছে জানতে পারেন অনলাইনে বিল দেওয়ার সুযোগ আছে। কিছুটা সংশয় থাকলেও তিনি অনলাইনে বিল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সফল হন। এরপর থেকে তিনি অনলাইনেই বিল পরিশোধ করছেন। তিনি বলেন, এতে সবচেয়ে সুবিধা হচ্ছে নিজের সুবিধামতো সময়ে বিল দেওয়া যাচ্ছে, ব্যাংকে যাওয়ার দরকার হচ্ছে না।

ঢাকা ওয়াসার এই সেবা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকল্প একসেস টু ইনফরমেশন—এটুআইয়ের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই সেবা বিল দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকের সময় কমিয়েছে ৭৪ শতাংশ। গড়ে ৫ টাকা খরচ কম হচ্ছে। ১৫৫ জনের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা যায়, মাত্র ২৫ শতাংশ গ্রাহক অনলাইনে বিল পরিশোধ করছেন। ৬৫ শতাংশ পুরোনো পদ্ধতিতেই বিল দিচ্ছেন। আর ১০ শতাংশ অনলাইনে ও পুরোনো পদ্ধতি মিলিয়ে দিচ্ছেন। অনলাইনে বিল দিতে এক ঘণ্টার কম সময় লেগেছে ৯০ শতাংশের, আর যাঁরা ব্যাংকে গিয়ে দিয়েছেন মাত্র ৩০ শতাংশ এই সময়ে বিল দিতে পেরেছেন। ৮৪ শতাংশ বলেছেন, এই সেবায় তাঁদের শ্রম এবং ঝামেলা কমেছে। কিন্তু গ্রাহকদের বড় অংশ এই সেবা সম্পর্কে জানেন না। ফলে এটি খুব বেশি গ্রাহককে টানতে পারছে না।

জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানবলেন , ওয়াসা এখন পুরোপুরি রিয়েল টাইম অনলাইন বিলিং সিস্টেম চালু করেছে। ৩২টি ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে বিল দেওয়া যায়। পাশাপাশি ওয়াসার ওয়েব সাইটে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেও বিল দেওয়া যায়। কিন্তু তাঁর ধারণা, ৯০ শতাংশ গ্রাহক এখনো ব্যাংকে গিয়ে বিল জমা দেন। এর কারণ হলো, এখনো গ্রাহকদের মানসিকতা সেভাবে পরিবর্তন হয়নি। আর সাধারণত ঢাকা শহরে বেশির ভাগ বাড়ির পানির বিল বাড়ির মালিক নিজে জমা দেন না, কেয়ারটেকার জমা দেন। তাঁদের ইন্টারনেট একসেস সেভাবে নেই। তিনি বলেন, তবে এখন মানসিকতার পরিবর্তন হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও হবে।

ওয়াসার মতো ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) ২০১০ সালের ৪ জুন অনলাইনে বিল দেওয়ার সুবিধা চালু করে। ডেসকোর এই ই-সেবা নিয়ে এটুআই ১৫২ জন গ্রাহকের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়েছে। তাতে দেখা গেছে, যাঁরা অনলাইনে বিল পরিশোধ করছেন তাঁদের ৮৪ শতাংশ বলেছেন বিল দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ৩০ মিনিটের কম সময় লাগে। অন্যদিকে যাঁরা সশরীরে গিয়ে বিল দিচ্ছেন তাঁদের ৪৫ শতাংশ বলেছেন, বিল দিতে ৩০ মিনিটের বেশি সময় লাগে আর ২০ শতাংশের এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, ডেসকোর ই-সেবা ৬৩ শতাংশ সময় কমাচ্ছে।

অনলাইনে বিল পরিশোধে কম সময় লাগলেও এই সেবা এখনো খুব বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। ডেসকোর ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে ২৪ হাজার ৬১৮টি বিল অনলাইনে (ক্রেডিট কার্ড) পরিশোধ করা হয় (৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা)। মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে বিল পরিশোধ হয়েছে ৫ লাখ ৯২ হাজার ৭৯৬টি (১১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা)। এ ছাড়া ডেসকোর লাইভ পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে বিল পরিশোধের সুযোগ আছে। নির্ধারিত কিছু ব্যাংকের গ্রাহকেরা এই সুবিধা পান। গত অর্থবছরে এই মাধ্যমে ৬ লাখ ২৪ হাজার ৫২টি বিল পরিশোধিত হয়েছে (২২৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা)। এই তিন মাধ্যমে বিল পরিশোধ হয়েছে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার মতো। আর ওই বছর ডেসকোর মোট আদায় ছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি।

এটুআইয়ের সমীক্ষাতেও একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে ৫৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাঁরা ম্যানুয়ালি বিল পরিশোধ করছেন। আর অনলাইনে বিল দিচ্ছেন মাত্র ২৫ শতাংশ। বাকি ২২ শতাংশ অনলাইন এবং সশরীরে দুভাবেই বিল দেন। অনলাইনে বিল পরিশোধ করার ক্ষেত্রে মোবাইলে ৭৩ শতাংশ টাকা পরিশোধ করছেন।

ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, অনলাইনে বিল পরিশোধ করতে গিয়ে গ্রাহকদের অনেকে অনিশ্চয়তায় ভোগেন। বিল আসলেই পরিশোধ হয়েছে কি না তা নিয়ে অনেকে সংশয়ে থাকেন। আর বেশির ভাগ গ্রাহক এই সেবা সম্পর্কে জানেন না।

অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনলাইনে কোনো ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে বিল দেওয়ার সুযোগ আছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের গত বছরের সেপ্টেম্বরের হিসাবে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লায় তাদের ৩১ লাখ ৬ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৬ লাখ ৯১ হাজার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করেন। শতকরা হিসাবে এটি মাত্র ২২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-ডিপিডিসির হিসেবে গ্রামীণফোনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের এপ্রিলে ১৩ হাজার ১৭৬টি বিল পরিশোধ করা হয়। আর গত বছরের নভেম্বরে এই সেবা নিয়েছে ৬৮ হাজার ৭৬৯টি।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X