বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:৩৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, January 28, 2017 7:21 pm
A- A A+ Print

অনিশ্চিত গন্তব্যে বিএনপির রাজনীতি

52

বিএনপির প্রতিষ্ঠার পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে কয়েকবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি ভোটের রাজনীতিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। ২০১৩ সালে অনেকেই মনে করেছিলো বিরোধী দল থেকে সরকারী দলে পরিণত হওয়ার জন্য শুধুমাত্র কয়েক মাস পরের সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিল। কিন্ত ‘সেই’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং যার ফলে ওলটপালট হয়ে যায় বিএনপির সব হিসাব নিকাশ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর বিতর্কিত নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মামলার বেড়াজালে আটকে দেয়। জনগণের ভোট চলে যায় নির্বাসনে, বিধ্বস্ত হয়ে যায় বিএনপি। তবে অবাক করারর বিষয় যে এত বিশাল জনপ্রিয়তা থাকার সময়ে প্রতিষ্ঠার ৩৮তম বার্ষিকীতে এসে দলটি এখন অস্বাভাবিকভাবে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দলটি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না। কারণ দলটি এখন দীর্ঘতম সময় সরকারের বাইরে থাকার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দুরাবস্থায় রয়েছে। বিএনপির জন্য এখন পরিস্থিতি এমন যে রাজনীতি করতে হলে হয় জীবন হাতে নিয়ে রাজপথে আসো, জেল খাটো, ঘর ছাড়ো আর না হয় রাজনীতিটাই ছেড়ে দাও। দশম সংসদ নির্বাচনের সময় থেকে দুটো বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। বিএনপি রাজনীতি করতে পারবে না এবং জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে না। শুধু এ অবস্থা চলমান থাকলেই বিএনপিকে দৃশ্যত ‘অচল’ হয়ে থাকতে হবে। বিএনপি এখন যে বিপর্যয়ে পড়েছে তা কি এড়ানো যেত না ? এটা নিশ্চিত ছিল যে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি অংশ গ্রহণ করতো এবং আজকের এ পরিণতি ভোগ করতে হতো না। সংসদ নির্বাচনের ছয় মাস আগে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনই তার প্রমাণ। কিন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা না থাকায় বিএনপি অনিবার্য আশঙ্কা থেকে সে নির্বাচন বয়কট করে। নেমে পড়ে নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে। সে আন্দোলনের কারণেই ১৫৩ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। বাকি আসনগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি সেদিনের মিডিয়ায় হাসি তামাশার খোরাক হয়েছিল। এরপরও যদি বলা হয় যে বিএনপি ভোট ঠেকাতে পারেনি তাহলে গণতন্ত্র ও নির্বাচনকে জনগণের সাথে সম্পর্কহীন হিসাবেই বিবেচনা করতে হয়। যে পরিকল্পনায় ম্যান্ডেটকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসাবে ধরা হয়েছিল সে পরিকল্পনার প্রাথমিক বাস্তবায়নে বিএনপির এ পরিণতি অনিবার্য ছিল। বিএনপির শক্তির প্রধান উৎস বিশাল ভোট ব্যাংক। সেই ভোট ব্যাংকের উপর ভর করেই বিএনপি সরকারে ফিরে আসতে চেয়েছিল। কিন্ত সেই জনগণকেই ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে দশম সংসদ নির্বাচনে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। আগামীতে সবগুলো আসনে ভোট না হলেও সরকার গঠনে আইনগত সমস্যা হবে না। আবার যে নির্বাচনে জনগণের ভোট জয় পরাজয়ে কোনো প্রভাব রাখবে না সেরুপ নির্বাচনে বিএনপির সুদিন ফিরবে না। অন্যদিকে বিএনপির অংশগ্রহণ করা না করাতে নির্বাচন ও সরকার গঠনেও কোনো সমস্যা হবে না। এভাবে যদি বিএনপিকে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ কিংবা প্রতিদন্দ্বিতার বাইরে রাখা যায় কিংবা জনমতের প্রতিফলন এড়ানো ভোট সম্ভব হয় তাহলে রাজনীতির সাথে সাথে দলটিও অদৃশ্যমান হয়ে যাবে।

Comments

Comments!

 অনিশ্চিত গন্তব্যে বিএনপির রাজনীতিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

অনিশ্চিত গন্তব্যে বিএনপির রাজনীতি

Saturday, January 28, 2017 7:21 pm
52

বিএনপির প্রতিষ্ঠার পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে কয়েকবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি ভোটের রাজনীতিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।

২০১৩ সালে অনেকেই মনে করেছিলো বিরোধী দল থেকে সরকারী দলে পরিণত হওয়ার জন্য শুধুমাত্র কয়েক মাস পরের সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিল। কিন্ত ‘সেই’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং যার ফলে ওলটপালট হয়ে যায় বিএনপির সব হিসাব নিকাশ।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর বিতর্কিত নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মামলার বেড়াজালে আটকে দেয়। জনগণের ভোট চলে যায় নির্বাসনে, বিধ্বস্ত হয়ে যায় বিএনপি।

তবে অবাক করারর বিষয় যে এত বিশাল জনপ্রিয়তা থাকার সময়ে প্রতিষ্ঠার ৩৮তম বার্ষিকীতে এসে দলটি এখন অস্বাভাবিকভাবে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দলটি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না। কারণ দলটি এখন দীর্ঘতম সময় সরকারের বাইরে থাকার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দুরাবস্থায় রয়েছে।

বিএনপির জন্য এখন পরিস্থিতি এমন যে রাজনীতি করতে হলে হয় জীবন হাতে নিয়ে রাজপথে আসো, জেল খাটো, ঘর ছাড়ো আর না হয় রাজনীতিটাই ছেড়ে দাও। দশম সংসদ নির্বাচনের সময় থেকে দুটো বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। বিএনপি রাজনীতি করতে পারবে না এবং জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে না। শুধু এ অবস্থা চলমান থাকলেই বিএনপিকে দৃশ্যত ‘অচল’ হয়ে থাকতে হবে।

বিএনপি এখন যে বিপর্যয়ে পড়েছে তা কি এড়ানো যেত না ? এটা নিশ্চিত ছিল যে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি অংশ গ্রহণ করতো এবং আজকের এ পরিণতি ভোগ করতে হতো না। সংসদ নির্বাচনের ছয় মাস আগে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনই তার প্রমাণ।

কিন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা না থাকায় বিএনপি অনিবার্য আশঙ্কা থেকে সে নির্বাচন বয়কট করে। নেমে পড়ে নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে। সে আন্দোলনের কারণেই ১৫৩ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। বাকি আসনগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি সেদিনের মিডিয়ায় হাসি তামাশার খোরাক হয়েছিল। এরপরও যদি বলা হয় যে বিএনপি ভোট ঠেকাতে পারেনি তাহলে গণতন্ত্র ও নির্বাচনকে জনগণের সাথে সম্পর্কহীন হিসাবেই বিবেচনা করতে হয়। যে পরিকল্পনায় ম্যান্ডেটকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসাবে ধরা হয়েছিল সে পরিকল্পনার প্রাথমিক বাস্তবায়নে বিএনপির এ পরিণতি অনিবার্য ছিল।

বিএনপির শক্তির প্রধান উৎস বিশাল ভোট ব্যাংক। সেই ভোট ব্যাংকের উপর ভর করেই বিএনপি সরকারে ফিরে আসতে চেয়েছিল। কিন্ত সেই জনগণকেই ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে দশম সংসদ নির্বাচনে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। আগামীতে সবগুলো আসনে ভোট না হলেও সরকার গঠনে আইনগত সমস্যা হবে না।

আবার যে নির্বাচনে জনগণের ভোট জয় পরাজয়ে কোনো প্রভাব রাখবে না সেরুপ নির্বাচনে বিএনপির সুদিন ফিরবে না। অন্যদিকে বিএনপির অংশগ্রহণ করা না করাতে নির্বাচন ও সরকার গঠনেও কোনো সমস্যা হবে না। এভাবে যদি বিএনপিকে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ কিংবা প্রতিদন্দ্বিতার বাইরে রাখা যায় কিংবা জনমতের প্রতিফলন এড়ানো ভোট সম্ভব হয় তাহলে রাজনীতির সাথে সাথে দলটিও অদৃশ্যমান হয়ে যাবে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X