বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১:০২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, January 30, 2017 10:03 am
A- A A+ Print

অবসর ও কল্যাণ বোর্ড : ৭৫ হাজার শিক্ষকের আবেদন নিষ্পত্তিতে বিশেষ উদ্যোগ

9

অবসর ও কল্যাণ বোর্ডের ৭৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অবসরোত্তর সুবিধা ও কল্যাণের টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ছাড়াও শিক্ষকদের মাসিক চাঁদা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া গত বছর বাজেটে সিড মানির ৫০০ কোটি টাকা ও  বরাদ্দ হিসেবে পাওয়া আরো ১০০ কোটি টাকা ফান্ডে জমা হচ্ছে। চলতি বছরের মতো আগামী বছরের বাজেটে আরো সিড মানি দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে শিক্ষকদের অবসরোত্তর পাওনা দ্রুত সময়ে পাবেন বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। কর্মকর্তারা বলছেন, ডিসেম্বর ২০১৬ সাল পর্যন্ত অবসর ও কল্যাণ বোর্ডের মোট আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৭৫ হাজার। এরমধ্যে অবসর বোর্ডে ৪৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে সাড়ে ১৮ শ’ এবং কল্যাণের ৩০ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে আরো ৬ শ’ কোটি টাকা লাগবে। সবমিলিয়ে ৭৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে এই মুহূর্তে দরকার ২৬০০ কোটি টাকা। এই বিশাল অঙ্কের টাকার প্রয়োজন মিটাতে দুই বোর্ড ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাঁদার হার ৬ শতাংশ (অবসর ৪, কল্যাণ ২) থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ (অবসর ৬ ও কল্যাণ ৪) করা হচ্ছে। ৯০ দশকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হলেও মাঝখানে তা বন্ধ ছিল। এখন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করা হবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে অবসর সুবিধা বোর্ডের বাড়তি চাঁদা আদায়ের প্রজ্ঞাপন আগামী সপ্তাহেই জারি করা হতে পারে। আর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা বেশকিছু প্রক্রিয়া আছে সেটি শেষ করার পর প্রজ্ঞাপন জারি হবে। অবসর ও কল্যাণ বোর্ড তথ্যমতে, শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি মাসের বেতন থেকে ৪ শতাংশ টাকা দিয়ে প্রতি মাসে ১৮ কোটি টাকা আয় হয়। আর প্রতি মাসে অবসর সুবিধার জন্য প্রয়োজন হয় ৩৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি ১৮ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে নতুন বেতন স্কেল ঘোষণার পরে ঘাটতি আরো বেড়ে গেছে। অর্থাৎ ২০১৫ সালের জুন মাসের আগে ও পরে একজন শিক্ষকের অবসর সুবিধা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। চাঁদার হার না বাড়ালে প্রতি মাসের ঘাটতি ১৮ কোটি থেকে ৩৬ কোটি টাকায় পৌঁছাবে। একই অবস্থা কল্যাণ বোর্ডেও। কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিবছর অবসর ভাতার জন্য যে আবেদন জমা পড়ে তা নিষ্পত্তিতে গড়ে ৪৩৬ কোটি টাকা প্রয়োজন। ১ বছরে বেতন থেকে কেটে নেয়া হয় ২১৬ কোটি টাকা। ঘাটতি থাকে ২২০ কোটি টাকা। ৮ম পে-স্কেল অনুযায়ী অবসর সুবিধা দেয়া হলে এই ঘাটতি দাঁড়াবে ৪১৮ কোটি টাকায়। এই ঘাটতি পূরণের জন্য বোর্ডের সভায় সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় বিকল্প প্রস্তাব চান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক চাঁদার হার বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সায় পাওয়ার পর তা প্রজ্ঞাপন জারি করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ সাদী বলেন, বিশেষ বরাদ্দের এক শ’ কোটি টাকা হাতে এসেছে। আর বাজেটে সিড মানি হিসেবে দেয়া ৬ শ’ কোটি টাকা এখনো বোর্ডের ফান্ডে আসেনি। তবে বরাদ্দকৃত টাকার ১শ’ কোটি টাকা তাৎক্ষণিক খরচের নির্দেশনা আছে। এই অর্থ ধারাবাহিকভাবে তাদের চেক হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং উভয় বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর তহবিলের আর্থিক সংকট নিরসনে শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক চাঁদা ২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অবসর সুবিধা বোর্ড আইন সংশোধন করে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু বলেন, ১৮ই জানুয়ারি ১১ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে ১৭০ কোটি টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে আরো ২০ হাজার আবেদন জমা আছে। নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী এসব আবেদন নিষ্পত্তি করতে ৬০০ কোটি টাকা দরকার।

Comments

Comments!

 অবসর ও কল্যাণ বোর্ড : ৭৫ হাজার শিক্ষকের আবেদন নিষ্পত্তিতে বিশেষ উদ্যোগAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

অবসর ও কল্যাণ বোর্ড : ৭৫ হাজার শিক্ষকের আবেদন নিষ্পত্তিতে বিশেষ উদ্যোগ

Monday, January 30, 2017 10:03 am
9

অবসর ও কল্যাণ বোর্ডের ৭৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অবসরোত্তর সুবিধা ও কল্যাণের টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ছাড়াও শিক্ষকদের মাসিক চাঁদা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া গত বছর বাজেটে সিড মানির ৫০০ কোটি টাকা ও  বরাদ্দ হিসেবে পাওয়া আরো ১০০ কোটি টাকা ফান্ডে জমা হচ্ছে। চলতি বছরের মতো আগামী বছরের বাজেটে আরো সিড মানি দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে শিক্ষকদের অবসরোত্তর পাওনা দ্রুত সময়ে পাবেন বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
কর্মকর্তারা বলছেন, ডিসেম্বর ২০১৬ সাল পর্যন্ত অবসর ও কল্যাণ বোর্ডের মোট আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৭৫ হাজার। এরমধ্যে অবসর বোর্ডে ৪৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে সাড়ে ১৮ শ’ এবং কল্যাণের ৩০ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে আরো ৬ শ’ কোটি টাকা লাগবে। সবমিলিয়ে ৭৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে এই মুহূর্তে দরকার ২৬০০ কোটি টাকা। এই বিশাল অঙ্কের টাকার প্রয়োজন মিটাতে দুই বোর্ড ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাঁদার হার ৬ শতাংশ (অবসর ৪, কল্যাণ ২) থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ (অবসর ৬ ও কল্যাণ ৪) করা হচ্ছে। ৯০ দশকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হলেও মাঝখানে তা বন্ধ ছিল। এখন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করা হবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে অবসর সুবিধা বোর্ডের বাড়তি চাঁদা আদায়ের প্রজ্ঞাপন আগামী সপ্তাহেই জারি করা হতে পারে। আর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা বেশকিছু প্রক্রিয়া আছে সেটি শেষ করার পর প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
অবসর ও কল্যাণ বোর্ড তথ্যমতে, শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি মাসের বেতন থেকে ৪ শতাংশ টাকা দিয়ে প্রতি মাসে ১৮ কোটি টাকা আয় হয়। আর প্রতি মাসে অবসর সুবিধার জন্য প্রয়োজন হয় ৩৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি ১৮ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে নতুন বেতন স্কেল ঘোষণার পরে ঘাটতি আরো বেড়ে গেছে। অর্থাৎ ২০১৫ সালের জুন মাসের আগে ও পরে একজন শিক্ষকের অবসর সুবিধা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। চাঁদার হার না বাড়ালে প্রতি মাসের ঘাটতি ১৮ কোটি থেকে ৩৬ কোটি টাকায় পৌঁছাবে। একই অবস্থা কল্যাণ বোর্ডেও। কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিবছর অবসর ভাতার জন্য যে আবেদন জমা পড়ে তা নিষ্পত্তিতে গড়ে ৪৩৬ কোটি টাকা প্রয়োজন। ১ বছরে বেতন থেকে কেটে নেয়া হয় ২১৬ কোটি টাকা। ঘাটতি থাকে ২২০ কোটি টাকা। ৮ম পে-স্কেল অনুযায়ী অবসর সুবিধা দেয়া হলে এই ঘাটতি দাঁড়াবে ৪১৮ কোটি টাকায়। এই ঘাটতি পূরণের জন্য বোর্ডের সভায় সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় বিকল্প প্রস্তাব চান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক চাঁদার হার বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সায় পাওয়ার পর তা প্রজ্ঞাপন জারি করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ সাদী বলেন, বিশেষ বরাদ্দের এক শ’ কোটি টাকা হাতে এসেছে। আর বাজেটে সিড মানি হিসেবে দেয়া ৬ শ’ কোটি টাকা এখনো বোর্ডের ফান্ডে আসেনি। তবে বরাদ্দকৃত টাকার ১শ’ কোটি টাকা তাৎক্ষণিক খরচের নির্দেশনা আছে। এই অর্থ ধারাবাহিকভাবে তাদের চেক হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং উভয় বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর তহবিলের আর্থিক সংকট নিরসনে শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক চাঁদা ২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অবসর সুবিধা বোর্ড আইন সংশোধন করে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু বলেন, ১৮ই জানুয়ারি ১১ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে ১৭০ কোটি টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে আরো ২০ হাজার আবেদন জমা আছে। নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী এসব আবেদন নিষ্পত্তি করতে ৬০০ কোটি টাকা দরকার।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X