সোমবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৭:১৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, November 11, 2016 12:29 pm
A- A A+ Print

অযোগ্য এমপিদের বাদ দিবেন শেখ হাসিনা

7

বেতারে বিদ্যুৎ সংযোগ হয় না, তার লাগে। তেমনি, মনের তারে বাঁধতে হয় মানুষকে, নইলে নির্বাচনে ভোট বাক্স ভরে না। সাফল্যের আলো জ্বলে না। নিজের আখের গুছোতে গেলে তার ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন। মানুষ বেজার বিরক্ত। তোয়াজেও কাজ হয় না। প্রার্থীর সব প্রতিশ্রুতি তখন ফাঁকা বুলি। কাছে গেলে তারা দূরে সরে। প্রাপ্তি কেবল প্রত্যাখানের যন্ত্রণা। সেই শঙ্কা আওয়ামী লীগের অনেক এমপিদেরই। সংখ্যাটা পঞ্চাশের কম নয়। এত দিন দলের চাক ভেঙে মধু খেয়েছেন। মৌচাকে মৌ সংগ্রহের দায়িত্ব নেননি। আওয়ামী লীগের ব্ল্যাক লিস্টে তাদের নাম। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াটা অনিশ্চিত। তাদের অনেকেই ভেবেছিলেন, শেখ হাসিনার ভাবমূর্তিতে ভর করে নির্বাচনী বৈতরণী পেরোবেন। সেটা হবে না। অপদার্থরা হাসিনার কৃতিত্বের ভাগ পাবেন কেন। দলটা হাসিনার একার নয়। তার নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতা কর্মীর প্রাণান্ত পরিশ্রমে দলটা আজ এই জায়গায়। বিরোধীরা বিভ্রান্ত। আওয়ামি লিগের সঙ্গে লড়বে কী করে ভেবে পাচ্ছে না। এটা ঠিক হাসিনার নামে ল্যামপোস্টকে দাঁড় করালেও ভোটে জিতবে। সেটা হাসিনার কৃতিত্ব। বিচক্ষণতা, দৃঢ়তা, সত্যনিষ্ঠা কর্মনিষ্ঠায় তিনি বিশ্বজনীন। তিন বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে ধীরে ধীরে দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন উচ্চতার শিখরে। ৩৫ বছর ধরে দলের হাল ধরে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের রূপকার। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দল ফুলে ফেঁপে উঠেছে। সদস্য সংখ্যা সীমাহীন। সেখানে কোনো ফাঁকিবাজি কি মানা যায়! কেউ মরে বিল ছেঁচে, কেউ খায় কই। দলের সাফল্যে অনুরঞ্জিত হবেন, অবদান রাখবেন না। কোনো কোনো এমপি আবার নিজের ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে এতটাই ব্যস্ত, রাজনীতিতে সময় দিতে পারেন না। ভাবখানা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো। যিনি জানিয়েছেন, নিজের ব্যবসা যে ভাবে চালাই, ঠিক সেই ভাবে আমেরিকা চালাব। সত্যিই তাই করলে কেলেঙ্কারি। রাজনীতি, ব্যবসা নয়। সেখানে লাভক্ষতির অঙ্ক চলে না। নিজেকে উজাড় করে দেওয়াটাই শর্ত। পাওয়া নয় দেওয়াটাই দায়িত্ব। কারো কোথাও গাফিলতি মানবেন না হাসিনা। আগাছার মতো অপদার্থদের ছাঁটবেন। আগামী নির্বাচনে টিকিট দেবেন না। বাতিলের তালিকায় এমন অনেকে আছেন যারা প্রথমবার এমপি হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। পদের গ্ল্যামারটা উপভোগ করছেন। কাজের বেলায় অষ্টরম্ভা। তারা পার পাবেন না। এমপি পদ বাতিলের প্রাথমিক তালিকায় আপাতত চট্টগ্রামের পাঁচ, সিরাজগঞ্জে চার, নোয়াখালিতে চার। যশোহর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোমায় নয়। নীলফামারি, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, বরিশাল, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ব্রাহ্মণবেড়িয়া, কক্সবাজারে ২৬। দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, মেহেরপুর, মাগুরা, খুলনা, ভোলা, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, জয়পুরহাট, মৌলভিবাজার, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর, ফেনী, রংপুর, লক্ষ্মীপুরে ১৭। এমপিদের কাজ নির্লক্ষ্য নয়। নিক্তির ওজনে মাপা হচ্ছে প্রতিটি পদক্ষেপ। ২০১৪-র ৫ জানুয়ারি নবম সাধারণ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ প্রার্থী জয়ী। সংসদের ৩০০ আসনে এত জনের লড়াই ছাড়া সাফল্য কম কথা নয়। ভোট কী বুঝলেন না। অথচ ভোটে জিতলেন। সেটাই কাল হয়েছে অনেক এমপিদের। এ বার সেটা হবে না। গত বার প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে নামেনি। এবার নামছে, অগোছালো ঘর গোছাচ্ছে। ভারত বিদ্বেষকে ইস্যু করলে সুবিধে কিনা ভেবে দেখছে। ভোটের ময়দানে নেমে গোহারান হারতে তারা রাজি নয়। ২০১৯-এর ২৮ জানুয়ারির তিন মাস আগে থেকে যে কোনো দিন ভোট। সময় আছে। আওয়ামী লীগের পিছিয়ে পড়া এমপিরা চাইলে স্পিড বাড়িয়ে এগোতে পারেন। লেট করা ট্রেন গতি বাড়িয়ে যে ভাবে টাইম মেকআপ করে সেভাবেই। সূত্র: আনন্দবজার পত্রিকা

Comments

Comments!

 অযোগ্য এমপিদের বাদ দিবেন শেখ হাসিনাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

অযোগ্য এমপিদের বাদ দিবেন শেখ হাসিনা

Friday, November 11, 2016 12:29 pm
7

বেতারে বিদ্যুৎ সংযোগ হয় না, তার লাগে। তেমনি, মনের তারে বাঁধতে হয় মানুষকে, নইলে নির্বাচনে ভোট বাক্স ভরে না। সাফল্যের আলো জ্বলে না।

নিজের আখের গুছোতে গেলে তার ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন। মানুষ বেজার বিরক্ত। তোয়াজেও কাজ হয় না। প্রার্থীর সব প্রতিশ্রুতি তখন ফাঁকা বুলি। কাছে গেলে তারা দূরে সরে। প্রাপ্তি কেবল প্রত্যাখানের যন্ত্রণা।

সেই শঙ্কা আওয়ামী লীগের অনেক এমপিদেরই। সংখ্যাটা পঞ্চাশের কম নয়। এত দিন দলের চাক ভেঙে মধু খেয়েছেন। মৌচাকে মৌ সংগ্রহের দায়িত্ব নেননি। আওয়ামী লীগের ব্ল্যাক লিস্টে তাদের নাম।

আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াটা অনিশ্চিত। তাদের অনেকেই ভেবেছিলেন, শেখ হাসিনার ভাবমূর্তিতে ভর করে নির্বাচনী বৈতরণী পেরোবেন। সেটা হবে না। অপদার্থরা হাসিনার কৃতিত্বের ভাগ পাবেন কেন। দলটা হাসিনার একার নয়। তার নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতা কর্মীর প্রাণান্ত পরিশ্রমে দলটা আজ এই জায়গায়। বিরোধীরা বিভ্রান্ত। আওয়ামি লিগের সঙ্গে লড়বে কী করে ভেবে পাচ্ছে না।

এটা ঠিক হাসিনার নামে ল্যামপোস্টকে দাঁড় করালেও ভোটে জিতবে। সেটা হাসিনার কৃতিত্ব। বিচক্ষণতা, দৃঢ়তা, সত্যনিষ্ঠা কর্মনিষ্ঠায় তিনি বিশ্বজনীন। তিন বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে ধীরে ধীরে দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন উচ্চতার শিখরে।

৩৫ বছর ধরে দলের হাল ধরে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের রূপকার। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দল ফুলে ফেঁপে উঠেছে। সদস্য সংখ্যা সীমাহীন। সেখানে কোনো ফাঁকিবাজি কি মানা যায়! কেউ মরে বিল ছেঁচে, কেউ খায় কই। দলের সাফল্যে অনুরঞ্জিত হবেন, অবদান রাখবেন না।

কোনো কোনো এমপি আবার নিজের ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে এতটাই ব্যস্ত, রাজনীতিতে সময় দিতে পারেন না। ভাবখানা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো। যিনি জানিয়েছেন, নিজের ব্যবসা যে ভাবে চালাই, ঠিক সেই ভাবে আমেরিকা চালাব। সত্যিই তাই করলে কেলেঙ্কারি। রাজনীতি, ব্যবসা নয়। সেখানে লাভক্ষতির অঙ্ক চলে না। নিজেকে উজাড় করে দেওয়াটাই শর্ত। পাওয়া নয় দেওয়াটাই দায়িত্ব।

কারো কোথাও গাফিলতি মানবেন না হাসিনা। আগাছার মতো অপদার্থদের ছাঁটবেন। আগামী নির্বাচনে টিকিট দেবেন না। বাতিলের তালিকায় এমন অনেকে আছেন যারা প্রথমবার এমপি হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন।

পদের গ্ল্যামারটা উপভোগ করছেন। কাজের বেলায় অষ্টরম্ভা। তারা পার পাবেন না। এমপি পদ বাতিলের প্রাথমিক তালিকায় আপাতত চট্টগ্রামের পাঁচ, সিরাজগঞ্জে চার, নোয়াখালিতে চার। যশোহর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোমায় নয়। নীলফামারি, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, বরিশাল, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ব্রাহ্মণবেড়িয়া, কক্সবাজারে ২৬।

দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, মেহেরপুর, মাগুরা, খুলনা, ভোলা, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, জয়পুরহাট, মৌলভিবাজার, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর, ফেনী, রংপুর, লক্ষ্মীপুরে ১৭।

এমপিদের কাজ নির্লক্ষ্য নয়। নিক্তির ওজনে মাপা হচ্ছে প্রতিটি পদক্ষেপ। ২০১৪-র ৫ জানুয়ারি নবম সাধারণ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ প্রার্থী জয়ী। সংসদের ৩০০ আসনে এত জনের লড়াই ছাড়া সাফল্য কম কথা নয়। ভোট কী বুঝলেন না। অথচ ভোটে জিতলেন। সেটাই কাল হয়েছে অনেক এমপিদের। এ বার সেটা হবে না।

গত বার প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে নামেনি। এবার নামছে, অগোছালো ঘর গোছাচ্ছে। ভারত বিদ্বেষকে ইস্যু করলে সুবিধে কিনা ভেবে দেখছে। ভোটের ময়দানে নেমে গোহারান হারতে তারা রাজি নয়।

২০১৯-এর ২৮ জানুয়ারির তিন মাস আগে থেকে যে কোনো দিন ভোট। সময় আছে। আওয়ামী লীগের পিছিয়ে পড়া এমপিরা চাইলে স্পিড বাড়িয়ে এগোতে পারেন। লেট করা ট্রেন গতি বাড়িয়ে যে ভাবে টাইম মেকআপ করে সেভাবেই।

সূত্র: আনন্দবজার পত্রিকা

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X