বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১:২১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, September 7, 2017 12:32 pm
A- A A+ Print

অস্ট্রেলিয়ার টিম বাসে ঢিল, ঘটনা অতি সাধারণ

1

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাসে যে ঢিল পড়া নিয়ে এত হইচই, সেটিরও সূত্রপাত একটি ক্রিকেট ম্যাচ থেকেই! ঢিলটি বাসে গিয়ে লেগেছে অবশ্য নিছকই ঘটনাচক্রে। টিম বাস ওই ঢিলের লক্ষ্য ছিল না।

পুলিশের তদন্তে যা বেরিয়ে এসেছে তা হলো, রাস্তার পাশে একটি মাঠে টেপ টেনিস বল দিয়ে ক্রিকেট খেলছিল কিছু শিশু-কিশোর। খেলা নিয়েই তাদের মধ্যে গন্ডগোল লাগে। শুরু হয় পাথর ছোড়াছুড়ি। এরই একটি পাথর গিয়ে লাগে অস্ট্রেলিয়ার টিম বাসে। বাসের সামনে-পেছনে পুলিশ ও র‍্যাবের গাড়ি দেখে ভয় পেয়ে ওই শিশু-কিশোরেরা দৌড়ে পালায়।

গত সোমবার চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের টিম বাস আগেই মাঠ ছাড়ে। অস্ট্রেলিয়ার টিম বাস বেরোয় কিছুক্ষণ পর। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে যেখানে ওই ঢিলটি চলন্ত বাসে এসে লাগে, ওই জায়গাটা বারো কোয়ার্টার নামে পরিচিত। ওই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

বারো কোয়ার্টারে বড় একটা বস্তি আছে। ওই বস্তির শিশু-কিশোরেরাই ক্রিকেট খেলছিল বলে জানতে পারে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, ওই বস্তিটি যিনি নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁর সহায়তায় রাস্তার পাশে কারা খেলছিল তাদের খুঁজে বের করা হয়। রাতেই তাদের নিয়ে আসা হয় ডবলমুরিং থানায়। সংখ্যায় তারা নয়জন, সবাই শিশু। সাত থেকে নয়ের মধ্যে বয়স। ঢিল ছোড়াছুড়ির কথা তারা স্বীকার করে। তবে কার ঢিল অস্ট্রেলিয়ার টিম বাসে গিয়ে লেগেছে, এটা বের করা যায়নি।

শিশু বলে কাউকে গ্রেপ্তার করার প্রশ্নও ওঠেনি। বলামাত্র তাদের হাজির করা হবে—অভিভাবকদের কাছ থেকে এই মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় ওই নয়জনকে। পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় তাদের নিয়ে আসা হয় চট্টগ্রামে দুই দলের ঠিকানা র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অস্ট্রেলিয়া দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসে ঘটনা খুলে বলেন। ওই নয় শিশু তখন হোটেলের সামনে গাড়িতে বসে ছিল। পুলিশের প্রতিনিধিদল অস্ট্রেলিয়া দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বলেন, তাঁরা চাইলে ওই শিশুদের সঙ্গে কথাও বলতে পারেন। পুলিশের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়ে অস্ট্রেলিয়ানরা সেটির আর কোনো প্রয়োজন দেখেনি।

একটি সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা নিয়ে প্রচণ্ড খুঁতখুঁতে অস্ট্রেলিয়া দল ওই ঘটনার পর প্রথমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াই দেখিয়েছিল।

বাসের জানালার কাচ কিসের আঘাতে ভাঙল, সেটির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যাও দাবি করা হয়। পরদিন সকালে ঘটনা শোনার পর তাদের উত্তেজনা কমে। ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হওয়ার পরই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারল একটি বিবৃতি দেন। যাতে বলা হয়, ‘স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আলোচনা করে জানতে পেরেছেন, ছোট একটা পাথরের আঘাতে এটা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। চলাচলের রাস্তায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।’

দুই বছর আগে নিরাপত্তার হুমকির কথা বলে বাংলাদেশ সফর বাতিল করা অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য আগে থেকেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছিল। এমনিতে যা শুধু সফরকারী কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য বরাদ্দ থাকে। হোটেল থেকে মাঠে যাওয়া-আসার রাস্তায় অন্য কোনো যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। টিম বাস বেরোনোর বেশ আগে থেকেই বন্ধ থাকছে রাস্তা। চট্টগ্রামে হোটেল থেকে বেরোনো ও ফেরার সময় সশস্ত্র পুলিশ ও কমান্ডোদের ভিড়ে র‍্যাডিসন ব্লুর সামনের পরিস্থিতিটা দেখাচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। আশপাশের লোকজনকে রাস্তায় বেরোতে পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। বাসে ঢিল পড়ার ওই ঘটনার পর সতর্কতা আরও বেড়েছে। পরিবর্তন করা হয়েছে হোটেল থেকে মাঠে যাওয়া-আসার পথও। একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটা যেখানে ঘটেছিল, সেখানে রাস্তাটা একটু সরু। এখন বাস যে পথে যায়, সেটি ডাবল লেনের রাস্তা। নজরদারি করতে সেখানে সুবিধা হয়। পরিবর্তনটা এ কারণেই।

Comments

Comments!

 অস্ট্রেলিয়ার টিম বাসে ঢিল, ঘটনা অতি সাধারণAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

অস্ট্রেলিয়ার টিম বাসে ঢিল, ঘটনা অতি সাধারণ

Thursday, September 7, 2017 12:32 pm
1

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাসে যে ঢিল পড়া নিয়ে এত হইচই, সেটিরও সূত্রপাত একটি ক্রিকেট ম্যাচ থেকেই! ঢিলটি বাসে গিয়ে লেগেছে অবশ্য নিছকই ঘটনাচক্রে। টিম বাস ওই ঢিলের লক্ষ্য ছিল না।

পুলিশের তদন্তে যা বেরিয়ে এসেছে তা হলো, রাস্তার পাশে একটি মাঠে টেপ টেনিস বল দিয়ে ক্রিকেট খেলছিল কিছু শিশু-কিশোর। খেলা নিয়েই তাদের মধ্যে গন্ডগোল লাগে। শুরু হয় পাথর ছোড়াছুড়ি। এরই একটি পাথর গিয়ে লাগে অস্ট্রেলিয়ার টিম বাসে। বাসের সামনে-পেছনে পুলিশ ও র‍্যাবের গাড়ি দেখে ভয় পেয়ে ওই শিশু-কিশোরেরা দৌড়ে পালায়।

গত সোমবার চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের টিম বাস আগেই মাঠ ছাড়ে। অস্ট্রেলিয়ার টিম বাস বেরোয় কিছুক্ষণ পর। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে যেখানে ওই ঢিলটি চলন্ত বাসে এসে লাগে, ওই জায়গাটা বারো কোয়ার্টার নামে পরিচিত। ওই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

বারো কোয়ার্টারে বড় একটা বস্তি আছে। ওই বস্তির শিশু-কিশোরেরাই ক্রিকেট খেলছিল বলে জানতে পারে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, ওই বস্তিটি যিনি নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁর সহায়তায় রাস্তার পাশে কারা খেলছিল তাদের খুঁজে বের করা হয়। রাতেই তাদের নিয়ে আসা হয় ডবলমুরিং থানায়। সংখ্যায় তারা নয়জন, সবাই শিশু। সাত থেকে নয়ের মধ্যে বয়স। ঢিল ছোড়াছুড়ির কথা তারা স্বীকার করে। তবে কার ঢিল অস্ট্রেলিয়ার টিম বাসে গিয়ে লেগেছে, এটা বের করা যায়নি।

শিশু বলে কাউকে গ্রেপ্তার করার প্রশ্নও ওঠেনি। বলামাত্র তাদের হাজির করা হবে—অভিভাবকদের কাছ থেকে এই মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় ওই নয়জনকে। পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় তাদের নিয়ে আসা হয় চট্টগ্রামে দুই দলের ঠিকানা র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অস্ট্রেলিয়া দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসে ঘটনা খুলে বলেন। ওই নয় শিশু তখন হোটেলের সামনে গাড়িতে বসে ছিল। পুলিশের প্রতিনিধিদল অস্ট্রেলিয়া দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বলেন, তাঁরা চাইলে ওই শিশুদের সঙ্গে কথাও বলতে পারেন। পুলিশের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়ে অস্ট্রেলিয়ানরা সেটির আর কোনো প্রয়োজন দেখেনি।

একটি সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা নিয়ে প্রচণ্ড খুঁতখুঁতে অস্ট্রেলিয়া দল ওই ঘটনার পর প্রথমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াই দেখিয়েছিল।

বাসের জানালার কাচ কিসের আঘাতে ভাঙল, সেটির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যাও দাবি করা হয়। পরদিন সকালে ঘটনা শোনার পর তাদের উত্তেজনা কমে। ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হওয়ার পরই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারল একটি বিবৃতি দেন। যাতে বলা হয়, ‘স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আলোচনা করে জানতে পেরেছেন, ছোট একটা পাথরের আঘাতে এটা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। চলাচলের রাস্তায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।’

দুই বছর আগে নিরাপত্তার হুমকির কথা বলে বাংলাদেশ সফর বাতিল করা অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য আগে থেকেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছিল। এমনিতে যা শুধু সফরকারী কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য বরাদ্দ থাকে। হোটেল থেকে মাঠে যাওয়া-আসার রাস্তায় অন্য কোনো যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। টিম বাস বেরোনোর বেশ আগে থেকেই বন্ধ থাকছে রাস্তা। চট্টগ্রামে হোটেল থেকে বেরোনো ও ফেরার সময় সশস্ত্র পুলিশ ও কমান্ডোদের ভিড়ে র‍্যাডিসন ব্লুর সামনের পরিস্থিতিটা দেখাচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। আশপাশের লোকজনকে রাস্তায় বেরোতে পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। বাসে ঢিল পড়ার ওই ঘটনার পর সতর্কতা আরও বেড়েছে। পরিবর্তন করা হয়েছে হোটেল থেকে মাঠে যাওয়া-আসার পথও। একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটা যেখানে ঘটেছিল, সেখানে রাস্তাটা একটু সরু। এখন বাস যে পথে যায়, সেটি ডাবল লেনের রাস্তা। নজরদারি করতে সেখানে সুবিধা হয়। পরিবর্তনটা এ কারণেই।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X