শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:০৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, November 4, 2016 8:40 pm
A- A A+ Print

‘আইন করে বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করা হচ্ছে’

photo-1478259985

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আজ শুক্রবার এক আলোচনা সভায় বক্তারা। ছবি : এনটিভি একের পর এক আইন করে বাকস্বাধীনতা ক্রমেই রুদ্ধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ অভিযোগ করেন। সর্বশেষ বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এবং এর সংশ্লিষ্টদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ধরনের আইন অবিলম্বে বাতিলেরও দাবি জানান বক্তারা। বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিল করে গত মাসে সংসদে একটি আইন অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনে এ ধরনের অনুদান গ্রহণ ও প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি, সরকারি হস্তক্ষেপসহ হয়রানির সুযোগ থাকবে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। সবচেয়ে বেশি আপত্তি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সমালোচনা করা হলে শাস্তির বিধানের বিষয়ে। মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার সমালোচনা করলে আইনে আছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয় এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ওই একই কাতারে চলে গেছে। তারাও এখন সৃষ্টিকর্তা প্রতিনিধি হয়ে গেছে। কতটা উদ্ভট চিন্তা থেকে এগুলো হতে পারে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘এই আইন বলে, বিচার বিভাগ সম্পর্কে অশালীন বা বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হয়। এটা বিচারের দায়িত্ব হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীন এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালকের। আমার তো মনে হয়, এটাই আদালত অবমাননা। এই সংক্রান্ত নানা আইন দ্বারা অলরেডি নাগরিকদের মধ্যে প্রবল ভীতির সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এটির পরিণতি হিসেবে সকল প্রকার বাকস্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, বিবেকের স্বাধীনতা চরমভাবে রুদ্ধ করার পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।’ স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, বিশেষ করে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এনজিওর ভূমিকা অপরিহার্য। তাই যে আইন এনজিওকে সহায়তার পরিবর্তে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে, তা বাতিল বা সংশোধনের জোরালো দাবি জানানো হয়। সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এটা দিয়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ থাকবে। বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ থাকবে। এমনকি নিবন্ধন বাতিল করারও সুযোগ থাকবে।’ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা কাজী জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘গ্রামের একটা ছোট স্কুল করার জন্য পারমিশন নিতে হবে, মসজিদ করার জন্য পারমিশন নিতে হবে। এ কিছুই না, কেবল অর্থের লেনদেন।’ সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বলেন, ‘পরিস্থিতিটা আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার চেয়েও খারাপ হবে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, ‘ নাগরিকত্ব আইন একটা টেবিলে রয়েছে। যে খসড়া আমরা পেয়েছি তাতে কিন্তু আমরা যে কেউ নাগরিকত্ব হারাতে পারি।’ এনজিও ও সুশীলসমাজের পক্ষ থেকে এনজিও আইনের বিকল্প একটি প্রস্তাব উপস্থাপনের কথাও বলা হয় আলোচনা সভায়।

Comments

Comments!

 ‘আইন করে বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করা হচ্ছে’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘আইন করে বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করা হচ্ছে’

Friday, November 4, 2016 8:40 pm
photo-1478259985

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আজ শুক্রবার এক আলোচনা সভায় বক্তারা। ছবি : এনটিভি
একের পর এক আইন করে বাকস্বাধীনতা ক্রমেই রুদ্ধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ অভিযোগ করেন।

সর্বশেষ বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এবং এর সংশ্লিষ্টদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ধরনের আইন অবিলম্বে বাতিলেরও দাবি জানান বক্তারা।

বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিল করে গত মাসে সংসদে একটি আইন অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনে এ ধরনের অনুদান গ্রহণ ও প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি, সরকারি হস্তক্ষেপসহ হয়রানির সুযোগ থাকবে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। সবচেয়ে বেশি আপত্তি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সমালোচনা করা হলে শাস্তির বিধানের বিষয়ে।

মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার সমালোচনা করলে আইনে আছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয় এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ওই একই কাতারে চলে গেছে। তারাও এখন সৃষ্টিকর্তা প্রতিনিধি হয়ে গেছে। কতটা উদ্ভট চিন্তা থেকে এগুলো হতে পারে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘এই আইন বলে, বিচার বিভাগ সম্পর্কে অশালীন বা বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হয়। এটা বিচারের দায়িত্ব হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীন এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালকের। আমার তো মনে হয়, এটাই আদালত অবমাননা। এই সংক্রান্ত নানা আইন দ্বারা অলরেডি নাগরিকদের মধ্যে প্রবল ভীতির সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এটির পরিণতি হিসেবে সকল প্রকার বাকস্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, বিবেকের স্বাধীনতা চরমভাবে রুদ্ধ করার পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।’

স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, বিশেষ করে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এনজিওর ভূমিকা অপরিহার্য। তাই যে আইন এনজিওকে সহায়তার পরিবর্তে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে, তা বাতিল বা সংশোধনের জোরালো দাবি জানানো হয়।

সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এটা দিয়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ থাকবে। বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ থাকবে। এমনকি নিবন্ধন বাতিল করারও সুযোগ থাকবে।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা কাজী জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘গ্রামের একটা ছোট স্কুল করার জন্য পারমিশন নিতে হবে, মসজিদ করার জন্য পারমিশন নিতে হবে। এ কিছুই না, কেবল অর্থের লেনদেন।’

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বলেন, ‘পরিস্থিতিটা আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার চেয়েও খারাপ হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, ‘ নাগরিকত্ব আইন একটা টেবিলে রয়েছে। যে খসড়া আমরা পেয়েছি তাতে কিন্তু আমরা যে কেউ নাগরিকত্ব হারাতে পারি।’

এনজিও ও সুশীলসমাজের পক্ষ থেকে এনজিও আইনের বিকল্প একটি প্রস্তাব উপস্থাপনের কথাও বলা হয় আলোচনা সভায়।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X