শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৪:০৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, October 23, 2016 9:17 am
A- A A+ Print

আওয়ামী লীগের ​সম্মেলনে আজ নেতৃত্ব নির্বাচন : দারিদ্র্য তাড়ানোর ঘোষণা

d872ba48a7d99d9d8214b6d95568f0c0-pm_28_22-10-2016_kallol-pix-jpg

২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তালিকা তৈরি করে তা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্যের হার ৯৭ ভাগ ছিল। আমরা ২২ দশমিক ৪ ভাগে নামিয়ে এনেছি। হতদরিদ্রের হার ১২ ভাগে নামিয়ে এনেছি। বাংলাদেশে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না, এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা।’

গতকাল শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বেলা ১টা ২০ মিনিটে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বক্তৃতার শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ঘাতকের হাতে নিহত সবার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে ধরে রেখেছেন এর তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাঁরাই দলের প্রাণ।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে জাতীয় ও দলীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা দুই মেয়াদের পর সাধারণ সম্পাদক পদে এবার পরিবর্তনের গুঞ্জন উঠেছে।

সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সম্মেলনে প্রতিবেদন পেশ করতে এসে প্রতিবেদনটি সবাইকে পড়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দল-কর্মী ও তাঁর রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে আবেগময় বক্তব্য দেন। তাঁর নাম প্রস্তাব করার সময় কাউন্সিলর ও প্রতিনিধিরা করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। তাঁর বক্তৃতার বিভিন্ন সময় দর্শক সারি থেকে হর্ষধ্বনি আসে।

বিকেলে কাউন্সিলের দ্বিতীয় পর্বেও শেখ হাসিনা ও সৈয়দ আশরাফ বক্তব্য দেন।

দ্বিতীয় অধিবেশনে সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশে দরিদ্র, গৃহহীন ও ক্ষুধার্ত মানুষ থাকবে না—এটাই আমাদের রাজনীতি। আপনাদের দায়িত্ব দিলাম। গৃহহীন ও দরিদ্র মানুষের তালিকা পাঠান। আমরা ব্যবস্থা নেব।’

এবারের সম্মেলন আয়োজন, আঙ্গিক ও সাজসজ্জা খুবই জৌলুশপূর্ণ বলে দলের নেতারা মনে করছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সম্মেলন প্যান্ডেল, আশপাশের মাঠ ও উদ্যানের বাইরে বিপুল নেতা-কর্মীর সমাগম হয়।

কাউন্সিলর, প্রতিনিধি ও ওয়ার্ড থেকে শুরু করে সাংসদ পর্যন্ত দলের সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধির উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই। নিজ নিজ এলাকায় কতজন দরিদ্র মানুষ আছে, গৃহহারা মানুষ আছে, যাদের ঘর নেই, বাড়ি নেই, ঠিকানা নেই—নিঃস্ব-রিক্ত মানুষ আছে, কারা হতদরিদ্র, বয়োবৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী আছে, আপনারা তাদের তালিকা বানান। তাদের জন্য আমরা বিনা পয়সায় ঘর তৈরি করে দেব। তারা যেন বেঁচে থাকতে পারে, তার ব্যবস্থা করে দেব।’

২০৪১ সালের বাংলাদেশের চিত্র কেমন হবে, তার একটা সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বেড়ে হবে ৮ থেকে ১০ ভাগ। মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলার। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। দারিদ্র্যের হার হবে শূন্যের কোঠায় এবং দেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষে কোনো বৈষম্য থাকবে না। কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না। প্রতিটি ঘরে আলো জ্বলবে। এখন ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিন হচ্ছে। ৭৮ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। তখন শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাবে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ বিমান পরিবহনের একটি ‘হাব’ হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানবন্দর আমরা এমনভাবে উন্নত করব, যেন সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হয়। প্রাচ্যের মানুষ যখন পাশ্চাত্যে যাবে, আবার পাশ্চাত্যের মানুষ যখন প্রাচ্যে যাবে, তখন বাংলাদেশই হবে হাব। এটাই হবে সেতুবন্ধ। সব ধরনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ উন্নত করব।’ এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নসহ বাংলাদেশের উন্নয়নের নানা বিষয় তিনি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। সন্ত্রাসকে কখনো প্রশ্রয় দেব না। এর বিরুদ্ধে সব রকমের ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং নিয়ে যাব। বাংলাদেশের মাটি, ভূখণ্ড কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না বা প্রতিবেশী দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আমাদের ভূখণ্ড কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এটা আমার সিদ্ধান্ত।’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই নীতির আলোকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব। স্বাধীনতার সুফল বাংলার প্রতিটি মানুষের ঘরে আমরা পৌঁছে দেব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব। এই বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ। যে স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছেন, তা পূরণ করব।’ আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে মোটরগাড়িতে সাজসজ্জা। ছবিটি গতকাল শাহবাগ মোড় থেকে তোলা l প্রথম আলোপ্রথম দিনের আয়োজন: সকাল ১০টার দিকে মুহুর্মুহু স্লোগানের মাধ্যমে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে সম্মেলন মঞ্চে স্বাগত জানানো হয়। এসেই মঞ্চের এ মাথা ও মাথা ঘুরে তিনি হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। এ সময় তাঁর পাশে অন্যদের মধ্যে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের। এরপর মঞ্চের এক পাশে রাখা পতাকা স্ট্যান্ডে গিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ উত্তোলন করেন দলীয় পতাকা। এ সময় জাতীয় সংগীত বেজে ওঠে। প্রতিটি জেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা মঞ্চের সামনে নিজ নিজ জেলার জন্য নির্দিষ্ট করা স্থানে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা। এরপর তিনি অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের নাম ঘোষণা করেন। শুরুতে দলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সংস্কৃতি-বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নির্দেশনায় মঞ্চের সামনে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করা হয়। দলীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে নৃত্যে অংশ নেন শিল্পীরা। প্রথম দিনের অনুষ্ঠান শেষে রাতেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান। অভ্যর্থনা উপকমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের পর সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন পেশ করেন সৈয়দ আশরাফ। এরপর বিদেশি অতিথিদের বক্তৃতার সুযোগ দেওয়া হয়। সম্মেলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিদেশি কূটনীতিক ও বিশিষ্ট নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ: ভোর থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমায়েত হতে থাকেন কাউন্সিলর, প্রতিনিধি ও নেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আগতদের বাস-গাড়িতে ভরে যায়। প্রতিটি প্রবেশমুখে আগতদের রজনীগন্ধার স্টিকার দিয়ে বরণ করেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। আগতদের জাতীয় ও দলীয় পতাকার আদলে ক্যাপ, টি-শার্ট পরতে দেখা যায়। সকাল ১০টার আগেই প্যান্ডেল ভরে যায়। প্যান্ডেলের বিভিন্ন স্থানে ১৬টি বড় পর্দায় অনুষ্ঠান দেখানো হয়। অনুষ্ঠান শুরুর পরও অনেকে প্যান্ডেলে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বাইরেই অবস্থান নেন। উদ্যান ও এর আশপাশে মাইকে বক্তৃতা শোনেন অনেকে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। চারটি ফটক দিয়ে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করতে হয় নেতা-কর্মীদের। ফলে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। উৎসুক নেতা-কর্মীদের পদচারণায় মুখর ছিল বাংলা একাডেমি, টিএসসি এলাকাও।

সম্মেলন উপলক্ষে এক সপ্তাহ আগে থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জেলা শহরকে সাজানো হয় বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি-সংবলিত ফেস্টুন দিয়ে। মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে রংবেরঙের বাতি ও তোরণ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কৃত্রিম জলাধারে কৃত্রিম শাপলা স্থাপন করা হয়। এসব জায়গা ঘিরে সেলফি তোলারও হিড়িক পড়ে যায়।

নৌকার আদলে মঞ্চ: সম্মেলন মঞ্চটি নির্মাণ করা হয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে। মঞ্চটি লম্বায় ১৫০ ও চওড়ায় ৮৪ ফুট। পাঁচ স্তরের এই মঞ্চের একেবারে সামনের অংশটির উচ্চতা আড়াই ফুট। যেখানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হয়। সাত ফুট উচ্চতার স্থানটিতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বসেন। আর পেছনের বিভিন্ন উচ্চতার তিন সারিতে কেন্দ্রীয় নেতারা বসেন। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সাংসদ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য প্যান্ডেল ও মঞ্চের মাঝখানে বসার ব্যবস্থা করা হয়।

আজকের কার্যক্রম: বিকেলের অধিবেশন শেখ হাসিনা বলেন, আজ কাউন্সিল অধিবেশন হবে সকাল সাড়ে নয়টায়, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে। এতে শুধু কাউন্সিলররাই অংশ নিতে পারবেন। সেখানে কিছু কাউন্সিলরকে তিন মিনিট করে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রতিটি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁদের সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করবেন। এরপর দলের সংশোধিত ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হবে। এসব সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে দেওয়া হবে। শুরু হবে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। রেওয়াজ অনুযায়ী, কাউন্সিলরদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি পদের জন্য নাম প্রস্তাব করেন। আরেকজন তা সমর্থন করেন। সাধারণ সম্পাদক পদেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।

গতকালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও কাউন্সিলর পর্বে আগতদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন হচ্ছে কি না, এই আলোচনা এসেছে। নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতায় কেউ কেউ জানতে চেয়েছেন, পরিবর্তন হলে নতুন কে আসছেন?

দলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের রেওয়াজ অনুযায়ী সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ফলে আজই এ প্রশ্নের মীমাংসা হয়ে যাওয়ার কথা।

Comments

Comments!

 আওয়ামী লীগের ​সম্মেলনে আজ নেতৃত্ব নির্বাচন : দারিদ্র্য তাড়ানোর ঘোষণাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

আওয়ামী লীগের ​সম্মেলনে আজ নেতৃত্ব নির্বাচন : দারিদ্র্য তাড়ানোর ঘোষণা

Sunday, October 23, 2016 9:17 am
d872ba48a7d99d9d8214b6d95568f0c0-pm_28_22-10-2016_kallol-pix-jpg

২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তালিকা তৈরি করে তা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্যের হার ৯৭ ভাগ ছিল। আমরা ২২ দশমিক ৪ ভাগে নামিয়ে এনেছি। হতদরিদ্রের হার ১২ ভাগে নামিয়ে এনেছি। বাংলাদেশে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না, এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা।’

গতকাল শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বেলা ১টা ২০ মিনিটে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বক্তৃতার শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ঘাতকের হাতে নিহত সবার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে ধরে রেখেছেন এর তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাঁরাই দলের প্রাণ।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে জাতীয় ও দলীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা দুই মেয়াদের পর সাধারণ সম্পাদক পদে এবার পরিবর্তনের গুঞ্জন উঠেছে।

সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সম্মেলনে প্রতিবেদন পেশ করতে এসে প্রতিবেদনটি সবাইকে পড়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দল-কর্মী ও তাঁর রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে আবেগময় বক্তব্য দেন। তাঁর নাম প্রস্তাব করার সময় কাউন্সিলর ও প্রতিনিধিরা করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। তাঁর বক্তৃতার বিভিন্ন সময় দর্শক সারি থেকে হর্ষধ্বনি আসে।

বিকেলে কাউন্সিলের দ্বিতীয় পর্বেও শেখ হাসিনা ও সৈয়দ আশরাফ বক্তব্য দেন।

দ্বিতীয় অধিবেশনে সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশে দরিদ্র, গৃহহীন ও ক্ষুধার্ত মানুষ থাকবে না—এটাই আমাদের রাজনীতি। আপনাদের দায়িত্ব দিলাম। গৃহহীন ও দরিদ্র মানুষের তালিকা পাঠান। আমরা ব্যবস্থা নেব।’

এবারের সম্মেলন আয়োজন, আঙ্গিক ও সাজসজ্জা খুবই জৌলুশপূর্ণ বলে দলের নেতারা মনে করছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সম্মেলন প্যান্ডেল, আশপাশের মাঠ ও উদ্যানের বাইরে বিপুল নেতা-কর্মীর সমাগম হয়।

কাউন্সিলর, প্রতিনিধি ও ওয়ার্ড থেকে শুরু করে সাংসদ পর্যন্ত দলের সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধির উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই। নিজ নিজ এলাকায় কতজন দরিদ্র মানুষ আছে, গৃহহারা মানুষ আছে, যাদের ঘর নেই, বাড়ি নেই, ঠিকানা নেই—নিঃস্ব-রিক্ত মানুষ আছে, কারা হতদরিদ্র, বয়োবৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী আছে, আপনারা তাদের তালিকা বানান। তাদের জন্য আমরা বিনা পয়সায় ঘর তৈরি করে দেব। তারা যেন বেঁচে থাকতে পারে, তার ব্যবস্থা করে দেব।’

২০৪১ সালের বাংলাদেশের চিত্র কেমন হবে, তার একটা সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বেড়ে হবে ৮ থেকে ১০ ভাগ। মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলার। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। দারিদ্র্যের হার হবে শূন্যের কোঠায় এবং দেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষে কোনো বৈষম্য থাকবে না। কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না। প্রতিটি ঘরে আলো জ্বলবে। এখন ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিন হচ্ছে। ৭৮ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। তখন শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাবে।
২০৪১ সালে বাংলাদেশ বিমান পরিবহনের একটি ‘হাব’ হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানবন্দর আমরা এমনভাবে উন্নত করব, যেন সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হয়। প্রাচ্যের মানুষ যখন পাশ্চাত্যে যাবে, আবার পাশ্চাত্যের মানুষ যখন প্রাচ্যে যাবে, তখন বাংলাদেশই হবে হাব। এটাই হবে সেতুবন্ধ। সব ধরনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ উন্নত করব।’ এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নসহ বাংলাদেশের উন্নয়নের নানা বিষয় তিনি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। সন্ত্রাসকে কখনো প্রশ্রয় দেব না। এর বিরুদ্ধে সব রকমের ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং নিয়ে যাব। বাংলাদেশের মাটি, ভূখণ্ড কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না বা প্রতিবেশী দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আমাদের ভূখণ্ড কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এটা আমার সিদ্ধান্ত।’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই নীতির আলোকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব। স্বাধীনতার সুফল বাংলার প্রতিটি মানুষের ঘরে আমরা পৌঁছে দেব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব। এই বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ। যে স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছেন, তা পূরণ করব।’
আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে মোটরগাড়িতে সাজসজ্জা। ছবিটি গতকাল শাহবাগ মোড় থেকে তোলা l প্রথম আলোপ্রথম দিনের আয়োজন: সকাল ১০টার দিকে মুহুর্মুহু স্লোগানের মাধ্যমে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে সম্মেলন মঞ্চে স্বাগত জানানো হয়। এসেই মঞ্চের এ মাথা ও মাথা ঘুরে তিনি হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। এ সময় তাঁর পাশে অন্যদের মধ্যে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের। এরপর মঞ্চের এক পাশে রাখা পতাকা স্ট্যান্ডে গিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ উত্তোলন করেন দলীয় পতাকা। এ সময় জাতীয় সংগীত বেজে ওঠে। প্রতিটি জেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা মঞ্চের সামনে নিজ নিজ জেলার জন্য নির্দিষ্ট করা স্থানে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা। এরপর তিনি অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের নাম ঘোষণা করেন।
শুরুতে দলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সংস্কৃতি-বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নির্দেশনায় মঞ্চের সামনে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করা হয়। দলীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে নৃত্যে অংশ নেন শিল্পীরা। প্রথম দিনের অনুষ্ঠান শেষে রাতেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান। অভ্যর্থনা উপকমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের পর সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন পেশ করেন সৈয়দ আশরাফ। এরপর বিদেশি অতিথিদের বক্তৃতার সুযোগ দেওয়া হয়।
সম্মেলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিদেশি কূটনীতিক ও বিশিষ্ট নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ: ভোর থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমায়েত হতে থাকেন কাউন্সিলর, প্রতিনিধি ও নেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আগতদের বাস-গাড়িতে ভরে যায়। প্রতিটি প্রবেশমুখে আগতদের রজনীগন্ধার স্টিকার দিয়ে বরণ করেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। আগতদের জাতীয় ও দলীয় পতাকার আদলে ক্যাপ, টি-শার্ট পরতে দেখা যায়। সকাল ১০টার আগেই প্যান্ডেল ভরে যায়। প্যান্ডেলের বিভিন্ন স্থানে ১৬টি বড় পর্দায় অনুষ্ঠান দেখানো হয়। অনুষ্ঠান শুরুর পরও অনেকে প্যান্ডেলে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বাইরেই অবস্থান নেন। উদ্যান ও এর আশপাশে মাইকে বক্তৃতা শোনেন অনেকে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। চারটি ফটক দিয়ে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করতে হয় নেতা-কর্মীদের। ফলে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। উৎসুক নেতা-কর্মীদের পদচারণায় মুখর ছিল বাংলা একাডেমি, টিএসসি এলাকাও।

সম্মেলন উপলক্ষে এক সপ্তাহ আগে থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জেলা শহরকে সাজানো হয় বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি-সংবলিত ফেস্টুন দিয়ে। মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে রংবেরঙের বাতি ও তোরণ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কৃত্রিম জলাধারে কৃত্রিম শাপলা স্থাপন করা হয়। এসব জায়গা ঘিরে সেলফি তোলারও হিড়িক পড়ে যায়।

নৌকার আদলে মঞ্চ: সম্মেলন মঞ্চটি নির্মাণ করা হয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে। মঞ্চটি লম্বায় ১৫০ ও চওড়ায় ৮৪ ফুট। পাঁচ স্তরের এই মঞ্চের একেবারে সামনের অংশটির উচ্চতা আড়াই ফুট। যেখানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হয়। সাত ফুট উচ্চতার স্থানটিতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বসেন। আর পেছনের বিভিন্ন উচ্চতার তিন সারিতে কেন্দ্রীয় নেতারা বসেন। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সাংসদ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য প্যান্ডেল ও মঞ্চের মাঝখানে বসার ব্যবস্থা করা হয়।

আজকের কার্যক্রম: বিকেলের অধিবেশন শেখ হাসিনা বলেন, আজ কাউন্সিল অধিবেশন হবে সকাল সাড়ে নয়টায়, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে। এতে শুধু কাউন্সিলররাই অংশ নিতে পারবেন। সেখানে কিছু কাউন্সিলরকে তিন মিনিট করে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রতিটি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁদের সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করবেন। এরপর দলের সংশোধিত ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হবে। এসব সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে দেওয়া হবে। শুরু হবে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। রেওয়াজ অনুযায়ী, কাউন্সিলরদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি পদের জন্য নাম প্রস্তাব করেন। আরেকজন তা সমর্থন করেন। সাধারণ সম্পাদক পদেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।

গতকালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও কাউন্সিলর পর্বে আগতদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন হচ্ছে কি না, এই আলোচনা এসেছে। নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতায় কেউ কেউ জানতে চেয়েছেন, পরিবর্তন হলে নতুন কে আসছেন?

দলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের রেওয়াজ অনুযায়ী সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ফলে আজই এ প্রশ্নের মীমাংসা হয়ে যাওয়ার কথা।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X