বৃহস্পতিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং, ২রা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:৩৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, August 12, 2017 10:14 pm
A- A A+ Print

আদালত অবমাননা কারে কয় তুহিন মালিকের প্রশ্ন?

179857_1

ঢাকা: সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিলের পর থেকে সরকার প্রধান তেকে মন্ত্রিপরিষদের হেবিওয়েট মন্ত্রীরাও বিচার বিভাগ নিয়ে কথা বলতে ছাড়ছেন না। এই আদালত অবমাননা নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. তুহিন মালিক। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো: ১. মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী- ‘এই রায় একটা ষড়যন্ত্রের অংশ।' 'সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার ঘোষনা।' 'আইনমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশনা।' ২. স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন- 'সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি বঙ্গবন্ধুর প্রতি কটাক্ষ করার ‘ধৃষ্টতা’ দেখিয়েছেন।' এ রায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ব্যাপকভাবে অসাংবিধানিক ও অনৈতিক কথাবার্তার অবতারণা করেছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'এমনকি রায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়েও কটাক্ষ করতে দ্বিধা করেননি, আমরা ধিক্কার জানাই।' ৩. আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদ সম্মেলনে- 'এ রায় আবেগ ও বিদ্বেষতাড়িত।' ৪. খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম- 'প্রধান বিচারপতির অপসারণ দাবি। নইলে আগামী মাস থেকে তার অপসারণ দাবিতে টানা আন্দোলনের ঘোষণা।' 'মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সঙ্গে আঁতাত করে বেশি দিন এই মসনদে থাকতে পারবেন না।’ ৫. অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত- 'আদালত যতবার ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করবে, আমরা ততবার সংসদে বিল পাস করব। তা আমরা অনবরত করতে থাকব। দেখি জুডিশিয়ারি কত দূর যায়।' 'জুডিসিয়াল কন্ডিশন আনটলারেবল। সংসদের উপর তারা পোদ্দারি করবে। এদেরকে আমরা চাকরি দেই।' ৬. বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ- ‘যারা বর্তমানে বিচারকের আসনে বসেছেন, তারা ইম-ম্যাচিউরড।’ ৭. স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম- ‘আদালতের হাত এত বড় লম্বা হয়নি যে সংসদ ছুঁতে পারে।’ 'সংসদ নিয়ে ধৃষ্টতা দেখানোর অধিকার কারও নেই।’ ৮. গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন- প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে যা বলছেন, তা ঠিক নয়। বাংলার মানুষ জানে, আপনি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন।’ ৯. আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হক- ‘ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে দেওয়া ওই রায় ছিল পূর্বধারণাপ্রসূত ও আগে থেকে চিন্তাভাবনার ফসল।’ ‘সুপ্রিম কোর্টের এ ধরনের মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না।’ এভাবে এইসকল প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ সরাসরি বিচার বিভাগকে কঠিন এক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। এইসব হুমকি-ধমকী দিয়ে তারা সংবিধানে বর্ণিত বিচার বিভাগের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয়কে পরাহত করেছেন। যা সংবিধানের ৭ক(২) অনুচ্ছেদ মোতাবেক রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ। যা মৃত্যুদণ্ডের সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ। সাংবিধানিক শপথকারী এইসকল ব্যক্তিবর্গ সংবিধান সংরক্ষণ ও সুরক্ষার শপথ ভঙ্গ করেছেন। সাংবিধানিক পদধারীর স্বপঠিত শপথের পরিপন্থী অথবা শপথের সাথে সাংঘর্ষিক যেকোনো কাজ আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অসদাচরণ। সংবিধান একজন সাংবিধানিক পদধারীর গুরুতর অসদাচরণকে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে। এরূপ গুরুতর অসদাচরণ সংবিধান লঙ্ঘনের সমার্থক। তারা প্রকাশ্যে বিচার বিভাগের পবিত্রতাকে হেয় প্রতিপন্ন করেই চলেছেন। এটা গুরুতর ফৌজদারি অবমাননা ও সংবিধানের লঙ্ঘন। এরফলে এইসকল মন্ত্রীদের শপথ ভঙ্গ করার পর সাংবিধানিক পদে এক মুহূর্ত থাকার আর কোন নৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার নাই। সারা জাতির সামনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শপথ নিয়ে আইন ও সংবিধানের প্রকাশ্য লংঘন সাংবিধানিক পদে বহাল তবীয়তে থাকার অধিকারের বিলুপ্তি ঘটায়। সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত আইন হিসেবে গণ্য এবং তা সকলের ক্ষেত্রেই মানা বাধ্যতামূলক। তাহলে, এইসকল প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ কি আইনের উর্ধে?

Comments

Comments!

 আদালত অবমাননা কারে কয় তুহিন মালিকের প্রশ্ন?AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

আদালত অবমাননা কারে কয় তুহিন মালিকের প্রশ্ন?

Saturday, August 12, 2017 10:14 pm
179857_1

ঢাকা: সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিলের পর থেকে সরকার প্রধান তেকে মন্ত্রিপরিষদের হেবিওয়েট মন্ত্রীরাও বিচার বিভাগ নিয়ে কথা বলতে ছাড়ছেন না। এই আদালত অবমাননা নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. তুহিন মালিক।

তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

১. মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী-

‘এই রায় একটা ষড়যন্ত্রের অংশ।’ ‘সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার ঘোষনা।’ ‘আইনমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশনা।’

২. স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন-

‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি বঙ্গবন্ধুর প্রতি কটাক্ষ করার ‘ধৃষ্টতা’ দেখিয়েছেন।’ এ রায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ব্যাপকভাবে অসাংবিধানিক ও অনৈতিক কথাবার্তার অবতারণা করেছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এমনকি রায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়েও কটাক্ষ করতে দ্বিধা করেননি, আমরা ধিক্কার জানাই।’

৩. আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদ সম্মেলনে-

‘এ রায় আবেগ ও বিদ্বেষতাড়িত।’

৪. খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম-

‘প্রধান বিচারপতির অপসারণ দাবি। নইলে আগামী মাস থেকে তার অপসারণ দাবিতে টানা আন্দোলনের ঘোষণা।’ ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সঙ্গে আঁতাত করে বেশি দিন এই মসনদে থাকতে পারবেন না।’

৫. অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত-

‘আদালত যতবার ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করবে, আমরা ততবার সংসদে বিল পাস করব। তা আমরা অনবরত করতে থাকব। দেখি জুডিশিয়ারি কত দূর যায়।’

‘জুডিসিয়াল কন্ডিশন আনটলারেবল। সংসদের উপর তারা পোদ্দারি করবে। এদেরকে আমরা চাকরি দেই।’

৬. বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ-

‘যারা বর্তমানে বিচারকের আসনে বসেছেন, তারা ইম-ম্যাচিউরড।’

৭. স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম-

‘আদালতের হাত এত বড় লম্বা হয়নি যে সংসদ ছুঁতে পারে।’ ‘সংসদ নিয়ে ধৃষ্টতা দেখানোর অধিকার কারও নেই।’

৮. গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন-

প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে যা বলছেন, তা ঠিক নয়। বাংলার মানুষ জানে, আপনি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন।’

৯. আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হক-

‘ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে দেওয়া ওই রায় ছিল পূর্বধারণাপ্রসূত ও আগে থেকে চিন্তাভাবনার ফসল।’ ‘সুপ্রিম কোর্টের এ ধরনের মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না।’

এভাবে এইসকল প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ সরাসরি বিচার বিভাগকে কঠিন এক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। এইসব হুমকি-ধমকী দিয়ে তারা সংবিধানে বর্ণিত বিচার বিভাগের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয়কে পরাহত করেছেন। যা সংবিধানের ৭ক(২) অনুচ্ছেদ মোতাবেক রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ। যা মৃত্যুদণ্ডের সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ।

সাংবিধানিক শপথকারী এইসকল ব্যক্তিবর্গ সংবিধান সংরক্ষণ ও সুরক্ষার শপথ ভঙ্গ করেছেন।

সাংবিধানিক পদধারীর স্বপঠিত শপথের পরিপন্থী অথবা শপথের সাথে সাংঘর্ষিক যেকোনো কাজ আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অসদাচরণ। সংবিধান একজন সাংবিধানিক পদধারীর গুরুতর অসদাচরণকে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে। এরূপ গুরুতর অসদাচরণ সংবিধান লঙ্ঘনের সমার্থক। তারা প্রকাশ্যে বিচার বিভাগের পবিত্রতাকে হেয় প্রতিপন্ন করেই চলেছেন। এটা গুরুতর ফৌজদারি অবমাননা ও সংবিধানের লঙ্ঘন।

এরফলে এইসকল মন্ত্রীদের শপথ ভঙ্গ করার পর সাংবিধানিক পদে এক মুহূর্ত থাকার আর কোন নৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার নাই। সারা জাতির সামনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শপথ নিয়ে আইন ও সংবিধানের প্রকাশ্য লংঘন সাংবিধানিক পদে বহাল তবীয়তে থাকার অধিকারের বিলুপ্তি ঘটায়। সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত আইন হিসেবে গণ্য এবং তা সকলের ক্ষেত্রেই মানা বাধ্যতামূলক। তাহলে, এইসকল প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ কি আইনের উর্ধে?

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X