সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৬:২১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, November 8, 2016 7:32 am
A- A A+ Print

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ বছর, ‘সব অতৃপ্তিই আমার তৃপ্তি’

546

প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনার অভিষেকের ১৫ বছর পূর্তি হচ্ছে আগামীকাল। শুরুর দিনে যদি ফিরে যেতে বলি, ভেবেছিলেন এত দূর আসতে পারবেন? মাশরাফি: তখন তো খেলার চেয়ে অন্য বিষয় নিয়েই বেশি ভাবতাম। আড্ডা মারব, বন্ধুদের নিয়ে নড়াইলে থাকব। খেলোয়াড় হওয়ার জন্য তো ক্রিকেট খেলতে আসিনি। ভালো লাগত বলেই খেলতাম। ওই সময় যেখানেই খেলছিলাম, ভালো করছিলাম, উইকেট পাচ্ছিলাম—এভাবেই বাংলাদেশ দলে সুযোগ পেলাম। তবে বাড়ি, বন্ধুবান্ধব খুব মিস করতাম। খেলোয়াড় হব, বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হব—এসব কখনোই ভাবিনি। প্রশ্ন: তখন কী ভাবনা বেশি কাজ করত আপনার মধ্যে? মাশরাফি: খেলছি, খেলব—এমনটাই ভাবতাম। সত্যি কথা, মনের আনন্দে খেলতাম তখন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কোনো দিনই করিনি। আর তখন তো বয়স ছিল মাত্র ১৭-১৮। প্রশ্ন: একজন খেলোয়াড়, বিশেষ করে একজন পেস বোলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার যে ১৫ বছর হতে পারে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে আপনিই এর প্রথম উদাহরণ। কঠিন এই কাজটা কীভাবে সম্ভব হয়েছে? মাশরাফি: সম্ভব হয়েছে...কারণ আমার তীব্র ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশ দলে খেলব বা খেলতে চাই। আমি খেলাটা ভালোবাসি। আমি খুশি, এত চোটের পরও আল্লাহর রহমতে এত দিন খেলতে পেরেছি। এই জিনিসটা আমাকে আনন্দ দেয়। অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি এই জীবনে, তবু খেলাটা চালিয়ে যেতে পেরেছি। প্রশ্ন: চোট প্রসঙ্গেই আসতাম। এক-দুবার হলেও কথা। বারবার যদি চোটে না পড়তেন, তবে নিশ্চয়ই মাশরাফির বোলিং সত্তাটা পূর্ণতা পেত। বারবার যখন ছিটকে গেছেন, বাংলাদেশ আপনার অভাবটা অবশ্যই অনুভব করেছে।

মাশরাফি: বাংলাদেশ আমার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে কি না জানি না। তবে অবশ্যই বলতে পারি, চোটে না পড়লে আমার ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানটা ভিন্ন হতে পারত। একই সময়ে বলব, আমি যত সমস্যায় পড়েছি, সাধারণত খেলোয়াড়দের জীবনে এমনটা হয় না। অনেক সময় দেখি ছোটখাটো সমস্যায় অনেক খেলোয়াড় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, হাল ছেড়ে দেয়। বাংলাদেশ দলে ভবিষ্যতে যারা খেলবে, তারা অন্তত আমার ক্যারিয়ারটা দেখে প্রেরণা বা সাহস পাবে।

প্রশ্ন: ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক আপনি। নিজের অধিনায়কত্ব কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মাশরাফি: অধিনায়কত্ব পাওয়াই তো আমার কাছে ভাগ্যের ব্যাপার ছিল। আল্লাহর রহমতে যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু ভাবি না। আমার সামনে যখন যেটা আসে, সেটা নিয়েই কাজ করি।

প্রশ্ন: আপনার অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ সফল হলেও মাঝে আরেকটি অপ্রিয় প্রসঙ্গও উঠেছে—স্ট্রাইক বোলার মাশরাফি কোথায়? ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে শীর্ষ উইকেটশিকারি, দীর্ঘদিন পর আইসিসির র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশ বোলারের তালিকায় চলে আসা কি সেই প্রশ্নের জবাব?

মাশরাফি: যদি কেউ আমার বোলিং নিয়ে কিছু বলে, আমি তাঁর কথাকে সম্মান জানাই। আমি কখনোই নিজেকে প্রমাণ করার জন্য ক্রিকেট খেলি না। আমি খেলি মনের আনন্দে। যখন বিসিবি মনে করবে এটা যথেষ্ট নয়, আমাকে নিশ্চয়ই জানাবে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে এক ম্যাচে ৪ উইকেট পেয়ে তো আর আমি এক লাফে সেরা দশে আসিনি। এটা আসাও যায় না। গত বছর ৩০টির মতো উইকেট পেয়েছি। মোস্তাফিজ, তাসকিন, রুবেল অসাধারণ কিছু ম্যাচ খেলেছে গত বছর। তখন আমার ভূমিকাটা ছিল তাদের সহায়তা করা।

সর্বশেষ বছরে দেখেন, নতুন বলে বোলিং করতেই পারিনি। অথচ আমার শক্তির দিক নতুন বলে বোলিং। সারা জীবন সেটাই করে এসেছি। মোস্তাফিজ-তাসকিনের হাতে নতুন বল তুলে দিয়েছি। মনে মনে ভাবতাম, এটা আমার আরেকটা জয়। শক্তির জায়গাটা ওদের কাছে ছেড়ে দিয়েছি। নতুন বলের চেয়ে পুরোনো বলে আমার শক্তি কম জেনেও সেটা ভালোভাবে করার চেষ্টা করেছি। তারপরও ওদের সহায়ক ভূমিকা পালন করেও টুকটাক উইকেট নিয়ে গত বছর সাকিবের পরেই ছিলাম। এটার প্রতিফলনই হয়তো ইংল্যান্ড সিরিজে দেখা গেছে।

নতুন বলে বোলিং করেছি। আর যেটা বললেন র‌্যাঙ্কিং, ওখানে আসতে গেলে আপনাকে পুরো মৌসুমেই ভালো বোলিং করতে হবে। মানুষ কী বলল, সেটাতে কখনোই প্রতিক্রিয়া দেখাইনি, দেখাবও না। তবে সব সময়ই বিশ্বাস করি, বিচার করবে মানুষ। আমার কাজ খেলা। আরও একটা বড় দায়িত্ব আছে অধিনায়কত্ব করা। এই দুটিতেই আমার সব মনোযোগ।

প্রশ্ন: আবারও টেস্টে ফেরার আশা কি আসলেই করেন?

মাশরাফি: নিজের মতো করে অবসর নেব, এটা ভেবে আসলে টেস্ট খেলতে চাই না। যদি সত্যি কখনো মনে হয়, একজন আদর্শ টেস্ট খেলোয়াড় যেভাবে তৈরি থাকে, আমি তেমনভাবে প্রস্তুত, তখন হয়তো ভাবব। আর সেটাও যে অনেক দূর পর্যন্ত ভাবতে পারব, এমন না। আমার তো বয়স হচ্ছে।

প্রশ্ন: ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো অতৃপ্তি কি আছে?

মাশরাফি: অতৃপ্তি যদি খুঁজতে যাই, তৃপ্তি খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে যাবে। যদি বলেন, তৃপ্তি কী? সব অতৃপ্তিই আমার তৃপ্তি।

প্রশ্ন: দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় অর্জন কী?

মাশরাফি: এত দিন বাংলাদেশ দলে খেলছি, এর চেয়ে বড় অর্জন আর কী হতে পারে! দল হিসেবে আমরা গত দুই-আড়াই বছর ভালো খেলছি। আর ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে কখনো চিন্তা করি না। অত হিসাব-নিকাশও করি না। করতেও পারি না। তবে হ্যাঁ, দলের কথা ভাবলে অবশ্যই ভালো লাগে।

১৫ বছর খেলেছি মানে জীবনের একটা বড় সময় মাঠে চলে গেছে। এত সময় দিয়ে যদি কিছু নিয়ে যেতে পারি, ভালো লাগবে। এখন যদি চলেও যাই, তবু নিজের কাছে ভালো লাগবে। আমরা তো দল হিসেবেই ভালো খেলছি। বাংলাদেশ এখন ম্যাচ জিতছে, যখন ভাবি আমিও এই দলের অংশ, শেষ করার সময় এই পূর্ণতা নিয়ে যাওয়াটা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার।

প্রশ্ন: ক্যারিয়ারে সবচেয়ে কষ্টের ঘটনা কোনটি?

মাশরাফি: মানজারুল রানার মৃত্যু।

প্রশ্ন: সবচেয়ে আনন্দের ঘটনা?

মাশরাফি: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়, ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারানো, অবশ্যই টেস্টে এবার ইংল্যান্ডকে হারানো। যদিও ম্যাচটা আমি খেলিনি। আর ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানো।

প্রশ্ন: আপনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি। এক প্রজন্মকে বেশির ভাগ সময়ই হারতে দেখেছেন। আর বর্তমান প্রজন্ম পুরো বিপরীত। বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই সময় দেখার অভিজ্ঞতার কথা যদি জানতে চাই...

মাশরাফি: আমাদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যটা প্রবল, এক প্রজন্ম ভালো করছে তাদের মাথায় তুলে রাখা আর যারা খারাপ খেলেছে তাদের দূরে সরিয়ে রাখা। যারা ভালো করেছিল আর যে ভালো করা শুরু করেছে, দুজনের মধ্যে তুলনা করা। আকরাম-বুলবুল ভাই নিজেরাই মাঠে পানি টেনে এনে খেয়েছেন। আর এখনকার খেলোয়াড়েরা বোতলে এক চুমুক দিয়ে ফেলে দিচ্ছে। তুলনা যদি করতে হয়, এভাবেই করতে হবে। তখন বোঝা যাবে, আমাদের চেয়ে কতটা তারা নিবেদিত ছিল, কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছে।

এই সময়ে এসে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে। আমি তো আকরাম ভাইদের সঙ্গেও খেলেছি। তখন আর এখনকার পরিবেশ দুটিই আমার দেখা। ২০০৬ সালের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটে জিমই ছিল না। আজ বাংলাদেশ ক্রিকেটের যারা মহাতারকা, যাদের নিয়ে আপনারা লেখেন, আমরা নিজেরাও গর্ববোধ করি, সমর্থকেরা যাদের নিয়ে গর্ব করেন, যেমন সাকিব, তামিম, মুশফিক, রিয়াদ—এই খেলোয়াড়েরা যখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে এসেছে, তখন থেকেই এই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা চালু হয়েছে। এত সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই আকরাম, বুলবুল, পাইলট, সুজন ভাইয়েরা যে খেলাটার প্রতি নিবেদিত ছিলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তখন ক্রিকেটে এত টাকাও ছিল না। ক্রিকেট না খেলে অন্য পেশায় গেলে তাঁরা আরও আরামের জীবন পেতেন। কিন্তু নিবেদিত ছিলেন বলেই ক্রিকেট তাঁরা খেলে গেছেন।

প্রশ্ন: বর্তমান দলটার সবচেয়ে বড় শক্তির দিক কোনটি?

মাশরাফি: সবাই একে অপরের জন্য খেলে। একটা দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এইটাই। সবাই সবার সাফল্যে খুশি হয়। একজন ব্যর্থ হলেও সে আরেকজনের সাফল্যে খুশি হয়। আর কঠোর পরিশ্রম তো আছেই। এখন যেটা আছে, এটা চলতে থাকলে ভবিষ্যতেও এই সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব। তদারকি ঠিকঠাক করতে হবে, নিজের প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে। আর আপনাদের মানে সংবাদমাধ্যমের সামনে একটু কম কম আসতে হবে। আপনাদেরও বিষয়টা একটু বুঝতে হবে।

প্রশ্ন: কিন্তু সংবাদমাধ্যমেরও তো পেশাগত দায় আছে। তাদের পাঠক বা দর্শকের চাহিদা পূরণের বিষয় থাকে।

মাশরাফি: যতই চাহিদা থাকুক, একজন খেলোয়াড়কে সেটি বুঝতে হবে। এতে হয় কী, একজন খেলোয়াড়ের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়, সেটি সে বুঝতে পারে না। আমি এত দিন পর এসে বিষয়টা বুঝতে পারি। সংবাদমাধ্যম কাউকে ভালোভাবে তুলে ধরছে, এটা ভালো বিষয়। কিন্তু বাঙালি হিসেবে আমরা প্রথমত আবেগময়, দ্বিতীয়ত আবেগ-বাস্তবতার ভারসাম্য রাখতে পারি না। অতি উৎসাহী হয়ে গেলে হয় কী, ওই খেলোয়াড় আর ভারসাম্য রাখতে পারে না। একজন খেলোয়াড় যখন অনেক বেশি কথা বলে, তখন এমন কিছু কথা বেরিয়ে যায়, যাতে নিজের ওপরই অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়। যেটা সে বলছে, মাঠেও তো প্রমাণ করার বিষয় থাকে। সেটা না পারলে তখন সারা দেশের মানুষই বলে, ওকে বাদ দাও। যেটা সোহাগ গাজী-সৌম্য সরকারের ক্ষেত্রে হয়েছে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশকে নিয়ে কী স্বপ্ন দেখেন?

মাশরাফি: এখন থেকে সাত বা দশ বছর পরে দেখবেন আমরা ভিন্ন দল হয়ে গেছি। সাকিব-তামিম-মুশফিকরা আরও পাঁচ বছর খেলবে। এর মধ্যে রুম্মন (সাব্বির), মিরাজ, মোস্তাফিজ, সৌম্যরা আরও পরিপক্ব ও অভিজ্ঞ হবে। তখন বাংলাদেশ দল অন্য রকম হয়ে যাবে।

প্রশ্ন: অন্য রকম বলতে?

মাশরাফি: একটা সময় অস্ট্রেলিয়া সব জিতেছে। ১৯৯৯ থেকে ২০১১—ওরা যেটা করেছে অবিশ্বাস্য! ওই রকম একতরফা হয়তো হবে না, তবে এই ধরনের দল আমরা হব।

১৫ বছরে মাশরাফির সেরা *সেরা বোলিং টেস্ট: ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪/৬০। ওয়ানডে: ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে (৪/৩৮)। *সেরা ম্যাচ ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারানো আর ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সঙ্গে জয়। *সেরা মুহূর্ত:প্রথম টেস্ট জয়। *প্রিয় প্রতিপক্ষ:পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে তো ভারতই বলতে হবে। *সেরা উইকেট * ১১ মাস পর ফিরে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে টেস্টে রাহুল দ্রাবিড়কে ইনসুইংয়ে বোল্ড করে দেওয়া (২০০৪ সালে)। * ২০০৭ বিশ্বকাপে বীরেন্দর শেবাগকে বোল্ড করা।

Comments

Comments!

 আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ বছর, ‘সব অতৃপ্তিই আমার তৃপ্তি’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ বছর, ‘সব অতৃপ্তিই আমার তৃপ্তি’

Tuesday, November 8, 2016 7:32 am
546

প্রশ্ন:

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনার অভিষেকের ১৫ বছর পূর্তি হচ্ছে আগামীকাল। শুরুর দিনে যদি ফিরে যেতে বলি, ভেবেছিলেন এত দূর আসতে পারবেন?
মাশরাফি: তখন তো খেলার চেয়ে অন্য বিষয় নিয়েই বেশি ভাবতাম। আড্ডা মারব, বন্ধুদের নিয়ে নড়াইলে থাকব। খেলোয়াড় হওয়ার জন্য তো ক্রিকেট খেলতে আসিনি। ভালো লাগত বলেই খেলতাম। ওই সময় যেখানেই খেলছিলাম, ভালো করছিলাম, উইকেট পাচ্ছিলাম—এভাবেই বাংলাদেশ দলে সুযোগ পেলাম। তবে বাড়ি, বন্ধুবান্ধব খুব মিস করতাম। খেলোয়াড় হব, বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হব—এসব কখনোই ভাবিনি।
প্রশ্ন: তখন কী ভাবনা বেশি কাজ করত আপনার মধ্যে?
মাশরাফি: খেলছি, খেলব—এমনটাই ভাবতাম। সত্যি কথা, মনের আনন্দে খেলতাম তখন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কোনো দিনই করিনি। আর তখন তো বয়স ছিল মাত্র ১৭-১৮।
প্রশ্ন: একজন খেলোয়াড়, বিশেষ করে একজন পেস বোলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার যে ১৫ বছর হতে পারে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে আপনিই এর প্রথম উদাহরণ। কঠিন এই কাজটা কীভাবে সম্ভব হয়েছে?
মাশরাফি: সম্ভব হয়েছে…কারণ আমার তীব্র ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশ দলে খেলব বা খেলতে চাই। আমি খেলাটা ভালোবাসি। আমি খুশি, এত চোটের পরও আল্লাহর রহমতে এত দিন খেলতে পেরেছি। এই জিনিসটা আমাকে আনন্দ দেয়। অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি এই জীবনে, তবু খেলাটা চালিয়ে যেতে পেরেছি।
প্রশ্ন: চোট প্রসঙ্গেই আসতাম। এক-দুবার হলেও কথা। বারবার যদি চোটে না পড়তেন, তবে নিশ্চয়ই মাশরাফির বোলিং সত্তাটা পূর্ণতা পেত। বারবার যখন ছিটকে গেছেন, বাংলাদেশ আপনার অভাবটা অবশ্যই অনুভব করেছে।

মাশরাফি: বাংলাদেশ আমার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে কি না জানি না। তবে অবশ্যই বলতে পারি, চোটে না পড়লে আমার ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানটা ভিন্ন হতে পারত। একই সময়ে বলব, আমি যত সমস্যায় পড়েছি, সাধারণত খেলোয়াড়দের জীবনে এমনটা হয় না। অনেক সময় দেখি ছোটখাটো সমস্যায় অনেক খেলোয়াড় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, হাল ছেড়ে দেয়। বাংলাদেশ দলে ভবিষ্যতে যারা খেলবে, তারা অন্তত আমার ক্যারিয়ারটা দেখে প্রেরণা বা সাহস পাবে।

প্রশ্ন: ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক আপনি। নিজের অধিনায়কত্ব কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মাশরাফি: অধিনায়কত্ব পাওয়াই তো আমার কাছে ভাগ্যের ব্যাপার ছিল। আল্লাহর রহমতে যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু ভাবি না। আমার সামনে যখন যেটা আসে, সেটা নিয়েই কাজ করি।

প্রশ্ন: আপনার অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ সফল হলেও মাঝে আরেকটি অপ্রিয় প্রসঙ্গও উঠেছে—স্ট্রাইক বোলার মাশরাফি কোথায়? ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে শীর্ষ উইকেটশিকারি, দীর্ঘদিন পর আইসিসির র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশ বোলারের তালিকায় চলে আসা কি সেই প্রশ্নের জবাব?

মাশরাফি: যদি কেউ আমার বোলিং নিয়ে কিছু বলে, আমি তাঁর কথাকে সম্মান জানাই। আমি কখনোই নিজেকে প্রমাণ করার জন্য ক্রিকেট খেলি না। আমি খেলি মনের আনন্দে। যখন বিসিবি মনে করবে এটা যথেষ্ট নয়, আমাকে নিশ্চয়ই জানাবে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে এক ম্যাচে ৪ উইকেট পেয়ে তো আর আমি এক লাফে সেরা দশে আসিনি। এটা আসাও যায় না। গত বছর ৩০টির মতো উইকেট পেয়েছি। মোস্তাফিজ, তাসকিন, রুবেল অসাধারণ কিছু ম্যাচ খেলেছে গত বছর। তখন আমার ভূমিকাটা ছিল তাদের সহায়তা করা।

সর্বশেষ বছরে দেখেন, নতুন বলে বোলিং করতেই পারিনি। অথচ আমার শক্তির দিক নতুন বলে বোলিং। সারা জীবন সেটাই করে এসেছি। মোস্তাফিজ-তাসকিনের হাতে নতুন বল তুলে দিয়েছি। মনে মনে ভাবতাম, এটা আমার আরেকটা জয়। শক্তির জায়গাটা ওদের কাছে ছেড়ে দিয়েছি। নতুন বলের চেয়ে পুরোনো বলে আমার শক্তি কম জেনেও সেটা ভালোভাবে করার চেষ্টা করেছি। তারপরও ওদের সহায়ক ভূমিকা পালন করেও টুকটাক উইকেট নিয়ে গত বছর সাকিবের পরেই ছিলাম। এটার প্রতিফলনই হয়তো ইংল্যান্ড সিরিজে দেখা গেছে।

নতুন বলে বোলিং করেছি। আর যেটা বললেন র‌্যাঙ্কিং, ওখানে আসতে গেলে আপনাকে পুরো মৌসুমেই ভালো বোলিং করতে হবে। মানুষ কী বলল, সেটাতে কখনোই প্রতিক্রিয়া দেখাইনি, দেখাবও না। তবে সব সময়ই বিশ্বাস করি, বিচার করবে মানুষ। আমার কাজ খেলা। আরও একটা বড় দায়িত্ব আছে অধিনায়কত্ব করা। এই দুটিতেই আমার সব মনোযোগ।

প্রশ্ন: আবারও টেস্টে ফেরার আশা কি আসলেই করেন?

মাশরাফি: নিজের মতো করে অবসর নেব, এটা ভেবে আসলে টেস্ট খেলতে চাই না। যদি সত্যি কখনো মনে হয়, একজন আদর্শ টেস্ট খেলোয়াড় যেভাবে তৈরি থাকে, আমি তেমনভাবে প্রস্তুত, তখন হয়তো ভাবব। আর সেটাও যে অনেক দূর পর্যন্ত ভাবতে পারব, এমন না। আমার তো বয়স হচ্ছে।

প্রশ্ন: ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো অতৃপ্তি কি আছে?

মাশরাফি: অতৃপ্তি যদি খুঁজতে যাই, তৃপ্তি খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে যাবে। যদি বলেন, তৃপ্তি কী? সব অতৃপ্তিই আমার তৃপ্তি।

প্রশ্ন: দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় অর্জন কী?

মাশরাফি: এত দিন বাংলাদেশ দলে খেলছি, এর চেয়ে বড় অর্জন আর কী হতে পারে! দল হিসেবে আমরা গত দুই-আড়াই বছর ভালো খেলছি। আর ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে কখনো চিন্তা করি না। অত হিসাব-নিকাশও করি না। করতেও পারি না। তবে হ্যাঁ, দলের কথা ভাবলে অবশ্যই ভালো লাগে।

১৫ বছর খেলেছি মানে জীবনের একটা বড় সময় মাঠে চলে গেছে। এত সময় দিয়ে যদি কিছু নিয়ে যেতে পারি, ভালো লাগবে। এখন যদি চলেও যাই, তবু নিজের কাছে ভালো লাগবে। আমরা তো দল হিসেবেই ভালো খেলছি। বাংলাদেশ এখন ম্যাচ জিতছে, যখন ভাবি আমিও এই দলের অংশ, শেষ করার সময় এই পূর্ণতা নিয়ে যাওয়াটা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার।

প্রশ্ন: ক্যারিয়ারে সবচেয়ে কষ্টের ঘটনা কোনটি?

মাশরাফি: মানজারুল রানার মৃত্যু।

প্রশ্ন: সবচেয়ে আনন্দের ঘটনা?

মাশরাফি: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়, ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারানো, অবশ্যই টেস্টে এবার ইংল্যান্ডকে হারানো। যদিও ম্যাচটা আমি খেলিনি। আর ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানো।

প্রশ্ন: আপনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি। এক প্রজন্মকে বেশির ভাগ সময়ই হারতে দেখেছেন। আর বর্তমান প্রজন্ম পুরো বিপরীত। বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই সময় দেখার অভিজ্ঞতার কথা যদি জানতে চাই…

মাশরাফি: আমাদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যটা প্রবল, এক প্রজন্ম ভালো করছে তাদের মাথায় তুলে রাখা আর যারা খারাপ খেলেছে তাদের দূরে সরিয়ে রাখা। যারা ভালো করেছিল আর যে ভালো করা শুরু করেছে, দুজনের মধ্যে তুলনা করা। আকরাম-বুলবুল ভাই নিজেরাই মাঠে পানি টেনে এনে খেয়েছেন। আর এখনকার খেলোয়াড়েরা বোতলে এক চুমুক দিয়ে ফেলে দিচ্ছে। তুলনা যদি করতে হয়, এভাবেই করতে হবে। তখন বোঝা যাবে, আমাদের চেয়ে কতটা তারা নিবেদিত ছিল, কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছে।

এই সময়ে এসে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে। আমি তো আকরাম ভাইদের সঙ্গেও খেলেছি। তখন আর এখনকার পরিবেশ দুটিই আমার দেখা। ২০০৬ সালের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটে জিমই ছিল না। আজ বাংলাদেশ ক্রিকেটের যারা মহাতারকা, যাদের নিয়ে আপনারা লেখেন, আমরা নিজেরাও গর্ববোধ করি, সমর্থকেরা যাদের নিয়ে গর্ব করেন, যেমন সাকিব, তামিম, মুশফিক, রিয়াদ—এই খেলোয়াড়েরা যখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে এসেছে, তখন থেকেই এই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা চালু হয়েছে। এত সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই আকরাম, বুলবুল, পাইলট, সুজন ভাইয়েরা যে খেলাটার প্রতি নিবেদিত ছিলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তখন ক্রিকেটে এত টাকাও ছিল না। ক্রিকেট না খেলে অন্য পেশায় গেলে তাঁরা আরও আরামের জীবন পেতেন। কিন্তু নিবেদিত ছিলেন বলেই ক্রিকেট তাঁরা খেলে গেছেন।

প্রশ্ন: বর্তমান দলটার সবচেয়ে বড় শক্তির দিক কোনটি?

মাশরাফি: সবাই একে অপরের জন্য খেলে। একটা দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এইটাই। সবাই সবার সাফল্যে খুশি হয়। একজন ব্যর্থ হলেও সে আরেকজনের সাফল্যে খুশি হয়। আর কঠোর পরিশ্রম তো আছেই। এখন যেটা আছে, এটা চলতে থাকলে ভবিষ্যতেও এই সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব। তদারকি ঠিকঠাক করতে হবে, নিজের প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে। আর আপনাদের মানে সংবাদমাধ্যমের সামনে একটু কম কম আসতে হবে। আপনাদেরও বিষয়টা একটু বুঝতে হবে।

প্রশ্ন: কিন্তু সংবাদমাধ্যমেরও তো পেশাগত দায় আছে। তাদের পাঠক বা দর্শকের চাহিদা পূরণের বিষয় থাকে।

মাশরাফি: যতই চাহিদা থাকুক, একজন খেলোয়াড়কে সেটি বুঝতে হবে। এতে হয় কী, একজন খেলোয়াড়ের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়, সেটি সে বুঝতে পারে না। আমি এত দিন পর এসে বিষয়টা বুঝতে পারি। সংবাদমাধ্যম কাউকে ভালোভাবে তুলে ধরছে, এটা ভালো বিষয়। কিন্তু বাঙালি হিসেবে আমরা প্রথমত আবেগময়, দ্বিতীয়ত আবেগ-বাস্তবতার ভারসাম্য রাখতে পারি না। অতি উৎসাহী হয়ে গেলে হয় কী, ওই খেলোয়াড় আর ভারসাম্য রাখতে পারে না। একজন খেলোয়াড় যখন অনেক বেশি কথা বলে, তখন এমন কিছু কথা বেরিয়ে যায়, যাতে নিজের ওপরই অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়। যেটা সে বলছে, মাঠেও তো প্রমাণ করার বিষয় থাকে। সেটা না পারলে তখন সারা দেশের মানুষই বলে, ওকে বাদ দাও। যেটা সোহাগ গাজী-সৌম্য সরকারের ক্ষেত্রে হয়েছে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশকে নিয়ে কী স্বপ্ন দেখেন?

মাশরাফি: এখন থেকে সাত বা দশ বছর পরে দেখবেন আমরা ভিন্ন দল হয়ে গেছি। সাকিব-তামিম-মুশফিকরা আরও পাঁচ বছর খেলবে। এর মধ্যে রুম্মন (সাব্বির), মিরাজ, মোস্তাফিজ, সৌম্যরা আরও পরিপক্ব ও অভিজ্ঞ হবে। তখন বাংলাদেশ দল অন্য রকম হয়ে যাবে।

প্রশ্ন: অন্য রকম বলতে?

মাশরাফি: একটা সময় অস্ট্রেলিয়া সব জিতেছে। ১৯৯৯ থেকে ২০১১—ওরা যেটা করেছে অবিশ্বাস্য! ওই রকম একতরফা হয়তো হবে না, তবে এই ধরনের দল আমরা হব।

১৫ বছরে মাশরাফির সেরা

*সেরা বোলিং

টেস্ট: ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪/৬০।

ওয়ানডে: ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে (৪/৩৮)।

*সেরা ম্যাচ

২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতকে হারানো আর ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সঙ্গে জয়।

*সেরা মুহূর্ত:প্রথম টেস্ট জয়।

*প্রিয় প্রতিপক্ষ:পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে তো ভারতই বলতে হবে।

*সেরা উইকেট

* ১১ মাস পর ফিরে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে টেস্টে রাহুল দ্রাবিড়কে ইনসুইংয়ে বোল্ড করে দেওয়া (২০০৪ সালে)।

* ২০০৭ বিশ্বকাপে বীরেন্দর শেবাগকে বোল্ড করা।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X