সোমবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ভোর ৫:৪৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, September 25, 2016 4:51 pm
A- A A+ Print

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদন : পাক-ভারত পারমাণবিক যুদ্ধ হলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে মানবসভ্যতা

154096_1

জম্মু-কাশ্মীর: কাশ্মীরের উরিতে ১৮ ভারতীয় সেনা নিহতের ঘ্টনায় বিশ্বের অন্যতম দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারত পাকিস্তানে সার্জিক্যাল আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। পাল্টা জবাব দিতে দেশটির দিকে মিসাইল তাক করে রেখেছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অনেকের আশঙ্কা, পরিস্থিতির রাশ টেনে না ধরলে যেকোনো সময় ভারত-পাকিস্তান পারমাণবিক যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে। আর সত্যিই যদি পারমাণবিক যুদ্ধ লেগে যায়, তাহলে তা ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বব্যাপী, ঘটবে ব্যাপক প্রাণহানি। ফের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বিশ্বের মানবসভ্যতা। এতে ২০০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলেও তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান। অবশ্য তাদের এই হিসাবটি ২০১৩ সালের। ৩ বছর পরে আজকে ভারত-পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর জনসংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এখন যদি এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় তবে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ইন্টারন্যাশনাল ফিজিশিয়ানস ফর দ্য প্রিভেনশন অব নিউক্লিয়ার ওয়্যার এবং ফিজিশিয়ানস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি এই গবেষণামূলক প্রতিবেদনটি তৈরি করে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে একটি গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈরী প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধলে বিশ্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। এতে অন্তত ২০০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে মানবসভ্যতা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দুই দেশের মধ্যে সীমিত পর্যায়েও পারমাণবিক অস্ত্রের লড়াই হলে বিশ্বের আবহাওয়ামণ্ডলের ব্যাপক ক্ষতি ও শস্যক্ষেত্র ধ্বংস হবে। পরিণামে খাদ্যপণ্যের বিশ্ববাজারে বহু গুণ খারাপ প্রভাব পড়বে। খাদ্যশৃঙ্খলায় দেখা দেবে বিশৃঙ্খলা। এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান দুটি এর আগে ২০১২ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে ধারণা দিয়েছিল, এ রকম একটি পারমাণবিক যুদ্ধে ১০০ কোটির বেশি মানুষ মারা যেতে পারে। গবেষণার দ্বিতীয় সংস্করণে সংগঠন দুটি বলেছে, দুই দেশের সম্ভাব্য পরমাণু যুদ্ধে চীনের ওপর প্রভাবের বিষয়টি তারা অনেকটাই এড়িয়ে গেছে। তবে বিশ্বের জনবহুলতম এই দেশ মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারে বলে এতে আশঙ্কা করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরমাণু যুদ্ধের ফলে আবহাওয়ামণ্ডলে যে কার্বন অ্যারোসল কণা ছড়াবে, তাতে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও এক দশক শস্যকণা ও সয়াবিনের উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ কমে যাবে। এ কণার প্রভাবে চীনে প্রথম চার বছর গড়ে ২১ শতাংশ ও পরের ছয় বছর আরো ১০ শতাংশ ধানের উৎপাদন কমে যাবে। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে গমের উৎপাদনও। প্রতিবেদনের লেখক আইরা হেলফান্দ বলেন, ‘উন্নয়নশীল বিশ্বে ১০০ কোটি মানুষ মারা যাওয়া নিশ্চিতভাবেই মানব ইতিহাসের জন্য এক বিপর্যয়। এর সঙ্গে চীনের আরো ১৩০ কোটি মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। এর যে ফলাফল আমরা পাব তা হলো, স্পষ্টতই একটি সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’ হেলফান্দ বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত তিনবার দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গবেষণাটি করা হয়েছে। হেলফান্দ আরো বলেন, ‘আধুনিক যুগের পারমাণবিক অস্ত্র ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ফেলা মার্কিন পরমাণু বোমার চেয়ে অনেক শক্তিশালী। ওই বোমায় দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।’ প্রসঙ্গত, কাশ্মীরে গত ৫৮ দিন ধরে চলা সংঘর্ষ এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। ভারতীয় বাহিনীর সাথে স্থানীয় কাশ্মীরিদের ওই সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৮৭ জন নিহত হয়েছে যাদের অধিকাংশই তরুণ এবং আহত হয়েছে প্রায় ৮,০০০ বেসামরিক লোক। এখনো সেখানে কার্ফ্যু জারি রয়েছে এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এএফপি ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস অবলম্বনে

Comments

Comments!

 আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদন : পাক-ভারত পারমাণবিক যুদ্ধ হলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে মানবসভ্যতাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদন : পাক-ভারত পারমাণবিক যুদ্ধ হলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে মানবসভ্যতা

Sunday, September 25, 2016 4:51 pm
154096_1

জম্মু-কাশ্মীর: কাশ্মীরের উরিতে ১৮ ভারতীয় সেনা নিহতের ঘ্টনায় বিশ্বের অন্যতম দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভারত পাকিস্তানে সার্জিক্যাল আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। পাল্টা জবাব দিতে দেশটির দিকে মিসাইল তাক করে রেখেছে পাকিস্তান।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অনেকের আশঙ্কা, পরিস্থিতির রাশ টেনে না ধরলে যেকোনো সময় ভারত-পাকিস্তান পারমাণবিক যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে। আর সত্যিই যদি পারমাণবিক যুদ্ধ লেগে যায়, তাহলে তা ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বব্যাপী, ঘটবে ব্যাপক প্রাণহানি। ফের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বিশ্বের মানবসভ্যতা। এতে ২০০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলেও তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান।

অবশ্য তাদের এই হিসাবটি ২০১৩ সালের। ৩ বছর পরে আজকে ভারত-পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর জনসংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফলে এখন যদি এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় তবে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ইন্টারন্যাশনাল ফিজিশিয়ানস ফর দ্য প্রিভেনশন অব নিউক্লিয়ার ওয়্যার এবং ফিজিশিয়ানস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি এই গবেষণামূলক প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে একটি গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈরী প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধলে বিশ্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। এতে অন্তত ২০০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে মানবসভ্যতা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দুই দেশের মধ্যে সীমিত পর্যায়েও পারমাণবিক অস্ত্রের লড়াই হলে বিশ্বের আবহাওয়ামণ্ডলের ব্যাপক ক্ষতি ও শস্যক্ষেত্র ধ্বংস হবে। পরিণামে খাদ্যপণ্যের বিশ্ববাজারে বহু গুণ খারাপ প্রভাব পড়বে। খাদ্যশৃঙ্খলায় দেখা দেবে বিশৃঙ্খলা।

এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান দুটি এর আগে ২০১২ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে ধারণা দিয়েছিল, এ রকম একটি পারমাণবিক যুদ্ধে ১০০ কোটির বেশি মানুষ মারা যেতে পারে।

গবেষণার দ্বিতীয় সংস্করণে সংগঠন দুটি বলেছে, দুই দেশের সম্ভাব্য পরমাণু যুদ্ধে চীনের ওপর প্রভাবের বিষয়টি তারা অনেকটাই এড়িয়ে গেছে। তবে বিশ্বের জনবহুলতম এই দেশ মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারে বলে এতে আশঙ্কা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরমাণু যুদ্ধের ফলে আবহাওয়ামণ্ডলে যে কার্বন অ্যারোসল কণা ছড়াবে, তাতে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও এক দশক শস্যকণা ও সয়াবিনের উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ কমে যাবে। এ কণার প্রভাবে চীনে প্রথম চার বছর গড়ে ২১ শতাংশ ও পরের ছয় বছর আরো ১০ শতাংশ ধানের উৎপাদন কমে যাবে। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে গমের উৎপাদনও।

প্রতিবেদনের লেখক আইরা হেলফান্দ বলেন, ‘উন্নয়নশীল বিশ্বে ১০০ কোটি মানুষ মারা যাওয়া নিশ্চিতভাবেই মানব ইতিহাসের জন্য এক বিপর্যয়। এর সঙ্গে চীনের আরো ১৩০ কোটি মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। এর যে ফলাফল আমরা পাব তা হলো, স্পষ্টতই একটি সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’

হেলফান্দ বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত তিনবার দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গবেষণাটি করা হয়েছে।

হেলফান্দ আরো বলেন, ‘আধুনিক যুগের পারমাণবিক অস্ত্র ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ফেলা মার্কিন পরমাণু বোমার চেয়ে অনেক শক্তিশালী। ওই বোমায় দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।’

প্রসঙ্গত, কাশ্মীরে গত ৫৮ দিন ধরে চলা সংঘর্ষ এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। ভারতীয় বাহিনীর সাথে স্থানীয় কাশ্মীরিদের ওই সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৮৭ জন নিহত হয়েছে যাদের অধিকাংশই তরুণ এবং আহত হয়েছে প্রায় ৮,০০০ বেসামরিক লোক। এখনো সেখানে কার্ফ্যু জারি রয়েছে এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এএফপি ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস অবলম্বনে

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X