সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:০৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, October 25, 2016 9:58 pm | আপডেটঃ October 25, 2016 10:28 PM
A- A A+ Print

‘আব্বু’ বলে ডেকেছে খাদিজা

157567_1

মাশুক মিয়ার প্রতীক্ষার অবসান হলো আজ। ৩ অক্টোবর থেকে অচেতন খাদিজা বেগম আজ তাঁর বাবাকে ‘আব্বু’ বলে ডেকেছেন। তিনি তাঁর মা কেও চিনতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। সৌদিপ্রবাসী মাশুক মিয়া মেয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে ৬ অক্টোবর দেশে ফেরেন। একই দিনে দেশে আসেন খাদিজার ভাই শাহীন আহমেদ। চীনের একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী শাহীন গতকাল সোমবার চীনে ফিরে গেছেন। কিছুক্ষণ আগে খাদিজার বাবা মাশুক মিয়া প্রথম আলো কে বলেন, ‘খাদিজা আজ আমাকে আব্বু বলে ডেকেছে। খুব আস্তে। আমি নিজে শুনেছি। আমার মনে হলো ও আমাকে ওর মা কে ও আমাদের আত্মীয়-স্বজনদেরও হালকা-হালকা চিনতে পারছে। ব্যথা পেলে গোঙাচ্ছে। চিকিৎসকেরা আমাদের বলেছেন, দু/চার দিনের মধ্যেই ওকে কেবিনে দিয়ে দেবেন।’ তিনি আরও জানান, খাদিজা এখন কোনো কৃত্রিম যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই অল্প-স্বল্প খাওয়া দাওয়া করছেন। বেশির ভাগ সময়ই তাঁকে তরল খাওয়ার দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে মাশুক মিয়া বলেন, তাঁরা ধারণ করছেন দু/তিন মাস পরে খাদিজার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাদিজা বেগম এখন হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে আছেন। তাঁর শরীর থেকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্রপাতি ও খাওয়ানোর জন্য যন্ত্রপাতি খুলে নেওয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হওয়ায় হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট থেকে খাদিজাকে কেবিনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকেরা। খাদিজা বেগমের চিকিৎসক স্কয়ার হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের পরামর্শক রেজাউস সাত্তার প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর খাদিজার শরীরের ডান দিকে সাড়া ফিরলেও, খাদিজা বাম হাত-বাম পা নাড়তে পারছিলেন না। এই সপ্তাহের শুরু থেকে খাদিজা বাম পাও সামান্য নাড়তে পারছেন। তবে বাম পা নাড়তে তাঁর খুব কষ্ট হচ্ছে। খাদিজা ডান দিকের হাত-পা নাড়তে পারায়, ১৭ অক্টোবর তাঁর ডান হাতে অস্ত্রোপচার করেন স্কয়ার হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান পরামর্শক মেজবাহুল হক। বাম হাতটি খাদিজা এখনো নাড়তে পারছেন না। এই হাতে অনুভূতি ফিরে এলে আরও একদফা অস্ত্রোপচারের মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে। গত ৩ অক্টোবর সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের (ডিগ্রি) ছাত্রী খাদিজা বেগম পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে বদরুল আলমের নির্যাতনের শিকার হন। মাথায় মারাত্মক আঘাত নিয়ে প্রথমে খাদিজাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর অচেতন অবস্থাতেই খাদিজাকে ওই দিন দিবাগত রাতে তাঁর স্বজনেরা স্কয়ার হাসপাতালে আসেন। সংকটজনক অবস্থাতেই খাদিজার মাথায় দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের ৯৬ ঘণ্টা পর চিকিৎসকেরা জানান, খাদিজার আর জীবন সংশয় নেই।

Comments

Comments!

 ‘আব্বু’ বলে ডেকেছে খাদিজাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘আব্বু’ বলে ডেকেছে খাদিজা

Tuesday, October 25, 2016 9:58 pm | আপডেটঃ October 25, 2016 10:28 PM
157567_1

মাশুক মিয়ার প্রতীক্ষার অবসান হলো আজ। ৩ অক্টোবর থেকে অচেতন খাদিজা বেগম আজ তাঁর বাবাকে ‘আব্বু’ বলে ডেকেছেন। তিনি তাঁর মা কেও চিনতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

সৌদিপ্রবাসী মাশুক মিয়া মেয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে ৬ অক্টোবর দেশে ফেরেন। একই দিনে দেশে আসেন খাদিজার ভাই শাহীন আহমেদ। চীনের একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী শাহীন গতকাল সোমবার চীনে ফিরে গেছেন।

কিছুক্ষণ আগে খাদিজার বাবা মাশুক মিয়া প্রথম আলো কে বলেন, ‘খাদিজা আজ আমাকে আব্বু বলে ডেকেছে। খুব আস্তে। আমি নিজে শুনেছি। আমার মনে হলো ও আমাকে ওর মা কে ও আমাদের আত্মীয়-স্বজনদেরও হালকা-হালকা চিনতে পারছে। ব্যথা পেলে গোঙাচ্ছে। চিকিৎসকেরা আমাদের বলেছেন, দু/চার দিনের মধ্যেই ওকে কেবিনে দিয়ে দেবেন।’ তিনি আরও জানান, খাদিজা এখন কোনো কৃত্রিম যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই অল্প-স্বল্প খাওয়া দাওয়া করছেন। বেশির ভাগ সময়ই তাঁকে তরল খাওয়ার দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে মাশুক মিয়া বলেন, তাঁরা ধারণ করছেন দু/তিন মাস পরে খাদিজার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে।

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাদিজা বেগম এখন হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে আছেন। তাঁর শরীর থেকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্রপাতি ও খাওয়ানোর জন্য যন্ত্রপাতি খুলে নেওয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হওয়ায় হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট থেকে খাদিজাকে কেবিনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

খাদিজা বেগমের চিকিৎসক স্কয়ার হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের পরামর্শক রেজাউস সাত্তার প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর খাদিজার শরীরের ডান দিকে সাড়া ফিরলেও, খাদিজা বাম হাত-বাম পা নাড়তে পারছিলেন না। এই সপ্তাহের শুরু থেকে খাদিজা বাম পাও সামান্য নাড়তে পারছেন। তবে বাম পা নাড়তে তাঁর খুব কষ্ট হচ্ছে।

খাদিজা ডান দিকের হাত-পা নাড়তে পারায়, ১৭ অক্টোবর তাঁর ডান হাতে অস্ত্রোপচার করেন স্কয়ার হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান পরামর্শক মেজবাহুল হক। বাম হাতটি খাদিজা এখনো নাড়তে পারছেন না। এই হাতে অনুভূতি ফিরে এলে আরও একদফা অস্ত্রোপচারের মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে।

গত ৩ অক্টোবর সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের (ডিগ্রি) ছাত্রী খাদিজা বেগম পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে বদরুল আলমের নির্যাতনের শিকার হন। মাথায় মারাত্মক আঘাত নিয়ে প্রথমে খাদিজাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর অচেতন অবস্থাতেই খাদিজাকে ওই দিন দিবাগত রাতে তাঁর স্বজনেরা স্কয়ার হাসপাতালে আসেন। সংকটজনক অবস্থাতেই খাদিজার মাথায় দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের ৯৬ ঘণ্টা পর চিকিৎসকেরা জানান, খাদিজার আর জীবন সংশয় নেই।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X