বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ভোর ৫:২০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, January 7, 2017 10:03 am
A- A A+ Print

আমজনতার জন্য কৃচ্ছ্র সাধন রাজপরিবারের বিলাসিতা

%e0%a7%a7%e0%a7%ae

একটি দীর্ঘ চতুস্কোনাকার দেয়ালের পেছন দিকে নজরদারি ক্যামেরা বসানো আর মরক্কোর সৈন্যদের পাহারায় সৌদি আরবের বাদশা সালমানের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গত গ্রীষ্মেই একটি প্যাঁচানো নতুন রাজপ্রাসাদ আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে। যদিও আর্থিক মিতব্যয়িতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সৌদি সরকার দেশটিতে এক ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি আবাসিক প্রকল্প বাতিল করেছে। অন্যদিকে রাজপরিবারের ছুটি কাটানোর কম্পাউন্ডে হেলিকপ্টার ওঠানামার জন্য উজ্জ্বল নীল রঙের অবতরণ প্যাড নির্মাণ করা হচ্ছে এবং সেটার নির্মাণ শেষ করার জন্য শ্রমিকেরা ব্যস্ত রয়েছে। এ কম্পাউন্ডেই সার্কাস প্যান্ডেলের আকারের বিশাল এক তাঁবু খাটনো হচ্ছে। যাতে বাদশা সালমান এখানে তার বিশাল লোকলস্কর নিয়ে ভোজনোৎসব ও আনন্দ-উল্লাস করতে পারেন। রাজপরিবারের এই যে অগাধ ধনসম্পদ, এর উৎস মূলত অফুরন্ত তেলের খনি। এখন থেকে ৭৫ বছর আগে বাদশা সালমানের বাবা বাদশা আবদুল্লাহ ইবনে সৌদের রাজত্বকালে এ তেলের খনি আবিষ্কার হয়। এই তেল বিক্রির বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারই বার্ষিক ভাতা, সরকারি খাত আর রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনার জোগান দিয়ে যাচ্ছে। রাজপরিবারের মধ্যে যারা সবচেয়ে ধনী তাদের অধিকারে রয়েছে ফ্রেঞ্চ অট্টালিকা ও সৌদি রাজপ্রাসাদ আর সুইস ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে লুকিয়ে রাখা কোটি কোটি টাকা। সবচেয়ে জাঁকজমক পোশাকগুলো এরাই পরে। সমুদ্র বিহারের জন্য পৃথিবীর সবেচেয়ে বড় বড় ইয়াচগুলোও রয়েছে তাদের। আর এর সবকিছুই ঘটছে সৌদির সাধারণ মানুষের দৃষ্টির বাইরে। বেসরকারিভাবে ‘আল সৌদ ইনকর্পোরেশন’ হিসেবে পরিচিত রাজপরিবারের পারিবারিক ব্যবসায়ের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাদশা সালমান। বিশ্ববাজারে ধারাবাহিকভাবে বেশ কয়েক বছর ধরে তেলের মূল্য কমে যাওয়ার কারণে সৌদি অর্থনীতি এ মুহূর্তে বেশ দুর্বল। দুর্বল অর্থনীতির কারণেই এখন প্রশ্ন উঠছে এমন পরিস্থিতিতে হাজার হাজার সদস্যবিশিষ্ট রাজপরিবার এমন বিলাসী জীবনযাপন কিভাবে করতে পারে। জার্মানিতে বসবাসরত রাজপরিবারের ভিন্নমতাবলম্বী একজন সদস্য যুবরাজ খালিদ বিন ফারহান আল সৌদ বলেন, ‘সৌদির সাধারণ জনগণের টাকা-পয়সা আগের থেকে এখন অনেক কম। কিন্তু রাজপরিবারের ধন-সম্পদ আগের মতোই অঢেল। রাষ্ট্রের প্রচুর টাকা বাজেট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আর এর সবকিছুই বাদশা সালমান একাই নির্ধারণ করেন।’ ৮০ বছরের এক বৃদ্ধের দ্বারা পরিচালিত রাজপরিবারের জন্য বর্তমান সময়টা বেশ উদ্বেগের। কারণ ইতিমধ্যে তার একবার স্ট্রোক হয়েছে। আর রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা বাদশা আবদুল্লাহর ছয় সন্তানের মধ্যে সম্ভবত তিনিই শেষজন যিনি সৌদি আরবকে শাসন করছেন। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গেও বাদশার বেশ বিবাদ রয়েছে। বাদশার এই আত্মীয়-স্বজনরা কেউ কেউ মোটামুটি সচ্ছল থেকে শুরু করে বিলিয়ন ডলারের মালিকও আছেন, যাদের সবাই সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নিয়েছেন। বাদশা সালমান তার দুই বছরের শাসনামলে ক্ষমতা হস্তান্তরের যে ঐতিহ্য ছিল তা উল্টে দিয়েছেন। বিপরীতে তিনি কয়েকজন ভাইকে ডিঙ্গিয়ে পরবর্তী প্রজন্ম থেকে উত্তরাধিকার বাছাই করেছেন। তার পরে সিংহাসনে আরোহনের ক্ষেত্রে এখন বাদশা সালমানের এক ভাইপো আর তার প্রিয় একজন পুত্র রয়েছেন।

Comments

Comments!

 আমজনতার জন্য কৃচ্ছ্র সাধন রাজপরিবারের বিলাসিতাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

আমজনতার জন্য কৃচ্ছ্র সাধন রাজপরিবারের বিলাসিতা

Saturday, January 7, 2017 10:03 am
%e0%a7%a7%e0%a7%ae
একটি দীর্ঘ চতুস্কোনাকার দেয়ালের পেছন দিকে নজরদারি ক্যামেরা বসানো আর মরক্কোর সৈন্যদের পাহারায় সৌদি আরবের বাদশা সালমানের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গত গ্রীষ্মেই একটি প্যাঁচানো নতুন রাজপ্রাসাদ আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে। যদিও আর্থিক মিতব্যয়িতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সৌদি সরকার দেশটিতে এক ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি আবাসিক প্রকল্প বাতিল করেছে। অন্যদিকে রাজপরিবারের ছুটি কাটানোর কম্পাউন্ডে হেলিকপ্টার ওঠানামার জন্য উজ্জ্বল নীল রঙের অবতরণ প্যাড নির্মাণ করা হচ্ছে এবং সেটার নির্মাণ শেষ করার জন্য শ্রমিকেরা ব্যস্ত রয়েছে। এ কম্পাউন্ডেই সার্কাস প্যান্ডেলের আকারের বিশাল এক তাঁবু খাটনো হচ্ছে। যাতে বাদশা সালমান এখানে তার বিশাল লোকলস্কর নিয়ে ভোজনোৎসব ও আনন্দ-উল্লাস করতে পারেন। রাজপরিবারের এই যে অগাধ ধনসম্পদ, এর উৎস মূলত অফুরন্ত তেলের খনি। এখন থেকে ৭৫ বছর আগে বাদশা সালমানের বাবা বাদশা আবদুল্লাহ ইবনে সৌদের রাজত্বকালে এ তেলের খনি আবিষ্কার হয়। এই তেল বিক্রির বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারই বার্ষিক ভাতা, সরকারি খাত আর রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনার জোগান দিয়ে যাচ্ছে। রাজপরিবারের মধ্যে যারা সবচেয়ে ধনী তাদের অধিকারে রয়েছে ফ্রেঞ্চ অট্টালিকা ও সৌদি রাজপ্রাসাদ আর সুইস ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে লুকিয়ে রাখা কোটি কোটি টাকা। সবচেয়ে জাঁকজমক পোশাকগুলো এরাই পরে। সমুদ্র বিহারের জন্য পৃথিবীর সবেচেয়ে বড় বড় ইয়াচগুলোও রয়েছে তাদের। আর এর সবকিছুই ঘটছে সৌদির সাধারণ মানুষের দৃষ্টির বাইরে।

বেসরকারিভাবে ‘আল সৌদ ইনকর্পোরেশন’ হিসেবে পরিচিত রাজপরিবারের পারিবারিক ব্যবসায়ের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাদশা সালমান। বিশ্ববাজারে ধারাবাহিকভাবে বেশ কয়েক বছর ধরে তেলের মূল্য কমে যাওয়ার কারণে সৌদি অর্থনীতি এ মুহূর্তে বেশ দুর্বল। দুর্বল অর্থনীতির কারণেই এখন প্রশ্ন উঠছে এমন পরিস্থিতিতে হাজার হাজার সদস্যবিশিষ্ট রাজপরিবার এমন বিলাসী জীবনযাপন কিভাবে করতে পারে। জার্মানিতে বসবাসরত রাজপরিবারের ভিন্নমতাবলম্বী একজন সদস্য যুবরাজ খালিদ বিন ফারহান আল সৌদ বলেন, ‘সৌদির সাধারণ জনগণের টাকা-পয়সা আগের থেকে এখন অনেক কম। কিন্তু রাজপরিবারের ধন-সম্পদ আগের মতোই অঢেল। রাষ্ট্রের প্রচুর টাকা বাজেট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আর এর সবকিছুই বাদশা সালমান একাই নির্ধারণ করেন।’

৮০ বছরের এক বৃদ্ধের দ্বারা পরিচালিত রাজপরিবারের জন্য বর্তমান সময়টা বেশ উদ্বেগের। কারণ ইতিমধ্যে তার একবার স্ট্রোক হয়েছে। আর রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা বাদশা আবদুল্লাহর ছয় সন্তানের মধ্যে সম্ভবত তিনিই শেষজন যিনি সৌদি আরবকে শাসন করছেন। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গেও বাদশার বেশ বিবাদ রয়েছে। বাদশার এই আত্মীয়-স্বজনরা কেউ কেউ মোটামুটি সচ্ছল থেকে শুরু করে বিলিয়ন ডলারের মালিকও আছেন, যাদের সবাই সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নিয়েছেন।

বাদশা সালমান তার দুই বছরের শাসনামলে ক্ষমতা হস্তান্তরের যে ঐতিহ্য ছিল তা উল্টে দিয়েছেন। বিপরীতে তিনি কয়েকজন ভাইকে ডিঙ্গিয়ে পরবর্তী প্রজন্ম থেকে উত্তরাধিকার বাছাই করেছেন। তার পরে সিংহাসনে আরোহনের ক্ষেত্রে এখন বাদশা সালমানের এক ভাইপো আর তার প্রিয় একজন পুত্র রয়েছেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X