মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৩৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, May 16, 2017 8:20 pm
A- A A+ Print

আমদানি ছাড়াই যেভাবে চলছে দেশের স্বর্ণের বাজার

174821_1

ঢাকা: দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের বিক্রয় কেন্দ্রে দুদফা শুল্ক গোয়েন্দারা অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৮০ কোটি টাকার স্বর্ণালংকার জব্দ করার পর স্বর্ণ ব্যবসা নিয়ে জোরেশোরে প্রশ্ন উঠছে। শুল্ক কর্মকর্তারা বলছেন, আপন জুয়েলার্স থেকে যেসব স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়েছে সেগুলোর পক্ষে মালিকপক্ষ বৈধ কোন কাগজ দেখাতে পারেনি। বাংলাদেশে শহর ও গ্রামাঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ১০হাজারের মতো স্বর্ণের দোকান আছে। বাংলাদেশে অনেকদিন ধরেই ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণপত্র খুলে বৈধপথে ব্যবসার জন্য কোন স্বর্ণ আমদানি হয়না । কিন্তু তারপরেও এত হাজার-হাজার দোকানে স্বর্ণের ব্যবসা কীভাবে চলছে? বাংলাদেশের ভেতরে প্রতিবছর স্বর্ণের চাহিদা এবং জোগান কত সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে স্বর্ণব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তার একটি আংশিক ধারণা পাওয়া যায়। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দাবি দেশের ভেতরে মানুষজন সেসব পুরনো স্বর্ণালংকার বিক্রি করে সেগুলো ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে স্বর্ণের একটি বড় জোগান আসে। এছাড়া কোন বাংলাদেশী বিদেশ থেকে দেশে আসার সময় ১০০ গ্রাম স্বর্ণ কোন শুল্ক ছাড়া দেশে আনতে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সহ-সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, ‘প্রতিদিন বাংলাদেশে ব্যাগেজ রুলের আওতায় চার থেকে পাঁচ হাজার ভরি স্বর্ণ আসে। সে স্বর্ণগুলি মানুষ প্রয়োজনে বিক্রি করছে। সেগুলো আমাদের দোকানে আসে।’ মি: খান দাবী করেন, প্রতিদিন বৈধভাবে যে পরিমাণ বাংলাদেশে আসছে সেটির চাহিদা নেই। সুতরাং অবৈধ-পথে স্বর্ণ আনার কোন প্রয়োজন নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু জুয়েলার্স সমিতির এ পরিসংখ্যানের নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে অর্থনীতিবিদদের। তারা মনে করেন ব্যাগেজ রুলে আওতায় আনা স্বর্ণের পরিমাণ আরো অনেক কম হতে পারে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশে স্বর্ণ আমদানির আইন এবং সেটির উপর আরোপিত শুল্ক বেশ কঠোর। সে কারণ সীমিত আকারে সুযোগ থাকলেও ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ আমদানিতে উৎসাহিত নয়। তবে ব্যবসায়ীরা যাই দাবী করুক না কেন, বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজার যে বেশ অস্বচ্ছ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বর্ণ আমদানি না হলেও বড় শহরগুলোতে অভিজাত দোকান মার্কেটের দোকানগুলো কিভাবে চলছে, তাদের দোকানে সাজিয়ে রাখা স্বর্ণ কোথা থেকে আসছে সেটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। পুরনো স্বর্ণ বিক্রি করে বাজার টিকিয়ে রাখার যে কথা ব্যবসায়ীরা বলছেন সেটিকে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না অর্থনীতিবিদরা। বিভিন্ন স্বর্ণের দোকানে চোরাইপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা স্বর্ণ বিক্রি হয় বলে ধারণা করা হয়। অর্থনীতিবিদ আহসান মনসুর মনে করেন, পুরোটা না হলেও, বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারে চোরাচালানের অস্তিত্বের বিষয়টি অস্বীকার করা যাবে না। এছাড়া পুরনো স্বর্ণে ক্রয়-বিক্রয় এবং বিদেশ থেকে ব্যাগেজ রুলের আওতায় আনা স্বর্ণ বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মনসুর বলেন, ‘যেহেতু এসব স্বর্ণের সোর্সিং (উৎস) দেখানো মুশকিল, সেজন্য এ খাতটা সবসময় আতংকের মধ্যে থাকে। আমি মনে করি এ ব্যাপারে শুল্ক গোয়েন্দার খুব বেশি বাড়াবাড়ি না করাই ভালো।’ তিনি মনে করেন স্বর্ণ আমদানি উদার করার ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তাহলে এ ব্যবসায় যে ‘ধোঁয়াশা’ আছে সেটি দূর হবে। স্বর্ণ আমদানির বিষয়ে কড়াকড়ি থাকায় পুরো বিষয়টি অবৈধ পথের দিকে ধাবিত হয়েছে। ‘সরকার কিন্তু কোনদিন এক পয়সা রেভিনিউ পায়নি স্বর্ণ থেকে। তাহলে স্বর্ণের উপর কড়াকড়ি করার কী দরকার?’ প্রশ্ন তোলেন মনসুর। স্বর্ণের বাজারে নিয়ে যে সমস্যা আছে সেটি স্বীকার করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি বিষয়টিকে কিভাবে সহজ করা যায় সে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মাহপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, ‘বৈধভাবে গোল্ড হয়তো সংগ্রহ করা যাচ্ছেনা। কিছু বৈধ কারণ আছে। কিছু যৌক্তিক কারণ আছে। সেগুলো আমরা আমলে নিচ্ছি।’ বিবিসি অবলম্বনে

Comments

Comments!

 আমদানি ছাড়াই যেভাবে চলছে দেশের স্বর্ণের বাজারAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

আমদানি ছাড়াই যেভাবে চলছে দেশের স্বর্ণের বাজার

Tuesday, May 16, 2017 8:20 pm
174821_1

ঢাকা: দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের বিক্রয় কেন্দ্রে দুদফা শুল্ক গোয়েন্দারা অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৮০ কোটি টাকার স্বর্ণালংকার জব্দ করার পর স্বর্ণ ব্যবসা নিয়ে জোরেশোরে প্রশ্ন উঠছে।

শুল্ক কর্মকর্তারা বলছেন, আপন জুয়েলার্স থেকে যেসব স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়েছে সেগুলোর পক্ষে মালিকপক্ষ বৈধ কোন কাগজ দেখাতে পারেনি।

বাংলাদেশে শহর ও গ্রামাঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ১০হাজারের মতো স্বর্ণের দোকান আছে। বাংলাদেশে অনেকদিন ধরেই ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণপত্র খুলে বৈধপথে ব্যবসার জন্য কোন স্বর্ণ আমদানি হয়না । কিন্তু তারপরেও এত হাজার-হাজার দোকানে স্বর্ণের ব্যবসা কীভাবে চলছে?

বাংলাদেশের ভেতরে প্রতিবছর স্বর্ণের চাহিদা এবং জোগান কত সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে স্বর্ণব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তার একটি আংশিক ধারণা পাওয়া যায়।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দাবি দেশের ভেতরে মানুষজন সেসব পুরনো স্বর্ণালংকার বিক্রি করে সেগুলো ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে স্বর্ণের একটি বড় জোগান আসে। এছাড়া কোন বাংলাদেশী বিদেশ থেকে দেশে আসার সময় ১০০ গ্রাম স্বর্ণ কোন শুল্ক ছাড়া দেশে আনতে পারে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সহ-সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, ‘প্রতিদিন বাংলাদেশে ব্যাগেজ রুলের আওতায় চার থেকে পাঁচ হাজার ভরি স্বর্ণ আসে। সে স্বর্ণগুলি মানুষ প্রয়োজনে বিক্রি করছে। সেগুলো আমাদের দোকানে আসে।’

মি: খান দাবী করেন, প্রতিদিন বৈধভাবে যে পরিমাণ বাংলাদেশে আসছে সেটির চাহিদা নেই। সুতরাং অবৈধ-পথে স্বর্ণ আনার কোন প্রয়োজন নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কিন্তু জুয়েলার্স সমিতির এ পরিসংখ্যানের নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে অর্থনীতিবিদদের। তারা মনে করেন ব্যাগেজ রুলে আওতায় আনা স্বর্ণের পরিমাণ আরো অনেক কম হতে পারে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশে স্বর্ণ আমদানির আইন এবং সেটির উপর আরোপিত শুল্ক বেশ কঠোর। সে কারণ সীমিত আকারে সুযোগ থাকলেও ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ আমদানিতে উৎসাহিত নয়।

তবে ব্যবসায়ীরা যাই দাবী করুক না কেন, বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজার যে বেশ অস্বচ্ছ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বর্ণ আমদানি না হলেও বড় শহরগুলোতে অভিজাত দোকান মার্কেটের দোকানগুলো কিভাবে চলছে, তাদের দোকানে সাজিয়ে রাখা স্বর্ণ কোথা থেকে আসছে সেটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে।

পুরনো স্বর্ণ বিক্রি করে বাজার টিকিয়ে রাখার যে কথা ব্যবসায়ীরা বলছেন সেটিকে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না অর্থনীতিবিদরা। বিভিন্ন স্বর্ণের দোকানে চোরাইপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা স্বর্ণ বিক্রি হয় বলে ধারণা করা হয়।

অর্থনীতিবিদ আহসান মনসুর মনে করেন, পুরোটা না হলেও, বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারে চোরাচালানের অস্তিত্বের বিষয়টি অস্বীকার করা যাবে না। এছাড়া পুরনো স্বর্ণে ক্রয়-বিক্রয় এবং বিদেশ থেকে ব্যাগেজ রুলের আওতায় আনা স্বর্ণ বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মনসুর বলেন, ‘যেহেতু এসব স্বর্ণের সোর্সিং (উৎস) দেখানো মুশকিল, সেজন্য এ খাতটা সবসময় আতংকের মধ্যে থাকে। আমি মনে করি এ ব্যাপারে শুল্ক গোয়েন্দার খুব বেশি বাড়াবাড়ি না করাই ভালো।’

তিনি মনে করেন স্বর্ণ আমদানি উদার করার ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তাহলে এ ব্যবসায় যে ‘ধোঁয়াশা’ আছে সেটি দূর হবে। স্বর্ণ আমদানির বিষয়ে কড়াকড়ি থাকায় পুরো বিষয়টি অবৈধ পথের দিকে ধাবিত হয়েছে।

‘সরকার কিন্তু কোনদিন এক পয়সা রেভিনিউ পায়নি স্বর্ণ থেকে। তাহলে স্বর্ণের উপর কড়াকড়ি করার কী দরকার?’ প্রশ্ন তোলেন মনসুর।

স্বর্ণের বাজারে নিয়ে যে সমস্যা আছে সেটি স্বীকার করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি বিষয়টিকে কিভাবে সহজ করা যায় সে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মাহপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, ‘বৈধভাবে গোল্ড হয়তো সংগ্রহ করা যাচ্ছেনা। কিছু বৈধ কারণ আছে। কিছু যৌক্তিক কারণ আছে। সেগুলো আমরা আমলে নিচ্ছি।’

বিবিসি অবলম্বনে

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X