শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১১:৩৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, December 22, 2016 8:26 am
A- A A+ Print

আমাকে নাকি একটা ছেলে পছন্দ করে

7

বোনদের মধ্যে সবার ছোট হওয়ার কারণে সবার কড়া নজরে থাকতে হয়েছে। কলেজে পর্যন্ত মা-ই আমাকে আনা-নেওয়া করতেন। তবে পড়াশোনার ফাঁকে নাচ ও গান শিখতে সময় যেত। এর মধ্যেই একদিন প্রেমের চিঠি পাওয়ার অভিজ্ঞতা হলো। এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার ঠিক আগে আগে একদিন সোমা ও বেলী নামে আমার দুই বান্ধবী এসে জানাল, আমাকে নাকি একটা ছেলে পছন্দ করে। আমি কোনো পাত্তাই দিলাম না। এর কয়েক দিন পর ওই বান্ধবীরা একটি চিঠি আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘সেই ছেলেটি তোকে দিয়েছে।’ খুলে দেখি, আমাকে নিয়ে লেখা একটি কবিতা। চুপচাপ রেখে দিলাম। টিফিনের পর নূরুজ্জামান স্যারের বাংলা ক্লাস শুরু হয়েছে। ক্লাসে স্যারকে চিঠির বিষয়টি জানাব ভাবছি। এটা বুঝতে পেরে ওই দুই বান্ধবীর অবস্থা খারাপ। চিঠির বিষয়টি জানানো হলে স্যার প্রচণ্ড রেগে গেলেন। আমার ওই দুই বান্ধবীকে দাঁড় করিয়ে আচ্ছা রকম বকে নিলেন স্যার। সেই ছেলের আর কোনো চিঠি আসেনি। প্রথম ক্যামেরার সামনে

সময়টা ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল। আগের দিন জানতে পারলাম আগামীকাল বেলা ১১টার খবর পড়তে হবে। সেদিন সন্ধ্যা থেকেই প্রস্তুতি শুরু করলাম। সকালে উঠতে হবে, এ জন্য রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে গেলাম। কিন্তু টেনশনে আর ঘুম আসে না। শেষ রাতে ঘুম এলেও ভোর পাঁচটায় ভেঙে গেল। আমার মনে আছে, ওই দিন সকাল সাতটায় বাংলাভিশনের অফিসে গিয়ে হাজির হয়েছিলাম। অফিসের সবাই তো দেখে অবাক। এরপর মেকআপ নিয়ে প্রস্তুতি নিলাম। বসলাম। ওই সময় কোনো অনুভূতিই কাজ করছিল না আমার। পড়া শেষ করলাম। তারপর একের পর এক ফোন আসতে শুরু করল। প্রথম দিনের সবাই প্রশংসা করেছিলেন। বাংলাভিশনে সরাসরি খবর পড়তে গিয়ে প্রথম ক্যামেরার সামনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার।

প্রথম পারিশ্রমিক

আমাদের পাশের ফ্ল্যাটেই দূর সম্পর্কের এক বোন থাকতেন। তাঁর বাচ্চা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ত। ওর সামনে পরীক্ষা। ওই সময় আমারও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। একদিন ওই বোন তাঁর বাচ্চাকে মাসখানেক পড়ানোর অনুরোধ করলেন। রাজি হয়ে গেলাম। পরীক্ষা চলাকালীন প্রায় এক মাস পড়িয়েছিলাম বাচ্চাটাকে। আপা একদিন হাতে তিন হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে কিছু উপহার কিনে নিতে বললেন। সেই সময় তিন হাজার টাকা আমার জন্য অনেক টাকা। কিছুদিন পর ওই টাকা দিয়ে হিটলারের জীবনী ও হ‌ুমায়ূন আহমেদের বেশ কিছু বই কিনেছিলাম।

প্রথম অটোগ্রাফ

তখন চলচ্চিত্রে আসিনি। খবর পড়া শুরু করার তিন-চার মাস পরের ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে গিয়েছি। সেদিন ক্লাসে ঢুকতে দেরি হয়ে যায়। তাড়াহুড়ো করে ক্লাসে যাচ্ছি। পেছন থেকে একটি মেয়ে থামাল। বলল, ‘আপা, আপনার কি একটা অটোগ্রাফ পেতে পারি?’ আমি তো অবাক! কিসের অটোগ্রাফ! মেয়েটি বলে, ‘আপনার খবর পড়া খুব ভালো লাগে আমার। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আপনার অটোগ্রাফ নেওয়ার চেষ্টা করছি।’ এসব শুনে আমি তো লজ্জায় পড়ে গেলাম। কিন্তু কীভাবে অটোগ্রাফ দেব, বুঝতে পারছিলাম না। পরে অটোগ্রাফে স্মাইলি প্রতীক এঁকে ‘অল দ্য বেস্ট’ লিখেছিলাম।

প্রথম বইপড়া

ছোটবেলায় ক্লাসের বই পড়ার চাইতে গল্প ও উপন্যাসের বই পড়তেই বেশি পছন্দ করতাম। এখনো তা-ই। যখন চতুর্থ-পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি, তখন ভূতের গল্প পড়তে খুব ভালো লাগত। এ ছাড়া রূপকথার গল্পের ছোট ছোট বইও পড়তাম। এরপর একটু বড় হয়ে প্রথম হ‌ুমায়ূন আহমেদের ‘শুভ্র’ পড়েছিলাম। পরবর্তীকালে তাঁর লেখা জোছনা ও জননীর গল্প, নন্দিত নরকেসহ অসংখ্য গল্পের বই পড়েছি।

Comments

Comments!

 আমাকে নাকি একটা ছেলে পছন্দ করেAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

আমাকে নাকি একটা ছেলে পছন্দ করে

Thursday, December 22, 2016 8:26 am
7

বোনদের মধ্যে সবার ছোট হওয়ার কারণে সবার কড়া নজরে থাকতে হয়েছে। কলেজে পর্যন্ত মা-ই আমাকে আনা-নেওয়া করতেন। তবে পড়াশোনার ফাঁকে নাচ ও গান শিখতে সময় যেত। এর মধ্যেই একদিন প্রেমের চিঠি পাওয়ার অভিজ্ঞতা হলো। এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার ঠিক আগে আগে একদিন সোমা ও বেলী নামে আমার দুই বান্ধবী এসে জানাল, আমাকে নাকি একটা ছেলে পছন্দ করে। আমি কোনো পাত্তাই দিলাম না। এর কয়েক দিন পর ওই বান্ধবীরা একটি চিঠি আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘সেই ছেলেটি তোকে দিয়েছে।’ খুলে দেখি, আমাকে নিয়ে লেখা একটি কবিতা। চুপচাপ রেখে দিলাম। টিফিনের পর নূরুজ্জামান স্যারের বাংলা ক্লাস শুরু হয়েছে। ক্লাসে স্যারকে চিঠির বিষয়টি জানাব ভাবছি। এটা বুঝতে পেরে ওই দুই বান্ধবীর অবস্থা খারাপ। চিঠির বিষয়টি জানানো হলে স্যার প্রচণ্ড রেগে গেলেন। আমার ওই দুই বান্ধবীকে দাঁড় করিয়ে আচ্ছা রকম বকে নিলেন স্যার। সেই ছেলের আর কোনো চিঠি আসেনি।
প্রথম ক্যামেরার সামনে

সময়টা ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল। আগের দিন জানতে পারলাম আগামীকাল বেলা ১১টার খবর পড়তে হবে। সেদিন সন্ধ্যা থেকেই প্রস্তুতি শুরু করলাম। সকালে উঠতে হবে, এ জন্য রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে গেলাম। কিন্তু টেনশনে আর ঘুম আসে না। শেষ রাতে ঘুম এলেও ভোর পাঁচটায় ভেঙে গেল। আমার মনে আছে, ওই দিন সকাল সাতটায় বাংলাভিশনের অফিসে গিয়ে হাজির হয়েছিলাম। অফিসের সবাই তো দেখে অবাক। এরপর মেকআপ নিয়ে প্রস্তুতি নিলাম। বসলাম। ওই সময় কোনো অনুভূতিই কাজ করছিল না আমার। পড়া শেষ করলাম। তারপর একের পর এক ফোন আসতে শুরু করল। প্রথম দিনের সবাই প্রশংসা করেছিলেন। বাংলাভিশনে সরাসরি খবর পড়তে গিয়ে প্রথম ক্যামেরার সামনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার।

প্রথম পারিশ্রমিক

আমাদের পাশের ফ্ল্যাটেই দূর সম্পর্কের এক বোন থাকতেন। তাঁর বাচ্চা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ত। ওর সামনে পরীক্ষা। ওই সময় আমারও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। একদিন ওই বোন তাঁর বাচ্চাকে মাসখানেক পড়ানোর অনুরোধ করলেন। রাজি হয়ে গেলাম। পরীক্ষা চলাকালীন প্রায় এক মাস পড়িয়েছিলাম বাচ্চাটাকে। আপা একদিন হাতে তিন হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে কিছু উপহার কিনে নিতে বললেন। সেই সময় তিন হাজার টাকা আমার জন্য অনেক টাকা। কিছুদিন পর ওই টাকা দিয়ে হিটলারের জীবনী ও হ‌ুমায়ূন আহমেদের বেশ কিছু বই কিনেছিলাম।

প্রথম অটোগ্রাফ

তখন চলচ্চিত্রে আসিনি। খবর পড়া শুরু করার তিন-চার মাস পরের ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে গিয়েছি। সেদিন ক্লাসে ঢুকতে দেরি হয়ে যায়। তাড়াহুড়ো করে ক্লাসে যাচ্ছি। পেছন থেকে একটি মেয়ে থামাল। বলল, ‘আপা, আপনার কি একটা অটোগ্রাফ পেতে পারি?’ আমি তো অবাক! কিসের অটোগ্রাফ! মেয়েটি বলে, ‘আপনার খবর পড়া খুব ভালো লাগে আমার। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আপনার অটোগ্রাফ নেওয়ার চেষ্টা করছি।’ এসব শুনে আমি তো লজ্জায় পড়ে গেলাম। কিন্তু কীভাবে অটোগ্রাফ দেব, বুঝতে পারছিলাম না। পরে অটোগ্রাফে স্মাইলি প্রতীক এঁকে ‘অল দ্য বেস্ট’ লিখেছিলাম।

প্রথম বইপড়া

ছোটবেলায় ক্লাসের বই পড়ার চাইতে গল্প ও উপন্যাসের বই পড়তেই বেশি পছন্দ করতাম। এখনো তা-ই। যখন চতুর্থ-পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি, তখন ভূতের গল্প পড়তে খুব ভালো লাগত। এ ছাড়া রূপকথার গল্পের ছোট ছোট বইও পড়তাম। এরপর একটু বড় হয়ে প্রথম হ‌ুমায়ূন আহমেদের ‘শুভ্র’ পড়েছিলাম। পরবর্তীকালে তাঁর লেখা জোছনা ও জননীর গল্প, নন্দিত নরকেসহ অসংখ্য গল্পের বই পড়েছি।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X