শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১২:৪৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, September 24, 2016 12:50 am
A- A A+ Print

আমার ছেলে আন্দালিব জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত নয়: চুন্নু

245569_1

‘আমার ছেলে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত নয়। সে মালয়েশিয়ার মোনাস ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন করে এসেছে। সে এখন আমার সঙ্গে গার্মেন্ট ব্যবসা করছে। প্রতিদিনই সে আমার সঙ্গে কারখানায় যাচ্ছে, আসছে। সে জঙ্গি হওয়ার কোনও সুযোগই নেই।’ নিজের ছেলে আন্দালিব আহমেদকে নিয়ে এমন দাবি করেছেন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু। আন্দালিবকে গুলশান হামলার সন্দেহভাজন উল্লেখ করে শুক্রবার মালয়েশিয়ার স্টার অনলাইনে একটি খবর প্রকাশিত হয়। মূলত সেই খবরের পরিপ্রেক্ষিতে এ অবস্থান জানালেন চুন্নু। চুন্নু বলেন, ‘এসব ভ্রান্ত খবর। এটা আমার পরিবারের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য করা হয়েছে। আমার ছেলে কোনোভাবেই জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘আন্দালিব ২০১২ সালে মালয়েশিয়ায় পড়তে যায়। সেখানে গ্রাজুয়েশন শেষ করে ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসে। এখন সে গার্মেন্ট কারখানা পরিচালনায় আমাকে সহযোগিতা করছে। যে কেউ চাইলে তার পাসপোর্ট দেখতে পারেন।’ সাবেক এই তারকা ফুটবলার বলেন, ‘আমার ছেলে দেশে সানিডেল এবং অক্সফোর্ড স্কুলে পড়েছে। এরপর আমরা তাকে মালয়েশিয়ার মোনাস ইউনিভার্সিটিতে পাঠাই। সেখানে সে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিষয়ে গ্রাজুয়েশন করে। তার একটা কোর্স বাকি ছিল। দেশে ফিরে সে অনলাইনে সেই কোর্স সম্পন্ন করেছে।’ স্টার অনলাইনের খবরে বলা হয়, আন্দালিব ইস্তাম্বুলে গিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে চুন্নু বলেন, ‘আন্দালিবের একটা কোর্স কঠিন মনে হওয়ায় সে আমাদের না বলেই ড্রপ দেয়। পরীক্ষা না দিয়ে সে মালয়েশিয়া থেকে ইস্তাম্বুলে বেড়াতে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে তাকে বাসায় আসতে বলি। সে ইস্তাম্বুল থেকে সরাসরি বাসায় চলে আসে।’ মালয়েশিয়ার স্টার অনলাইনের খবরে বলা হয়, আন্দালিব মোনাসে পড়ার সময় বাংলাদেশের মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল পিয়ার আহমেদ আকাশের সঙ্গে দেখা করে। একে-৪৭ রাইফেল পাচারের অভিযোগে আকাশ এখন ফেনীর কারাগারে বন্দি। কয়েকদিন আগেই তাকে মালয়েশিয়া থেকে দেশে আনা হয়। এ প্রসঙ্গে আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু বলেন, ‘এই নামে কারও সঙ্গে আন্দালিবের কখনও জানাশোনাই ছিল না; দেখা তো দূরের কথা।’ গুলশান হামলায় অংশগ্রহণকারী পাঁচ জঙ্গির একজন নিবরাস ইসলাম মালয়েশিয়ার মোনাস ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিল। গুলশান হামলায় অংশ নেওয়া পাঁচ জঙ্গির মধ্যে আন্দালিব ছিল বলে ধারণা করা হয়। পরে জানা যায়, সেই তরুণ আন্দালিব নয়। তবে আন্দালিবের সঙ্গে নিবরাসের বন্ধুত্ব ছিল বলে গুঞ্জন ওঠে। এ প্রসঙ্গে চুন্নু বলেন, ‘আন্দালিবের সঙ্গে নিবরাসের পরিচয় ছিল, এটা সত্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি ছাত্রদের পারস্পারিক যোগাযোগ থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই বলে একজনের অপরাধের দায় তো অন্যের ওপর বর্তাতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে যদি জঙ্গিবাদের কোনও সম্পৃক্ততা থাকতো, তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত পেত। তারা কখনও আন্দালিবকে ডাকেনি, জিজ্ঞাসাবাদও করেনি। কারণ, জঙ্গিবাদের সঙ্গে আন্দালিবের বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। প্রতিবারই ভ্রান্ত খবরে আমাদের হেনস্থা হতে হচ্ছে। সামাজিক সুনাম নষ্ট হচ্ছে।’ এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘জঙ্গিরা নানা ছদ্মনাম ব্যবহার করে। গুলশান হামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তদন্তে যেসব নাম আসছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ আন্দালিব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আন্দালিবকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। প্রয়োজন হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ ২০জন নিহত হন। জঙ্গিদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে জঙ্গিরাও নিহত হয়।

Comments

Comments!

 আমার ছেলে আন্দালিব জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত নয়: চুন্নুAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

আমার ছেলে আন্দালিব জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত নয়: চুন্নু

Saturday, September 24, 2016 12:50 am
245569_1

‘আমার ছেলে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত নয়। সে মালয়েশিয়ার মোনাস ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন করে এসেছে। সে এখন আমার সঙ্গে গার্মেন্ট ব্যবসা করছে। প্রতিদিনই সে আমার সঙ্গে কারখানায় যাচ্ছে, আসছে। সে জঙ্গি হওয়ার কোনও সুযোগই নেই।’

নিজের ছেলে আন্দালিব আহমেদকে নিয়ে এমন দাবি করেছেন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু। আন্দালিবকে গুলশান হামলার সন্দেহভাজন উল্লেখ করে শুক্রবার মালয়েশিয়ার স্টার অনলাইনে একটি খবর প্রকাশিত হয়। মূলত সেই খবরের পরিপ্রেক্ষিতে এ অবস্থান জানালেন চুন্নু।

চুন্নু বলেন, ‘এসব ভ্রান্ত খবর। এটা আমার পরিবারের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য করা হয়েছে। আমার ছেলে কোনোভাবেই জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘আন্দালিব ২০১২ সালে মালয়েশিয়ায় পড়তে যায়। সেখানে গ্রাজুয়েশন শেষ করে ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসে। এখন সে গার্মেন্ট কারখানা পরিচালনায় আমাকে সহযোগিতা করছে। যে কেউ চাইলে তার পাসপোর্ট দেখতে পারেন।’

সাবেক এই তারকা ফুটবলার বলেন, ‘আমার ছেলে দেশে সানিডেল এবং অক্সফোর্ড স্কুলে পড়েছে। এরপর আমরা তাকে মালয়েশিয়ার মোনাস ইউনিভার্সিটিতে পাঠাই। সেখানে সে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিষয়ে গ্রাজুয়েশন করে। তার একটা কোর্স বাকি ছিল। দেশে ফিরে সে অনলাইনে সেই কোর্স সম্পন্ন করেছে।’

স্টার অনলাইনের খবরে বলা হয়, আন্দালিব ইস্তাম্বুলে গিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে চুন্নু বলেন, ‘আন্দালিবের একটা কোর্স কঠিন মনে হওয়ায় সে আমাদের না বলেই ড্রপ দেয়। পরীক্ষা না দিয়ে সে মালয়েশিয়া থেকে ইস্তাম্বুলে বেড়াতে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে তাকে বাসায় আসতে বলি। সে ইস্তাম্বুল থেকে সরাসরি বাসায় চলে আসে।’

মালয়েশিয়ার স্টার অনলাইনের খবরে বলা হয়, আন্দালিব মোনাসে পড়ার সময় বাংলাদেশের মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল পিয়ার আহমেদ আকাশের সঙ্গে দেখা করে। একে-৪৭ রাইফেল পাচারের অভিযোগে আকাশ এখন ফেনীর কারাগারে বন্দি। কয়েকদিন আগেই তাকে মালয়েশিয়া থেকে দেশে আনা হয়।

এ প্রসঙ্গে আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু বলেন, ‘এই নামে কারও সঙ্গে আন্দালিবের কখনও জানাশোনাই ছিল না; দেখা তো দূরের কথা।’

গুলশান হামলায় অংশগ্রহণকারী পাঁচ জঙ্গির একজন নিবরাস ইসলাম মালয়েশিয়ার মোনাস ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিল। গুলশান হামলায় অংশ নেওয়া পাঁচ জঙ্গির মধ্যে আন্দালিব ছিল বলে ধারণা করা হয়। পরে জানা যায়, সেই তরুণ আন্দালিব নয়। তবে আন্দালিবের সঙ্গে নিবরাসের বন্ধুত্ব ছিল বলে গুঞ্জন ওঠে।

এ প্রসঙ্গে চুন্নু বলেন, ‘আন্দালিবের সঙ্গে নিবরাসের পরিচয় ছিল, এটা সত্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি ছাত্রদের পারস্পারিক যোগাযোগ থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই বলে একজনের অপরাধের দায় তো অন্যের ওপর বর্তাতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে যদি জঙ্গিবাদের কোনও সম্পৃক্ততা থাকতো, তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত পেত। তারা কখনও আন্দালিবকে ডাকেনি, জিজ্ঞাসাবাদও করেনি। কারণ, জঙ্গিবাদের সঙ্গে আন্দালিবের বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। প্রতিবারই ভ্রান্ত খবরে আমাদের হেনস্থা হতে হচ্ছে। সামাজিক সুনাম নষ্ট হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘জঙ্গিরা নানা ছদ্মনাম ব্যবহার করে। গুলশান হামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তদন্তে যেসব নাম আসছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ আন্দালিব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আন্দালিবকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। প্রয়োজন হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ ২০জন নিহত হন। জঙ্গিদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে জঙ্গিরাও নিহত হয়।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X