বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৭:০৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, December 31, 2016 8:41 pm
A- A A+ Print

‘আমার শিপ্রাকে কোথায় পাবো’

15

ঢাকা: খুলনা মহানগরীর সাত রাস্তা মোড়ের অদূরে দোলখোলা বাজারসংলগ্ন ইসলামপুর রোডে আকস্মিকভাবে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন শিপ্রা কুন্ডু। বিলাসী হোটেল গলি নামে পরিচিত এ রোডের পূর্ব দিকে চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় বাস করেন ব্যাংকার চিত্ত রঞ্জন কুন্ডু। গৃহবধূ শিপ্রা কুন্ডু (৫০) এবং দুই সন্তান অভিজিৎ কুন্ডু ও অবন্তি কুন্ডুকে নিয়ে তাদের সুখের সংসার। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা সবকিছু যেনো পাল্টে দিয়েছে। ভেঙ্গে দিয়েছে সুখের সংসার। শনিবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এ মাহমুদ ডনকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি ছোড়ে। ওই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে চিত্ত রঞ্জন কুন্ডুর স্ত্রী শিপ্রা কুন্ডু নামের নিহত হন। ঘটনার পর গৃহবধূ শিপ্রা কুন্ডুর বাসভবনে গিয়ে দেখা যায়, তার বৃদ্ধা মা নাতনি অবন্তি কুন্ডুকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছেন। তিনি বার বার মেয়ের নাম ধরে বলছেন, ‘এ কি হয়ে গেল, আমার শিপ্রাকে কোথায় পাবো’। বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন তিনি। আবার নানীকে জড়িয়ে ধরে শিপ্রা কুন্ডুর একমাত্র মেয়ে অবন্তি কুন্ডু বলছে, ‘আমি যে কি হারিয়েছি তা কেবল আমিই বুঝি, আর কেউ বুঝবে না’। এ ছাড়া খবর পেয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা আত্মীয়স্বজনরাও একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করছেন। নিহত শিপ্রা কুন্ডুর ননদ সরস্বতি কুন্ডু বলেন, ‘বৌদি পুঁজার ফুল কিনতে দোলখোলা বাজারে গিয়েছিল। একটি দোকান থেকে ফুলও কিনেছিলেন। কিন্তু ফুল নিয়ে আর বাসায় ফিরতে পারেননি। সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে ফুলও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাস্তায়ই পড়েছিল। তার আর পুঁজা করা হলো না’। প্রতিবেশীরা বলছিলেন, ‘শিপ্রা কুন্ডুর চোখের মনি ছিল ছেলে অভিজিৎ এবং মেয়ে অবন্তি। তাদের সবসময় তিনিই দেখভাল করতেন। এখন তিনি মারা যাওয়ায় ছেলে-মেয়েরা ভেঙে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ‘এ ঘটনায় এখনো থানায় মামলা দায়ের করা হয়নি। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে শিপ্রার ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। এরপর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে’।
 

Comments

Comments!

 ‘আমার শিপ্রাকে কোথায় পাবো’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘আমার শিপ্রাকে কোথায় পাবো’

Saturday, December 31, 2016 8:41 pm
15

ঢাকা: খুলনা মহানগরীর সাত রাস্তা মোড়ের অদূরে দোলখোলা বাজারসংলগ্ন ইসলামপুর রোডে আকস্মিকভাবে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন শিপ্রা কুন্ডু।

বিলাসী হোটেল গলি নামে পরিচিত এ রোডের পূর্ব দিকে চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় বাস করেন ব্যাংকার চিত্ত রঞ্জন কুন্ডু। গৃহবধূ শিপ্রা কুন্ডু (৫০) এবং দুই সন্তান অভিজিৎ কুন্ডু ও অবন্তি কুন্ডুকে নিয়ে তাদের সুখের সংসার। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা সবকিছু যেনো পাল্টে দিয়েছে। ভেঙ্গে দিয়েছে সুখের সংসার।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এ মাহমুদ ডনকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি ছোড়ে। ওই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে চিত্ত রঞ্জন কুন্ডুর স্ত্রী শিপ্রা কুন্ডু নামের নিহত হন।

ঘটনার পর গৃহবধূ শিপ্রা কুন্ডুর বাসভবনে গিয়ে দেখা যায়, তার বৃদ্ধা মা নাতনি অবন্তি কুন্ডুকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছেন। তিনি বার বার মেয়ের নাম ধরে বলছেন, ‘এ কি হয়ে গেল, আমার শিপ্রাকে কোথায় পাবো’। বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন তিনি।

আবার নানীকে জড়িয়ে ধরে শিপ্রা কুন্ডুর একমাত্র মেয়ে অবন্তি কুন্ডু বলছে, ‘আমি যে কি হারিয়েছি তা কেবল আমিই বুঝি, আর কেউ বুঝবে না’। এ ছাড়া খবর পেয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা আত্মীয়স্বজনরাও একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করছেন।

নিহত শিপ্রা কুন্ডুর ননদ সরস্বতি কুন্ডু বলেন, ‘বৌদি পুঁজার ফুল কিনতে দোলখোলা বাজারে গিয়েছিল। একটি দোকান থেকে ফুলও কিনেছিলেন। কিন্তু ফুল নিয়ে আর বাসায় ফিরতে পারেননি। সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে ফুলও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাস্তায়ই পড়েছিল। তার আর পুঁজা করা হলো না’।

প্রতিবেশীরা বলছিলেন, ‘শিপ্রা কুন্ডুর চোখের মনি ছিল ছেলে অভিজিৎ এবং মেয়ে অবন্তি। তাদের সবসময় তিনিই দেখভাল করতেন। এখন তিনি মারা যাওয়ায় ছেলে-মেয়েরা ভেঙে পড়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ‘এ ঘটনায় এখনো থানায় মামলা দায়ের করা হয়নি। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে শিপ্রার ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। এরপর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে’।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X