শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১২:১৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, November 5, 2016 10:27 pm
A- A A+ Print

আমি জীবনে কাউকে ‘মালাউন’ বলিনি: ছায়েদুল হক

158596_1

   
ঢাকা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনার জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া স্থানীয় এমপি এবং সরকারের মৎস্য মন্ত্রী ছায়েদুল হক দাবি করেছেন, সেখানকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো নিরাপত্তাহীনতা নেই। এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেছেন, আওয়ামী লীগের যে তিন নেতাকে এই ঘটনায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং এরা বরং হিন্দুদের ওপর হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। এর পর স্থানীয় হিন্দুদের সম্পর্কে মন্ত্রীর কথিত এক মন্তব্য নিয়ে এখন বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার যে তীব্র সমালোচনা-বিতর্ক চলছে - তা অস্বীকার করেছেন এমপি ছায়েদুল হক।
মুসলমানদের পবিত্র কাবাঘরের প্রতি অবমাননাসূচক এক ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছে রসরাজ দাস নামে স্থানীয় এক হিন্দু যুবক- এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত রবিবার নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার ওই ঘটনা ঘটে। রসরাজ দাসকে গত শুক্রবারই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সাক্ষাৎকারে ছায়েদুল হক আরো বলেন, নাসিরনগরের ঘটনা নিয়ে তার সাথে প্রধানমন্ত্রীর কোনো কথা হয় নি। এ ঘটনার পর তিনি স্থানীয় হিন্দুদের ‘মালাউন’ বলে উল্লেখ করে ‘তারা বাড়াবাড়ি করছে’ এমন মন্তব্য করেছেন কিনা - এ প্রশ্নের জবাবে ছায়েদুল হক বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, অসত্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি জীবনে কোনো দিন এ কথা বলিনি।’ তিনি বলেন ‘আমি, ১৯৬৮ সালে নাসিরনগরে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করি। পাঁচ বার এমপি হয়েছি, মন্ত্রী হয়েছি। এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনদিন হিন্দুদের ‘মালাউনের বাচ্চা’ বলি নাই।’ গত কয়েকদিন ধরেই হামলা-ভাঙচুরের ঘটনার সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হচ্ছিল। এর পর শুক্রবার তিন জন আওয়ামী লীগ নেতাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। কি ভাবে এ ঘটনা ঘটলো, এ সম্পর্কে দলটির একজন গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় নেতা এবং সংসদসদস্য হিসেবে তার মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এটা ছিল অসাম্প্রদায়িক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বা জননেত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি নষ্ট করার একটা গভীর ষড়যন্ত্র। কিন্তু যারা এ কাজ করেছে বলে অভিযোগ তারা তো তার দলেরই লোক- এ কথা বলা হলে হক বলেন, ‘না, এটা মিথ্যা, বানোয়াট এবং অসত্য। আমি এর নিন্দা জানাই।’ ‘আমার দলের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। এই তিনজন নেতা বরং প্রতিহত করেছে।’ তাই যদি হবে তাহলে তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর নিন্দা জানাই আমি। তারা আমাদের জিজ্ঞেস করেনি। আরা নাসিরনগরে আসেনি। পরিস্থিতিও দেখেনি।’ নাসিরনগরের ঘটনা নিয়ে কি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার কথা হয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে ছায়েদুল হক বলেন, না, প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার কথা হয়নি। বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এ ঘটনার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, এর দায় স্থানীয় প্রশাসন এড়াতে পারে না, জনপ্রতিনিধিরাও তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেননি। স্থানীয় এমপি হিসেবে তিনি কি এর দায় নেবেন? এ প্রশ্নের জবাবে হক বলেন, ‘এ ঘটনার শুরু থেকে আমি সবকিছু জানি। স্থানীয় প্রশাসন, থানার ওসি, ইউএনও- তারা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। তাদের মধ্যে কোনো গাফিলতি ছিল না।’ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা-বানোয়াট’ বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি। নাসিরনগরের ঘটনার জন্য এমপি হিসেবে তাকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন অনেকেই। তিনি কি পদত্যাগ করবেন? এর জবাবে তিনি হক বলেন, ‘নো নো পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না। বরং আমি যদি পদক্ষেপ না নিতাম, ঘটনা আরো বিস্তার লাভ করতে পারতো।’ স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যেও এখন আর কোনো নিরাপত্তাহীনতা নেই বলে দাবি করে হক বলেন, ‘আমি রিকশা নিয়ে প্রতিটি ঘরে গিয়েছি। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছি আমরা।’ তাকে প্রশ্ন করা হয়, সংখ্যালঘুদের অনেকে তাদের নাম না প্রকাশ করার অনুরোধ করে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতির কথা বলেছেন - একে তিনি বলবেন? জবাবে ছায়েদুল হক বলেন, এগুলো মিথ্যা, বানোয়াট- নাসিরনগরের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো আতংক বা নিরাপত্তাহীনতা নেই্, তারা খুব স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে।

Comments

Comments!

 আমি জীবনে কাউকে ‘মালাউন’ বলিনি: ছায়েদুল হকAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

আমি জীবনে কাউকে ‘মালাউন’ বলিনি: ছায়েদুল হক

Saturday, November 5, 2016 10:27 pm
158596_1

 

 

ঢাকা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনার জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া স্থানীয় এমপি এবং সরকারের মৎস্য মন্ত্রী ছায়েদুল হক দাবি করেছেন, সেখানকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো নিরাপত্তাহীনতা নেই।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেছেন, আওয়ামী লীগের যে তিন নেতাকে এই ঘটনায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং এরা বরং হিন্দুদের ওপর হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন।

এর পর স্থানীয় হিন্দুদের সম্পর্কে মন্ত্রীর কথিত এক মন্তব্য নিয়ে এখন বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার যে তীব্র সমালোচনা-বিতর্ক চলছে – তা অস্বীকার করেছেন এমপি ছায়েদুল হক।

মুসলমানদের পবিত্র কাবাঘরের প্রতি অবমাননাসূচক এক ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছে রসরাজ দাস নামে স্থানীয় এক হিন্দু যুবক- এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত রবিবার নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার ওই ঘটনা ঘটে।

রসরাজ দাসকে গত শুক্রবারই গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সাক্ষাৎকারে ছায়েদুল হক আরো বলেন, নাসিরনগরের ঘটনা নিয়ে তার সাথে প্রধানমন্ত্রীর কোনো কথা হয় নি।

এ ঘটনার পর তিনি স্থানীয় হিন্দুদের ‘মালাউন’ বলে উল্লেখ করে ‘তারা বাড়াবাড়ি করছে’ এমন মন্তব্য করেছেন কিনা – এ প্রশ্নের জবাবে ছায়েদুল হক বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, অসত্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি জীবনে কোনো দিন এ কথা বলিনি।’

তিনি বলেন ‘আমি, ১৯৬৮ সালে নাসিরনগরে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করি। পাঁচ বার এমপি হয়েছি, মন্ত্রী হয়েছি। এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনদিন হিন্দুদের ‘মালাউনের বাচ্চা’ বলি নাই।’

গত কয়েকদিন ধরেই হামলা-ভাঙচুরের ঘটনার সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হচ্ছিল। এর পর শুক্রবার তিন জন আওয়ামী লীগ নেতাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

কি ভাবে এ ঘটনা ঘটলো, এ সম্পর্কে দলটির একজন গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় নেতা এবং সংসদসদস্য হিসেবে তার মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এটা ছিল অসাম্প্রদায়িক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বা জননেত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি নষ্ট করার একটা গভীর ষড়যন্ত্র।

কিন্তু যারা এ কাজ করেছে বলে অভিযোগ তারা তো তার দলেরই লোক- এ কথা বলা হলে হক বলেন, ‘না, এটা মিথ্যা, বানোয়াট এবং অসত্য। আমি এর নিন্দা জানাই।’

‘আমার দলের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। এই তিনজন নেতা বরং প্রতিহত করেছে।’

তাই যদি হবে তাহলে তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর নিন্দা জানাই আমি। তারা আমাদের জিজ্ঞেস করেনি। আরা নাসিরনগরে আসেনি। পরিস্থিতিও দেখেনি।’

নাসিরনগরের ঘটনা নিয়ে কি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার কথা হয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে ছায়েদুল হক বলেন, না, প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার কথা হয়নি।

বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এ ঘটনার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, এর দায় স্থানীয় প্রশাসন এড়াতে পারে না, জনপ্রতিনিধিরাও তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেননি।

স্থানীয় এমপি হিসেবে তিনি কি এর দায় নেবেন?

এ প্রশ্নের জবাবে হক বলেন, ‘এ ঘটনার শুরু থেকে আমি সবকিছু জানি। স্থানীয় প্রশাসন, থানার ওসি, ইউএনও- তারা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। তাদের মধ্যে কোনো গাফিলতি ছিল না।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা-বানোয়াট’ বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

নাসিরনগরের ঘটনার জন্য এমপি হিসেবে তাকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন অনেকেই। তিনি কি পদত্যাগ করবেন? এর জবাবে তিনি হক বলেন, ‘নো নো পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না। বরং আমি যদি পদক্ষেপ না নিতাম, ঘটনা আরো বিস্তার লাভ করতে পারতো।’

স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যেও এখন আর কোনো নিরাপত্তাহীনতা নেই বলে দাবি করে হক বলেন, ‘আমি রিকশা নিয়ে প্রতিটি ঘরে গিয়েছি। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছি আমরা।’

তাকে প্রশ্ন করা হয়, সংখ্যালঘুদের অনেকে তাদের নাম না প্রকাশ করার অনুরোধ করে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতির কথা বলেছেন – একে তিনি বলবেন?

জবাবে ছায়েদুল হক বলেন, এগুলো মিথ্যা, বানোয়াট- নাসিরনগরের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো আতংক বা নিরাপত্তাহীনতা নেই্, তারা খুব স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X