সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:৫৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, July 29, 2016 8:35 pm
A- A A+ Print

আরও সন্ত্রাসের হুমকি কতটা গুরুতর?

57cc588375205965a0e07d4e171b36d6-_AZI4369

কামাল আহমেদ | গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় যেদিন হামলা হলো, সেই সপ্তাহে বিশ্বে সন্ত্রাসী হামলায় মোট কতজন নিহত হয়েছেন, সেটা কি কেউ জানেন? ওয়াশিংটন পোস্ট-এর হিসাবে ৩৫০ জনেরও বেশি। মাত্র তিনটি হামলা—তিনটি শহরে। সব কটিই আত্মঘাতী। ইস্তাম্বুলের বিমানবন্দরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় মারা গেছেন ৪৫ জন, ঢাকায় হলি আর্টিজানে অন্তত ২০ জন এবং বাগদাদের একটি বিপণিকেন্দ্রের কাছে প্রায় ৩০০ জন। সব কটি হামলাই কথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রভাব বা অনুপ্রেরণায়। এই তিন হামলায় নিহত ব্যক্তিদের ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষের ধর্মীয় পরিচয় ইসলাম। ইসলামের নামে সন্ত্রাসবাদের যে নতুন বৈশ্বিক রূপ এখন আমরা দেখছি, জুনের শেষ এবং জুলাইয়ের শুরুর ওই সপ্তাহটি তারই একটি খণ্ডচিত্র। ওয়াশিংটন পোস্ট ১৬ জুলাই একটি প্রতিবেদনে দেখিয়েছে, পাশ্চাত্যে সন্ত্রাসবাদের ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে বাকি বিশ্বের চিত্রটি কী? ‘হাউ টেররিজম ইন দ্য ওয়েস্ট কমপেয়ারস টু টেররিজম এভরিহয়্যার এলস’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ১ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে এ বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময়ের সন্ত্রাসী হামলাগুলোর পরিসংখ্যান তুলে ধরে এতে দেখানো হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ায় নিহত হয়েছেন আমেরিকা ও ইউরোপের প্রায় ৫০ গুণ। ওই সময়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় ৪৬টি হামলায় মারা গেছেন ৬৫৮ জন। আর বাকি বিশ্বে ২ হাজার ৬৩টি হামলায় নিহত হয়েছেন ২৮ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে কুড়ি হাজারের বেশি মারা গেছেন মধ্যপ্রাচ্যে। জুনের শেষ এবং জুলাইয়ের শুরুর ওই সপ্তাহটির সন্ত্রাসী হামলাগুলোর পটভূমিতে নিউইয়র্ক টাইমসও ২৬ জুলাই একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন করেছে (দ্য হিউম্যান টোল অব টেরর)। রমজান মাসের শেষ প্রান্তে ইস্তাম্বুলের বিমানবন্দর, ঢাকার কূটনৈতিকপাড়া, আফগানিস্তান, বাগদাদ, সোমালিয়া, ক্যামেরুন ও সৌদি আরবে এসব হামলার কথা উল্লেখ করে পত্রিকাটি ফিরে তাকিয়েছে মার্চ মাসের দুটি সপ্তাহের আটটি সন্ত্রাসী হামলার দিকে। ওই আটটি হামলার শিকার নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং জীবন নিয়ে আবেগঘন এক প্রতিবেদন হচ্ছে এটি। এ বছরের মার্চ মাসের ওই দুই সপ্তাহে যে হামলাগুলো শিরোনামে উঠে এসেছিল, সেগুলো ছিল ব্রাসেলসের বিমানবন্দর, আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুল, লাহোরের পার্ক, পেশোয়ারে বাস, ইরাকের ইস্কান্দ্রিয়ায় ফুটবল স্টেডিয়াম, নাইজেরিয়ার উমারারি মসজিদ এবং আইভরি কোস্টের গ্র্যান্ড বাসাম সৈকত। ছয়টি দেশে এই আটটি হামলায় নিহত হয়েছেন ২৪৭ জন এবং পরিসংখ্যান বলছে, নিহত ব্যক্তিদের ৬১ শতাংশ ছিলেন মুসলমান। ইসলামের নামে যে সন্ত্রাসবাদ এখন বিশ্বে চলছে, তার প্রধান দুটি ধারা হচ্ছে আইএস এবং আল-কায়েদা। অঞ্চলভেদে বিভিন্ন গোষ্ঠী আলাদা আলাদা স্থানীয় নামে তৎপর থাকলেও কোনো না-কোনোভাবে আইএস অথবা আল-কায়েদার সঙ্গে তাদের আনুগত্য বা সহযোগিতার বন্ধন রয়েছে। কিন্তু উভয় গোষ্ঠীর সন্ত্রাসের সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছেন তাঁরাই, যাঁদের ধর্মীয় পরিচয় ইসলাম। বাংলাদেশের গত দুই দশকের সন্ত্রাসের চিত্রটি তার থেকে আলাদা? সাম্প্রতিক ঘটনাবলির আলোকে অনেকের কাছে তেমনটি মনে হতেও পারে। ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী যাজক, পুরোহিত, সেবায়েত, ভিক্ষু, ধর্মে বিশ্বাস নেই এমন লেখক, বিদেশি নাগরিক হত্যার যেসব ঘটনা গেল এক বছরের মধ্যে ঘটেছে, তার পটভূমিতে এমন ধারণা হলেও হতে পারে। কিন্তু সেটাই পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়। রমনার বটমূল, যশোরে উদীচীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক দলের সভায় পরিচালিত উগ্রবাদী ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিলে বৈশ্বিক চিত্রের মতো একই ধারা এখানেও দেখা যাবে—হতাহতদের অধিকাংশই মুসলমান। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রশাসন ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রয়োজনীয় সবকিছু করার অঙ্গীকার করে আমাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বৈশ্বিক বাস্তবতায় সেই সুযোগ কই? জাতিসংঘের একটি দপ্তর আছে, যার নাম কাউন্টার টেররিজম এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরেট (সিটিইডি)। তাদের হিসাবে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের ৩০ হাজারেরও বেশি বিদেশি যোদ্ধা এখন সক্রিয়। সিটিইডির নির্বাহী পরিচালক জাঁ পল লাবোর্ডে মাত্র গেল সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদকে এসব তথ্য দিয়েছেন। তিনি সে সময়ে বলেছেন, কোনো দেশই এককভাবে এই সমস্যা মোকাবিলা করতে পারবে না। লাবোর্ডের ব্যাখ্যায় ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড লিভেন্ট বা আইএসআইএল বা দায়েশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সামরিক অভিযানের কারণে এখন চাপের মুখে পড়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সীমানা ও সামরিক ক্ষমতা কমছে। ফলে গোষ্ঠীটি তার কার্যক্রম বদলাচ্ছে এবং তারা একটি প্রকৃত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের রূপ নিচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরে রমজান মাসে, অর্থাৎ ৬ জুন থেকে ৫ জুলাই সময়কালে ১৬টি দেশে অন্তত ৩৯৩টি হামলার ক্ষেত্রে আইএস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব বা ভূমিকা রেখেছে। এগুলোর অধিকাংশই ইরাক ও সিরিয়ায় ঘটলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে আইএসের এই রূপান্তরের কারণে বিশ্ব যে শিগগিরই নিরাপদ হবে, এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ। বরং তাঁর মতে, বিশ্বসম্প্রদায় সন্ত্রাসবাদের হুমকি যেভাবে মোকাবিলা করছে, তা না বদলালে সম্প্রতি যে ধরনের সন্ত্রাসী তাণ্ডবলীলা দেখা গেছে, তা বাড়তেই থাকবে। একই ধরনের কথা বলেছেন জাতিসংঘের অপরাধ ও মাদকদ্রব্য-বিষয়ক দপ্তর ইউএনওডিসির প্রধান ইউরি ফেডেটভ। গত বুধবার সেন্ট পিটার্সবার্গে তিনি বলেছেন, প্রবাসী সন্ত্রাসীদের দেশে ফিরে আসার বিষয়টিই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন দেশে এ ধরনের প্রবাসী যোদ্ধাদের (ফরেন ফাইটার্স) স্বদেশে ফেরার হার বাড়ার কথা জানিয়েছে অনেক দেশ। তিনি বলছেন, এসব ফিরে আসা যোদ্ধার মধ্যে কারও কারও হয়তো স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে, কিন্তু অধিকাংশই র্যা ডিকেল বা গোঁড়া ধর্মান্ধে রূপান্তরিত হয়েছেন। এঁরা স্বদেশে বড় ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, আফগান-ফেরত ধর্মান্ধরাই প্রথম এ দেশে ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম আমদানি করেছেন। আর সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাতেও সিরীয় যোগসূত্রের আলামত ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। যেসব তরুণের ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তুলেছে, তঁাদেরও দেশে ফিরে আসা অসম্ভব কিছু নয়। এদের সংখ্যা কত সেই ধারণাও কারও নেই। এগুলো যে শুধু বিশেষজ্ঞদের কথা, তা নয়। আইএসের বক্তব্যেও তার প্রতিফলন পাওয়া যায়। ইরাক ও সিরিয়ায় মূল নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক কাঠামো সামরিক হামলার মুখে থাকলেও তারা তাদের সংগঠনের কিছু সম্পদ ও সামর্থ্য বিদেশে স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছে বলে আইএসের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট (ইনসাইড আইসিস: কোয়ায়েটলি প্রিপেরায়িং ফর দ্য লস অব দ্য ক্যালিফেট, ১২ জুলাই)। আইএসের আরবি সাপ্তাহিক আল-নাবার একটি নিবন্ধের কথাও ওই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে। এ কথা ঠিক যে গত কয়েক সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে অনেকগুলো নারকীয় নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদেরও হতবাক করে দিয়েছে। নানা প্রান্তে একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার অনেকটির সঙ্গেই ইসলামপন্থী জঙ্গি বা সন্ত্রাসবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন জার্মানির বিপণিবিতানে হামলাকারী ইরানি বংশোদ্ভূত হলেও তাঁর অনুপ্রেরণা ছিল নরওয়ের শ্বেতাঙ্গ ও খ্রিষ্টীয় শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী খুনি অ্যান্ডার্স ব্রেইিভক। জাপানে প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে হামলাকারী হলেন একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ক্লাবে হামলার ঘটনাটি সে দেশের অন্য আরও বন্দুক হামলার অনুরূপ। একের পর এক এসব হামলার কারণ বিশ্লেষণে এখন নানা ধরনের গবেষণা হচ্ছে এবং আরও হবে। তবে মোটা দাগে দুই ভাগে এগুলোকে ভাগ করা হয়েছে। একটি হচ্ছে ধর্মীয় আদর্শে উদ্বুদ্ধ সন্ত্রাসবাদ; আর অপরটি ক্রোধ, ব্যক্তিগত হতাশা, মানসিক বৈকল্য ইত্যাদি। তবে ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বুশ-ব্লেয়ারের আমলে যে চরম দমনমূলক নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল, তা যে কাজে আসেনি, সে কথা এখন প্রায় সবাই মেনে নিয়েছেন। মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, অমানবিক নিষ্ঠুরতা, গোষ্ঠীগতভাবে, বিশেষ করে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণে কার্যত জিহাদিরাই লাভবান হয়েছে। ইসলামভীতি সৃষ্টির (ইসলামোফোবিক) নীতির কারণে পাশ্চাত্যে সামাজিক সংহতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ায় ক্ষোভ বেড়েছে, শক্তিপ্রয়োগ বা দমনের নীতি অন্যদের বিদ্রোহী করেছে। তরুণেরা আরও বেশি সংখ্যায় জিহাদে আকৃষ্ট হয়েছে, দেশান্তরি হয়ে পাশ্চাত্যবিরোধী কথিত যুদ্ধ বা সন্ত্রাসে যোগ দিয়েছেন। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তাই এখন নীতিকৌশল পাল্টেছে। স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য ওয়াটারবোর্ডিংয়ের মতো নির্যাতন নিষিদ্ধ হয়েছে। এখন মূলত জোর দেওয়া হচ্ছে কথিত কিশোর-তরুণেরা যাতে র্যা ডিকেল না হয়, সে রকম ব্যবস্থার প্রতি। আর যাঁরা সন্ত্রাসবাদে জড়িত হয়েছিলেন, তাঁরা যদি ফিরে আসেন, তাঁদের পুনর্বাসন, জেলে থাকা সন্ত্রাসীদের ডির্যাাডিকালাইজেশন এগুলোই এখন প্রাধান্য পাচ্ছে। সন্ত্রাসী হামলার সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে হামলাকারী নিহত হলে কোনো প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু ধোঁয়াশা অবস্থায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা নিহত হলে, তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি এবং নতুন সমস্যা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। যাঁরা তাঁদের ভাষায় ‘শহীদ’ হয়ে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতে চান, তাঁদের ফাঁদে পা দেওয়াটা কোনোভাবেই যথাযথ কৌশল হতে পারে না। সন্ত্রাসবাদও অপরাধ এবং সেই অপরাধের প্রাতিষ্ঠানিক বিচার না হলে ভুক্তভোগীরা যেমন বিচারবঞ্চিত হয়, তেমনি সন্ত্রাসবাদীদের দমনেও তা কাজে আসে না। প্যারিসে কনসার্ট হল বাতাক্লঁতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সালাহ আবদেসালামকে ব্রাসেলসে দীর্ঘক্ষণ গুলিবিনিময়ের পরও জীবিত আটক করে এখন বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। ব্রাসেলসের বিমানবন্দরের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী মোহাম্মদ আবরিনিকেও একইভাবে আটক করে বিচার করা হচ্ছে। এ কারণেই ফ্রান্সে হামলাকারীরা হামলার সময় নিহত হলেও সেখানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শক্তিপ্রয়োগের প্রশ্ন ওঠে না। কিশোর-তরুণেরা যাতে উগ্রপন্থার দিকে না ঝোঁকে, তার জন্য কোনো জাতীয় কর্মকৌশলের কথা কি আমরা কেউ শুনেছি? শুধু হঠাৎ করে ক্লাসে ১০ দিন হাজির না হলে তাদের ওপর নজরদারির কৌশলই কি যথেষ্ট? বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার-সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের শাখা গঠন কিংবা শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর মতাদর্শের খবরদারি কতটা কাজে দেবে, তা নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে। একেকটি সন্ত্রাসের ঘটনা বা হত্যাকাণ্ডকে আমাদের মন্ত্রীরা যেমন বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে বলে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন, সে রকমই বিচ্ছিন্ন টুকরো টুকরো নীতি বা কৌশল অনুসরণের লক্ষণ আমাদের খুব একটা আশাবাদী করে না। কামাল আহমেদ: সাংবাদিক।

Comments

Comments!

 আরও সন্ত্রাসের হুমকি কতটা গুরুতর?AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

আরও সন্ত্রাসের হুমকি কতটা গুরুতর?

Friday, July 29, 2016 8:35 pm
57cc588375205965a0e07d4e171b36d6-_AZI4369

কামাল আহমেদ | গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় যেদিন হামলা হলো, সেই সপ্তাহে বিশ্বে সন্ত্রাসী হামলায় মোট কতজন নিহত হয়েছেন, সেটা কি কেউ জানেন? ওয়াশিংটন পোস্ট-এর হিসাবে ৩৫০ জনেরও বেশি। মাত্র তিনটি হামলা—তিনটি শহরে। সব কটিই আত্মঘাতী। ইস্তাম্বুলের বিমানবন্দরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় মারা গেছেন ৪৫ জন, ঢাকায় হলি আর্টিজানে অন্তত ২০ জন এবং বাগদাদের একটি বিপণিকেন্দ্রের কাছে প্রায় ৩০০ জন। সব কটি হামলাই কথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রভাব বা অনুপ্রেরণায়। এই তিন হামলায় নিহত ব্যক্তিদের ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষের ধর্মীয় পরিচয় ইসলাম। ইসলামের নামে সন্ত্রাসবাদের যে নতুন বৈশ্বিক রূপ এখন আমরা দেখছি, জুনের শেষ এবং জুলাইয়ের শুরুর ওই সপ্তাহটি তারই একটি খণ্ডচিত্র।
ওয়াশিংটন পোস্ট ১৬ জুলাই একটি প্রতিবেদনে দেখিয়েছে, পাশ্চাত্যে সন্ত্রাসবাদের ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে বাকি বিশ্বের চিত্রটি কী? ‘হাউ টেররিজম ইন দ্য ওয়েস্ট কমপেয়ারস টু টেররিজম এভরিহয়্যার এলস’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ১ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে এ বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময়ের সন্ত্রাসী হামলাগুলোর পরিসংখ্যান তুলে ধরে এতে দেখানো হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ায় নিহত হয়েছেন আমেরিকা ও ইউরোপের প্রায় ৫০ গুণ। ওই সময়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় ৪৬টি হামলায় মারা গেছেন ৬৫৮ জন। আর বাকি বিশ্বে ২ হাজার ৬৩টি হামলায় নিহত হয়েছেন ২৮ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে কুড়ি হাজারের বেশি মারা গেছেন মধ্যপ্রাচ্যে।
জুনের শেষ এবং জুলাইয়ের শুরুর ওই সপ্তাহটির সন্ত্রাসী হামলাগুলোর পটভূমিতে নিউইয়র্ক টাইমসও ২৬ জুলাই একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন করেছে (দ্য হিউম্যান টোল অব টেরর)। রমজান মাসের শেষ প্রান্তে ইস্তাম্বুলের বিমানবন্দর, ঢাকার কূটনৈতিকপাড়া, আফগানিস্তান, বাগদাদ, সোমালিয়া, ক্যামেরুন ও সৌদি আরবে এসব হামলার কথা উল্লেখ করে পত্রিকাটি ফিরে তাকিয়েছে মার্চ মাসের দুটি সপ্তাহের আটটি সন্ত্রাসী হামলার দিকে। ওই আটটি হামলার শিকার নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং জীবন নিয়ে আবেগঘন এক প্রতিবেদন হচ্ছে এটি। এ বছরের মার্চ মাসের ওই দুই সপ্তাহে যে হামলাগুলো শিরোনামে উঠে এসেছিল, সেগুলো ছিল ব্রাসেলসের বিমানবন্দর, আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুল, লাহোরের পার্ক, পেশোয়ারে বাস, ইরাকের ইস্কান্দ্রিয়ায় ফুটবল স্টেডিয়াম, নাইজেরিয়ার উমারারি মসজিদ এবং আইভরি কোস্টের গ্র্যান্ড বাসাম সৈকত। ছয়টি দেশে এই আটটি হামলায় নিহত হয়েছেন ২৪৭ জন এবং পরিসংখ্যান বলছে, নিহত ব্যক্তিদের ৬১ শতাংশ ছিলেন মুসলমান।
ইসলামের নামে যে সন্ত্রাসবাদ এখন বিশ্বে চলছে, তার প্রধান দুটি ধারা হচ্ছে আইএস এবং আল-কায়েদা। অঞ্চলভেদে বিভিন্ন গোষ্ঠী আলাদা আলাদা স্থানীয় নামে তৎপর থাকলেও কোনো না-কোনোভাবে আইএস অথবা আল-কায়েদার সঙ্গে তাদের আনুগত্য বা সহযোগিতার বন্ধন রয়েছে। কিন্তু উভয় গোষ্ঠীর সন্ত্রাসের সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছেন তাঁরাই, যাঁদের ধর্মীয় পরিচয় ইসলাম।
বাংলাদেশের গত দুই দশকের সন্ত্রাসের চিত্রটি তার থেকে আলাদা? সাম্প্রতিক ঘটনাবলির আলোকে অনেকের কাছে তেমনটি মনে হতেও পারে। ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী যাজক, পুরোহিত, সেবায়েত, ভিক্ষু, ধর্মে বিশ্বাস নেই এমন লেখক, বিদেশি নাগরিক হত্যার যেসব ঘটনা গেল এক বছরের মধ্যে ঘটেছে, তার পটভূমিতে এমন ধারণা হলেও হতে পারে। কিন্তু সেটাই পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়। রমনার বটমূল, যশোরে উদীচীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক দলের সভায় পরিচালিত উগ্রবাদী ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিলে বৈশ্বিক চিত্রের মতো একই ধারা এখানেও দেখা যাবে—হতাহতদের অধিকাংশই মুসলমান।
আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রশাসন ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রয়োজনীয় সবকিছু করার অঙ্গীকার করে আমাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বৈশ্বিক বাস্তবতায় সেই সুযোগ কই? জাতিসংঘের একটি দপ্তর আছে, যার নাম কাউন্টার টেররিজম এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরেট (সিটিইডি)। তাদের হিসাবে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের ৩০ হাজারেরও বেশি বিদেশি যোদ্ধা এখন সক্রিয়। সিটিইডির নির্বাহী পরিচালক জাঁ পল লাবোর্ডে মাত্র গেল সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদকে এসব তথ্য দিয়েছেন। তিনি সে সময়ে বলেছেন, কোনো দেশই এককভাবে এই সমস্যা মোকাবিলা করতে পারবে না।
লাবোর্ডের ব্যাখ্যায় ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড লিভেন্ট বা আইএসআইএল বা দায়েশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সামরিক অভিযানের কারণে এখন চাপের মুখে পড়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সীমানা ও সামরিক ক্ষমতা কমছে। ফলে গোষ্ঠীটি তার কার্যক্রম বদলাচ্ছে এবং তারা একটি প্রকৃত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের রূপ নিচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরে রমজান মাসে, অর্থাৎ ৬ জুন থেকে ৫ জুলাই সময়কালে ১৬টি দেশে অন্তত ৩৯৩টি হামলার ক্ষেত্রে আইএস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব বা ভূমিকা রেখেছে। এগুলোর অধিকাংশই ইরাক ও সিরিয়ায় ঘটলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে আইএসের এই রূপান্তরের কারণে বিশ্ব যে শিগগিরই নিরাপদ হবে, এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ। বরং তাঁর মতে, বিশ্বসম্প্রদায় সন্ত্রাসবাদের হুমকি যেভাবে মোকাবিলা করছে, তা না বদলালে সম্প্রতি যে ধরনের সন্ত্রাসী তাণ্ডবলীলা দেখা গেছে, তা বাড়তেই থাকবে।
একই ধরনের কথা বলেছেন জাতিসংঘের অপরাধ ও মাদকদ্রব্য-বিষয়ক দপ্তর ইউএনওডিসির প্রধান ইউরি ফেডেটভ। গত বুধবার সেন্ট পিটার্সবার্গে তিনি বলেছেন, প্রবাসী সন্ত্রাসীদের দেশে ফিরে আসার বিষয়টিই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন দেশে এ ধরনের প্রবাসী যোদ্ধাদের (ফরেন ফাইটার্স) স্বদেশে ফেরার হার বাড়ার কথা জানিয়েছে অনেক দেশ। তিনি বলছেন, এসব ফিরে আসা যোদ্ধার মধ্যে কারও কারও হয়তো স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে, কিন্তু অধিকাংশই র্যা ডিকেল বা গোঁড়া ধর্মান্ধে রূপান্তরিত হয়েছেন। এঁরা স্বদেশে বড় ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, আফগান-ফেরত ধর্মান্ধরাই প্রথম এ দেশে ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম আমদানি করেছেন। আর সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাতেও সিরীয় যোগসূত্রের আলামত ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। যেসব তরুণের ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তুলেছে, তঁাদেরও দেশে ফিরে আসা অসম্ভব কিছু নয়। এদের সংখ্যা কত সেই ধারণাও কারও নেই।
এগুলো যে শুধু বিশেষজ্ঞদের কথা, তা নয়। আইএসের বক্তব্যেও তার প্রতিফলন পাওয়া যায়। ইরাক ও সিরিয়ায় মূল নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক কাঠামো সামরিক হামলার মুখে থাকলেও তারা তাদের সংগঠনের কিছু সম্পদ ও সামর্থ্য বিদেশে স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছে বলে আইএসের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট (ইনসাইড আইসিস: কোয়ায়েটলি প্রিপেরায়িং ফর দ্য লস অব দ্য ক্যালিফেট, ১২ জুলাই)। আইএসের আরবি সাপ্তাহিক আল-নাবার একটি নিবন্ধের কথাও ওই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে।
এ কথা ঠিক যে গত কয়েক সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে অনেকগুলো নারকীয় নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদেরও হতবাক করে দিয়েছে। নানা প্রান্তে একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার অনেকটির সঙ্গেই ইসলামপন্থী জঙ্গি বা সন্ত্রাসবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন জার্মানির বিপণিবিতানে হামলাকারী ইরানি বংশোদ্ভূত হলেও তাঁর অনুপ্রেরণা ছিল নরওয়ের শ্বেতাঙ্গ ও খ্রিষ্টীয় শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী খুনি অ্যান্ডার্স ব্রেইিভক। জাপানে প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে হামলাকারী হলেন একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ক্লাবে হামলার ঘটনাটি সে দেশের অন্য আরও বন্দুক হামলার অনুরূপ।
একের পর এক এসব হামলার কারণ বিশ্লেষণে এখন নানা ধরনের গবেষণা হচ্ছে এবং আরও হবে। তবে মোটা দাগে দুই ভাগে এগুলোকে ভাগ করা হয়েছে। একটি হচ্ছে ধর্মীয় আদর্শে উদ্বুদ্ধ সন্ত্রাসবাদ; আর অপরটি ক্রোধ, ব্যক্তিগত হতাশা, মানসিক বৈকল্য ইত্যাদি। তবে ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বুশ-ব্লেয়ারের আমলে যে চরম দমনমূলক নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল, তা যে কাজে আসেনি, সে কথা এখন প্রায় সবাই মেনে নিয়েছেন। মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, অমানবিক নিষ্ঠুরতা, গোষ্ঠীগতভাবে, বিশেষ করে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণে কার্যত জিহাদিরাই লাভবান হয়েছে। ইসলামভীতি সৃষ্টির (ইসলামোফোবিক) নীতির কারণে পাশ্চাত্যে সামাজিক সংহতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ায় ক্ষোভ বেড়েছে, শক্তিপ্রয়োগ বা দমনের নীতি অন্যদের বিদ্রোহী করেছে। তরুণেরা আরও বেশি সংখ্যায় জিহাদে আকৃষ্ট হয়েছে, দেশান্তরি হয়ে পাশ্চাত্যবিরোধী কথিত যুদ্ধ বা সন্ত্রাসে যোগ দিয়েছেন।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তাই এখন নীতিকৌশল পাল্টেছে। স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য ওয়াটারবোর্ডিংয়ের মতো নির্যাতন নিষিদ্ধ
হয়েছে। এখন মূলত জোর দেওয়া হচ্ছে কথিত কিশোর-তরুণেরা যাতে র্যা ডিকেল না হয়, সে রকম ব্যবস্থার প্রতি। আর যাঁরা সন্ত্রাসবাদে জড়িত হয়েছিলেন, তাঁরা যদি ফিরে আসেন, তাঁদের পুনর্বাসন, জেলে থাকা সন্ত্রাসীদের ডির্যাাডিকালাইজেশন এগুলোই এখন প্রাধান্য পাচ্ছে। সন্ত্রাসী হামলার সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে হামলাকারী নিহত হলে কোনো প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু ধোঁয়াশা অবস্থায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা নিহত হলে, তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি এবং নতুন সমস্যা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। যাঁরা তাঁদের ভাষায় ‘শহীদ’ হয়ে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতে চান, তাঁদের ফাঁদে পা দেওয়াটা কোনোভাবেই যথাযথ কৌশল হতে পারে না। সন্ত্রাসবাদও অপরাধ এবং সেই অপরাধের প্রাতিষ্ঠানিক বিচার না হলে ভুক্তভোগীরা যেমন বিচারবঞ্চিত হয়, তেমনি সন্ত্রাসবাদীদের দমনেও তা কাজে আসে না।
প্যারিসে কনসার্ট হল বাতাক্লঁতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সালাহ আবদেসালামকে ব্রাসেলসে দীর্ঘক্ষণ গুলিবিনিময়ের পরও জীবিত আটক করে এখন বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। ব্রাসেলসের বিমানবন্দরের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী মোহাম্মদ আবরিনিকেও একইভাবে আটক করে বিচার করা হচ্ছে। এ কারণেই ফ্রান্সে হামলাকারীরা হামলার সময় নিহত হলেও সেখানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শক্তিপ্রয়োগের প্রশ্ন ওঠে না।
কিশোর-তরুণেরা যাতে উগ্রপন্থার দিকে না ঝোঁকে, তার জন্য কোনো জাতীয় কর্মকৌশলের কথা কি আমরা কেউ শুনেছি? শুধু হঠাৎ করে ক্লাসে ১০ দিন হাজির না হলে তাদের ওপর নজরদারির কৌশলই কি যথেষ্ট? বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার-সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের শাখা গঠন কিংবা শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর মতাদর্শের খবরদারি কতটা কাজে দেবে, তা নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে। একেকটি সন্ত্রাসের ঘটনা বা হত্যাকাণ্ডকে আমাদের মন্ত্রীরা যেমন বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে বলে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন, সে রকমই বিচ্ছিন্ন টুকরো টুকরো নীতি বা কৌশল অনুসরণের লক্ষণ আমাদের খুব একটা আশাবাদী করে না।
কামাল আহমেদ: সাংবাদিক।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X