মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ১১:৪৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Wednesday, October 18, 2017 9:13 am
A- A A+ Print

আরাকান বন্দরের ৭০ শতাংশের মালিকানা পাবে চীন

1508261127

আরাকান (রাখাইন) বন্দরের ৭০ শতাংশের মালিকানা পাবে গণচীন। গত সেপ্টেম্বরে এই বিষয়ে চুক্তি হয়। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অন্তর্গত বঙ্গোপসাগরের একটি গভীর সমুদ্র বন্দরের ৭০ শতাংশ মালিকানা চীন পেতে চলেছে বলে দেশটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক চুক্তিতে চীনকে ৮৫ শতাংশ মালিকানা দেয়ার কথা থাকলেও মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আপত্তির কারণে এখন তা কমিয়ে ৭০ শতাংশ করা হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে ওই প্রকল্প দেখভালের দায়িত্বে থাকা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও মং রয়টার্সকে বলেন, আনুমানিক ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের ওই গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ নিয়ে চীনের সিআইটিআইসি গ্রুপের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনায় শেয়ার বাড়ানোর চেষ্টা করছে মিয়ানমার। “রাখাইনের অধিবাসীদের পাশাপাশি মিয়ানমারের জনগোষ্ঠীগুলো মনে করে, আগের ৮৫-১৫ শতাংশের চুক্তিতে মিয়ানমারের স্বার্থরক্ষা হয়নি। জনগণের ওই পরিকল্পনায় আপত্তি জানায় এবং সরকার এখন আগের চেয়ে একটি ভালো চুক্তি করার চেষ্টা করছে।” নতুন প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিওর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে ও মং জানান। এই প্রকল্পে অর্থায়ন নিয়ে এখনও দুই পক্ষ সিদ্ধান্তে পৌঁছেনি বলে জানান তিনি। চীনের বৃহদায়তন বিনিয়োগ করপোরেশন সিআইটিআইসি কাছে এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তাতে সাড়া মেলেনি। সিআইটিআইসি মিয়ানমার’র নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ইউয়ান শাওবিনের একটি সাক্ষাৎকার সোমবার মিয়ানমার টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি ওই কোম্পানির ৩০ শতাংশ শেয়ারের কথা বলেছেন। অর্থায়ন নিয়ে সিদ্ধান্তে আরও আলোচনা দরকার বলে জানিয়েছেন তিনি। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সিআইটিআইসি গ্রুপ কিয়া কিউ বন্দরের ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশ মালিকানার প্রস্তাব করেছে বলে গত মে মাসের রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়। রয়টার্স বলছে, ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিয়ানমারের এই বন্দরের মালিকানা পেতে চায় চীন। সিল্ক রোড ইকোনোমিক বেল্ট এবং একুশ শতকের মেরিটাইম সিল্ক রোডকে সংযুক্ত করে নেয়া ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড উদ্যোগের আওতায় এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার দেশগুলোকে একটি বাণিজ্য ও অবকাঠামো নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ত করতে চাইছে চীন, যার মধ্য দিয়ে কার্যত প্রাচীন সিল্ক রুটকে পুনরায় ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা তাদের। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানিতে মালাক্কা প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প পথ পেতে বঙ্গোপসাগরের কিয়া কিউ বন্দর চাইছে, যেখানে চীনা তেল ও গ্যাস পাইপলাইনের সূচনা বিন্দু হবে। এই বন্দর ছাড়াও রাখাইনে একটি স্পেশাল ইকোনোমিক জোন তৈরি করবে চীন।  কিয়া কিউ বন্দর রাখাইনের দক্ষিণাঞ্চলে। রাজ্যটিতে রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতায় ওই এলাকায় কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে এখন প্রকল্পে অর্থায়ন নিয়ে কিছুটা মতভিন্নতা তৈরি হয়েছে বলে ও মং জানিয়েছেন। সেনা সমর্থিত প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সরকারের করে যাওয়া চুক্তিতে এই প্রকল্পের জন্য মিয়ানমারকে শুধু ১৫ শতাংশ অর্থ যোগানোর কথা বলা হয়। কিন্তু এখন মিয়ানমার সরকারের কাছে মালিকানার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ৩০ শতাংশ অর্থায়ন চাইছে সিআইটিআইসি। অপরদিকে অর্থায়ন নিয়ে আগের চুক্তিতে অনড় থাকতে চাইছে মিয়ানমার। মিয়ানমারের দীর্ঘদিনের সামরিক সরকার চীনের মদদ পেয়ে আসছিল বলে পশ্চিমাদের অভিযোগ। এখন দেশটিতে গণতন্ত্র ফিরলেও সেনা নিয়ন্ত্রণ রয়ে গেছে অনেকাংশে। রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে পশ্চিমারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সমালোচনামুখর হলেও চীন সেই পথে না হেঁটে বিষয়টি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখছে।

Comments

Comments!

 আরাকান বন্দরের ৭০ শতাংশের মালিকানা পাবে চীনAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

আরাকান বন্দরের ৭০ শতাংশের মালিকানা পাবে চীন

Wednesday, October 18, 2017 9:13 am
1508261127

আরাকান (রাখাইন) বন্দরের ৭০ শতাংশের মালিকানা পাবে গণচীন। গত সেপ্টেম্বরে এই বিষয়ে চুক্তি হয়।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অন্তর্গত বঙ্গোপসাগরের একটি গভীর সমুদ্র বন্দরের ৭০ শতাংশ মালিকানা চীন পেতে চলেছে বলে দেশটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক চুক্তিতে চীনকে ৮৫ শতাংশ মালিকানা দেয়ার কথা থাকলেও মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আপত্তির কারণে এখন তা কমিয়ে ৭০ শতাংশ করা হয়েছে।
মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে ওই প্রকল্প দেখভালের দায়িত্বে থাকা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও মং রয়টার্সকে বলেন, আনুমানিক ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের ওই গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ নিয়ে চীনের সিআইটিআইসি গ্রুপের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনায় শেয়ার বাড়ানোর চেষ্টা করছে মিয়ানমার।
“রাখাইনের অধিবাসীদের পাশাপাশি মিয়ানমারের জনগোষ্ঠীগুলো মনে করে, আগের ৮৫-১৫ শতাংশের চুক্তিতে মিয়ানমারের স্বার্থরক্ষা হয়নি। জনগণের ওই পরিকল্পনায় আপত্তি জানায় এবং সরকার এখন আগের চেয়ে একটি ভালো চুক্তি করার চেষ্টা করছে।”
নতুন প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিওর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে ও মং জানান। এই প্রকল্পে অর্থায়ন নিয়ে এখনও দুই পক্ষ সিদ্ধান্তে পৌঁছেনি বলে জানান তিনি। চীনের বৃহদায়তন বিনিয়োগ করপোরেশন সিআইটিআইসি কাছে এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তাতে সাড়া মেলেনি।
সিআইটিআইসি মিয়ানমার’র নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ইউয়ান শাওবিনের একটি সাক্ষাৎকার সোমবার মিয়ানমার টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি ওই কোম্পানির ৩০ শতাংশ শেয়ারের কথা বলেছেন। অর্থায়ন নিয়ে সিদ্ধান্তে আরও আলোচনা দরকার বলে জানিয়েছেন তিনি।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সিআইটিআইসি গ্রুপ কিয়া কিউ বন্দরের ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশ মালিকানার প্রস্তাব করেছে বলে গত মে মাসের রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়।
রয়টার্স বলছে, ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিয়ানমারের এই বন্দরের মালিকানা পেতে চায় চীন।
সিল্ক রোড ইকোনোমিক বেল্ট এবং একুশ শতকের মেরিটাইম সিল্ক রোডকে সংযুক্ত করে নেয়া ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড উদ্যোগের আওতায় এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার দেশগুলোকে একটি বাণিজ্য ও অবকাঠামো নেটওয়ার্কে সম্পৃক্ত করতে চাইছে চীন, যার মধ্য দিয়ে কার্যত প্রাচীন সিল্ক রুটকে পুনরায় ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা তাদের।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানিতে মালাক্কা প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প পথ পেতে বঙ্গোপসাগরের কিয়া কিউ বন্দর চাইছে, যেখানে চীনা তেল ও গ্যাস পাইপলাইনের সূচনা বিন্দু হবে। এই বন্দর ছাড়াও রাখাইনে একটি স্পেশাল ইকোনোমিক জোন তৈরি করবে চীন।  কিয়া কিউ বন্দর রাখাইনের দক্ষিণাঞ্চলে। রাজ্যটিতে রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতায় ওই এলাকায় কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে এখন প্রকল্পে অর্থায়ন নিয়ে কিছুটা মতভিন্নতা তৈরি হয়েছে বলে ও মং জানিয়েছেন।
সেনা সমর্থিত প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সরকারের করে যাওয়া চুক্তিতে এই প্রকল্পের জন্য মিয়ানমারকে শুধু ১৫ শতাংশ অর্থ যোগানোর কথা বলা হয়। কিন্তু এখন মিয়ানমার সরকারের কাছে মালিকানার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ৩০ শতাংশ অর্থায়ন চাইছে সিআইটিআইসি। অপরদিকে অর্থায়ন নিয়ে আগের চুক্তিতে অনড় থাকতে চাইছে মিয়ানমার। মিয়ানমারের দীর্ঘদিনের সামরিক সরকার চীনের মদদ পেয়ে আসছিল বলে পশ্চিমাদের অভিযোগ। এখন দেশটিতে গণতন্ত্র ফিরলেও সেনা নিয়ন্ত্রণ রয়ে গেছে অনেকাংশে।
রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে পশ্চিমারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সমালোচনামুখর হলেও চীন সেই পথে না হেঁটে বিষয়টি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X