সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৪৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, June 3, 2017 11:10 am
A- A A+ Print

আলোচনায় ‘ক্লুলেস’ অপরাধ তদন্তে পুলিশের সক্ষমতা

10

ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে অপরাধের আলামত নষ্ট বা ‘ক্লুলেস’ হয়ে গেলে বাংলাদেশের পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওই ঘটনার তদন্তে কতটুকু সক্ষমতা রয়েছে তা নিয়ে সর্বমহলে আলোচনা চলছে। বলা হচ্ছে, অপরাধ সংঘঠিত হওয়ার পর যখন পুলিশের কাছে অভিযোগ আসে তখন তারা এটি গভীরভাবে অনুসন্ধান করে না। তারা ওই ঘটনার কিছু আলামত সংগ্রহ করে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। অনেক সময় আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের অদক্ষতার কারণে বিভিন্ন ঘটনার আলামত নষ্টও হয়ে যায়। ফলে তাদের শেষ ভরসা হয় দাঁড়ায়, অভিযুক্তের অপরাধ স্বীকার করা; যা পরবর্তীতে তাকে আদালতে নিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন উঠছে, একটি ঘটনার গভীর অনুসন্ধান না করে আদালতে শুধু অভিযুক্তের ১৬৪ ধারায় নেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মাধ্যমে কী ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব? বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশের পুলিশ অনুসন্ধানী কাজে অনেকটা দুর্বল। ঘটনার পেছনের রহস্য অনুসন্ধানে তাদের দক্ষতা নেই বললেই চলে। কারণ এখানের পুলিশিং ব্যবস্থা এখনো গতানুগতিক রয়ে গেছে। তারা ফরেনসিক ল্যাবে আলামত পরীক্ষা বা ঘটনার অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেয় না। তারা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দি নেয়; যা দিয়ে আদালতে বেশিরভাগ ঘটনার বিচার কাজ চলে। তারা বলছেন, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী যদি অভিযুক্তের শতভাগ অপরাধ প্রমাণিত না করা যায়, তাহলে তার শাস্তির মাত্রা কমে যায়। এখন যদি ঘটনার সঠিক অনুসন্ধান না হয়, তদন্তের দুর্বলতা থাকে, তাহলে অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া কোনোভাবে সম্ভব হবে না। সম্প্রতি ঢাকার বানানীতে একটি বিলাসবহুল হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ দিয়ে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে দুই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনার ৪০ দিন পর ওই দুই তরুণী বনানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তা প্রমাণ করতে পারবেন কী না ভেবে কপালে ভাঁজ পড়ে। কারণ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞতের মতে, ধর্ষণের আলামত সর্বোচ্চ এক থেকে দুই দিনের পর থেকে ভুক্তভোগীর শরীর থেকে অনুপস্থিত হওয়া শুরু করে; যা দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায়। এ ছাড়া যে হোটেলে ঘটনাটি ঘটেছিল সেই হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এক মাসের বেশি সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করেন না। এমনকি হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই রাতে তারা তাদের হোটেলে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ করেনি। অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বাংলাদেশের পুলিশ অনুসন্ধানী কাজে এমনিতেই অনেক দুর্বল। তারপর তারা আরো বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে যখন অপরাধের আলামত নষ্ট হয়ে যায়।’ মাহফুজুল হক মারজান মনে করেন ট্রেডিশনাল পুলিশিং ব্যবস্থায় যখন পুলিশ ১৫৪ ধারায় অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়, তখন মামলার ভিত অনেক দুর্বল হয়ে যায়। কারণ, শুধু তাদের স্বীকারোক্তিতে বিচার কাজ সম্পন্ন হয় না। এর সঙ্গে আনুষঙ্গিক অনেক বিষয় রয়েছে। যা আদালতে উপস্থাপন করতে না পারলে অপরাধীর শাস্তি কমে যায়। এ ছাড়া ফৌজদারী মামলায় অপরাধ শতভাগ প্রমাণ না হলে অপরাধীর শাস্তি কমে যাবে। ফলে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে। ‘ধর্ষণের ঘটনা অন্যান্য ঘটনার চেয়ে একটু আলাদা। এতে যে আলামতগুলো থাকে, যেমন নখের দাগ বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আচড়ের দাগ বা বীর্য একটা সময় থাকে না। এক বা দেড় দিন গেলে তা অনুপস্থিত হয়ে যায়। এসব ক্ষেত্রে দ্রুতই পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে হয় তাতে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। ক্লু নষ্ট হওয়ার পর যখন কেউ অভিযোগ করে, তখন পুলিশের পক্ষে এটি নিয়ে কাজ করা অনেক ডিফিকাল্ট হয়ে যায়’- বনানীর হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন মাহফুজুল হক মারজান। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলীর মতে তদন্তের দুর্বলতার কারণে অনেক সময় অনেক অপরাধী পার পেয়ে যায়। এতে অন্য অপরাধী অপরাধ করতে উৎসাহিত হয়। এ জন্য এসবের শক্তিশালী তদন্ত হওয়া দরকার। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘পারিপার্শ্বিক তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেও ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করা যায়। এ ক্ষেত্রে মামলার গ্রাউন্ড অনেকটা দুর্বল হয়ে যায়। অপরাধীর শাস্তির মাত্রাও কমে যায়।’ ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় জানান, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে পুলিশ। পুলিশের দায়িত্ব ভোক্তেভোগীকে সুরক্ষা দেওয়া ও অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে কাজ করা। ক্লুলেস আলোচিত দুই ঘটনা তনু হত্যাকাণ্ড : ২০১৫ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের কাছে একটি ঝোঁপে কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার বাবা মামলা দায়ের করলে পুলিশ, ডিবি তদন্ত করে। পুলিশ ও ডিবির তদন্তে কোনো কূলকিনারা না হওয়ায় পরবর্তীতে দায়িত্ব পায় সিআইডি। ঘটনার এক বছর পার হলেও এ ঘটনায় জড়িতদের ব্যাপারে কিছুই জানায়নি পুলিশ। ওই সময় তনুর প্রথম ময়নাতদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামত না পাওয়া গেলেও আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে তিন ব্যক্তির ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। সিআইডি প্রাথমিকভাবে ধারণা করে ধর্ষণের পর তনুকে হত্যা করা হয়েছে। তবে কে কারা তাকে হত্যা করেছে সে বিষয়ে কোনো ক্লু পায়নি তারা। এ ঘটনায় ধর্ষণ ও হত্যার আলামত নষ্ট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড : ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টিভির বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনী। হত্যার পর সাগর সারওয়ারের ব্যক্তিগত ল্যাপটপ নিয়ে যায় দুষ্কৃতিকারীরা। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন। থানার হাত ঘুরে তদন্তের দায়িত্ব যায় ডিবিতে। ৬২ দিন পর ডিবি আদালতের কাছে ব্যর্থতা স্বীকার করলে তদন্তের দায়িত্বে আসে র‌্যাব। পাঁচ বছরেও তারা ওই ঘটনার মীমাংসা করতে পারেনি। এর ভেতরে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ, সাগর-রুনীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত, তাদের শরীর থেকে আলামত সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করা ও সন্দেহভাজনদের সঙ্গে মিলিয়েও দেখেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। অপরাধ অনুসন্ধানে সিআইডি যেসব প্রযুক্তি রয়েছে : অপরাধ তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সম্প্রতি উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে, সিআইডি তাদের ফরেনসিক বিভাগের মাধ্যমে হাতের লেখা, পায়ের ছাপ, হাতের ছাপ, অস্ত্র, মাইক্রো এনালাইসিস, ডিএনএ পরীক্ষা করে আসছে। পাশাপাশি তারা ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট, ছবি সংরক্ষণ, জাল নোট ও জাল কয়েন শনাক্তকরণ, আইটি ক্রাইম ল্যাব, কেমিক্যাল ল্যাব, ফরেনসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট পরিচালনা করে আসছে। অপরাধ অনুসন্ধানে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে।

Comments

Comments!

 আলোচনায় ‘ক্লুলেস’ অপরাধ তদন্তে পুলিশের সক্ষমতাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

আলোচনায় ‘ক্লুলেস’ অপরাধ তদন্তে পুলিশের সক্ষমতা

Saturday, June 3, 2017 11:10 am
10

ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে অপরাধের আলামত নষ্ট বা ‘ক্লুলেস’ হয়ে গেলে বাংলাদেশের পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওই ঘটনার তদন্তে কতটুকু সক্ষমতা রয়েছে তা নিয়ে সর্বমহলে আলোচনা চলছে।

বলা হচ্ছে, অপরাধ সংঘঠিত হওয়ার পর যখন পুলিশের কাছে অভিযোগ আসে তখন তারা এটি গভীরভাবে অনুসন্ধান করে না। তারা ওই ঘটনার কিছু আলামত সংগ্রহ করে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। অনেক সময় আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের অদক্ষতার কারণে বিভিন্ন ঘটনার আলামত নষ্টও হয়ে যায়। ফলে তাদের শেষ ভরসা হয় দাঁড়ায়, অভিযুক্তের অপরাধ স্বীকার করা; যা পরবর্তীতে তাকে আদালতে নিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়।

এখন প্রশ্ন উঠছে, একটি ঘটনার গভীর অনুসন্ধান না করে আদালতে শুধু অভিযুক্তের ১৬৪ ধারায় নেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মাধ্যমে কী ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব?

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশের পুলিশ অনুসন্ধানী কাজে অনেকটা দুর্বল। ঘটনার পেছনের রহস্য অনুসন্ধানে তাদের দক্ষতা নেই বললেই চলে। কারণ এখানের পুলিশিং ব্যবস্থা এখনো গতানুগতিক রয়ে গেছে। তারা ফরেনসিক ল্যাবে আলামত পরীক্ষা বা ঘটনার অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেয় না। তারা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দি নেয়; যা দিয়ে আদালতে বেশিরভাগ ঘটনার বিচার কাজ চলে।

তারা বলছেন, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী যদি অভিযুক্তের শতভাগ অপরাধ প্রমাণিত না করা যায়, তাহলে তার শাস্তির মাত্রা কমে যায়। এখন যদি ঘটনার সঠিক অনুসন্ধান না হয়, তদন্তের দুর্বলতা থাকে, তাহলে অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া কোনোভাবে সম্ভব হবে না।

সম্প্রতি ঢাকার বানানীতে একটি বিলাসবহুল হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ দিয়ে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে দুই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনার ৪০ দিন পর ওই দুই তরুণী বনানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তা প্রমাণ করতে পারবেন কী না ভেবে কপালে ভাঁজ পড়ে। কারণ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞতের মতে, ধর্ষণের আলামত সর্বোচ্চ এক থেকে দুই দিনের পর থেকে ভুক্তভোগীর শরীর থেকে অনুপস্থিত হওয়া শুরু করে; যা দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায়।

এ ছাড়া যে হোটেলে ঘটনাটি ঘটেছিল সেই হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এক মাসের বেশি সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করেন না। এমনকি হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই রাতে তারা তাদের হোটেলে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ করেনি।

অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বাংলাদেশের পুলিশ অনুসন্ধানী কাজে এমনিতেই অনেক দুর্বল। তারপর তারা আরো বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে যখন অপরাধের আলামত নষ্ট হয়ে যায়।’

মাহফুজুল হক মারজান মনে করেন ট্রেডিশনাল পুলিশিং ব্যবস্থায় যখন পুলিশ ১৫৪ ধারায় অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়, তখন মামলার ভিত অনেক দুর্বল হয়ে যায়। কারণ, শুধু তাদের স্বীকারোক্তিতে বিচার কাজ সম্পন্ন হয় না। এর সঙ্গে আনুষঙ্গিক অনেক বিষয় রয়েছে। যা আদালতে উপস্থাপন করতে না পারলে অপরাধীর শাস্তি কমে যায়। এ ছাড়া ফৌজদারী মামলায় অপরাধ শতভাগ প্রমাণ না হলে অপরাধীর শাস্তি কমে যাবে। ফলে ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।

‘ধর্ষণের ঘটনা অন্যান্য ঘটনার চেয়ে একটু আলাদা। এতে যে আলামতগুলো থাকে, যেমন নখের দাগ বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আচড়ের দাগ বা বীর্য একটা সময় থাকে না। এক বা দেড় দিন গেলে তা অনুপস্থিত হয়ে যায়। এসব ক্ষেত্রে দ্রুতই পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে হয় তাতে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। ক্লু নষ্ট হওয়ার পর যখন কেউ অভিযোগ করে, তখন পুলিশের পক্ষে এটি নিয়ে কাজ করা অনেক ডিফিকাল্ট হয়ে যায়’- বনানীর হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন মাহফুজুল হক মারজান।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলীর মতে তদন্তের দুর্বলতার কারণে অনেক সময় অনেক অপরাধী পার পেয়ে যায়। এতে অন্য অপরাধী অপরাধ করতে উৎসাহিত হয়। এ জন্য এসবের শক্তিশালী তদন্ত হওয়া দরকার।

তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘পারিপার্শ্বিক তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেও ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করা যায়। এ ক্ষেত্রে মামলার গ্রাউন্ড অনেকটা দুর্বল হয়ে যায়। অপরাধীর শাস্তির মাত্রাও কমে যায়।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় জানান, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে পুলিশ। পুলিশের দায়িত্ব ভোক্তেভোগীকে সুরক্ষা দেওয়া ও অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে কাজ করা।

ক্লুলেস আলোচিত দুই ঘটনা

তনু হত্যাকাণ্ড : ২০১৫ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের কাছে একটি ঝোঁপে কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার বাবা মামলা দায়ের করলে পুলিশ, ডিবি তদন্ত করে। পুলিশ ও ডিবির তদন্তে কোনো কূলকিনারা না হওয়ায় পরবর্তীতে দায়িত্ব পায় সিআইডি। ঘটনার এক বছর পার হলেও এ ঘটনায় জড়িতদের ব্যাপারে কিছুই জানায়নি পুলিশ। ওই সময় তনুর প্রথম ময়নাতদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামত না পাওয়া গেলেও আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে তিন ব্যক্তির ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। সিআইডি প্রাথমিকভাবে ধারণা করে ধর্ষণের পর তনুকে হত্যা করা হয়েছে। তবে কে কারা তাকে হত্যা করেছে সে বিষয়ে কোনো ক্লু পায়নি তারা। এ ঘটনায় ধর্ষণ ও হত্যার আলামত নষ্ট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান।

সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড : ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টিভির বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনী। হত্যার পর সাগর সারওয়ারের ব্যক্তিগত ল্যাপটপ নিয়ে যায় দুষ্কৃতিকারীরা।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন। থানার হাত ঘুরে তদন্তের দায়িত্ব যায় ডিবিতে। ৬২ দিন পর ডিবি আদালতের কাছে ব্যর্থতা স্বীকার করলে তদন্তের দায়িত্বে আসে র‌্যাব। পাঁচ বছরেও তারা ওই ঘটনার মীমাংসা করতে পারেনি। এর ভেতরে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ, সাগর-রুনীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত, তাদের শরীর থেকে আলামত সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করা ও সন্দেহভাজনদের সঙ্গে মিলিয়েও দেখেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।

অপরাধ অনুসন্ধানে সিআইডি যেসব প্রযুক্তি রয়েছে :

অপরাধ তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সম্প্রতি উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে, সিআইডি তাদের ফরেনসিক বিভাগের মাধ্যমে হাতের লেখা, পায়ের ছাপ, হাতের ছাপ, অস্ত্র, মাইক্রো এনালাইসিস, ডিএনএ পরীক্ষা করে আসছে। পাশাপাশি তারা ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট, ছবি সংরক্ষণ, জাল নোট ও জাল কয়েন শনাক্তকরণ, আইটি ক্রাইম ল্যাব, কেমিক্যাল ল্যাব, ফরেনসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট পরিচালনা করে আসছে। অপরাধ অনুসন্ধানে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X