শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৬:১০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, December 25, 2016 6:24 pm
A- A A+ Print

আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় যেভাবে চলছিলো পুলিশের অভিযান

164780_1

ঢাকা: গোলাগুলির আশংকা আছে এমন কোনো ঘটনার নিউজ কভার করতে গেলে আমাদের বুলেটপ্রুফ বর্ম এবং হেলমেট সাথে নিয়ে যেতে হয়। আজকেও তাই করতে হলো। অফিস থেকে এরপর গাড়ি নিয়ে ছুটলাম দক্ষিণখানের দিকে। বিমানবন্দর পার হয়ে দক্ষিণখান ঢোকার পর কিছু পরেই দেখি রাস্তা বন্ধ। কয়েকজন পুলিশ সদস্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে সব গাড়ি থামিয়ে দিচ্ছে। পরিচয় দিলাম, সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তাঁরা গাড়িটি ঢুকতে দিলেন। কিন্তু খানিক এগুতেই আরেকটি রোড বন্ধ। এবার ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করা। গাড়ি ছেড়ে দিতে হলো। প্রায় পাঁচ মিনিট হাঁটার পর একটা মসজিদের কাছে পৌঁছে দেখি সেখানে প্রচুর সাংবাদিক জটলা করে আছেন। তাদের ঘিরে অনেক মানুষ। যে ভবনটিকে ঘিরে এই অভিযান, সেটি অবশ্য দেখা যাচ্ছে না এখান থেকে। চারিদিকে অনেক পুলিশ, র‌্যাব আর সোয়াট দলের সদস্যদের আনাগোণা। দাঁড়িয়ে আছে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। ঐ জটলায় দাঁড়িয়ে নানা ধরণের খবর পাচ্ছিলাম আমরা। বেলা সাড়ে বারোটার দিকে একটা বিস্ফোরণের শব্দ পাই। তখন বুঝতে পারিনি কিসের শব্দ। পরে জানা গিয়েছিল, সেটাই ছিল আত্মঘাতী বোমার বেল্ট পরে এক নারী জঙ্গি যে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন তার শব্দ। বিস্ফোরণের অল্প পরে কাঁদানে গ্যাসের ঝাঁঝাঁলো গন্ধ পাই। চোখ-মুখ জ্বালা করছিল।তার কিছুক্ষণ পরে, পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের একজন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বেরিয়ে এলেন। তাকে ঘিরে ধরলেন সাংবাদিকরা। তিনি জানালেন, যে বাড়ি ঘিরে অভিযান চলছে, সেখান থেকে বোরখা পরিহিত এক নারী বেরিয়ে এসেছিলেন। তার সঙ্গে ছিল সাত বছরের এক মেয়ে শিশু। এই নারীর শরীরে বাঁধা ছিল সুইসাইড ভেস্ট। সেটির বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন তিনি। মনিরুল ইসলাম জানান, আত্মঘাতী হামলা চালানো নারীর দেহ সেখানেই পড়ে ছিল। পরে পুলিশ সদস্যরা আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত আমরা সাংবাদিকরা কোনো খবর পাচ্ছিলাম না। অবশ্য খানিক পরে এক পুলিশ কর্মকর্তা বেরিয়ে এলেন। তিনি সাংবাদিকদের দেখাচ্ছিলেন তার মোবাইল ফোনে তোলা একটি ছবি। বোরখা পরা এক নারীর রক্তাক্ত দেহ রাস্তায় পড়ে আছে। তিনি জানালেন, আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো সেই নারীর ছবি এটি। তার মোবাইল ফোনে তোলা ছবিটি পেতে উদগ্রীব হয়ে উঠলেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। আমিও তার মোবাইলে তোলার ছবির একটি ছবি তুললাম। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, সকালের দিকে আরো কিছু বিস্ফোরণ এবং গুলির শব্দ পেয়েছেন তারা। ঐ বাড়ি থেকে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়া হয়। পুলিশ পাল্ট কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ছিল। কাঁদানে গ্যাসের কারণে তারা ঘরে থাকতে পারছিলেন না। কথিত জঙ্গি আস্তানার পাশের বাড়িতেই থাকেন এমন একজনের সঙ্গে আমার কথা হচ্ছিল। তিনি জানালেন, যে বাসাটির কথা বলা হচ্ছে, সেখানে মূলত মহিলারাই থাকতেন। তারা ছিলেন বেশ চুপচাপ। তিন মাস আগে তারা এই বাসা ভাড়া নেন। এর বেশি কিছু আর তার চোখে পড়েনি। দুপুর আড়াইটার দিকে আবার গোলাগুলি এবং বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। এরপর বেলা তিনটার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেন। সেখানে তারা জানালেন, ভেতরে যে তিন জন ছিল, তার মধ্যে একজন আত্মঘাতী নারী বাইরে বেরিয়ে এসে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। একজন পুরুষ তখনো ভেতরে রয়ে গেছে। সে বারা বার গুলি করছিল এবং বোমা মারছিল। পুলিশ তাকে আরেক জঙ্গি নেতা তানভির কাদরির ছেলে বলে সন্দেহ করছে। তখন বিশ মিনিট ধরে তার কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর আইজিপি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসেন ঘটনাস্থলে। তারাও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, ভেতরে থাকা সর্বশেষ জঙ্গিও নিহত হয়েছে। সেখানে প্রচুর গোলাবারুদ আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে আগে সেখানে পাঠানো হচ্ছে। এর আগে সকালে আরো চার জন ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আত্মসমর্পন করে বলে পুলিশ জানিয়েছিল। এদের দুজন নারী, দুটি শিশু। সকাল থেকেই হ্যান্ড মাইকে তাদের আত্মসমর্পন করার জন্য পুলিশ বার বার আহ্বান জানাচ্ছিল। আশকোনার এই এলাকায় সকাল থেকেই ছিল আতঙ্ক। দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয়রা বেশ অবাক হয়েছেন যে তাদের এলাকাতেই এরকম ঘটনা ঘটছে। সূত্র: বিবিসি
 

Comments

Comments!

 আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় যেভাবে চলছিলো পুলিশের অভিযানAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় যেভাবে চলছিলো পুলিশের অভিযান

Sunday, December 25, 2016 6:24 pm
164780_1

ঢাকা: গোলাগুলির আশংকা আছে এমন কোনো ঘটনার নিউজ কভার করতে গেলে আমাদের বুলেটপ্রুফ বর্ম এবং হেলমেট সাথে নিয়ে যেতে হয়। আজকেও তাই করতে হলো। অফিস থেকে এরপর গাড়ি নিয়ে ছুটলাম দক্ষিণখানের দিকে।

বিমানবন্দর পার হয়ে দক্ষিণখান ঢোকার পর কিছু পরেই দেখি রাস্তা বন্ধ। কয়েকজন পুলিশ সদস্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে সব গাড়ি থামিয়ে দিচ্ছে। পরিচয় দিলাম, সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তাঁরা গাড়িটি ঢুকতে দিলেন। কিন্তু খানিক এগুতেই আরেকটি রোড বন্ধ। এবার ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করা।

গাড়ি ছেড়ে দিতে হলো। প্রায় পাঁচ মিনিট হাঁটার পর একটা মসজিদের কাছে পৌঁছে দেখি সেখানে প্রচুর সাংবাদিক জটলা করে আছেন। তাদের ঘিরে অনেক মানুষ। যে ভবনটিকে ঘিরে এই অভিযান, সেটি অবশ্য দেখা যাচ্ছে না এখান থেকে।

চারিদিকে অনেক পুলিশ, র‌্যাব আর সোয়াট দলের সদস্যদের আনাগোণা। দাঁড়িয়ে আছে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি।

ঐ জটলায় দাঁড়িয়ে নানা ধরণের খবর পাচ্ছিলাম আমরা।

বেলা সাড়ে বারোটার দিকে একটা বিস্ফোরণের শব্দ পাই। তখন বুঝতে পারিনি কিসের শব্দ। পরে জানা গিয়েছিল, সেটাই ছিল আত্মঘাতী বোমার বেল্ট পরে এক নারী জঙ্গি যে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন তার শব্দ।

বিস্ফোরণের অল্প পরে কাঁদানে গ্যাসের ঝাঁঝাঁলো গন্ধ পাই। চোখ-মুখ জ্বালা করছিল।তার কিছুক্ষণ পরে, পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের একজন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বেরিয়ে এলেন। তাকে ঘিরে ধরলেন সাংবাদিকরা।

তিনি জানালেন, যে বাড়ি ঘিরে অভিযান চলছে, সেখান থেকে বোরখা পরিহিত এক নারী বেরিয়ে এসেছিলেন। তার সঙ্গে ছিল সাত বছরের এক মেয়ে শিশু। এই নারীর শরীরে বাঁধা ছিল সুইসাইড ভেস্ট। সেটির বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন তিনি।

মনিরুল ইসলাম জানান, আত্মঘাতী হামলা চালানো নারীর দেহ সেখানেই পড়ে ছিল। পরে পুলিশ সদস্যরা আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত আমরা সাংবাদিকরা কোনো খবর পাচ্ছিলাম না।

অবশ্য খানিক পরে এক পুলিশ কর্মকর্তা বেরিয়ে এলেন। তিনি সাংবাদিকদের দেখাচ্ছিলেন তার মোবাইল ফোনে তোলা একটি ছবি। বোরখা পরা এক নারীর রক্তাক্ত দেহ রাস্তায় পড়ে আছে। তিনি জানালেন, আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো সেই নারীর ছবি এটি।

তার মোবাইল ফোনে তোলা ছবিটি পেতে উদগ্রীব হয়ে উঠলেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। আমিও তার মোবাইলে তোলার ছবির একটি ছবি তুললাম।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, সকালের দিকে আরো কিছু বিস্ফোরণ এবং গুলির শব্দ পেয়েছেন তারা। ঐ বাড়ি থেকে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়া হয়। পুলিশ পাল্ট কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ছিল। কাঁদানে গ্যাসের কারণে তারা ঘরে থাকতে পারছিলেন না।

কথিত জঙ্গি আস্তানার পাশের বাড়িতেই থাকেন এমন একজনের সঙ্গে আমার কথা হচ্ছিল। তিনি জানালেন, যে বাসাটির কথা বলা হচ্ছে, সেখানে মূলত মহিলারাই থাকতেন। তারা ছিলেন বেশ চুপচাপ। তিন মাস আগে তারা এই বাসা ভাড়া নেন। এর বেশি কিছু আর তার চোখে পড়েনি।

দুপুর আড়াইটার দিকে আবার গোলাগুলি এবং বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। এরপর বেলা তিনটার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেন।

সেখানে তারা জানালেন, ভেতরে যে তিন জন ছিল, তার মধ্যে একজন আত্মঘাতী নারী বাইরে বেরিয়ে এসে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। একজন পুরুষ তখনো ভেতরে রয়ে গেছে। সে বারা বার গুলি করছিল এবং বোমা মারছিল। পুলিশ তাকে আরেক জঙ্গি নেতা তানভির কাদরির ছেলে বলে সন্দেহ করছে। তখন বিশ মিনিট ধরে তার কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এরপর আইজিপি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসেন ঘটনাস্থলে। তারাও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, ভেতরে থাকা সর্বশেষ জঙ্গিও নিহত হয়েছে। সেখানে প্রচুর গোলাবারুদ আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে আগে সেখানে পাঠানো হচ্ছে।

এর আগে সকালে আরো চার জন ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আত্মসমর্পন করে বলে পুলিশ জানিয়েছিল। এদের দুজন নারী, দুটি শিশু। সকাল থেকেই হ্যান্ড মাইকে তাদের আত্মসমর্পন করার জন্য পুলিশ বার বার আহ্বান জানাচ্ছিল।

আশকোনার এই এলাকায় সকাল থেকেই ছিল আতঙ্ক। দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয়রা বেশ অবাক হয়েছেন যে তাদের এলাকাতেই এরকম ঘটনা ঘটছে।

সূত্র: বিবিসি

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X