রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৩৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, November 6, 2016 9:37 am
A- A A+ Print

আড়াই বছরে ৩ দফা উদ্যোগ, ২৯ জেলায় কমিটি

51f0daf5eb97e-bnp_logo

জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জেলা কমিটি কিংবা অঙ্গসংগঠনের কমিটি—কোনোটিই ঠিকমতো পুনর্গঠন করতে পারছে না বিএনপি। দলটির ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির মধ্যে গত আড়াই বছরে তিন দফা উদ্যোগ নিয়ে কেবল ২৯টি জেলার কমিটি গঠিত হয়েছে। পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এ গতিতে চললে বাকি ৪৬টি জেলার কমিটি গঠনের কাজ ২০১৯ সালেও শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দলটির অনেক নেতা। কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যেই চলতি বছরের ১৯ মার্চ জাতীয় সম্মেলন করেছিল বিএনপি। এরপর সাড়ে সাত মাস পার হয়েছে। এখনো জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি দলটি। উপরন্তু আগামী সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে জেলা-উপজেলা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব-বিভেদ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে তৃতীয় দফা কমিটি পুনর্গঠনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে আগামী নির্বাচনে আসনভিত্তিক সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীর মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কোনো জেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীর অপছন্দের কারণে দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা সক্রিয় নেতারা উপেক্ষিত হচ্ছেন—এমন অভিযোগ আছে। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে পুনর্গঠনের কাজ ঠিকভাবে এগোচ্ছে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দাবি করেন, সরকারের নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি পৌর নির্বাচন, ইউপি নির্বাচনের কারণে বিএনপির পুনর্গঠন তিনবার হোঁচট খেয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রক্রিয়া শুরু করতে সময় লাগে, কিন্তু শুরুটা হয়ে গেলে সময় বেশি লাগে না। প্রতিদিনই কোনো না কোনো জেলার কমিটি গঠনের কাজ হচ্ছে।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, মানিকগঞ্জ জেলা ও উপজেলা কমিটি নিয়ে তিন পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে সেখানে সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। জেলা সভাপতি মঈনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আফরোজা খানের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় আরেকটি পক্ষ হিসেবে সক্রিয় হয়েছেন প্রয়াত খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের দুই ছেলে। সেখানে দলাদলি প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিজ এলাকা ফেনী জেলা কমিটি নিয়ে বিরোধও চরম পর্যায়ে আছে। সেখানে সভাপতি হতে সাবেক সাংসদ জয়নাল আবেদীন (ভিপি) ও আবু তাহের এবং সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য সক্রিয় সৈয়দ মিজানুর রহমান ও গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক। সম্প্রতি ঢাকায় সব পক্ষকে বৈঠক ডেকেও করা যায়নি। পক্ষগুলো নিজ নিজ শক্তির মহড়া প্রদর্শনের একপর্যায়ে সংঘর্ষের আশঙ্কায় বৈঠক বাতিল করা হয়।

প্রায় একই রকম পরিস্থিতি লক্ষ্মীপুরেও। সেখানে সভাপতি পদে সাহাবুদ্দিনকে (সাবু) চূড়ান্ত করার পর বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া ওই পদের জন্য তৎপর হন। জেলা সভাপতি হতে তিনি উপদেষ্টার পদ ছাড়তেও রাজি বলে ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটি গঠন প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা কমিটি নিয়েও বিপাকে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। জেলা সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া তাঁর অপছন্দের কাউকে সহ্য করছেন না। তাঁর মতের বাইরে যাওয়ায় আপন বড় ভাইকেও তিনি দলছাড়া করেছেন। অভিযোগ আছে, ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বৈরিতার শিকার হয়ে দলের অনেকে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই পুনর্গঠন কার্যক্রম থমকে আছে।

দলীয় সভা-সেমিনারে বিষয়টির উল্লেখ করে প্রায়ই বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিস্বার্থে বিভেদে না গিয়ে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন তিনি। কিন্তু তাতেও খুব একটা কাজ হচ্ছে না।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানায়, গত দুই মাসে ১৫টি জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা জেলা, দিনাজপুর, নেত্রকোনা, নীলফামারী, ময়মনসিংহ উত্তর, শেরপুর, চট্টগ্রাম উত্তর, সিলেট জেলা ও মহানগর, সুনামগঞ্জ, বান্দরবান, মাদারীপুর, পঞ্চগড়, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি। এর মধ্যে কয়েকটি আংশিক ও কয়েকটি আহ্বায়ক কমিটি। এর বাইরে নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর ও টাঙ্গাইল জেলা সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

জাতীয় সম্মেলনের পর সাড়ে সাত মাসে মহিলা দল কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটি এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছে বিএনপি। মহিলা দলের কমিটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে দলে।

যুবদলের কমিটি পুনর্গঠনের চেষ্টা করেও সফল হয়নি। সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলমের অনুসারীদের শক্তির মহড়ায় মুখে কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। অ্যালবার্ট পি কস্তাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করে পরিস্থিতি আপাতত সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা বলেন, সম্মেলনের পর ৫৯২ সদস্যের ‘ঢাউস’ কমিটি দিয়েও অনেকের মন রক্ষা করা যায়নি। উপরন্তু মূল্যায়নে বৈষম্য এবং তদবিরের জোরে অনেকে যোগ্যতার চেয়ে বড় পদ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্মেলনের পর ‘এক নেতার এক পদ’ কার্যকর করার ঘোষণা দেন বিএনপির চেয়ারপারসন। বিএনপির দপ্তর সূত্র জানায়, একাধিক পদে আছেন, এমন নেতার সংখ্যা প্রায় ৭০ জন। এর মধ্যে প্রায় ৪০ জন এক পদ রেখে অন্যটি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। বাকিরা নানা অজুহাতে এখনো পদ ছাড়েননি। তাঁদের বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে ফোন করে পদ ছাড়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আলতাফ হোসেন চৌধুরী এখনো পটুয়াখালী জেলার সভাপতি পদে আছেন। মজিবুর রহমান সরোয়ার কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবের পাশাপাশি বরিশাল মহানগর কমিটির সভাপতি। আবুল খায়ের ভূঁইয়া চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জেলার সভাপতি। ফজলুল হক (মিলন) একই সঙ্গে গাজীপুর জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছেন। যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির (খোকন) এখনো নরসিংদী জেলা সভাপতির পদ ধরে রেখেছেন।

জেলার পদ ছাড়াতে অনেক নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এলাকায় অবস্থান হারানো বা পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন—এ আশঙ্কায় তাঁরা জেলার পদ ছাড়ছেন না। বরং অনেক নেতা কেন্দ্রীয় পদ ছেড়ে জেলা কমিটিতে থাকতে চাইছেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, দল গুছিয়ে আবার আন্দোলন শুরু করবেন। এরপর তিন বছরে আরও অন্তত চারবার দল পুনর্গঠনের কথা বলেন তিনি। কিন্তু তার বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। আড়াই বছর আগে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। দুই মাসের মধ্যে সব ওয়ার্ড, থানা কমিটি করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এই আহ্বায়ক কমিটিকে। কিন্তু একটি ওয়ার্ড কমিটিও গঠিত হয়নি।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত দুই দফা দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়ে কেবল ১৪টি কমিটি গঠন করতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি। এরপর গত সেপ্টেম্বরে তৃতীয় দফা উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব জেলা কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর দুই মাসে ১৫টি জেলা কমিটি হয়েছে।

মো. শাহজাহান পুনর্গঠন কার্যক্রমকে সন্তোষজনক বলে দাবি করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘তৃণমূলে দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ১৪টি কেন্দ্রীয় টিম পৃথকভাবে কাজ করছে। তৃণমূলের সমস্যা, দুর্বলতা এবং অনেক জেলায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণ চিহ্নিত করেছি। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি নভেম্বরের মধ্যে পুনর্গঠন একটা পর্যায়ে পৌঁছাবে।’

Comments

Comments!

 আড়াই বছরে ৩ দফা উদ্যোগ, ২৯ জেলায় কমিটিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

আড়াই বছরে ৩ দফা উদ্যোগ, ২৯ জেলায় কমিটি

Sunday, November 6, 2016 9:37 am
51f0daf5eb97e-bnp_logo

জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জেলা কমিটি কিংবা অঙ্গসংগঠনের কমিটি—কোনোটিই ঠিকমতো পুনর্গঠন করতে পারছে না বিএনপি। দলটির ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির মধ্যে গত আড়াই বছরে তিন দফা উদ্যোগ নিয়ে কেবল ২৯টি জেলার কমিটি গঠিত হয়েছে।

পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এ গতিতে চললে বাকি ৪৬টি জেলার কমিটি গঠনের কাজ ২০১৯ সালেও শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দলটির অনেক নেতা।

কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যেই চলতি বছরের ১৯ মার্চ জাতীয় সম্মেলন করেছিল বিএনপি। এরপর সাড়ে সাত মাস পার হয়েছে। এখনো জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি দলটি। উপরন্তু আগামী সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে জেলা-উপজেলা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব-বিভেদ বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে তৃতীয় দফা কমিটি পুনর্গঠনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে আগামী নির্বাচনে আসনভিত্তিক সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীর মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কোনো জেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীর অপছন্দের কারণে দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা সক্রিয় নেতারা উপেক্ষিত হচ্ছেন—এমন অভিযোগ আছে। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে পুনর্গঠনের কাজ ঠিকভাবে এগোচ্ছে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দাবি করেন, সরকারের নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি পৌর নির্বাচন, ইউপি নির্বাচনের কারণে বিএনপির পুনর্গঠন তিনবার হোঁচট খেয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রক্রিয়া শুরু করতে সময় লাগে, কিন্তু শুরুটা হয়ে গেলে সময় বেশি লাগে না। প্রতিদিনই কোনো না কোনো জেলার কমিটি গঠনের কাজ হচ্ছে।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, মানিকগঞ্জ জেলা ও উপজেলা কমিটি নিয়ে তিন পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে সেখানে সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। জেলা সভাপতি মঈনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আফরোজা খানের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় আরেকটি পক্ষ হিসেবে সক্রিয় হয়েছেন প্রয়াত খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের দুই ছেলে। সেখানে দলাদলি প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিজ এলাকা ফেনী জেলা কমিটি নিয়ে বিরোধও চরম পর্যায়ে আছে। সেখানে সভাপতি হতে সাবেক সাংসদ জয়নাল আবেদীন (ভিপি) ও আবু তাহের এবং সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য সক্রিয় সৈয়দ মিজানুর রহমান ও গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক। সম্প্রতি ঢাকায় সব পক্ষকে বৈঠক ডেকেও করা যায়নি। পক্ষগুলো নিজ নিজ শক্তির মহড়া প্রদর্শনের একপর্যায়ে সংঘর্ষের আশঙ্কায় বৈঠক বাতিল করা হয়।

প্রায় একই রকম পরিস্থিতি লক্ষ্মীপুরেও। সেখানে সভাপতি পদে সাহাবুদ্দিনকে (সাবু) চূড়ান্ত করার পর বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া ওই পদের জন্য তৎপর হন। জেলা সভাপতি হতে তিনি উপদেষ্টার পদ ছাড়তেও রাজি বলে ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটি গঠন প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা কমিটি নিয়েও বিপাকে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। জেলা সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া তাঁর অপছন্দের কাউকে সহ্য করছেন না। তাঁর মতের বাইরে যাওয়ায় আপন বড় ভাইকেও তিনি দলছাড়া করেছেন। অভিযোগ আছে, ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বৈরিতার শিকার হয়ে দলের অনেকে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই পুনর্গঠন কার্যক্রম থমকে আছে।

দলীয় সভা-সেমিনারে বিষয়টির উল্লেখ করে প্রায়ই বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিস্বার্থে বিভেদে না গিয়ে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন তিনি। কিন্তু তাতেও খুব একটা কাজ হচ্ছে না।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানায়, গত দুই মাসে ১৫টি জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা জেলা, দিনাজপুর, নেত্রকোনা, নীলফামারী, ময়মনসিংহ উত্তর, শেরপুর, চট্টগ্রাম উত্তর, সিলেট জেলা ও মহানগর, সুনামগঞ্জ, বান্দরবান, মাদারীপুর, পঞ্চগড়, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি। এর মধ্যে কয়েকটি আংশিক ও কয়েকটি আহ্বায়ক কমিটি। এর বাইরে নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর ও টাঙ্গাইল জেলা সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

জাতীয় সম্মেলনের পর সাড়ে সাত মাসে মহিলা দল কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটি এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছে বিএনপি। মহিলা দলের কমিটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে দলে।

যুবদলের কমিটি পুনর্গঠনের চেষ্টা করেও সফল হয়নি। সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলমের অনুসারীদের শক্তির মহড়ায় মুখে কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। অ্যালবার্ট পি কস্তাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করে পরিস্থিতি আপাতত সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা বলেন, সম্মেলনের পর ৫৯২ সদস্যের ‘ঢাউস’ কমিটি দিয়েও অনেকের মন রক্ষা করা যায়নি। উপরন্তু মূল্যায়নে বৈষম্য এবং তদবিরের জোরে অনেকে যোগ্যতার চেয়ে বড় পদ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্মেলনের পর ‘এক নেতার এক পদ’ কার্যকর করার ঘোষণা দেন বিএনপির চেয়ারপারসন। বিএনপির দপ্তর সূত্র জানায়, একাধিক পদে আছেন, এমন নেতার সংখ্যা প্রায় ৭০ জন। এর মধ্যে প্রায় ৪০ জন এক পদ রেখে অন্যটি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। বাকিরা নানা অজুহাতে এখনো পদ ছাড়েননি। তাঁদের বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে ফোন করে পদ ছাড়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আলতাফ হোসেন চৌধুরী এখনো পটুয়াখালী জেলার সভাপতি পদে আছেন। মজিবুর রহমান সরোয়ার কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবের পাশাপাশি বরিশাল মহানগর কমিটির সভাপতি। আবুল খায়ের ভূঁইয়া চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জেলার সভাপতি। ফজলুল হক (মিলন) একই সঙ্গে গাজীপুর জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছেন। যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির (খোকন) এখনো নরসিংদী জেলা সভাপতির পদ ধরে রেখেছেন।

জেলার পদ ছাড়াতে অনেক নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এলাকায় অবস্থান হারানো বা পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন—এ আশঙ্কায় তাঁরা জেলার পদ ছাড়ছেন না। বরং অনেক নেতা কেন্দ্রীয় পদ ছেড়ে জেলা কমিটিতে থাকতে চাইছেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, দল গুছিয়ে আবার আন্দোলন শুরু করবেন। এরপর তিন বছরে আরও অন্তত চারবার দল পুনর্গঠনের কথা বলেন তিনি। কিন্তু তার বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। আড়াই বছর আগে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। দুই মাসের মধ্যে সব ওয়ার্ড, থানা কমিটি করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এই আহ্বায়ক কমিটিকে। কিন্তু একটি ওয়ার্ড কমিটিও গঠিত হয়নি।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত দুই দফা দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়ে কেবল ১৪টি কমিটি গঠন করতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি। এরপর গত সেপ্টেম্বরে তৃতীয় দফা উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব জেলা কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর দুই মাসে ১৫টি জেলা কমিটি হয়েছে।

মো. শাহজাহান পুনর্গঠন কার্যক্রমকে সন্তোষজনক বলে দাবি করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘তৃণমূলে দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ১৪টি কেন্দ্রীয় টিম পৃথকভাবে কাজ করছে। তৃণমূলের সমস্যা, দুর্বলতা এবং অনেক জেলায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণ চিহ্নিত করেছি। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি নভেম্বরের মধ্যে পুনর্গঠন একটা পর্যায়ে পৌঁছাবে।’

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X