মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৫২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, January 7, 2017 8:54 am
A- A A+ Print

ইসলামী ব্যাংকে বড় পরিবর্তনের পর বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন শুরু

1

বৃহস্পতিবার পরিচালনা পর্ষদের সভায় ইসলামী ব্যাংকে বড় পরিবর্তন আনা হয়। এক সঙ্গে তিনটি বড় পদে নতুন লোক বসানো হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পরিবর্তন এসেছে। এটা ব্যাংকটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের পর থেকেই ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন কাজ শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের বোর্ড অব ডিরেক্টরস সভায় মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিনকে এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান, ড. মো. জিল্লুর রহমানকে অডিট কমিটির চেয়ারম্যান এবং মো. আবদুল মাবুদ, পিপিএমকে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। বেশ কিছুদিন থেকেই ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। আর এ পরিবর্তন এসেছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের বলেই এমনটিই জানা গেছে। এরফলে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। শেষ পরিণতিও সম্পর্কেও অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ারকে সরিয়ে পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভাতেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আরাস্ত্ত খান। অজ্ঞাত কারণে ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল মান্নানকে সরিয়ে নতুন এমডি হিসেবে ইউনিয়ন ব্যাংকের এমডি আবদুল হামিদ মিঞার নাম অনুমোদন করা হয়েছে। এতোদিন ইবনে সিনার প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মুস্তাফা আনোয়ার। তিনি ব্যাংকের পরিচালক পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি ব্যাংকটির ফাউন্ডেশন পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন মুস্তাফা আনোয়ার। কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্বে এসেছেন আরাস্ত্ত খান। আরমাডা স্পিনিং মিলস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হন তিনি। মুস্তাফা আনোয়ার বলেন, ‘পর্ষদের সভায় ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক ও এমডি আবদুল মান্নান পদত্যাগ করেছেন। সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।’ নতুন চেয়ারম্যান আরাস্ত্ত খান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আমি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রথম অংশ নিয়েছি। এ সভাতেই আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। কমার্স ব্যাংক থেকে আমি পদত্যাগ করেছি।’ দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগে ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ৬৩ শতাংশের বেশি মালিকানা ছিল ইসলামী ব্যাংকের। তবে গত দুই বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকে তাদের মালিকানা ছেড়ে দেওয়ায় উদ্যোক্তা অংশের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। হঠাৎ করেই ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে এই যে পরিবর্তন এটাকে কেউ স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না। এ পরিবর্তন যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের বলেই হয়েছে তা অনেকটাই সবার কাছে পরিষ্কার। তাই ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। শেষ পরিণতিও সম্পর্কেও অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক বলেন, এ ধরনের পরিবর্তনে আমাদের অতীতে অভিজ্ঞতা খুবই তিক্ত। তাই সহজেই বলা যায়- এ পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাংকটিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এর শেষ পরিণতি কী হবে এখনোই বলা না গেলেই সহজেই অনুমেয়। কারণ এর আগে যতটি ব্যাংকেই সরকার হস্তক্ষেপ করেছে সেখানে ভাল কিছু হয়নি। বরং ওই ব্যাংকের বারটা বেজেছে। অপর একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, সবচেয়ে মুনাফা অর্জনকারী ব্যাংকটিতে সরকার হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। কেননা, এর মাধ্যমে ব্যাংকটির পথচলায় পায়ে পেরেক মারা হয়েছে। এর পরণতি গ্রামীন ব্যাংকের যা হয়েছে তার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কেননা, এর ফলে গ্রাহকরা যেমন আস্থা সঙ্কটে পড়তে পারে তেমনি উদ্যোক্তারা শঙ্কায় থাকবে। এর ফলে যা ঘটার তাই ঘটবে।
 

Comments

Comments!

 ইসলামী ব্যাংকে বড় পরিবর্তনের পর বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন শুরুAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ইসলামী ব্যাংকে বড় পরিবর্তনের পর বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন শুরু

Saturday, January 7, 2017 8:54 am
1

বৃহস্পতিবার পরিচালনা পর্ষদের সভায় ইসলামী ব্যাংকে বড় পরিবর্তন আনা হয়। এক সঙ্গে তিনটি বড় পদে নতুন লোক বসানো হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পরিবর্তন এসেছে। এটা ব্যাংকটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন।

এই পরিবর্তনের পর থেকেই ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন কাজ শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের বোর্ড অব ডিরেক্টরস সভায় মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিনকে এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান, ড. মো. জিল্লুর রহমানকে অডিট কমিটির চেয়ারম্যান এবং মো. আবদুল মাবুদ, পিপিএমকে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে।

বেশ কিছুদিন থেকেই ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। আর এ পরিবর্তন এসেছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের বলেই এমনটিই জানা গেছে। এরফলে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। শেষ পরিণতিও সম্পর্কেও অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুস্তাফা আনোয়ারকে সরিয়ে পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভাতেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আরাস্ত্ত খান। অজ্ঞাত কারণে ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক পদত্যাগ করেছেন।

এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল মান্নানকে সরিয়ে নতুন এমডি হিসেবে ইউনিয়ন ব্যাংকের এমডি আবদুল হামিদ মিঞার নাম অনুমোদন করা হয়েছে।

এতোদিন ইবনে সিনার প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মুস্তাফা আনোয়ার। তিনি ব্যাংকের পরিচালক পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি ব্যাংকটির ফাউন্ডেশন পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন মুস্তাফা আনোয়ার।

কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্বে এসেছেন আরাস্ত্ত খান। আরমাডা স্পিনিং মিলস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হন তিনি।

মুস্তাফা আনোয়ার বলেন, ‘পর্ষদের সভায় ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক ও এমডি আবদুল মান্নান পদত্যাগ করেছেন। সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।’

নতুন চেয়ারম্যান আরাস্ত্ত খান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আমি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রথম অংশ নিয়েছি। এ সভাতেই আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। কমার্স ব্যাংক থেকে আমি পদত্যাগ করেছি।’

দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগে ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ৬৩ শতাংশের বেশি মালিকানা ছিল ইসলামী ব্যাংকের। তবে গত দুই বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকে তাদের মালিকানা ছেড়ে দেওয়ায় উদ্যোক্তা অংশের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

হঠাৎ করেই ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে এই যে পরিবর্তন এটাকে কেউ স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না। এ পরিবর্তন যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের বলেই হয়েছে তা অনেকটাই সবার কাছে পরিষ্কার। তাই ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। শেষ পরিণতিও সম্পর্কেও অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক বলেন, এ ধরনের পরিবর্তনে আমাদের অতীতে অভিজ্ঞতা খুবই তিক্ত। তাই সহজেই বলা যায়- এ পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাংকটিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এর শেষ পরিণতি কী হবে এখনোই বলা না গেলেই সহজেই অনুমেয়। কারণ এর আগে যতটি ব্যাংকেই সরকার হস্তক্ষেপ করেছে সেখানে ভাল কিছু হয়নি। বরং ওই ব্যাংকের বারটা বেজেছে।

অপর একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, সবচেয়ে মুনাফা অর্জনকারী ব্যাংকটিতে সরকার হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। কেননা, এর মাধ্যমে ব্যাংকটির পথচলায় পায়ে পেরেক মারা হয়েছে। এর পরণতি গ্রামীন ব্যাংকের যা হয়েছে তার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কেননা, এর ফলে গ্রাহকরা যেমন আস্থা সঙ্কটে পড়তে পারে তেমনি উদ্যোক্তারা শঙ্কায় থাকবে। এর ফলে যা ঘটার তাই ঘটবে।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X