রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৬:০২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, January 28, 2017 8:55 am | আপডেটঃ January 28, 2017 6:41 PM
A- A A+ Print

ইসি গঠনে অনুসন্ধান কমিটির প্রথম বৈঠক আজ

21

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সম্ভাব্য ব্যক্তিদের নামের তালিকা তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত অনুসন্ধান কমিটির প্রথম সভা আজ শনিবার বসছে। বৈঠকের আগে কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন সূত্র থেকে নিরপেক্ষ, সাহসী, স্বচ্ছ ভাবমূর্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের খোঁজে নেমেছেন। কমিটির তিনজন সদস্য বলেছেন, এমন ব্যক্তিদের পাওয়া তাঁদের কাছে ‘কঠিন ও ও দুষ্কর’ বলে মনে হচ্ছে। অনুসন্ধান কমিটি নিয়ে বিএনপি তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় ওই কমিটির পাঁচজনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা বলেছে, ‘এই কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ, সৎ, সাহসী, যোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচন কমিশনার হবেন—এমন আশা করাও বাতুলতা।’ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বিএনপিকে অনুসন্ধান কমিটির ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং অনুসন্ধান কমিটিতে বিদেশিদের নাক গলাতে দেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর এই অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, গতবারের অনুসন্ধান কমিটি নিয়ে কোনো বিতর্ক হয়নি। গতবার যিনি নেতৃত্বে ছিলেন, এবারও তিনি। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এবার অনুসন্ধান কমিটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২৫ জানুয়ারি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন। গঠিত হওয়ার দিন থেকে ১০ কার্যদিবস অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনুসন্ধান কমিটিকে ইসির জন্য ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করতে হবে। এ জন্য গত বৃহস্পতিবার থেকেই তাঁরা কাজ শুরু করেছেন। সেরে নিয়েছেন নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা। গতকাল রাতেও তাঁরা বিভিন্ন সূত্র থেকে নাম সংগ্রহ করেছেন। আজ সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রথম বৈঠকে এই নামগুলো নিয়ে তাঁরা কথা বলবেন। বৈঠকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্য একজন মুখপাত্র ঠিক করতে পারেন কমিটির সদস্যরা। কমিটির অন্তত তিনজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা অনেক নাম সংগ্রহ করেছেন। তবে তাঁদের ব্যাপারে খোঁজখবর করে তাঁরা হতাশ হচ্ছেন। পেশাগত জীবনে অস্বচ্ছতা বা অনিয়ম নেই বা কোনো রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে নেই—এমন কাউকে তাঁরা পাচ্ছেন না। ‘নিরপেক্ষ’ ও ‘মেরুদণ্ডসম্পন্ন’ ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়া তাঁদের জন্য একপ্রকার কঠিন হয়ে পড়েছে। আজকের বৈঠকে অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যমের সহায়তা নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করতে পারেন বলে প্রথম আলোকে জানান। জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনুসন্ধান কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং মেরুদণ্ড আছে এমন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করাই আমাদের কাজ। কিন্তু কারও নাম অন্যের সঙ্গে আলোচনা করার পরই বুঝছি, একটা ফ্যাকড়া (ঝামেলা) আছে। আমাদের অবস্থা হয়েছে খুঁজছি, নিচ্ছি, বাদ দিচ্ছি।’ তাঁদের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর তোলা আপত্তি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা। প্রথম আলোকে তাঁরা বলেছেন, প্রথম বৈঠকের আগেই তাঁদের নিয়ে বিতর্ক অনভিপ্রেত। কারণ, তাঁরা কেউই নির্বাচন কমিশনের জন্য কারও নাম প্রস্তাব করেননি। পদাধিকারবলে অনুসন্ধান কমিটিতে আছেন, এমন একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তো কোনো দোষ করিনি। সুবিধাও নিইনি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বদলে অনুসন্ধান কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছি। আমাদের কেন অহেতুক দোষারোপ করা হচ্ছে। এটা কি ঠিক?’ অনুসন্ধান কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারও কোনো সমালোচনা আমরা শুনিনি। তবে আমাদের প্রতি সবার যত বেশি প্রত্যাশা, তত আমাদের জন্য ভালো। কারণ তাঁদের প্রত্যাশার মাত্রা যত উঁচু হবে, তত আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’ পাঁচজনের বিষয়ে আপত্তি বিএনপির অনুসন্ধান কমিটিতে থাকা পাঁচ সদস্যের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অনুসন্ধান কমিটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিক্রিয়া জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করা বা না করার কোনো বিষয় নেই। নির্বাচন কমিশন গঠন করার পর সেই বিষয় আসতে পারে। সার্চ কমিটির প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগেরবার গঠিত অনুসন্ধান কমিটিরও প্রধান ছিলেন তিনি। সেই কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতে গঠিত বর্তমান ইসি অযোগ্য, মেরুদণ্ডহীন, বিতর্কিত। তাঁকে আবার প্রধান করে অনুসন্ধান কমিটি করার অর্থ, সরকার আরেকটি অনুগত ও অযোগ্য ইসি করতে চায়।’ বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, অনুসন্ধান কমিটির আরেক সদস্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবী হিসেবে বহুল পরিচিত ছিলেন। তাঁর পিতা আখলাকুর রহমান আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা ছিলেন। তাঁর ছোট ভাই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে কর্মরত। মির্জা ফখরুল বলেন, কমিটির আরেক সদস্য সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ছিলেন। বিতর্কিত সেই নির্বাচনকে নিয়মসিদ্ধ করার পুরস্কার হিসেবে অবসরের পর তাঁকে পিএসসির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তিনি সরকারের ইচ্ছাপূরণে সচেষ্ট থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। অনুসন্ধান কমিটির একমাত্র নারী সদস্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য শিরীণ আখতারকেও পছন্দ হয়নি বিএনপির। তাঁর সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব বলেন, শিরীণ আখতার আওয়ামীপন্থী শিক্ষক নেতা হিসেবে ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর বাবা আফসার কামাল চৌধুরী কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। শিরীণ আখতার নিজেও কক্সবাজার মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ছিলেন। অনুসন্ধান কমিটির আরেক সদস্য বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মাসুদ আহমেদ। তাঁর সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক সরকারের অধীন একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তিনি সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করার ক্ষমতা রাখেন না। ‘বিদেশিদের নাক গলাতে দেওয়া হবে না’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল বগুড়ায় এক কর্মী সমাবেশে বলেন, ‘সার্চ কমিটিতে আওয়ামী লীগের কোন নেতা এসেছে? তারপরও তারা বিদেশিদের কাছে নালিশ করেছে। এখন আবার বলে বিদেশিরা সার্চ কমিটি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চায়। সাড়া মেলেনি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কি মেরুদণ্ডহীন জাতি? ওই দিন চলে গেছে। এখন অনেকেই আমাদের সমীহ করে। কাজেই রাষ্ট্রপতি সবকিছু ঠিক করবেন, তিনি কার সঙ্গে বসবেন, কার সঙ্গে বসবেন না।’ ইসি গঠন নিয়ে আলোচনার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাক্ষাৎ চেয়েছেন কূটনীতিকেরা। কিন্তু সরকার তাঁদের অনুরোধে এখনো সাড়া দেয়নি। অনুসন্ধান কমিটি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে জাতিসংঘ থেকে কোনো চিঠি এসেছে কি না জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠি রাষ্ট্রপতির কার্যালয় পায়নি।

Comments

Comments!

 ইসি গঠনে অনুসন্ধান কমিটির প্রথম বৈঠক আজAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ইসি গঠনে অনুসন্ধান কমিটির প্রথম বৈঠক আজ

Saturday, January 28, 2017 8:55 am | আপডেটঃ January 28, 2017 6:41 PM
21

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সম্ভাব্য ব্যক্তিদের নামের তালিকা তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত অনুসন্ধান কমিটির প্রথম সভা আজ শনিবার বসছে। বৈঠকের আগে কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন সূত্র থেকে নিরপেক্ষ, সাহসী, স্বচ্ছ ভাবমূর্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের খোঁজে নেমেছেন। কমিটির তিনজন সদস্য বলেছেন, এমন ব্যক্তিদের পাওয়া তাঁদের কাছে ‘কঠিন ও ও দুষ্কর’ বলে মনে হচ্ছে।
অনুসন্ধান কমিটি নিয়ে বিএনপি তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় ওই কমিটির পাঁচজনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা বলেছে, ‘এই কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ, সৎ, সাহসী, যোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচন কমিশনার হবেন—এমন আশা করাও বাতুলতা।’ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বিএনপিকে অনুসন্ধান কমিটির ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং অনুসন্ধান কমিটিতে বিদেশিদের নাক গলাতে দেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর এই অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, গতবারের অনুসন্ধান কমিটি নিয়ে কোনো বিতর্ক হয়নি। গতবার যিনি নেতৃত্বে ছিলেন, এবারও তিনি। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এবার অনুসন্ধান কমিটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
২৫ জানুয়ারি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন। গঠিত হওয়ার দিন থেকে ১০ কার্যদিবস অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনুসন্ধান কমিটিকে ইসির জন্য ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করতে হবে। এ জন্য গত বৃহস্পতিবার থেকেই তাঁরা কাজ শুরু করেছেন। সেরে নিয়েছেন নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা। গতকাল রাতেও তাঁরা বিভিন্ন সূত্র থেকে নাম সংগ্রহ করেছেন। আজ সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রথম বৈঠকে এই নামগুলো নিয়ে তাঁরা কথা বলবেন। বৈঠকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্য একজন মুখপাত্র ঠিক করতে পারেন কমিটির সদস্যরা।
কমিটির অন্তত তিনজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা অনেক নাম সংগ্রহ করেছেন। তবে তাঁদের ব্যাপারে খোঁজখবর করে তাঁরা হতাশ হচ্ছেন। পেশাগত জীবনে অস্বচ্ছতা বা অনিয়ম নেই বা কোনো রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে নেই—এমন কাউকে তাঁরা পাচ্ছেন না। ‘নিরপেক্ষ’ ও ‘মেরুদণ্ডসম্পন্ন’ ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়া তাঁদের জন্য একপ্রকার কঠিন হয়ে পড়েছে। আজকের বৈঠকে অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যমের সহায়তা নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করতে পারেন বলে প্রথম আলোকে জানান।
জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনুসন্ধান কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং মেরুদণ্ড আছে এমন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করাই আমাদের কাজ। কিন্তু কারও নাম অন্যের সঙ্গে আলোচনা করার পরই বুঝছি, একটা ফ্যাকড়া (ঝামেলা) আছে। আমাদের অবস্থা হয়েছে খুঁজছি, নিচ্ছি, বাদ দিচ্ছি।’
তাঁদের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর তোলা আপত্তি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা। প্রথম আলোকে তাঁরা বলেছেন, প্রথম বৈঠকের আগেই তাঁদের নিয়ে বিতর্ক অনভিপ্রেত। কারণ, তাঁরা কেউই নির্বাচন কমিশনের জন্য কারও নাম প্রস্তাব করেননি। পদাধিকারবলে অনুসন্ধান কমিটিতে আছেন, এমন একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তো কোনো দোষ করিনি। সুবিধাও নিইনি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বদলে অনুসন্ধান কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছি। আমাদের কেন অহেতুক দোষারোপ করা হচ্ছে। এটা কি ঠিক?’
অনুসন্ধান কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারও কোনো সমালোচনা আমরা শুনিনি। তবে আমাদের প্রতি সবার যত বেশি প্রত্যাশা, তত আমাদের জন্য ভালো। কারণ তাঁদের প্রত্যাশার মাত্রা যত উঁচু হবে, তত আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’
পাঁচজনের বিষয়ে আপত্তি বিএনপির
অনুসন্ধান কমিটিতে থাকা পাঁচ সদস্যের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অনুসন্ধান কমিটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিক্রিয়া জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করা বা না করার কোনো বিষয় নেই। নির্বাচন কমিশন গঠন করার পর সেই বিষয় আসতে পারে।
সার্চ কমিটির প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগেরবার গঠিত অনুসন্ধান কমিটিরও প্রধান ছিলেন তিনি। সেই কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতে গঠিত বর্তমান ইসি অযোগ্য, মেরুদণ্ডহীন, বিতর্কিত। তাঁকে আবার প্রধান করে অনুসন্ধান কমিটি করার অর্থ, সরকার আরেকটি অনুগত ও অযোগ্য ইসি করতে চায়।’
বিএনপির মহাসচিব দাবি করেন, অনুসন্ধান কমিটির আরেক সদস্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবী হিসেবে বহুল পরিচিত ছিলেন। তাঁর পিতা আখলাকুর রহমান আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা ছিলেন। তাঁর ছোট ভাই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে কর্মরত।
মির্জা ফখরুল বলেন, কমিটির আরেক সদস্য সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ছিলেন। বিতর্কিত সেই নির্বাচনকে নিয়মসিদ্ধ করার পুরস্কার হিসেবে অবসরের পর তাঁকে পিএসসির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তিনি সরকারের ইচ্ছাপূরণে সচেষ্ট থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। অনুসন্ধান কমিটির একমাত্র নারী সদস্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য শিরীণ আখতারকেও পছন্দ হয়নি বিএনপির। তাঁর সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব বলেন, শিরীণ আখতার আওয়ামীপন্থী শিক্ষক নেতা হিসেবে ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর বাবা আফসার কামাল চৌধুরী কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। শিরীণ আখতার নিজেও কক্সবাজার মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ছিলেন। অনুসন্ধান কমিটির আরেক সদস্য বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মাসুদ আহমেদ। তাঁর সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক সরকারের অধীন একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তিনি সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করার ক্ষমতা রাখেন না।
‘বিদেশিদের নাক গলাতে দেওয়া হবে না’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল বগুড়ায় এক কর্মী সমাবেশে বলেন, ‘সার্চ কমিটিতে আওয়ামী লীগের কোন নেতা এসেছে? তারপরও তারা বিদেশিদের কাছে নালিশ করেছে। এখন আবার বলে বিদেশিরা সার্চ কমিটি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চায়। সাড়া মেলেনি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কি মেরুদণ্ডহীন জাতি? ওই দিন চলে গেছে। এখন অনেকেই আমাদের সমীহ করে। কাজেই রাষ্ট্রপতি সবকিছু ঠিক করবেন, তিনি কার সঙ্গে বসবেন, কার সঙ্গে বসবেন না।’
ইসি গঠন নিয়ে আলোচনার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাক্ষাৎ চেয়েছেন কূটনীতিকেরা। কিন্তু সরকার তাঁদের অনুরোধে এখনো সাড়া দেয়নি।
অনুসন্ধান কমিটি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে জাতিসংঘ থেকে কোনো চিঠি এসেছে কি না জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠি রাষ্ট্রপতির কার্যালয় পায়নি।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X