শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৪:১৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, December 12, 2016 7:37 pm
A- A A+ Print

ইস্তাম্বুলে সন্ত্রাসী হামলা: শোকে মুহ্যমান তুরস্ক

163899_1

আঙ্কারা: তুরস্কের ইস্তাম্বুলের একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের পাশে সন্ত্রাসী হামলায় ৩০ পুলিশ সদস্যসহ ৩৮ জন নিহতের ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তুরস্ক। এঘটনায় আহত হয়েছে ১৫৫ জন। বোমা হামলায় ব্যাপক সংখ্যক হতাহতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বইছে শোক আর নিন্দার ঝড়। এরইমধ্যে ভয়াবহ এই হামলার জন্য শোক ও নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। তারা সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তুরস্কের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
ওয়াশিংটন এই হামলাকে ‘শক্তিশালী বার্তা’ বলে নিন্দা জানিয়ে তুরস্কের সংহতির প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন। এদিকে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। রবিবার হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে এরদোগান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ সম্পর্কে কারো কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এই দেশের মালিক। আমরা কখনো এই দেশ ছেড়ে যাব না। এই ধরনের হামলা চালিয়ে তারা (সন্ত্রাসীরা) আমাদের ভীত করতে পারবে না।’ অন্য আরেকটি হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেন, ‘ইস্তাম্বুলের সন্ত্রাসী হামলা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের চলমান সংগ্রামকে জোরদার করবে।’ তিনি বলেন, ‘পিকেকে, পিওয়াইডি, ফেতুল্লা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনসহ সকল সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে জাতি আমাদের ক্ষমতা দিয়েছে এবং আমরা জাতির আশা পূরণে পিছপা হবো না।’ ইলদিরিম বলেন, ‘এই হামলার পিছনে ‘সম্ভবত’ পিকেকে সন্ত্রাসী সংগঠন জড়িত কারণ তারা আমাদের ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্বকে নষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে।’ এদিকে, রক্তাক্ত এই হামলার পর রবিবার প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সভাপতিত্বে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি টপ লেভেল নিরাপত্তা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে প্রেসিডেন্সি সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম, ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী নুমান কুরতুলমাসসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, এই হামলার পর তুর্কি রাজনৈতিক নেতারা রবিবার বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একটি লিখিত বিবৃতিতে তুর্কি পার্লামেন্টের স্পিকার ইসমাইল কারামান বলেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারকে আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হবে হবে। তিনি বলেন, ‘পিকেকে, পিওয়াইডি, ফেতু সন্ত্রাসবাদী সংগঠনসহ সব সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতে হবে। তুর্কি জাতি অনমনীয়। আমাদের জাতির ঐক্য ও সংহতি প্রকাশ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে সেনা বাহিনী, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে  লড়াই জোরদার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেনতুর্কি জেনারেল স্টাফ। এদিকে, এ হামলার দায় স্বীকার করেছে একটি কুর্দি সন্ত্রাসী গ্রুপ- ‘কুর্দিস্তান ফ্রিডম ফলকনস’। ‘কুর্দিস্তান ফ্রিডম ফলকনস’ নামে সন্ত্রাসী গ্রুপটি এক বিবৃতিতে এ ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেছে, ‘তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় সরকারি বাহিনীর সহিংসতার প্রতিবাদে এই হামলা চালানো হয়েছে। এতে তাদের আত্মঘাতী দলের দুই সদস্য ওই হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আবদুল্লাহ ওকালানকে দীর্ঘদিন থেকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদ হিসেবেও এই হামলা চালানো হয়েছে।’ শনিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় বেসিক্টাস ভোডাফোন এরেনা স্টেডিয়ামের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তুরস্কের প্রধান দুটি ফুটবল দল বেসিক্টাস এবং বুরসাসপোরের মধ্যকার খেলার দুই ঘণ্টা পর হামলাটি চালানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথমটি ছিল একটি গাড়িবোমা হামলা এবং দ্বিতীয়টি স্টেডিয়ামের কাছেই একটি পার্কে একজন আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। হামলায় এ পর্যন্ত ১৩ সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সোয়েলু জানান। তুর্কি সম্প্রচারকারী ‘এনটিভি’ জানিয়েছে, ফুটবল ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার পর স্টেডিয়াম প্রায় দর্শকশূন্য হয়ে পড়লে পুলিশের গাড়িও সেখান থেকে ফিরছিল। ওই মুহূর্তে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। সূত্র: বিবিসি, আনাদলো, নিউইয়র্ক টাইমস
 

Comments

Comments!

 ইস্তাম্বুলে সন্ত্রাসী হামলা: শোকে মুহ্যমান তুরস্কAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ইস্তাম্বুলে সন্ত্রাসী হামলা: শোকে মুহ্যমান তুরস্ক

Monday, December 12, 2016 7:37 pm
163899_1

আঙ্কারা: তুরস্কের ইস্তাম্বুলের একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের পাশে সন্ত্রাসী হামলায় ৩০ পুলিশ সদস্যসহ ৩৮ জন নিহতের ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তুরস্ক। এঘটনায় আহত হয়েছে ১৫৫ জন।

বোমা হামলায় ব্যাপক সংখ্যক হতাহতের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বইছে শোক আর নিন্দার ঝড়।

এরইমধ্যে ভয়াবহ এই হামলার জন্য শোক ও নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। তারা সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তুরস্কের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

ওয়াশিংটন এই হামলাকে ‘শক্তিশালী বার্তা’ বলে নিন্দা জানিয়ে তুরস্কের সংহতির প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন।

এদিকে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

রবিবার হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে এরদোগান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ সম্পর্কে কারো কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এই দেশের মালিক। আমরা কখনো এই দেশ ছেড়ে যাব না। এই ধরনের হামলা চালিয়ে তারা (সন্ত্রাসীরা) আমাদের ভীত করতে পারবে না।’

অন্য আরেকটি হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেন, ‘ইস্তাম্বুলের সন্ত্রাসী হামলা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের চলমান সংগ্রামকে জোরদার করবে।’

তিনি বলেন, ‘পিকেকে, পিওয়াইডি, ফেতুল্লা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনসহ সকল সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে জাতি আমাদের ক্ষমতা দিয়েছে এবং আমরা জাতির আশা পূরণে পিছপা হবো না।’

ইলদিরিম বলেন, ‘এই হামলার পিছনে ‘সম্ভবত’ পিকেকে সন্ত্রাসী সংগঠন জড়িত কারণ তারা আমাদের ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্বকে নষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে।’

এদিকে, রক্তাক্ত এই হামলার পর রবিবার প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সভাপতিত্বে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি টপ লেভেল নিরাপত্তা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে প্রেসিডেন্সি সূত্র জানিয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম, ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী নুমান কুরতুলমাসসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, এই হামলার পর তুর্কি রাজনৈতিক নেতারা রবিবার বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

একটি লিখিত বিবৃতিতে তুর্কি পার্লামেন্টের স্পিকার ইসমাইল কারামান বলেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারকে আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হবে হবে।

তিনি বলেন, ‘পিকেকে, পিওয়াইডি, ফেতু সন্ত্রাসবাদী সংগঠনসহ সব সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতে হবে। তুর্কি জাতি অনমনীয়। আমাদের জাতির ঐক্য ও সংহতি প্রকাশ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে সেনা বাহিনী, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে  লড়াই জোরদার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেনতুর্কি জেনারেল স্টাফ।

এদিকে, এ হামলার দায় স্বীকার করেছে একটি কুর্দি সন্ত্রাসী গ্রুপ- ‘কুর্দিস্তান ফ্রিডম ফলকনস’।

‘কুর্দিস্তান ফ্রিডম ফলকনস’ নামে সন্ত্রাসী গ্রুপটি এক বিবৃতিতে এ ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেছে, ‘তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় সরকারি বাহিনীর সহিংসতার প্রতিবাদে এই হামলা চালানো হয়েছে। এতে তাদের আত্মঘাতী দলের দুই সদস্য ওই হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আবদুল্লাহ ওকালানকে দীর্ঘদিন থেকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদ হিসেবেও এই হামলা চালানো হয়েছে।’

শনিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় বেসিক্টাস ভোডাফোন এরেনা স্টেডিয়ামের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তুরস্কের প্রধান দুটি ফুটবল দল বেসিক্টাস এবং বুরসাসপোরের মধ্যকার খেলার দুই ঘণ্টা পর হামলাটি চালানো হয়।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথমটি ছিল একটি গাড়িবোমা হামলা এবং দ্বিতীয়টি স্টেডিয়ামের কাছেই একটি পার্কে একজন আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়।

হামলায় এ পর্যন্ত ১৩ সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সোয়েলু জানান।

তুর্কি সম্প্রচারকারী ‘এনটিভি’ জানিয়েছে, ফুটবল ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার পর স্টেডিয়াম প্রায় দর্শকশূন্য হয়ে পড়লে পুলিশের গাড়িও সেখান থেকে ফিরছিল। ওই মুহূর্তে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়।

সূত্র: বিবিসি, আনাদলো, নিউইয়র্ক টাইমস

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X