শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৫৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, June 24, 2017 4:24 am
A- A A+ Print

ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন, মহাসড়কে সেই চেনা জট

6

সব প্রস্তুতি আর কর্মযজ্ঞকে ব্যর্থ করে দিয়ে ঈদযাত্রায় সড়কপথে যানজটের শঙ্কাটাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব মহাসড়কেই তীব্র যানজট ছিল। সব গন্তব্যে পৌঁছাতেই স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে। রাস্তায় আটকে থাকা ঘরমুখী মানুষদের আগের বছরগুলোর মতোই ভুগতে হচ্ছে।

মহাসড়কে যানজটের প্রভাবে গতকাল ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাসগুলোর সময়সূচি একেবারে ভেঙে পড়ে। বাসগুলো এক থেকে ছয় ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ছে। তবে ঢাকার আন্তজেলা বাস টার্মিনালগুলোতে গতকাল তেমন ভিড় ছিল না।

ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুটি বড় সেতুর টোল প্লাজাতেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কটি যাত্রীদের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। অতিরিক্ত গাড়ির চাপ আর ভাঙা সেতুর কারণে এ অবস্থা তৈরি হয়। এ যানজটের মাথা ছিল হাটিকুমরুল মোড়ে আর লেজ গিয়ে ঠেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর পর্যন্ত। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে ১২ কিলোমিটার এলাকায় গাড়ি চলেছে খুবই ধীরে। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শিমুলিয়া ঘাট থেকে চার কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল অপেক্ষমাণ গাড়ির সারি। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে এ সারি ছিল পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ।

টোল প্লাজায় স্থবির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

পুলিশ ও পরিবহনকর্মীরা বলছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজা ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায় টোল আদায়ের ধীরগতির কারণে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। টোল আদায়ের কারণে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর থেকে এই যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করে।

শ্যামলী পরিবহনের চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি বেলা ১১টায় ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে রওনা হয়ে বেলা ৩টায় মেঘনা সেতুতে পৌঁছেছেন। ঢাকা থেকে হোমনাগামী বাসের যাত্রী ফেরদৌসী আক্তার বলেন, তাঁরা ভোর সাড়ে ৪টায় যাত্রাবাড়ী থেকে বাসে ওঠে বেলা ১১টায় দাউদকান্দির গৌরীপুরে পৌঁছান। অথচ এটা এক থেকে দেড় ঘণ্টার পথ। এ পথের মৌচাক, কাঁচপুর কেওঢালা, মোগরাপাড়া, মেঘনা সেতু এলাকা, বালুয়াকান্দি, ভাটেরচর, ভবেরচর ও বাউশিয়া পর্যন্ত তীব্র যানজট।

এশিয়া লাইন বাসের চালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এই ঈদেও মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায় ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানগুলোকে ওজন স্কেলে প্রবেশ করানো নিয়ে বাদানুবাদ হচ্ছে, যার কারণে যানজট বাড়ছে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজা ওজন স্কেল এবং টোল আদায়ের ধীরগতির কারণে যানজট হচ্ছে।

একই মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায় সকাল ৭টা থেকে তীব্র যানজট তৈরি হয়। বেলা ১১টার দিকে সেতুর ঢাল থেকে গোমতী সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকা যানজটে থমকে ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভবেরচর হাইওয়ে ফাঁড়ির সার্জেন্ট মো. রানা বলেন, মহাসড়ক চার লেনের, কিন্তু মেঘনা সেতু দুই লেনের। তাই সড়ক থেকে সেতুতে ওঠার সময় জট সৃষ্টি হয়ে তা সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন চলেছে থেমে থেমে।

উত্তরের যাত্রায় ত্রাহি অবস্থা

অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর কারণে বৃহস্পতিবার রাত থেকে উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে হাটিকুমরুল গোল চত্বর পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। হাটিকুমরুল মোড়ে যানবাহনের ধীরগতি, যাত্রী ওঠানামা এবং উল্লাপাড়া উপজেলার ধোপাকান্দি সেতুর রেলিং ভেঙে আর কামারখন্দ উপজেলার নলকা সেতুর ওপর বড় গর্ত তৈরি হয়ে এ অবস্থা তৈরি হয়। মাঝে মাঝেই এ দুটি সেতুতে যান চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। সকাল নয়টা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টা একটি সেতুতে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। চলাচলে বিঘ্ন হওয়ায় বগুড়াগামী অনেক যান সিরাজগঞ্জ শহরের ভেতর দিয়ে পুরাতন বগুড়া সড়ক হয়ে চলে যায়। পাবনাগামী কিছু যান সয়দাবাদ ও কড্ডার মোড় দিয়ে বিকল্প পথ ধরেছে।

টেলিকম প্রকৌশলী আসাদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে হানিফ এন্টারপ্রাইজের এসি বাসে ঢাকা ছাড়েন। ১৬ ঘণ্টার যাত্রা শেষে বেলা দুইটার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড় পর্যন্ত যেতেই তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।

ভুক্তভোগী একজন সাংবাদিক বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে তিনি বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপরে যানজটে আটকা পড়েন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত তাঁর গাড়ি সেতুর মাঝখানে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল। রাত পৌনে নয়টার দিকে তিনি সিরাজগঞ্জ শহরমুখী পথ ধরেন।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল কাদের জিলানী বলেন, স্বাভাবিকের তুলনায় সড়কে পাঁচ গুণ গাড়ি চলাচল করছে। অনেক গাড়ি বিকল হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া নলকা সেতুর ওপর গর্ত হওয়ায় সেটি পার হতে সময় লাগছে। তাঁর দাবি, যানবাহন ধীরগতিতে চলছে, পুরো বন্ধ নেই।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে এদিন যানজট ছিল না বললেই চলে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী থেকে গোড়াই পর্যন্তও যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। শুধু ধেরুয়া রেলক্রসিং এলাকায় ট্রেন চলাচলের কারণে মাঝে মাঝেই যানবাহনের লম্বা সারি তৈরি হচ্ছিল। দুপুরের পর টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় কিছুটা যানজট সৃষ্টি হয়।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাজীপুরের তারগাছ থেকে ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও জট ছিল না। তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী ব্রিজ থেকে ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছিল। ভোগড়া বাইপাস থেকে কোনাবাড়ী-চন্দ্রা পর্যন্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও ধীরগতিতে গাড়ি চলেছে। জয়দেবপুর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, যাত্রী ও যানবাহনের প্রচণ্ড চাপে রাস্তায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি রয়েছে। তবে যানজট নেই।

পাটুরিয়া ঘাট

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের পাটুরিয়া ঘাটে সকাল ১০টার দিকে ছোট গাড়ির সারি নালী-টেপড়া সড়কের পাঁচ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। দুপুর থেকে পাটুরিয়ায় লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জিল্লুর রহমান বলেন, গতকাল পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে নয়টি রো রোসহ (বড়) মোট ১৮টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া

পদ্মায় পানি বাড়ার কারণে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটের পন্টুন সরে গেছে। এ কারণে চারটি ঘাটের মধ্যে একটি কাল দিনভর বন্ধ ছিল। রাত ১০টার দিকে আবার চালু হয়। সারা দিনই পারাপারে ছিল ধীরগতি। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ ছিল অনেক বেশি। প্রতিটি যানবাহনকে ফেরি পার হতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে কয়েক ঘণ্টা।

শিমুলিয়া হাইওয়ের ওসি গোলাম মোর্শেদ জানান, যানবাহন বৃদ্ধি এবং ধলেশ্বরী সেতুতে একটি বাসের চাকা ফেটে যাওয়ার কারণে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে সকালে কিছুটা জটের সৃষ্টি হয়েছিল।

বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক খালেদ নেওয়াজ জানান, শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ বৃহস্পতিবারের তুলনায় গতকাল অনেক বেশি ছিল। সকালের দিকে ফেরিঘাটে তিন শ বাস, আড়াই শ ট্রাকসহ প্রায় এক হাজার তিন শ ছোট গাড়ির ভিড় ছিল।

ঢাকা থেকে বাস ছাড়ছে দেরিতে

এদিকে যানজটে যাত্রার সময় বেড়ে যাওয়ায় গাড়ি ছাড়ার সময় ঠিক রাখতে পারছে না বেশির ভাগ পরিবহন কোম্পানি। গতকাল গাবতলীতে গিয়ে দেখা গেছে, ‍বড় পরিবহন সংস্থাগুলোর বাসের কোনো টিকিটই নেই, এমনকি ইঞ্জিন বনেটের ওপরের টিকিটও বিক্রি হয়ে গেছে। তবে ছোট সংস্থার বাসগুলো পর্যাপ্ত যাত্রী পাচ্ছে না। একই অবস্থা সায়েদাবাদেও।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের শ্যামলী কাউন্টারের কর্মী মো. পাভেল বলছেন, গাড়ি বিলম্ব হতে পারে। যাত্রীদের দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হতে পারে। এ জন্য তাঁরা রাতের কয়েকটি বাসের সময়সূচি পিছিয়ে শনিবার সকালে করে দিয়েছেন। যাত্রীদেরও মুঠোফোনে আগেভাগেই এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সায়েদাবাদ টার্মিনালে প্রত্যাশা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ার কথা জানালেন পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ঢাকা-সিলেট রুটের জে বি পরিবহনের ব্যবস্থাপক মো. শাহাবুল বলেন, পৌনে চারটা থেকে তিনি টিকিট বিক্রি শুরু করেছেন। সাড়ে চারটা পর্যন্ত মাত্র ১০টি টিকিট বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, গত বছর এমন ছিল না। এবার রমজানের শুরু থেকেই যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে। যানজটও এর কারণ হতে পারে।

Comments

Comments!

 ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন, মহাসড়কে সেই চেনা জটAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন, মহাসড়কে সেই চেনা জট

Saturday, June 24, 2017 4:24 am
6

সব প্রস্তুতি আর কর্মযজ্ঞকে ব্যর্থ করে দিয়ে ঈদযাত্রায় সড়কপথে যানজটের শঙ্কাটাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব মহাসড়কেই তীব্র যানজট ছিল। সব গন্তব্যে পৌঁছাতেই স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে। রাস্তায় আটকে থাকা ঘরমুখী মানুষদের আগের বছরগুলোর মতোই ভুগতে হচ্ছে।

মহাসড়কে যানজটের প্রভাবে গতকাল ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাসগুলোর সময়সূচি একেবারে ভেঙে পড়ে। বাসগুলো এক থেকে ছয় ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ছে। তবে ঢাকার আন্তজেলা বাস টার্মিনালগুলোতে গতকাল তেমন ভিড় ছিল না।

ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুটি বড় সেতুর টোল প্লাজাতেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কটি যাত্রীদের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। অতিরিক্ত গাড়ির চাপ আর ভাঙা সেতুর কারণে এ অবস্থা তৈরি হয়। এ যানজটের মাথা ছিল হাটিকুমরুল মোড়ে আর লেজ গিয়ে ঠেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর পর্যন্ত। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে ১২ কিলোমিটার এলাকায় গাড়ি চলেছে খুবই ধীরে। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শিমুলিয়া ঘাট থেকে চার কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল অপেক্ষমাণ গাড়ির সারি। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে এ সারি ছিল পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ।

টোল প্লাজায় স্থবির ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

পুলিশ ও পরিবহনকর্মীরা বলছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজা ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায় টোল আদায়ের ধীরগতির কারণে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। টোল আদায়ের কারণে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর থেকে এই যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করে।

শ্যামলী পরিবহনের চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি বেলা ১১টায় ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে রওনা হয়ে বেলা ৩টায় মেঘনা সেতুতে পৌঁছেছেন। ঢাকা থেকে হোমনাগামী বাসের যাত্রী ফেরদৌসী আক্তার বলেন, তাঁরা ভোর সাড়ে ৪টায় যাত্রাবাড়ী থেকে বাসে ওঠে বেলা ১১টায় দাউদকান্দির গৌরীপুরে পৌঁছান। অথচ এটা এক থেকে দেড় ঘণ্টার পথ। এ পথের মৌচাক, কাঁচপুর কেওঢালা, মোগরাপাড়া, মেঘনা সেতু এলাকা, বালুয়াকান্দি, ভাটেরচর, ভবেরচর ও বাউশিয়া পর্যন্ত তীব্র যানজট।

এশিয়া লাইন বাসের চালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এই ঈদেও মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায় ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানগুলোকে ওজন স্কেলে প্রবেশ করানো নিয়ে বাদানুবাদ হচ্ছে, যার কারণে যানজট বাড়ছে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজা ওজন স্কেল এবং টোল আদায়ের ধীরগতির কারণে যানজট হচ্ছে।

একই মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায় সকাল ৭টা থেকে তীব্র যানজট তৈরি হয়। বেলা ১১টার দিকে সেতুর ঢাল থেকে গোমতী সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকা যানজটে থমকে ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভবেরচর হাইওয়ে ফাঁড়ির সার্জেন্ট মো. রানা বলেন, মহাসড়ক চার লেনের, কিন্তু মেঘনা সেতু দুই লেনের। তাই সড়ক থেকে সেতুতে ওঠার সময় জট সৃষ্টি হয়ে তা সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন চলেছে থেমে থেমে।

উত্তরের যাত্রায় ত্রাহি অবস্থা

অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর কারণে বৃহস্পতিবার রাত থেকে উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে হাটিকুমরুল গোল চত্বর পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। হাটিকুমরুল মোড়ে যানবাহনের ধীরগতি, যাত্রী ওঠানামা এবং উল্লাপাড়া উপজেলার ধোপাকান্দি সেতুর রেলিং ভেঙে আর কামারখন্দ উপজেলার নলকা সেতুর ওপর বড় গর্ত তৈরি হয়ে এ অবস্থা তৈরি হয়। মাঝে মাঝেই এ দুটি সেতুতে যান চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। সকাল নয়টা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টা একটি সেতুতে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। চলাচলে বিঘ্ন হওয়ায় বগুড়াগামী অনেক যান সিরাজগঞ্জ শহরের ভেতর দিয়ে পুরাতন বগুড়া সড়ক হয়ে চলে যায়। পাবনাগামী কিছু যান সয়দাবাদ ও কড্ডার মোড় দিয়ে বিকল্প পথ ধরেছে।

টেলিকম প্রকৌশলী আসাদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে হানিফ এন্টারপ্রাইজের এসি বাসে ঢাকা ছাড়েন। ১৬ ঘণ্টার যাত্রা শেষে বেলা দুইটার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড় পর্যন্ত যেতেই তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।

ভুক্তভোগী একজন সাংবাদিক বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে তিনি বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপরে যানজটে আটকা পড়েন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত তাঁর গাড়ি সেতুর মাঝখানে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল। রাত পৌনে নয়টার দিকে তিনি সিরাজগঞ্জ শহরমুখী পথ ধরেন।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল কাদের জিলানী বলেন, স্বাভাবিকের তুলনায় সড়কে পাঁচ গুণ গাড়ি চলাচল করছে। অনেক গাড়ি বিকল হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া নলকা সেতুর ওপর গর্ত হওয়ায় সেটি পার হতে সময় লাগছে। তাঁর দাবি, যানবাহন ধীরগতিতে চলছে, পুরো বন্ধ নেই।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে এদিন যানজট ছিল না বললেই চলে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী থেকে গোড়াই পর্যন্তও যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। শুধু ধেরুয়া রেলক্রসিং এলাকায় ট্রেন চলাচলের কারণে মাঝে মাঝেই যানবাহনের লম্বা সারি তৈরি হচ্ছিল। দুপুরের পর টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় কিছুটা যানজট সৃষ্টি হয়।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাজীপুরের তারগাছ থেকে ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও জট ছিল না। তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী ব্রিজ থেকে ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছিল। ভোগড়া বাইপাস থেকে কোনাবাড়ী-চন্দ্রা পর্যন্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও ধীরগতিতে গাড়ি চলেছে। জয়দেবপুর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, যাত্রী ও যানবাহনের প্রচণ্ড চাপে রাস্তায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি রয়েছে। তবে যানজট নেই।

পাটুরিয়া ঘাট

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের পাটুরিয়া ঘাটে সকাল ১০টার দিকে ছোট গাড়ির সারি নালী-টেপড়া সড়কের পাঁচ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। দুপুর থেকে পাটুরিয়ায় লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জিল্লুর রহমান বলেন, গতকাল পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে নয়টি রো রোসহ (বড়) মোট ১৮টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া

পদ্মায় পানি বাড়ার কারণে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটের পন্টুন সরে গেছে। এ কারণে চারটি ঘাটের মধ্যে একটি কাল দিনভর বন্ধ ছিল। রাত ১০টার দিকে আবার চালু হয়। সারা দিনই পারাপারে ছিল ধীরগতি। মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ ছিল অনেক বেশি। প্রতিটি যানবাহনকে ফেরি পার হতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে কয়েক ঘণ্টা।

শিমুলিয়া হাইওয়ের ওসি গোলাম মোর্শেদ জানান, যানবাহন বৃদ্ধি এবং ধলেশ্বরী সেতুতে একটি বাসের চাকা ফেটে যাওয়ার কারণে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে সকালে কিছুটা জটের সৃষ্টি হয়েছিল।

বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক খালেদ নেওয়াজ জানান, শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ বৃহস্পতিবারের তুলনায় গতকাল অনেক বেশি ছিল। সকালের দিকে ফেরিঘাটে তিন শ বাস, আড়াই শ ট্রাকসহ প্রায় এক হাজার তিন শ ছোট গাড়ির ভিড় ছিল।

ঢাকা থেকে বাস ছাড়ছে দেরিতে

এদিকে যানজটে যাত্রার সময় বেড়ে যাওয়ায় গাড়ি ছাড়ার সময় ঠিক রাখতে পারছে না বেশির ভাগ পরিবহন কোম্পানি। গতকাল গাবতলীতে গিয়ে দেখা গেছে, ‍বড় পরিবহন সংস্থাগুলোর বাসের কোনো টিকিটই নেই, এমনকি ইঞ্জিন বনেটের ওপরের টিকিটও বিক্রি হয়ে গেছে। তবে ছোট সংস্থার বাসগুলো পর্যাপ্ত যাত্রী পাচ্ছে না। একই অবস্থা সায়েদাবাদেও।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের শ্যামলী কাউন্টারের কর্মী মো. পাভেল বলছেন, গাড়ি বিলম্ব হতে পারে। যাত্রীদের দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হতে পারে। এ জন্য তাঁরা রাতের কয়েকটি বাসের সময়সূচি পিছিয়ে শনিবার সকালে করে দিয়েছেন। যাত্রীদেরও মুঠোফোনে আগেভাগেই এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সায়েদাবাদ টার্মিনালে প্রত্যাশা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ার কথা জানালেন পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ঢাকা-সিলেট রুটের জে বি পরিবহনের ব্যবস্থাপক মো. শাহাবুল বলেন, পৌনে চারটা থেকে তিনি টিকিট বিক্রি শুরু করেছেন। সাড়ে চারটা পর্যন্ত মাত্র ১০টি টিকিট বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, গত বছর এমন ছিল না। এবার রমজানের শুরু থেকেই যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে। যানজটও এর কারণ হতে পারে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X