রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৭:৩৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, January 1, 2017 7:51 am
A- A A+ Print

উখিয়ার অনিবন্ধিত শিবিরের পাশে নতুন বসতি

11

স্ত্রী নুর জাহান ও আট সন্তানকে নিয়ে দুই মাস ধরে রাখাইনের বুড়াশিকদার পাড়ায় খালের ওপর মাচা বেঁধে দিন যাপন করছিলেন মোহাম্মদ হোসেন। কিন্তু গত তিন-চার দিনে ওই এলাকায় মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী ও নাডালা বাহিনীর নতুন অভিযান শুরুর পর প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা বাংলাদেশে এসেছেন। গতকাল শনিবার সকালে উখিয়ার কুতুপালংয়ে মিয়ানমারের অনিবন্ধিত শিবিরের বাইরে নতুন আসা যে কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবারের সঙ্গে কথা হয়, তাদেরই অন্যতম মোহাম্মদ হোসেনের পরিবারটি। নিজের পরিবারের পাশাপাশি মেয়ে রাশিদা, মেয়ের জামাই মো. শাকের ও নাতিকে সঙ্গে এনেছেন তিনি। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অন্তত আটটি পরিবারের সঙ্গে প্রথম আলোর প্রতিবেদকের কথা হয়েছে। এঁদের সবাই এসেছেন বুড়াশিকদার পাড়া ও জুমাখালী থেকে। মিয়ানমারের ভাষায়, এলাকা দুটি যথাক্রমে উশিংগা ও জিমাইশং নামে পরিচিত। তাঁদের সবাই বলেন, নাডালাকে (উগ্রপন্থী রোহিঙ্গা তরুণদের নিয়ে বেসামরিক বাহিনী) সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে লোকজনের ওপর অত্যাচার শুরু করেছে। এর মধ্যে নারীদের ধর্ষণ, লোকজনকে পুড়িয়ে মারা এবং বাড়িতে লুটপাট‍‍—­সবই আছে। মো. শাকের বলেন, নাফ নদী পেরিয়ে টেকনাফের হ্নীলা দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছেন। মিয়ানমারের মুদ্রায় দালালকে মাথাপিছু ১৫ হাজার টাকা দিয়ে রাত সাড়ে তিনটায় বাংলাদেশে আসেন। এরপর বাসে চড়ে পৌঁছেছেন কুতুপালংয়ে। কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়কের আমতলায় রাস্তা পার হয়ে গতকাল নতুন আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার সময় চোখে পড়ল, বাসে করে একদল যুবক শীতবস্ত্রসহ নানা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন। তবে এভাবে ত্রাণ বিতরণ নিয়মসিদ্ধ নয় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে আসতেই বাসটি নিয়ে চলে যান ওই তরুণেরা। পরে অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন ভেবে কয়েকজন রোহিঙ্গা যুবক ওই ত্রাণসামগ্রী নিয়ে শিবিরের দিকে এগোতে থাকেন। নতুন আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলা শেষ করে আঞ্চলিক সড়ক থেকে শিবিরের ভেতরে ৩০ মিনিট হাঁটার পর চোখে পড়ল কুতুপালংয়ের পাহাড় আর জঙ্গল পরিষ্কার করে চলছে নতুন বসতি তৈরির ব্যস্ততা। সম্প্রতি হামলার পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যে রোহিঙ্গারা এসেছে, তাদের সাত হাজারের মতো পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল অনিবন্ধিত শিবিরে। ওই লোকজন এখন জঙ্গল পরিষ্কার করে বসতি বানাচ্ছে পাহাড়ের বুকে। উখিয়ার কুতুপালংয়ে মিয়ানমারের অনিবন্ধিত নাগরিকদের শিবিরের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক বলেন, গতকাল নতুন করে পাঁচ শর বেশি রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। লেদার অন্য শিবিরটিতেও একই সংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গতকালও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ বন্ধে সচেষ্ট ছিল। এদিন টেকনাফে আটটি ট্রলারে চড়ে আসা ১২০ জন এবং উখিয়ায় অন্য ১৭ রোহিঙ্গাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বিজিবি বলছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শিশু, নারী, পুরুষেরা টেকনাফ ও উখিয়ার এ দুই উপজেলার ২১টি পয়েন্ট দিয়ে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে।

Comments

Comments!

 উখিয়ার অনিবন্ধিত শিবিরের পাশে নতুন বসতিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

উখিয়ার অনিবন্ধিত শিবিরের পাশে নতুন বসতি

Sunday, January 1, 2017 7:51 am
11

স্ত্রী নুর জাহান ও আট সন্তানকে নিয়ে দুই মাস ধরে রাখাইনের বুড়াশিকদার পাড়ায় খালের ওপর মাচা বেঁধে দিন যাপন করছিলেন মোহাম্মদ হোসেন। কিন্তু গত তিন-চার দিনে ওই এলাকায় মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী ও নাডালা বাহিনীর নতুন অভিযান শুরুর পর প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা বাংলাদেশে এসেছেন।
গতকাল শনিবার সকালে উখিয়ার কুতুপালংয়ে মিয়ানমারের অনিবন্ধিত শিবিরের বাইরে নতুন আসা যে কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবারের সঙ্গে কথা হয়, তাদেরই অন্যতম মোহাম্মদ হোসেনের পরিবারটি। নিজের পরিবারের পাশাপাশি মেয়ে রাশিদা, মেয়ের জামাই মো. শাকের ও নাতিকে সঙ্গে এনেছেন তিনি।
গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অন্তত আটটি পরিবারের সঙ্গে প্রথম আলোর প্রতিবেদকের কথা হয়েছে। এঁদের সবাই এসেছেন বুড়াশিকদার পাড়া ও জুমাখালী থেকে। মিয়ানমারের ভাষায়, এলাকা দুটি যথাক্রমে উশিংগা ও জিমাইশং নামে পরিচিত। তাঁদের সবাই বলেন, নাডালাকে (উগ্রপন্থী রোহিঙ্গা তরুণদের নিয়ে বেসামরিক বাহিনী) সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে লোকজনের ওপর অত্যাচার শুরু করেছে। এর মধ্যে নারীদের ধর্ষণ, লোকজনকে পুড়িয়ে মারা এবং বাড়িতে লুটপাট‍‍—­সবই আছে।
মো. শাকের বলেন, নাফ নদী পেরিয়ে টেকনাফের হ্নীলা দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছেন। মিয়ানমারের মুদ্রায় দালালকে মাথাপিছু ১৫ হাজার টাকা দিয়ে রাত সাড়ে তিনটায় বাংলাদেশে আসেন। এরপর বাসে চড়ে পৌঁছেছেন কুতুপালংয়ে।
কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়কের আমতলায় রাস্তা পার হয়ে গতকাল নতুন আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার সময় চোখে পড়ল, বাসে করে একদল যুবক শীতবস্ত্রসহ নানা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন। তবে এভাবে ত্রাণ বিতরণ নিয়মসিদ্ধ নয় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে আসতেই বাসটি নিয়ে চলে যান ওই তরুণেরা। পরে অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন ভেবে কয়েকজন রোহিঙ্গা যুবক ওই ত্রাণসামগ্রী নিয়ে শিবিরের দিকে এগোতে থাকেন।
নতুন আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলা শেষ করে আঞ্চলিক সড়ক থেকে শিবিরের ভেতরে ৩০ মিনিট হাঁটার পর চোখে পড়ল কুতুপালংয়ের পাহাড় আর জঙ্গল পরিষ্কার করে চলছে নতুন বসতি তৈরির ব্যস্ততা। সম্প্রতি হামলার পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যে রোহিঙ্গারা এসেছে, তাদের সাত হাজারের মতো পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল অনিবন্ধিত শিবিরে। ওই লোকজন এখন জঙ্গল পরিষ্কার করে বসতি বানাচ্ছে পাহাড়ের বুকে।
উখিয়ার কুতুপালংয়ে মিয়ানমারের অনিবন্ধিত নাগরিকদের শিবিরের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক বলেন, গতকাল নতুন করে পাঁচ শর বেশি রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। লেদার অন্য শিবিরটিতেও একই সংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গতকালও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ বন্ধে সচেষ্ট ছিল। এদিন টেকনাফে আটটি ট্রলারে চড়ে আসা ১২০ জন এবং উখিয়ায় অন্য ১৭ রোহিঙ্গাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বিজিবি বলছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শিশু, নারী, পুরুষেরা টেকনাফ ও উখিয়ার এ দুই উপজেলার ২১টি পয়েন্ট দিয়ে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X