বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১০:৫৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, July 24, 2016 8:57 am
A- A A+ Print

উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি- পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ

flood sbd24_2282

ডেস্ক রিপোর্ট: শ্রাবণের কয়েক দিনে টানা বৃষ্টি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এতে চরাঞ্চলসহ নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোয় দেখা দিয়েছে বন্যা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কোনো কোনো গ্রামে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও পানি সংকট। শনিবার সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি নয় সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হচ্ছে। এরই মধ্যে পাঁচ উপজেলার চরাঞ্চলের ২৭টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। এদিকে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙন শুরু হয়েছে চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুরে। বন্যাকবলিত চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সদর উপজেলার পাঁচ, কাজিপুরে নয়, বেলকুচির তিন, চৌহালীর সাত ও শাহজাদপুরের তিনটি ইউনিয়নে প্রায় পাঁচ শতাধিক গ্রামে এখন বন্যা চলছে। ডুবে গেছে এসব অঞ্চলের শত শত একর ফসলি জমি। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। নৌকা ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। কাজিপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম জানান, এ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পুরোপুরি ও তিনটি ইউনিয়ন আংশিক চরাঞ্চল। এ কারণে যমুনার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। এদিকে যমুনায় পানি বৃদ্ধির কারণে চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুরে নদীতীরবর্তী ব্রাহ্মণ গ্রামে শুরু হয়েছে ভাঙন। গত চার-পাঁচদিনের ব্যবধানে প্রায় অর্ধশতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী। কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার ৫০  সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি বিপত্সীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে দুধকুমার, তিস্তাসহ অন্য নদ-নদীর পানিও। ফলে জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজিবপুর, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। এদিকে ছয়দিন ধরে পানিবন্দি এসব মানুষের ঘরে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে প্রায় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। বন্যাদুর্গত এলাকার অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়ে উঁচু বাঁধ ও পাকা সড়কে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। এসব এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত নানা রোগ। উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের জব্বার আলী জানান, গত বন্যায় ভাঙনের ফলে বাড়ি সরিয়ে নতুন চরে এনেছি। এখানেও আর থাকা যাচ্ছে না। পানি চৌকির ওপর উঠেছে, বউ-বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। গরু-ছাগল বাঁধে রেখে এসেছি। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সহায়তা পাইনি। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আকতার হোসেন আজাদ জানান, বন্যার্তদের জন্য ৫ লাখ টাকার শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। এছাড়া আরো ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও ৯৮ টন চাল বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নতুন করে আরো ২০০ টন চাল ও ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে। গাইবান্ধা:  উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি গতকালও অব্যাহত ছিল। শুধু ব্রহ্মপুত্র নদেই ২৪ ঘণ্টায় ২৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত সব ক’টি নদ-নদীর পানি বিপত্সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যায় জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলার নদীতীরবর্তী ২২টি ইউনিয়নের ৭০টি গ্রামের ২০ হাজার পরিবারের ২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ এখন চরম দুর্ভোগে দিন যাপন করছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় নদীভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। এছাড়া বন্যায় পাট, পটোল, রোপা আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যাকবলিত গ্রামগুলো হচ্ছে— সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের কানাইপাড়া, হলদিয়া, নলছিয়া, পাতিলবাড়ি, গুয়াবাড়ি, কুমারপাড়া ও দীঘলকান্দি; ঘুড়িদহ ইউনিয়নের চিনিরপটোল, চকপাড়া, পবনতাইড়, সাঘাটা সদর ইউনিয়নের হাটবাড়ি, হাসিলকান্দি, মুন্সিরহাটখোলা ও গোবিন্দি। ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সাতারকান্দি, পূর্ব কঞ্চিপাড়া, উড়িয়ার কালাসোনার চর, কাবিলপুর, রতনপুর, গজারিয়ার গলনা, নামাপাড়া, জিয়াডাঙ্গা, ফজলুপুর, নিশ্চিন্তপুর, বাজে তেলকুপি, পূর্ব খাটিয়ামারী, পশ্চিম খাটিয়ামারী এবং এরেন্ডাবাড়ির বুলবুুলির চর, ভাটিয়াপাড়া, পূর্ব হরিচণ্ডী ও পশ্চিম হরিচণ্ডী। সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া, মোলারচর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম এবং গিদারী ও লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কিছু কিছু এলাকায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া, হরিপুর, চণ্ডীপুর, তারাপুর, বেলকা ইউনিয়েন ৪০টি গ্রাম এবং ফুলছড়ি উপজেলার অধিকাংশ এলাকা বন্যাকবলিত হয়েছে। লালমনিরহাট: উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ও ধরলার পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যা দেখা দিয়েছে এ দুই নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তিস্তা নদীবিধৌত পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গোড্ডিমারী ডাউয়াবাড়ী, পাটিকাপাড়া, সিন্দুর্ণা, কালীগঞ্জের কাকিনা, ভোটমারী, তুষভাণ্ডার, আদিতমারীর মহিষখোচা; লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা, রাজপুর, খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন এবং ধরলা নদীবিধৌত পাটগ্রামের বুড়িমারী, শ্রীরামপুর, জোংড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘উজানের পলিবাহিত পানির কারণে ভাটিতে তিস্তা ও ধরলা নদীর বুকে কিছু কিছু জায়গায় চর জেগে উঠেছে। এ কারণে সামান্য পানিতেই বন্যা ও ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি হারাচ্ছেন। এসব এলাকায় ত্রাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা নদীভাঙন ও বন্যা থেকে স্থায়ী সমাধান চান। তারা নদীতে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বলে তিনি জানান।’ বগুড়া: বগুড়ায় যমুনা, বাঙালি, করতোয়া নদীসহ সব উপনদী ও বিলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে যমুনা নদীতে। এতে কোনো কোনো এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় নির্মিত স্পার ধসে গেছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বাঙালি নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং যমুনা নদীতে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  

Comments

Comments!

 উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি- পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি- পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ

Sunday, July 24, 2016 8:57 am
flood sbd24_2282

ডেস্ক রিপোর্ট: শ্রাবণের কয়েক দিনে টানা বৃষ্টি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এতে চরাঞ্চলসহ নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোয় দেখা দিয়েছে বন্যা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কোনো কোনো গ্রামে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও পানি সংকট।

শনিবার সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি নয় সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হচ্ছে। এরই মধ্যে পাঁচ উপজেলার চরাঞ্চলের ২৭টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। এদিকে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙন শুরু হয়েছে চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুরে।

বন্যাকবলিত চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সদর উপজেলার পাঁচ, কাজিপুরে নয়, বেলকুচির তিন, চৌহালীর সাত ও শাহজাদপুরের তিনটি ইউনিয়নে প্রায় পাঁচ শতাধিক গ্রামে এখন বন্যা চলছে। ডুবে গেছে এসব অঞ্চলের শত শত একর ফসলি জমি। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। নৌকা ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছে না।

কাজিপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম জানান, এ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পুরোপুরি ও তিনটি ইউনিয়ন আংশিক চরাঞ্চল। এ কারণে যমুনার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।

এদিকে যমুনায় পানি বৃদ্ধির কারণে চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুরে নদীতীরবর্তী ব্রাহ্মণ গ্রামে শুরু হয়েছে ভাঙন। গত চার-পাঁচদিনের ব্যবধানে প্রায় অর্ধশতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী।

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার ৫০  সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি বিপত্সীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে দুধকুমার, তিস্তাসহ অন্য নদ-নদীর পানিও। ফলে জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজিবপুর, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।

এদিকে ছয়দিন ধরে পানিবন্দি এসব মানুষের ঘরে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে প্রায় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। বন্যাদুর্গত এলাকার অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়ে উঁচু বাঁধ ও পাকা সড়কে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। এসব এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত নানা রোগ।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের জব্বার আলী জানান, গত বন্যায় ভাঙনের ফলে বাড়ি সরিয়ে নতুন চরে এনেছি। এখানেও আর থাকা যাচ্ছে না। পানি চৌকির ওপর উঠেছে, বউ-বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। গরু-ছাগল বাঁধে রেখে এসেছি। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সহায়তা পাইনি।

তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আকতার হোসেন আজাদ জানান, বন্যার্তদের জন্য ৫ লাখ টাকার শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। এছাড়া আরো ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও ৯৮ টন চাল বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নতুন করে আরো ২০০ টন চাল ও ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।

গাইবান্ধা:  উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি গতকালও অব্যাহত ছিল। শুধু ব্রহ্মপুত্র নদেই ২৪ ঘণ্টায় ২৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত সব ক’টি নদ-নদীর পানি বিপত্সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যায় জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলার নদীতীরবর্তী ২২টি ইউনিয়নের ৭০টি গ্রামের ২০ হাজার পরিবারের ২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ এখন চরম দুর্ভোগে দিন যাপন করছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় নদীভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। এছাড়া বন্যায় পাট, পটোল, রোপা আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বন্যাকবলিত গ্রামগুলো হচ্ছে— সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের কানাইপাড়া, হলদিয়া, নলছিয়া, পাতিলবাড়ি, গুয়াবাড়ি, কুমারপাড়া ও দীঘলকান্দি; ঘুড়িদহ ইউনিয়নের চিনিরপটোল, চকপাড়া, পবনতাইড়, সাঘাটা সদর ইউনিয়নের হাটবাড়ি, হাসিলকান্দি, মুন্সিরহাটখোলা ও গোবিন্দি। ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সাতারকান্দি, পূর্ব কঞ্চিপাড়া, উড়িয়ার কালাসোনার চর, কাবিলপুর, রতনপুর, গজারিয়ার গলনা, নামাপাড়া, জিয়াডাঙ্গা, ফজলুপুর, নিশ্চিন্তপুর, বাজে তেলকুপি, পূর্ব খাটিয়ামারী, পশ্চিম খাটিয়ামারী এবং এরেন্ডাবাড়ির বুলবুুলির চর, ভাটিয়াপাড়া, পূর্ব হরিচণ্ডী ও পশ্চিম হরিচণ্ডী। সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া, মোলারচর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম এবং গিদারী ও লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কিছু কিছু এলাকায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া, হরিপুর, চণ্ডীপুর, তারাপুর, বেলকা ইউনিয়েন ৪০টি গ্রাম এবং ফুলছড়ি উপজেলার অধিকাংশ এলাকা বন্যাকবলিত হয়েছে।

লালমনিরহাট: উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ও ধরলার পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যা দেখা দিয়েছে এ দুই নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তিস্তা নদীবিধৌত পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গোড্ডিমারী ডাউয়াবাড়ী, পাটিকাপাড়া, সিন্দুর্ণা, কালীগঞ্জের কাকিনা, ভোটমারী, তুষভাণ্ডার, আদিতমারীর মহিষখোচা; লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা, রাজপুর, খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন এবং ধরলা নদীবিধৌত পাটগ্রামের বুড়িমারী, শ্রীরামপুর, জোংড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘উজানের পলিবাহিত পানির কারণে ভাটিতে তিস্তা ও ধরলা নদীর বুকে কিছু কিছু জায়গায় চর জেগে উঠেছে। এ কারণে সামান্য পানিতেই বন্যা ও ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি হারাচ্ছেন। এসব এলাকায় ত্রাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা নদীভাঙন ও বন্যা থেকে স্থায়ী সমাধান চান। তারা নদীতে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বলে তিনি জানান।’

বগুড়া: বগুড়ায় যমুনা, বাঙালি, করতোয়া নদীসহ সব উপনদী ও বিলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে যমুনা নদীতে। এতে কোনো কোনো এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় নির্মিত স্পার ধসে গেছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বাঙালি নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং যমুনা নদীতে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X