বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:০২
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, September 4, 2017 12:01 am
A- A A+ Print

উত্তর কোরিয়ার বোমাটি কতটা শক্তিধর ছিলো?

180984_1

পিয়ংইয়ং: উত্তর কোরিয়া বলছে তারা রবিবার যে পারমানবিক বোমাটি পরীক্ষা করেছে সেটি হাইড্রোজেন বোমা অর্থাৎ যেটি ধ্বংসক্ষমতার বিচারে সাধারণ পারমানবিক বোমার চেয়ে কয়েকগুণ শক্তিধর। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা এখনও নিশ্চিতভাবে বলতে রাজী হচ্ছেন না যে বোমাটি হাইড্রোজেন বোমা। তবে তারা একযোগে স্বীকার করছেন, এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া যতগুলো পারমানবিক বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে, এটি ছিল তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিধর। খবর বিবিসির। মাটির নীচে দশ কিমি গভীরে এই বিস্ফোরণের পর রিক্টার স্কেলে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে যা পার্শ্ববর্তী চীনের বেশ কিছু এলাকাতেও ভূকম্পনের সৃষ্টি করে। বিস্ফোরণের পর ভূকম্পনের মাত্রা বিবেচনা করে অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষা করা বোমাটির শক্তি ছিল ১০০ কিলোটনের মত। অর্থাৎ ১৯৪৫ সালে জাপানের নাগাসাকি শহরে আমেরিকার যে পারমানবিক বোমা তাৎক্ষনিক ৭০,০০০ মানুষের জীবন নিয়েছিল, উত্তর কোরিয়ার আজকের বোমটির শক্তি তার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি। আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক ভিপিন নারাং ব্লুমবার্গ সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, বোমাটি হাইড্রোজেন বোমা হোক আর না হোক, এটি দিয়ে আমেরিকার যে কোনো বড় একটি শহর পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে ফেলা সম্ভব। বিশ্বের ভয়াবহতম কিছু পারমানবিক বিস্ফোরণ উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষা করা বোমাটি যদি হাইড্রোজেন বোমাও হয়, তার পরেও এখন পর্যন্ত বিশ্বে ভয়াবহ যেসব পারমানবিক বোমার পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলোর সাথে এটির তুলনা কতটা করা যায়? এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে মানুষের সৃষ্ট সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ হয়েছিল ১৯৬১ সালে যখন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘জার বোমবা’ বা ‘বোমার রাজা’ নামে একটি পারমানবিক বোমা পরীক্ষা করে। ঐ হাইড্রোজেন বোমার শক্তি ছিল ৫০,০০০ কিলোটন। আর্কটিক অঞ্চলে নোভায়া জেমলিয়া নামে দ্বীপপুঞ্জের যে জায়গায় ঐ দানবীয় বোমাটি পরীক্ষা করা হয়েছিল, তার ৩৫ মাইলের মধ্যে সমস্ত ভবন, স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এমনকী শত শত কিলোমিটার দুরেও ভবনে ক্ষতি হয়েছিল। ফিনল্যান্ড, নরওয়ের মত অনেক দুরের দেশগুলোতেও বহু বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙ্গে পড়েছিল। তবে বিশ্বের প্রথমবারের মত হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৫২ সালে, প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপে। সেটির শক্তি ছিল ১০,০০০ কিলোটন। ৫০ কিমি দুরে একটি জাহাজে বসে সেই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন মার্কিন একজন পদার্থ বিজ্ঞানী হ্যারল্ড অ্যাগনিউ। তিনি পরে বলেছিলেন - ‘অত দূরে বসে যে তাপ সেদিন বোধ করেছিলাম তা জীবনেও ভুলবোনা। ক্রমাগত তাপ আসছিলো। ভীতিকর এক অভিজ্ঞতা ছিলো সেটি।’ পরীক্ষার পর ধোঁয়ার কুন্ডুলি ৫০ কিমি উপরে উঠে গিয়েছিল, ছড়িয়ে পড়েছিল ১০০ কিমি পর্যন্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমানবিক পরীক্ষা ছিল ১৯৫৪ সালে ঐ মার্শাল দ্বীপেরই বিকিনি অ্যাটল এলাকায়। শক্তি ছিল ১৫০০০ কিলোটন। পরীক্ষার পর ১১,০০০ কিমি পর্যন্ত তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছিলো। শত শত বহু মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছিলো, যারা আর কখনই বাড়িতে ফিরতে পারেনি।
 

Comments

Comments!

 উত্তর কোরিয়ার বোমাটি কতটা শক্তিধর ছিলো?AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

উত্তর কোরিয়ার বোমাটি কতটা শক্তিধর ছিলো?

Monday, September 4, 2017 12:01 am
180984_1

পিয়ংইয়ং: উত্তর কোরিয়া বলছে তারা রবিবার যে পারমানবিক বোমাটি পরীক্ষা করেছে সেটি হাইড্রোজেন বোমা অর্থাৎ যেটি ধ্বংসক্ষমতার বিচারে সাধারণ পারমানবিক বোমার চেয়ে কয়েকগুণ শক্তিধর।

পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা এখনও নিশ্চিতভাবে বলতে রাজী হচ্ছেন না যে বোমাটি হাইড্রোজেন বোমা। তবে তারা একযোগে স্বীকার করছেন, এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া যতগুলো পারমানবিক বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে, এটি ছিল তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিধর। খবর বিবিসির।

মাটির নীচে দশ কিমি গভীরে এই বিস্ফোরণের পর রিক্টার স্কেলে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে যা পার্শ্ববর্তী চীনের বেশ কিছু এলাকাতেও ভূকম্পনের সৃষ্টি করে।

বিস্ফোরণের পর ভূকম্পনের মাত্রা বিবেচনা করে অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষা করা বোমাটির শক্তি ছিল ১০০ কিলোটনের মত।

অর্থাৎ ১৯৪৫ সালে জাপানের নাগাসাকি শহরে আমেরিকার যে পারমানবিক বোমা তাৎক্ষনিক ৭০,০০০ মানুষের জীবন নিয়েছিল, উত্তর কোরিয়ার আজকের বোমটির শক্তি তার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি।

আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক ভিপিন নারাং ব্লুমবার্গ সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, বোমাটি হাইড্রোজেন বোমা হোক আর না হোক, এটি দিয়ে আমেরিকার যে কোনো বড় একটি শহর পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে ফেলা সম্ভব।

বিশ্বের ভয়াবহতম কিছু পারমানবিক বিস্ফোরণ

উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষা করা বোমাটি যদি হাইড্রোজেন বোমাও হয়, তার পরেও এখন পর্যন্ত বিশ্বে ভয়াবহ যেসব পারমানবিক বোমার পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলোর সাথে এটির তুলনা কতটা করা যায়?

এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে মানুষের সৃষ্ট সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ হয়েছিল ১৯৬১ সালে যখন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘জার বোমবা’ বা ‘বোমার রাজা’ নামে একটি পারমানবিক বোমা পরীক্ষা করে।

ঐ হাইড্রোজেন বোমার শক্তি ছিল ৫০,০০০ কিলোটন।

আর্কটিক অঞ্চলে নোভায়া জেমলিয়া নামে দ্বীপপুঞ্জের যে জায়গায় ঐ দানবীয় বোমাটি পরীক্ষা করা হয়েছিল, তার ৩৫ মাইলের মধ্যে সমস্ত ভবন, স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

এমনকী শত শত কিলোমিটার দুরেও ভবনে ক্ষতি হয়েছিল। ফিনল্যান্ড, নরওয়ের মত অনেক দুরের দেশগুলোতেও বহু বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙ্গে পড়েছিল।

তবে বিশ্বের প্রথমবারের মত হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৫২ সালে, প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপে। সেটির শক্তি ছিল ১০,০০০ কিলোটন।

৫০ কিমি দুরে একটি জাহাজে বসে সেই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন মার্কিন একজন পদার্থ বিজ্ঞানী হ্যারল্ড অ্যাগনিউ। তিনি পরে বলেছিলেন – ‘অত দূরে বসে যে তাপ সেদিন বোধ করেছিলাম তা জীবনেও ভুলবোনা। ক্রমাগত তাপ আসছিলো। ভীতিকর এক অভিজ্ঞতা ছিলো সেটি।’

পরীক্ষার পর ধোঁয়ার কুন্ডুলি ৫০ কিমি উপরে উঠে গিয়েছিল, ছড়িয়ে পড়েছিল ১০০ কিমি পর্যন্ত।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমানবিক পরীক্ষা ছিল ১৯৫৪ সালে ঐ মার্শাল দ্বীপেরই বিকিনি অ্যাটল এলাকায়। শক্তি ছিল ১৫০০০ কিলোটন। পরীক্ষার পর ১১,০০০ কিমি পর্যন্ত তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছিলো।

শত শত বহু মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছিলো, যারা আর কখনই বাড়িতে ফিরতে পারেনি।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X