মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১:৫৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, July 1, 2017 9:57 am
A- A A+ Print

এক টেবিলে আটজনের দুঃসহ রাত

6

ছুটির দিন বিকেলে গুলশানে বন্ধু তাহানাদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন ফাইরুজ মালিহা। ওই দিন দুপুরেই তাঁদের আরেক বন্ধু তাহমিদ হাসিব খান কানাডা থেকে ফেরেন। দেখা করার জন্য তাহমিদকে হোলি আর্টিজান বেকারিতে আসতে বলেন ফাইরুজ। তাহানাদের বাড়ি থেকে কাছেই হোলি আর্টিজান। সন্ধ্যার খানিক পর ওই বেকারিতে ঢোকেন তাঁরা। ১ জুলাই শুক্রবারের ওই দিনটিতে ভারতীয় চিকিৎসক সত্যপ্রকাশও খেতে গিয়েছিলেন একই বেকারিতে। জঙ্গিরা বেকারির জীবিত অতিথিদের একটি টেবিলে সারা রাত বসিয়ে রেখেছিল। সেই টেবিলে বসে ছিলেন সত্যপ্রকাশ, ফাইরুজ, তাহানা ও তাহমিদ। একই টেবিলে আরও ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম (এখন কারাবন্দী), তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান। ঘটনার পর ২৬ জুলাই সত্যপ্রকাশ এবং ১৪ আগস্ট ফাইরুজ ও তাহানা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকার মেয়ে ফাইরুজ জবানবন্দিতে বলেন, ওই দিন বিকেলে তিনি তাঁর বান্ধবী তাহানাদের বাড়িতে যান। সেখানে ইফতার শেষে তাঁরা তাঁদের সদ্য কানাডা থেকে আসা বন্ধু তাহমিদকে ফোন করে দেখা করতে আসার জন্য বলেন। তাহানাদের বাসা হোলি আর্টিজান বেকারির পাশেই। ইফতারের পর তাহমিদ বাসার নিচে এসে ফোন দেন। তখন তাহমিদকে হোলি আর্টিজান বেকারিতে অপেক্ষা করতে বলেন ফাইরুজ। এরপর ৮টা ১০ মিনিটে তাঁরা দুজন হোলি আর্টিজান বেকারিতে যান। সেখানে আগে থেকেই তাহমিদ অপেক্ষা করছিলেন। এরপর তাঁরা তিনজন মিলে ভেতরে কাউন্টারে গিয়ে আইসক্রিমের অর্ডার দেন। এ সময় বেকারির একজন কর্মী তাঁদের ডিনার না করলে বাইরে লনের শেডে গিয়ে বসতে বলেন। তাঁরা তিনজন বাইরে এসে বসেন। বাইরে বসা ফাইরুজ, তাহানা ও তাহমিদ হঠাৎই একটি গুলির শব্দ শুনতে পান। প্রথমে তাঁরা পটকা ভেবেছিলেন। এরপর আরও কয়েকটি গুলির শব্দ। কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁরা ব্যাগ কাঁধে তিন তরুণকে দেখতে পান। তরুণেরা বেকারির ভেতরে ঢুকেই সামনের টেবিলে বসা বিদেশিদের গুলি করে। বাইরে বসা তিন বন্ধু তখন গাছের আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় দুই জঙ্গি তাঁদের কাছে আসে। জঙ্গিদের আসতে দেখে তাঁরা বাংলায় ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং জীবন ভিক্ষা চান। তখন জঙ্গিদের একজন ইংরেজিতে জানতে চায় তাঁরা মুসলমান কি না। তাঁরা তিনজনই হ্যাঁ-সূচক জবাব দেন। এরপর জঙ্গিরা তাঁদের ভেতরে যেতে বলে। তাহানা তাঁর জবানবন্দিতে বলেছেন, বেকারির ভেতরে নিয়ে তাঁদের একটি টেবিলে মাথা নিচু করে বসতে বলা হয়। তাঁরা গিয়ে দেখেন, আগে থেকেই একটি পরিবার সেখানে বসে রয়েছে। বসার সময়ও তিন বন্ধু জঙ্গিদের কাছে নিজেদের প্রাণভিক্ষা চান এবং ছেড়ে দিতে বলেন। এ সময় জঙ্গিদের একজন তাঁদের বলে, ঝামেলা না করলে তারা কোনো বাংলাদেশি মুসলিমকে হত্যা করবে না। বসার পর জঙ্গিরা সবার ফোন টেবিলের ওপর রাখতে বলে। তাঁদের ফোন করে পরিবারকে জানাতে বলা হয়। এ সময় ফাইরুজ মায়ের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। কথা বলার একপর্যায়ে তাঁর ফোন কেড়ে নেয় এক জঙ্গি। রাতে সবার ফোন নিয়ে অনেক ছবি তোলে তারা। এরপর ফোন নিয়ে ওপরে যায় জঙ্গিরা। পরে বের হওয়ার সময় সবার ফোন ফেরত দেওয়া হয়। ফাইরুজের জবানবন্দিতে বলা হয়, মধ্যরাতে জঙ্গিদের কাছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিনন্দন বার্তা আসতে থাকে বলে তারা জিম্মিদের জানায় এবং তারা শহীদ হয়ে জান্নাতে যাচ্ছে বলেও একাধিক জঙ্গি জিম্মিদের বলে। ফাইরুজ বলেন, একসময় পুরো বেকারির বাতি বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাত দেড়টার দিকে একটি ফ্রিজের ভেতর থেকে এক বিদেশি ও এক বেকারিকর্মীকে বের করে জঙ্গিরা। বের করার পরপরই বিদেশি লোকটিকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আর বেকারির কর্মীকে অন্য কর্মীদের সঙ্গে একটি টেবিলে বসতে দেওয়া হয়। ফাইরুজ বলেন, তিনি দেখেছেন জঙ্গিদের একজন একটি রান্নাঘরের দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে। দরজা ভাঙতে না পেরে ওই জঙ্গি পাশে থাকা টেবিল ভাঙচুর করে এবং নিচে পড়ে থাকা এক বিদেশির লাশে এলোপাতাড়ি কোপ দেয়। পরে অবশ্য ওই জঙ্গি দরজা ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয়। ফাইরুজের জবানবন্দিতে বলা হয়, রাতে একসময় নিবরাস এসে তাহমিদকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কোথায় লেখাপড়া করেন। তাহমিদ জবাব দেন, তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তখন নিবরাস বলেন, ‘নর্থ সাউথ ভালো জায়গা না। আমিও তোমাদের পথে ছিলাম। ইসলামের কথা শুনে এ পথে এসেছি।’ এক জঙ্গি তাঁদের পেস্ট্রি শপ থেকে কিছু খাবার এনে দেয়। নিবরাস এ সময় ইসলাম নিয়ে বেশ কিছু কথা বলেন। শেষ রাতের দিকে তাঁদের টেবিল পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। একজন বেকারিকর্মী রান্না করা মাছ টেবিলে এনে রাখেন। জঙ্গিরা এ সময় সবাইকে সাহরি খেয়ে রোজা রাখতে বলে। তাঁরা সবাই কিছু কিছু খাবার খান। সত্যপ্রকাশ তাঁর জবানবন্দিতে বলেছেন, জঙ্গিরা সাহরি খেতে দিলে সন্দেহ এড়াতে তিনিও কয়েক গ্রাস খান। সাহরির পর তারা আবারও সবাইকে টেবিলে মাথা রাখতে বলে। পরে তারা টেবিলে বসে থাকা অতিথিদের দুজনকে তাদের সঙ্গে যেতে বলে। তিনি তাঁদের (দুই জিম্মি হাসনাত ও তাহমিদ) সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখেন। কিছু সময় পর তাঁরা ফিরে আসেন এবং তাঁর পাশের টেবিলে মাথা নিচু করে বসেন। এ সময় তিনি দেখেন, একজন হামলাকারী চারপাশে হেঁটে বেড়াচ্ছে। তিনি হাসনাতকে দরজা খুলতে দেখেন। এই মুহূর্তটির বিবরণ দিতে গিয়ে ফাইরুজ তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, সকালের দিকে রোহান এসে মোবাশ্বেরের কাছ থেকে একটি পিস্তল নিয়ে ওপরে যান। এরপর এসে তাহমিদের হাতে পিস্তলটি দিয়ে ওপরে যেতে বলেন। তাহমিদ কান্নাকাটি করেন। পরে রোহান বলেন পিস্তলে গুলি নেই। এরপর তাঁরা তাহমিদকে নিয়ে ওপরে যান। ১৫ মিনিট পরে আবার ফিরিয়ে আনেন। সকালের দিকে এসে তাঁরা জিম্মিদের দাঁড়াতে বলেন। জঙ্গিরা ঢোকার মূল দরজার সামনে দুটি গ্যাসের সিলিন্ডার রাখেন। হাসনাত করিমের হাতে দরজার চাবি দিয়ে দরজা খুলতে বলেন। এরপর তাঁদের সবাইকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। হাসনাত করিম তাঁর পরিবার নিয়ে সবার আগে যান। এরপর অন্যরা তাঁর পিছে পিছে বেরিয়ে আসেন। জবানবন্দিতে সত্যপ্রকাশ বলেন, ‘এক হামলাকারী তাহমিদকে কোরআন শরিফ দিচ্ছিল। কিন্তু তাহমিদ তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। আমি তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। তারা আমাদের ফোন (টেবিলের ওপর রাখা) ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়। আমরা রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার জন্য হাঁটা শুরু করি।’

Comments

Comments!

 এক টেবিলে আটজনের দুঃসহ রাতAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

এক টেবিলে আটজনের দুঃসহ রাত

Saturday, July 1, 2017 9:57 am
6

ছুটির দিন বিকেলে গুলশানে বন্ধু তাহানাদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন ফাইরুজ মালিহা। ওই দিন দুপুরেই তাঁদের আরেক বন্ধু তাহমিদ হাসিব খান কানাডা থেকে ফেরেন। দেখা করার জন্য তাহমিদকে হোলি আর্টিজান বেকারিতে আসতে বলেন ফাইরুজ। তাহানাদের বাড়ি থেকে কাছেই হোলি আর্টিজান। সন্ধ্যার খানিক পর ওই বেকারিতে ঢোকেন তাঁরা।
১ জুলাই শুক্রবারের ওই দিনটিতে ভারতীয় চিকিৎসক সত্যপ্রকাশও খেতে গিয়েছিলেন একই বেকারিতে। জঙ্গিরা বেকারির জীবিত অতিথিদের একটি টেবিলে সারা রাত বসিয়ে রেখেছিল। সেই টেবিলে বসে ছিলেন সত্যপ্রকাশ, ফাইরুজ, তাহানা ও তাহমিদ। একই টেবিলে আরও ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম (এখন কারাবন্দী), তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান।
ঘটনার পর ২৬ জুলাই সত্যপ্রকাশ এবং ১৪ আগস্ট ফাইরুজ ও তাহানা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ঢাকার মেয়ে ফাইরুজ জবানবন্দিতে বলেন, ওই দিন বিকেলে তিনি তাঁর বান্ধবী তাহানাদের বাড়িতে যান। সেখানে ইফতার শেষে তাঁরা তাঁদের সদ্য কানাডা থেকে আসা বন্ধু তাহমিদকে ফোন করে দেখা করতে আসার জন্য বলেন। তাহানাদের বাসা হোলি আর্টিজান বেকারির পাশেই। ইফতারের পর তাহমিদ বাসার নিচে এসে ফোন দেন। তখন তাহমিদকে হোলি আর্টিজান বেকারিতে অপেক্ষা করতে বলেন ফাইরুজ। এরপর ৮টা ১০ মিনিটে তাঁরা দুজন হোলি আর্টিজান বেকারিতে যান। সেখানে আগে থেকেই তাহমিদ অপেক্ষা করছিলেন। এরপর তাঁরা তিনজন মিলে ভেতরে কাউন্টারে গিয়ে আইসক্রিমের অর্ডার দেন। এ সময় বেকারির একজন কর্মী তাঁদের ডিনার না করলে বাইরে লনের শেডে গিয়ে বসতে বলেন। তাঁরা তিনজন বাইরে এসে বসেন।
বাইরে বসা ফাইরুজ, তাহানা ও তাহমিদ হঠাৎই একটি গুলির শব্দ শুনতে পান। প্রথমে তাঁরা পটকা ভেবেছিলেন। এরপর আরও কয়েকটি গুলির শব্দ। কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁরা ব্যাগ কাঁধে তিন তরুণকে দেখতে পান। তরুণেরা বেকারির ভেতরে ঢুকেই সামনের টেবিলে বসা বিদেশিদের গুলি করে। বাইরে বসা তিন বন্ধু তখন গাছের আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় দুই জঙ্গি তাঁদের কাছে আসে। জঙ্গিদের আসতে দেখে তাঁরা বাংলায় ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং জীবন ভিক্ষা চান। তখন জঙ্গিদের একজন ইংরেজিতে জানতে চায় তাঁরা মুসলমান কি না। তাঁরা তিনজনই হ্যাঁ-সূচক জবাব দেন। এরপর জঙ্গিরা তাঁদের ভেতরে যেতে বলে।
তাহানা তাঁর জবানবন্দিতে বলেছেন, বেকারির ভেতরে নিয়ে তাঁদের একটি টেবিলে মাথা নিচু করে বসতে বলা হয়। তাঁরা গিয়ে দেখেন, আগে থেকেই একটি পরিবার সেখানে বসে রয়েছে। বসার সময়ও তিন বন্ধু জঙ্গিদের কাছে নিজেদের প্রাণভিক্ষা চান এবং ছেড়ে দিতে বলেন। এ সময় জঙ্গিদের একজন তাঁদের বলে, ঝামেলা না করলে তারা কোনো বাংলাদেশি মুসলিমকে হত্যা করবে না। বসার পর জঙ্গিরা সবার ফোন টেবিলের ওপর রাখতে বলে। তাঁদের ফোন করে পরিবারকে জানাতে বলা হয়। এ সময় ফাইরুজ মায়ের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। কথা বলার একপর্যায়ে তাঁর ফোন কেড়ে নেয় এক জঙ্গি। রাতে সবার ফোন নিয়ে অনেক ছবি তোলে তারা। এরপর ফোন নিয়ে ওপরে যায় জঙ্গিরা। পরে বের হওয়ার সময় সবার ফোন ফেরত দেওয়া হয়।
ফাইরুজের জবানবন্দিতে বলা হয়, মধ্যরাতে জঙ্গিদের কাছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিনন্দন বার্তা আসতে থাকে বলে তারা জিম্মিদের জানায় এবং তারা শহীদ হয়ে জান্নাতে যাচ্ছে বলেও একাধিক জঙ্গি জিম্মিদের বলে।
ফাইরুজ বলেন, একসময় পুরো বেকারির বাতি বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাত দেড়টার দিকে একটি ফ্রিজের ভেতর থেকে এক বিদেশি ও এক বেকারিকর্মীকে বের করে জঙ্গিরা। বের করার পরপরই বিদেশি লোকটিকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আর বেকারির কর্মীকে অন্য কর্মীদের সঙ্গে একটি টেবিলে বসতে দেওয়া হয়।
ফাইরুজ বলেন, তিনি দেখেছেন জঙ্গিদের একজন একটি রান্নাঘরের দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে। দরজা ভাঙতে না পেরে ওই জঙ্গি পাশে থাকা টেবিল ভাঙচুর করে এবং নিচে পড়ে থাকা এক বিদেশির লাশে এলোপাতাড়ি কোপ দেয়। পরে অবশ্য ওই জঙ্গি দরজা ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয়।
ফাইরুজের জবানবন্দিতে বলা হয়, রাতে একসময় নিবরাস এসে তাহমিদকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কোথায় লেখাপড়া করেন। তাহমিদ জবাব দেন, তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তখন নিবরাস বলেন, ‘নর্থ সাউথ ভালো জায়গা না। আমিও তোমাদের পথে ছিলাম। ইসলামের কথা শুনে এ পথে এসেছি।’ এক জঙ্গি তাঁদের পেস্ট্রি শপ থেকে কিছু খাবার এনে দেয়। নিবরাস এ সময় ইসলাম নিয়ে বেশ কিছু কথা বলেন। শেষ রাতের দিকে তাঁদের টেবিল পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। একজন বেকারিকর্মী রান্না করা মাছ টেবিলে এনে রাখেন। জঙ্গিরা এ সময় সবাইকে সাহরি খেয়ে রোজা রাখতে বলে। তাঁরা সবাই কিছু কিছু খাবার খান।
সত্যপ্রকাশ তাঁর জবানবন্দিতে বলেছেন, জঙ্গিরা সাহরি খেতে দিলে সন্দেহ এড়াতে তিনিও কয়েক গ্রাস খান। সাহরির পর তারা আবারও সবাইকে টেবিলে মাথা রাখতে বলে। পরে তারা টেবিলে বসে থাকা অতিথিদের দুজনকে তাদের সঙ্গে যেতে বলে। তিনি তাঁদের (দুই জিম্মি হাসনাত ও তাহমিদ) সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখেন। কিছু সময় পর তাঁরা ফিরে আসেন এবং তাঁর পাশের টেবিলে মাথা নিচু করে বসেন। এ সময় তিনি দেখেন, একজন হামলাকারী চারপাশে হেঁটে বেড়াচ্ছে। তিনি হাসনাতকে দরজা খুলতে দেখেন।
এই মুহূর্তটির বিবরণ দিতে গিয়ে ফাইরুজ তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, সকালের দিকে রোহান এসে মোবাশ্বেরের কাছ থেকে একটি পিস্তল নিয়ে ওপরে যান। এরপর এসে তাহমিদের হাতে পিস্তলটি দিয়ে ওপরে যেতে বলেন। তাহমিদ কান্নাকাটি করেন। পরে রোহান বলেন পিস্তলে গুলি নেই। এরপর তাঁরা তাহমিদকে নিয়ে ওপরে যান। ১৫ মিনিট পরে আবার ফিরিয়ে আনেন। সকালের দিকে এসে তাঁরা জিম্মিদের দাঁড়াতে বলেন। জঙ্গিরা ঢোকার মূল দরজার সামনে দুটি গ্যাসের সিলিন্ডার রাখেন। হাসনাত করিমের হাতে দরজার চাবি দিয়ে দরজা খুলতে বলেন। এরপর তাঁদের সবাইকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। হাসনাত করিম তাঁর পরিবার নিয়ে সবার আগে যান। এরপর অন্যরা তাঁর পিছে পিছে বেরিয়ে আসেন।
জবানবন্দিতে সত্যপ্রকাশ বলেন, ‘এক হামলাকারী তাহমিদকে কোরআন শরিফ দিচ্ছিল। কিন্তু তাহমিদ তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। আমি তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। তারা আমাদের ফোন (টেবিলের ওপর রাখা) ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়। আমরা রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার জন্য হাঁটা শুরু করি।’

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X