রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৩৪
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, September 18, 2017 5:36 pm
A- A A+ Print

এক সমীকরণে আর্মি, সু চি ও বৌদ্ধরা

4

রয়টার্স: সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের দমনে মিয়ানমারের সব পক্ষই একজোট হয়ে মাঠে নেমেছে। সেনাবাহিনী, অং সান সু চির ক্ষমতাসীন দল ও দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের নিধনে এখন একাট্টা বলে উল্লেখ করা হয়েছে রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে। তিন পই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে দেখছে। এ সম্প্রদায়কে নির্মূল করতে সেনাবাহিনীর অভিযানে সমর্থন দিচ্ছে অন্যরা।

দীর্ঘ সেনাশাসনের দিনগুলোতে সু চির দলকে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছে সেনাবাহিনী। অন্য অনেকের মতো এনএলডির সিনিয়র নেতা নিয়ান উইনকেও তিন বছর জেলে কাটাতে হয়েছে সেই সময়। সেই নিয়ান উইন বলছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব তারা কোনোভাবেই লঙ্ঘিত হতে দিতে পারেন না। রোহিঙ্গা প্রশ্নে এ জায়গায়ই তারা সেনাবাহিনীর সাথে একজোট। তিনি বলছেন, ‘আমরা সেনাবাহিনীকে পছন্দ করি না। কিন্তু এ বিষয়ে আমরা এক’। ক্ষমতাসীন দল এনএলডির মিডিয়া টিমের প্রধান ৭৫ বছর বয়সী নিয়ান উইন। তিনি বলেন, ‘এরা (রোহিঙ্গা) অবৈধ অভিবাসী, এটি নিশ্চিত। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনো সেটি বলে না।’ জাতিসঙ্ঘ রোহিঙ্গাদের গ্রামে সেনা অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূলের’ চেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করলেও দণি-পূর্ব এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে চীনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকেরা বলছেন, সু চির প ত্যাগ করে মিয়ানমারের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপের রাস্তায় গেলে দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফেরার প্রক্রিয়া ঝুঁকিতে পড়তে পারে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে বাস করে এলেও রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা, শিা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ‘ভুয়া খবর’ সেনাবাহিনীর সৃষ্ট সাংবিধানিক জটিলতায় প্রেসিডেন্ট হতে না পারলেও নেপথ্যে থেকে তিনিই দেশ চালাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যাই আসুক, সু চির ভাষ্য হলোÑ রাখাইনে বেসামরিকদের হত্যা ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের জন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরসা দায়ী। রাখাইন অভিযান নিয়ে ‘বড় পরিসরে ভুয়া তথ্য’ প্রচার করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। গণতন্ত্রের পে অহিংস আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার। কিন্তু রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে বর্তমান অবস্থানের কারণে এখন তিনি অনেক নোবেল বিজয়ী ও বিশ্বনেতার সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এমনকি তার নোবেল কেড়ে নেয়ার দাবিও উঠেছে। চলমান সেনা অভিযানের পে জনসমর্থন বাড়াতে বিভিন্নভাবে প্রচার চালাচ্ছে সু চির সরকার। অনেক ফেসবুক ও টুইটার পোস্টে সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত অমুসলিমদের প্রতি সমর্থন দেখানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। মিয়ানমারের অনেকেই রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য হুমকি বলে মনে করেন। ‘সত্যিকারের অভিভাবক’ রাখাইনের এই সঙ্ঘাত সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমারজুড়ে। গত রোববার সন্ধ্যায় মিয়ানমারের মাগওয়ে এলাকার একটি শহরে লাঠি ও তরবারি হাতে একদল লোক একটি মসজিদে হামলা চালাতে যায়। পরে রাবার বুলেট ছুড়ে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। অন্যান্য মসজিদেও হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন মুসলমানেরা। কূটনীতিকরা বলছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট সু চিকে রাজনৈতিকভাবে একটি অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছে বলে তাদের মনে হচ্ছে। ২০১১ সালে দেশটিতে বেসামরিকীকরণ শুরু হলেও এখনো রাষ্ট্রীয় অনেক মতা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সেনাবাহিনী নিজেদের মিয়ানমারের জাতীয়তাবাদ ও বৌদ্ধধর্মের প্রকৃত অভিভাবক হিসেবে চিত্রায়িত করে। আর এটিই সু চির নীরবতার কারণ হতে পারে বলে কূটনীতিকদের অভিমত। এনএলডি নেতা নিয়ান উইন বলেন, ‘তিনি (সু চি) যদি এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলেন, তাহলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হবে। তাতে রাখাইন সঙ্কটের সমাধান আরো কঠিন হয়ে যাবে।’ রাখাইনে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করতে দিতে পারি না, কারণ তারা আমাদের নাগরিক নয়।’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চির অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান মিয়ানমারের নির্বাসিত ৮ নাগরিকের খোলা চিঠি  মিজামা ডটকম রোহিঙ্গা ইস্যুতে অং সান সু চিকে তার অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে এক আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছেন দেশটির নির্বাসিত আটজন নাগরিক। বার্মিজ সমাজ ‘জাতিগত ঘৃণা ও ধর্মীয় গোঁড়ামির' অতল গহ্বরে পতিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা। চিঠির লেখকেরা বলেছেন, জন্মস্থান মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে দুঃখ ভাগাভাগি করতে তারা এই চিঠি লিখছেন। চিঠিতে সু চির ব্যক্তিগত উত্তরাধিকার, জনগণের দুর্দশা এবং জাতি হিসেবে মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠির লেখকেরা উল্লেখ করেছেন, তাদের পরিবারের কিছু সদস্য ও বাবারা সু চির পরলোকগত বাবা জেনারেল অং সানের সমকালীন ছিলেন। ছিলেন সহকর্মী। সু চির বাবার মতো তারাও দেশের কল্যাণে অবদান রেখেছেন। ১৯৮৮ সালে সু চির দেয়া প্রথম বক্তৃতার প্রসঙ্গ টেনে লেখকেরা বলেন, জনগণ যত দিন নিপীড়নের শিকার হতে থাকবেন, তত দিন কথা বলবেন বলেছিলেন। তার এই সংকল্প ও সাহসিকতায় তারা (লেখকেরা) দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। লেখকেরা বলেছেন, তাদের বাবা-মা ও প্রজন্মের কাছ থেকে সু চির জীবন উৎসর্গকারী বাবা যে ভালোবাসা, সম্মান ও বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন, লাখো বার্মিজের মতো তারাও তা তাকে (সু চি) দিয়েছেন। সামরিক জান্তার নিপীড়ন বন্ধে সু চির ডাকে রোহিঙ্গাসহ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই সাড়া দিয়েছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন লেখকেরা। তারা বলেছেন, সু চি যখন মুক্তি পান, তখন তারা উৎফুল্ল হয়েছিলেন।

Comments

Comments!

 এক সমীকরণে আর্মি, সু চি ও বৌদ্ধরাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

এক সমীকরণে আর্মি, সু চি ও বৌদ্ধরা

Monday, September 18, 2017 5:36 pm
4

রয়টার্স: সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের দমনে মিয়ানমারের সব পক্ষই একজোট হয়ে মাঠে নেমেছে। সেনাবাহিনী, অং সান সু চির ক্ষমতাসীন দল ও দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের নিধনে এখন একাট্টা বলে উল্লেখ করা হয়েছে রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে। তিন পই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে দেখছে। এ সম্প্রদায়কে নির্মূল করতে সেনাবাহিনীর অভিযানে সমর্থন দিচ্ছে অন্যরা।

দীর্ঘ সেনাশাসনের দিনগুলোতে সু চির দলকে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছে সেনাবাহিনী। অন্য অনেকের মতো এনএলডির সিনিয়র নেতা নিয়ান উইনকেও তিন বছর জেলে কাটাতে হয়েছে সেই সময়। সেই নিয়ান উইন বলছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব তারা কোনোভাবেই লঙ্ঘিত হতে দিতে পারেন না। রোহিঙ্গা প্রশ্নে এ জায়গায়ই তারা সেনাবাহিনীর সাথে একজোট। তিনি বলছেন, ‘আমরা সেনাবাহিনীকে পছন্দ করি না। কিন্তু এ বিষয়ে আমরা এক’। ক্ষমতাসীন দল এনএলডির মিডিয়া টিমের প্রধান ৭৫ বছর বয়সী নিয়ান উইন। তিনি বলেন, ‘এরা (রোহিঙ্গা) অবৈধ অভিবাসী, এটি নিশ্চিত। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনো সেটি বলে না।’
জাতিসঙ্ঘ রোহিঙ্গাদের গ্রামে সেনা অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূলের’ চেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করলেও দণি-পূর্ব এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে চীনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকেরা বলছেন, সু চির প ত্যাগ করে মিয়ানমারের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপের রাস্তায় গেলে দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফেরার প্রক্রিয়া ঝুঁকিতে পড়তে পারে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে বাস করে এলেও রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা, শিা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
‘ভুয়া খবর’
সেনাবাহিনীর সৃষ্ট সাংবিধানিক জটিলতায় প্রেসিডেন্ট হতে না পারলেও নেপথ্যে থেকে তিনিই দেশ চালাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যাই আসুক, সু চির ভাষ্য হলোÑ রাখাইনে বেসামরিকদের হত্যা ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের জন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরসা দায়ী। রাখাইন অভিযান নিয়ে ‘বড় পরিসরে ভুয়া তথ্য’ প্রচার করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। গণতন্ত্রের পে অহিংস আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার। কিন্তু রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে বর্তমান অবস্থানের কারণে এখন তিনি অনেক নোবেল বিজয়ী ও বিশ্বনেতার সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এমনকি তার নোবেল কেড়ে নেয়ার দাবিও উঠেছে।
চলমান সেনা অভিযানের পে জনসমর্থন বাড়াতে বিভিন্নভাবে প্রচার চালাচ্ছে সু চির সরকার। অনেক ফেসবুক ও টুইটার পোস্টে সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত অমুসলিমদের প্রতি সমর্থন দেখানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। মিয়ানমারের অনেকেই রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য হুমকি বলে মনে করেন।
‘সত্যিকারের অভিভাবক’
রাখাইনের এই সঙ্ঘাত সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমারজুড়ে। গত রোববার সন্ধ্যায় মিয়ানমারের মাগওয়ে এলাকার একটি শহরে লাঠি ও তরবারি হাতে একদল লোক একটি মসজিদে হামলা চালাতে যায়। পরে রাবার বুলেট ছুড়ে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। অন্যান্য মসজিদেও হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন মুসলমানেরা।
কূটনীতিকরা বলছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট সু চিকে রাজনৈতিকভাবে একটি অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছে বলে তাদের মনে হচ্ছে। ২০১১ সালে দেশটিতে বেসামরিকীকরণ শুরু হলেও এখনো রাষ্ট্রীয় অনেক মতা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সেনাবাহিনী নিজেদের মিয়ানমারের জাতীয়তাবাদ ও বৌদ্ধধর্মের প্রকৃত অভিভাবক হিসেবে চিত্রায়িত করে। আর এটিই সু চির নীরবতার কারণ হতে পারে বলে কূটনীতিকদের অভিমত।
এনএলডি নেতা নিয়ান উইন বলেন, ‘তিনি (সু চি) যদি এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলেন, তাহলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হবে। তাতে রাখাইন সঙ্কটের সমাধান আরো কঠিন হয়ে যাবে।’ রাখাইনে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করতে দিতে পারি না, কারণ তারা আমাদের নাগরিক নয়।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চির অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান মিয়ানমারের নির্বাসিত ৮ নাগরিকের খোলা চিঠি
 মিজামা ডটকম

রোহিঙ্গা ইস্যুতে অং সান সু চিকে তার অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে এক আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছেন দেশটির নির্বাসিত আটজন নাগরিক। বার্মিজ সমাজ ‘জাতিগত ঘৃণা ও ধর্মীয় গোঁড়ামির’ অতল গহ্বরে পতিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
চিঠির লেখকেরা বলেছেন, জন্মস্থান মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে দুঃখ ভাগাভাগি করতে তারা এই চিঠি লিখছেন। চিঠিতে সু চির ব্যক্তিগত উত্তরাধিকার, জনগণের দুর্দশা এবং জাতি হিসেবে মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠির লেখকেরা উল্লেখ করেছেন, তাদের পরিবারের কিছু সদস্য ও বাবারা সু চির পরলোকগত বাবা জেনারেল অং সানের সমকালীন ছিলেন। ছিলেন সহকর্মী। সু চির বাবার মতো তারাও দেশের কল্যাণে অবদান রেখেছেন।
১৯৮৮ সালে সু চির দেয়া প্রথম বক্তৃতার প্রসঙ্গ টেনে লেখকেরা বলেন, জনগণ যত দিন নিপীড়নের শিকার হতে থাকবেন, তত দিন কথা বলবেন বলেছিলেন। তার এই সংকল্প ও সাহসিকতায় তারা (লেখকেরা) দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। লেখকেরা বলেছেন, তাদের বাবা-মা ও প্রজন্মের কাছ থেকে সু চির জীবন উৎসর্গকারী বাবা যে ভালোবাসা, সম্মান ও বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন, লাখো বার্মিজের মতো তারাও তা তাকে (সু চি) দিয়েছেন।
সামরিক জান্তার নিপীড়ন বন্ধে সু চির ডাকে রোহিঙ্গাসহ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই সাড়া দিয়েছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন লেখকেরা। তারা বলেছেন, সু চি যখন মুক্তি পান, তখন তারা উৎফুল্ল হয়েছিলেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X