রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:৩১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, September 16, 2016 8:44 am
A- A A+ Print

এবার চামড়ার দাম ৩০% কম, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লোকসানে

download

এবার পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি হওয়া গরুর চামড়ার দাম গতবারের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম মিলেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা একটি গরুর চামড়া ১ হাজার ৩০০ থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন; যা গত বছরের চেয়ে গড়ে ৫০০ টাকা কম।

ব্যবসায়ীরা ঈদের আগে চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করেছিলেন, তা ছিল গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ কম।

ট্যানারি মালিক, পুরান ঢাকার পোস্তার চামড়ার আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এবার দাম কমে যাওয়ার কারণ—চামড়ার বাজারে অর্থের সংকট। ট্যানারি মালিকেরা এ বছর আড়তদারদের পাওনা অর্থের বড় অংশ পরিশোধ করেননি। ফলে আড়তের মালিকেরা আগের মতো বেশি পরিমাণে চামড়া কিনতে পারেননি। অন্যদিকে ট্যানারি মালিকেরা নিজেরাও সরাসরি খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে চামড়া কিনতে তেমন আগ্রহী ছিলেন না। ফলে বাজারে চাহিদা কম ছিল। এ ছাড়া লবণের চড়া দামের কারণেও ব্যবসায়ীরা চামড়ার বেশি মূল্য দিতে চাননি।

ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদের দিন গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে মধ্যরাতের আগ পর্যন্ত চামড়ার দাম মোটামুটি ভালো ছিল। কিন্তু মধ্যরাতের পর দাম ব্যাপকভাবে কমতে থাকে। পোস্তায় যানজটের কারণে যেসব মৌসুমি ব্যবসায়ীর চামড়া আড়তে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে, তাঁদেরই লোকসানে বিক্রি করতে হয়েছে। কারণ, আড়তে নিয়ে চামড়ায় দ্রুত লবণ দিতে না পারলে তা নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী বাজারের পরিস্থিতি না বুঝে বেশি দামে চামড়া কিনে পরে লোকসানে বিক্রি করেছেন।

জানতে চাইলে হাইড অ্যান্ড স্কিন রিটেইল ডিলার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান মৃধা গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, এবার চামড়ার দাম কম থাকবে—এটা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। বাজারে চামড়া কেনাবেচা হয়েছে প্রতিটি ১ হাজার ৩০০ থেকে দেড় হাজার টাকা দরে; যা গত বছর ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা ছিল। তিনি বলেন, ‘যারা নিয়মিত চামড়া কেনাবেচা করে, তারা বাজার বুঝতে পারে। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তা পারে না। ফলে এবার তারা বেশি দামে চামড়া কিনলেও সে অনুযায়ী বিক্রি করতে না পেরে লোকসান দিয়েছে।’

ট্যানারি মালিকদের কেউ কেউ সরাসরি বাজার থেকে চামড়া কিনেছেন। অনেকে মাদ্রাসাগুলো থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছেন। হাজারীবাগের সবচেয়ে বড় ট্যানারি ঢাকা হাইড অ্যান্ড স্কিনস দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে প্রায় ২৫ হাজার চামড়া সংগ্রহ করেছে। ওই ট্যানারির পরিচালক জে এ খোকন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের প্রতিটি চামড়ার দাম পড়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। গত বছর দাম ছিল ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

চামড়ার দাম এত কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে খোকন ভূঁইয়া বলেন, এবার চামড়ার ক্রেতা কম ছিল। তাই দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অনেক কমে গেছে। চামড়া কিনে তা বিক্রি করতে না পারলে ট্যানারি মালিকেরা কী করবেন?

দেশে বছরে যে পরিমাণ পশুর চামড়া সংগৃহীত হয়, তার ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ আসে ঈদুল আজহায়। সবচেয়ে ভালো, সুস্থ, সবল ও দেখতে সুন্দর গরুগুলো কোরবানিতে জবাই হয় বলে এ সময় চামড়ার মান ভালো থাকে। চামড়া কেনার প্রতি ব্যবসায়ীদের আগ্রহও বেশি থাকে এ সময়ে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম ও চাহিদা কমে যাওয়ায় গত বছরের ৩০ শতাংশ চামড়া এখনো মজুত রয়ে গেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। একই কারণ দেখিয়ে এ বছর চামড়ার দাম কমিয়ে নির্ধারণ করেছিলেন তাঁরা।

কোরবানির তিন দিন আগে গত শুক্রবার ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ঢাকায় ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ টাকা দরে কেনা হবে বলে জানায় চামড়া খাতের তিন সংগঠন। এ ছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০ টাকা, বকরির চামড়া ১৫ টাকা ও মহিষের চামড়া ২৫ টাকা করে কেনা হবে বলেও জানানো হয়। গত বছর ঢাকায় গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫০-৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ট্যানারি মালিকেরা বলেছিলেন, নির্ধারিত দরে তাঁরা ট্যানারি পর্যায়ে এ চামড়া কিনবেন। তবে বরাবরের মতো এবারও এ দর কার্যকর থাকেনি। আড়তের মালিকদের দাবি, আড়ত পর্যায়ে প্রতি বর্গফুট চামড়ার খরচ পড়েছে ৭০ টাকার কাছাকাছি।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. টিপু সুলতান প্রথম আলোকে বলেন, ৭৫ থেকে ৮০ টাকা বর্গফুট দরে ট্যানারির কাছে চামড়া বিক্রি করতে পারলে তাঁদের প্রতিটি চামড়ায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাভ থাকবে। গত বছর কোরবানির চামড়া তাঁরা প্রতি বর্গফুট ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। যদিও নির্ধারিত দর ছিল ৫৫ টাকা।

লবণের চড়া দামে চামড়ায় খরচ বেড়েছে: চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় ঈদের দিন রাতে লবণের দাম ব্যাপক বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ঈদের দিন মধ্যরাতে প্রতি বস্তা (৭৪ কেজি) লবণের দাম ২ হাজার টাকায় উঠেছিল; যা গত বছর ছিল সাড়ে ৫০০ টাকা।

একটি চামড়ার আড়তের ক্রয়কর্মী মো. হ‌ুমায়ূন বলেন, ‘একজনের কাছে লবণ আছে জেনে আমরা তাঁকে বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা করে দাম দিতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি ২ হাজার টাকার নিচে বিক্রি করতে রাজি হননি। অবশ্য বৃহস্পতিবার দাম পড়ে গেছে।’

ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিটি গরুর চামড়া সংরক্ষণে ৮ থেকে ১০ কেজি লবণের প্রয়োজন হয়। এবার প্রতিটি চামড়ার পেছনে গড়ে ১০০ টাকা বাড়তি খরচ হয়েছে লবণের চড়া দামের কারণে।

গত দুই মৌসুমে ভালো উৎপাদন না হওয়ায় দেশে লবণের দাম বেড়ে যায়। সরকার এখন পর্যন্ত দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু সে লবণ কোরবানির আগে দেশে পৌঁছায়নি।

টিপু সুলতান বলেন, লবণ নিয়ে সরকারের আরও আগেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল।

Comments

Comments!

 এবার চামড়ার দাম ৩০% কম, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লোকসানেAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

এবার চামড়ার দাম ৩০% কম, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লোকসানে

Friday, September 16, 2016 8:44 am
download

এবার পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি হওয়া গরুর চামড়ার দাম গতবারের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম মিলেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা একটি গরুর চামড়া ১ হাজার ৩০০ থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন; যা গত বছরের চেয়ে গড়ে ৫০০ টাকা কম।

ব্যবসায়ীরা ঈদের আগে চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করেছিলেন, তা ছিল গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ কম।

ট্যানারি মালিক, পুরান ঢাকার পোস্তার চামড়ার আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এবার দাম কমে যাওয়ার কারণ—চামড়ার বাজারে অর্থের সংকট। ট্যানারি মালিকেরা এ বছর আড়তদারদের পাওনা অর্থের বড় অংশ পরিশোধ করেননি। ফলে আড়তের মালিকেরা আগের মতো বেশি পরিমাণে চামড়া কিনতে পারেননি। অন্যদিকে ট্যানারি মালিকেরা নিজেরাও সরাসরি খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে চামড়া কিনতে তেমন আগ্রহী ছিলেন না। ফলে বাজারে চাহিদা কম ছিল। এ ছাড়া লবণের চড়া দামের কারণেও ব্যবসায়ীরা চামড়ার বেশি মূল্য দিতে চাননি।

ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদের দিন গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে মধ্যরাতের আগ পর্যন্ত চামড়ার দাম মোটামুটি ভালো ছিল। কিন্তু মধ্যরাতের পর দাম ব্যাপকভাবে কমতে থাকে। পোস্তায় যানজটের কারণে যেসব মৌসুমি ব্যবসায়ীর চামড়া আড়তে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে, তাঁদেরই লোকসানে বিক্রি করতে হয়েছে। কারণ, আড়তে নিয়ে চামড়ায় দ্রুত লবণ দিতে না পারলে তা নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী বাজারের পরিস্থিতি না বুঝে বেশি দামে চামড়া কিনে পরে লোকসানে বিক্রি করেছেন।

জানতে চাইলে হাইড অ্যান্ড স্কিন রিটেইল ডিলার মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান মৃধা গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, এবার চামড়ার দাম কম থাকবে—এটা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। বাজারে চামড়া কেনাবেচা হয়েছে প্রতিটি ১ হাজার ৩০০ থেকে দেড় হাজার টাকা দরে; যা গত বছর ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা ছিল। তিনি বলেন, ‘যারা নিয়মিত চামড়া কেনাবেচা করে, তারা বাজার বুঝতে পারে। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তা পারে না। ফলে এবার তারা বেশি দামে চামড়া কিনলেও সে অনুযায়ী বিক্রি করতে না পেরে লোকসান দিয়েছে।’

ট্যানারি মালিকদের কেউ কেউ সরাসরি বাজার থেকে চামড়া কিনেছেন। অনেকে মাদ্রাসাগুলো থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছেন। হাজারীবাগের সবচেয়ে বড় ট্যানারি ঢাকা হাইড অ্যান্ড স্কিনস দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে প্রায় ২৫ হাজার চামড়া সংগ্রহ করেছে। ওই ট্যানারির পরিচালক জে এ খোকন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের প্রতিটি চামড়ার দাম পড়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। গত বছর দাম ছিল ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

চামড়ার দাম এত কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে খোকন ভূঁইয়া বলেন, এবার চামড়ার ক্রেতা কম ছিল। তাই দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অনেক কমে গেছে। চামড়া কিনে তা বিক্রি করতে না পারলে ট্যানারি মালিকেরা কী করবেন?

দেশে বছরে যে পরিমাণ পশুর চামড়া সংগৃহীত হয়, তার ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ আসে ঈদুল আজহায়। সবচেয়ে ভালো, সুস্থ, সবল ও দেখতে সুন্দর গরুগুলো কোরবানিতে জবাই হয় বলে এ সময় চামড়ার মান ভালো থাকে। চামড়া কেনার প্রতি ব্যবসায়ীদের আগ্রহও বেশি থাকে এ সময়ে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম ও চাহিদা কমে যাওয়ায় গত বছরের ৩০ শতাংশ চামড়া এখনো মজুত রয়ে গেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। একই কারণ দেখিয়ে এ বছর চামড়ার দাম কমিয়ে নির্ধারণ করেছিলেন তাঁরা।

কোরবানির তিন দিন আগে গত শুক্রবার ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ঢাকায় ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ টাকা দরে কেনা হবে বলে জানায় চামড়া খাতের তিন সংগঠন। এ ছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০ টাকা, বকরির চামড়া ১৫ টাকা ও মহিষের চামড়া ২৫ টাকা করে কেনা হবে বলেও জানানো হয়। গত বছর ঢাকায় গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫০-৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ট্যানারি মালিকেরা বলেছিলেন, নির্ধারিত দরে তাঁরা ট্যানারি পর্যায়ে এ চামড়া কিনবেন। তবে বরাবরের মতো এবারও এ দর কার্যকর থাকেনি। আড়তের মালিকদের দাবি, আড়ত পর্যায়ে প্রতি বর্গফুট চামড়ার খরচ পড়েছে ৭০ টাকার কাছাকাছি।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. টিপু সুলতান প্রথম আলোকে বলেন, ৭৫ থেকে ৮০ টাকা বর্গফুট দরে ট্যানারির কাছে চামড়া বিক্রি করতে পারলে তাঁদের প্রতিটি চামড়ায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাভ থাকবে। গত বছর কোরবানির চামড়া তাঁরা প্রতি বর্গফুট ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। যদিও নির্ধারিত দর ছিল ৫৫ টাকা।

লবণের চড়া দামে চামড়ায় খরচ বেড়েছে: চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় ঈদের দিন রাতে লবণের দাম ব্যাপক বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ঈদের দিন মধ্যরাতে প্রতি বস্তা (৭৪ কেজি) লবণের দাম ২ হাজার টাকায় উঠেছিল; যা গত বছর ছিল সাড়ে ৫০০ টাকা।

একটি চামড়ার আড়তের ক্রয়কর্মী মো. হ‌ুমায়ূন বলেন, ‘একজনের কাছে লবণ আছে জেনে আমরা তাঁকে বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা করে দাম দিতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি ২ হাজার টাকার নিচে বিক্রি করতে রাজি হননি। অবশ্য বৃহস্পতিবার দাম পড়ে গেছে।’

ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিটি গরুর চামড়া সংরক্ষণে ৮ থেকে ১০ কেজি লবণের প্রয়োজন হয়। এবার প্রতিটি চামড়ার পেছনে গড়ে ১০০ টাকা বাড়তি খরচ হয়েছে লবণের চড়া দামের কারণে।

গত দুই মৌসুমে ভালো উৎপাদন না হওয়ায় দেশে লবণের দাম বেড়ে যায়। সরকার এখন পর্যন্ত দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু সে লবণ কোরবানির আগে দেশে পৌঁছায়নি।

টিপু সুলতান বলেন, লবণ নিয়ে সরকারের আরও আগেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X