রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৬:০৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, September 6, 2016 9:19 am
A- A A+ Print

এবার প্রাথমিকের পাঠ্যবই ছাপার কাজ পেল ভারত

241086_1

এবার প্রাথমিকের প্রায় দুই কোটি পাঠ্যবই বই ছাপার কাজ পেল ভারত। এ ছাড়া প্রাক প্রাথমিক এবং শিক্ষক নির্দেশিকা মিলিয়ে প্রায় সোয় দুই কোটি বই ছাপার কাজ পেয়েছে প্রতিবেশী ওই দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার ১১ কোটি ৫৭ লাখ বিনামূল্যের বই ছাপাতে যাচ্ছে। ১১ কোটি ৫৭ লাখ বইকে মোট ৯৮টি লটে ভাগ করে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছিল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এর মধ্যে ভারতের তিনটি প্রতিষ্ঠান ১৬টি লটে কাজ পেল এবার। বাকি ৮২টি লটে কাজ পেয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন মুদ্রণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া শিক্ষক নির্দেশিকার সব বইয়ের কাজ পায় ভারত ও চীন। আর প্রাক প্রাথমিকের বেশ কিছু বই ছাপার কাজ পেয়েছে ভারত। এনসিটিবি এবং মুদ্রণ শিল্প সূত্র জানিয়েছে, সব মিলিয়ে এবার ভারত প্রায় সোয়া দুই কোটি বই ছাপার কাজ পেল। এ দিকে অভিযোগ উঠেছে এবারো বিশ্বব্যাংকের কারণে বিনামূল্যের বই ছাপার কাজ দেড় মাস পিছিয়ে গেছে। তবে এনসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা নয়া দিগন্তকে বলেন, আশা করছি আমরা সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে পারব। অন্য দিকে এবার সময়মতো বই পৌঁছানো নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত। এর কারণ হিসেবে তারা চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংককে। এনসিটিবি সূত্র জানায়, এবার ভারতের পিতামব্রা বুকস প্রাইভেট লিমিটেড ৯৮টি লটের মধ্যে ৫৫টি লটে সর্বনি¤œ দরদাতা নির্বাচিত হয়; কিন্তু তারা এনসিটিবির সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র পালের নামে ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ জমা দিয়েছিল। ফলে তাদের ৫৫টি লটই বাতিল করা হয়। তা না হলে এবার প্রাথমিকের দুই-তৃতীয়াংশ পাঠ্যবই ছাপার কাজই ভারতে চলে যেত। অভিযোগ রয়েছে জাল সনদ জমা দেয়া সত্ত্বেও পিতামব্রা বুকস প্রাইভেট লিমিটেডকে কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন মহল জোর তৎপরতা চালিয়েছে। সে কারণেই এবার প্রায় দেড় মাস পিছিয়ে গেছে বই ছাপার কাজ। সূত্র জানিয়েছে, এনসিটিবি থেকে প্রস্তাব পাঠানোর এক মাস পর বিশ্বব্যাংক ৬৩টি লটের বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে ফাইল ফেরত দেয় গত মাসের ১৬ তারিখ। বাকি লটের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত জানায় গত মাসের ২৫ তারিখ। অতীতে সাধারণত বিশ্বব্যাংকের কাছে এনসিটিবি থেকে প্রস্তাব পাঠানোর পর দুই থেকে তিন দিনের মাথায় ফাইল ফেরত দেয়া হতো। নিয়ম অনুযায়ী মূল্যায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক সর্বোচ্চ ১৩ দিন ফাইল ধরে রাখতে পারে; কিন্তু এবার তারা এক মাস পরে ফাইল ছেড়েছে, তা-ও পুরোপুরি নয়। ফলে এনসিটিবি সময়মতো মুদ্রণ শিল্প মালিকদের নোটিফিকেশন অ্যাওয়ার্ড এবং কার্যাদেশ দিতে পারেনি। গত বছরও বিশ্বব্যাংকের শর্তের কারণে দেশীয় মুদ্রণ শিল্প মালিকদের বই ছাপার কাজ পেতে অনেক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বিলম্বে কাজ পাওয়ার কারণে সময়মতো সব শিক্ষার্থীদের হাতে যেমন বই পৌঁছে দেয়া যায়নি, তেমনি বইয়ের মানও অনেক খারাপ হয়েছে। কয়েক বছর ধরে সরকার ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের বই তুলে দেয়ার মাধ্যমে বই উৎসব পালন করে। গত বছরও এ উৎসব পালন করা হয়; তবে সর্বত্র সব শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পোছানো সম্ভব হয়নি। এবারো একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে আশঙ্কা করছে সূত্রগুলো। প্রাথমিকের বই ছাপার কাজে বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণগ্রহণের কারণে বই ছাপার কাজে যোগ্য হিসেবে বাছাই করা দরদাতা প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠাতে হয় তাদের অনুমতি গ্রহণের জন্য। এনসিটবি সূত্র জানায়, টেকনিক্যাল কমিটি যাচাই-বাছাই করে দরপত্রে অংশ নেয়া ভারতের পিতামব্রা এবং দণি কোরিয়া ও চীনের প্রতিষ্ঠানকে অযোগ্য ঘোষণা করে। এরপর ৯৮টি লটের মধ্যে ৮২টি লট বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ১৬টি লটে ভারতের অপর কিছু প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়। ভারতের কৃষ্ণা ট্রেডার্সকে ১০টি লটে মনোনীত করা হয়। এনসটিবির তৈরি করা এ প্রস্তাব গত ১৭ জুলাই মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয় বিশ্বব্যাংকের কাছে; কিন্তু বিশ্বব্যাংক সময়মতো ফাইল ফেরত না পাঠিয়ে তা দীর্ঘ দিন আটকে রাখে নিয়মবহির্ভূতভাবে। এনসিটিবি সূত্র জানায় ২৪ ডিসেম্বর উপজেলায় বই পাঠানোর জন্য তারিখ নির্ধারিত; কিন্তু বিশ্বব্যাংক দীর্ঘ দিন ফাইল আটকে রাখায় এখন বাকি প্রক্রিয়া শেষ করে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহের আগে উপজেলায় বই পাঠানো কঠিন হয়ে যাবে। গত বছর ভারতে বই ছাপা ঠেকাতে বাংলাদেশের মুদ্রণ শিল্প মালিকেরা একজোট হয়ে বই ছাপার দর অনেক কম নির্ধারণ করে। ফলে ভারতের কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ পায়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ তোলা হয় কমদামে মানসম্পন্ন বই সরবরাহ করবে না দেশীয় প্রতিষ্ঠান। তাই বইয়ের মান ঠিক রাখার জন্য বিশ্বব্যাংক অনেক শর্ত আরোপ করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, বর্ণিত শর্তাবলির যা দরপত্রের সম্পূর্ণ বাইরে ছিল। বিশ্বব্যাংকের এ শর্তের বিরুদ্ধে একযোগে রুখে দাঁড়ায় দেশীয় মুদ্রণ শিল্প মালিকেরা এবং বিশ্বব্যাংকের শর্ত পরিহার না করা হলে তারা বই ছাপা বয়কট করার ঘোষণা দেয়। শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলামের নাহিদের মধ্যস্থতায় বিশ্বব্যাংকের শর্ত ছাড়াই বই ছাপার কাজ পায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান। তবে বিশ্বব্যাংকের শর্তের বিষয়টি সুরাহা করতে যেমন অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে, তেমনি বিলম্বও ঘটেছে। সঠিক সময়ে বই পাওয়া নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এবারো বিশ্বব্যাংকের কারণে বই ছাপার কাজে বিলম্ব ঘটতে যাচ্ছে মর্মে অভিযোগ তোলা হয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে। গত পাঁচ বছরে প্রাাথমিক স্তরের ১৪ কোটি পাঠ্যবই ছাপা হয়েছে ভারতে। ফলে বঞ্চিত হয়েছে দেশের মুদ্রণ শিল্প, গরিব শ্রমিক এবং ছোট ছোট অনেক ব্যবসায়ী। এনসিটিবি ২০১০ সালে সর্বপ্রথম প্রাইমারি স্কুলের বই ছাপার জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে দেশীয় মুদ্রণ শিল্প মালিকদের আপত্তি উপেক্ষা করে। সেই থেকে প্রায় প্রতি বছর ভারতীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যায় দেশের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

Comments

Comments!

 এবার প্রাথমিকের পাঠ্যবই ছাপার কাজ পেল ভারতAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

এবার প্রাথমিকের পাঠ্যবই ছাপার কাজ পেল ভারত

Tuesday, September 6, 2016 9:19 am
241086_1

এবার প্রাথমিকের প্রায় দুই কোটি পাঠ্যবই বই ছাপার কাজ পেল ভারত। এ ছাড়া প্রাক প্রাথমিক এবং শিক্ষক নির্দেশিকা মিলিয়ে প্রায় সোয় দুই কোটি বই ছাপার কাজ পেয়েছে প্রতিবেশী ওই দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার ১১ কোটি ৫৭ লাখ বিনামূল্যের বই ছাপাতে যাচ্ছে। ১১ কোটি ৫৭ লাখ বইকে মোট ৯৮টি লটে ভাগ করে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছিল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এর মধ্যে ভারতের তিনটি প্রতিষ্ঠান ১৬টি লটে কাজ পেল এবার। বাকি ৮২টি লটে কাজ পেয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন মুদ্রণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া শিক্ষক নির্দেশিকার সব বইয়ের কাজ পায় ভারত ও চীন। আর প্রাক প্রাথমিকের বেশ কিছু বই ছাপার কাজ পেয়েছে ভারত। এনসিটিবি এবং মুদ্রণ শিল্প সূত্র জানিয়েছে, সব মিলিয়ে এবার ভারত প্রায় সোয়া দুই কোটি বই ছাপার কাজ পেল।

এ দিকে অভিযোগ উঠেছে এবারো বিশ্বব্যাংকের কারণে বিনামূল্যের বই ছাপার কাজ দেড় মাস পিছিয়ে গেছে। তবে এনসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা নয়া দিগন্তকে বলেন, আশা করছি আমরা সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে পারব। অন্য দিকে এবার সময়মতো বই পৌঁছানো নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত। এর কারণ হিসেবে তারা চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংককে। এনসিটিবি সূত্র জানায়, এবার ভারতের পিতামব্রা বুকস প্রাইভেট লিমিটেড ৯৮টি লটের মধ্যে ৫৫টি লটে সর্বনি¤œ দরদাতা নির্বাচিত হয়; কিন্তু তারা এনসিটিবির সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র পালের নামে ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ জমা দিয়েছিল। ফলে তাদের ৫৫টি লটই বাতিল করা হয়। তা না হলে এবার প্রাথমিকের দুই-তৃতীয়াংশ পাঠ্যবই ছাপার কাজই ভারতে চলে যেত। অভিযোগ রয়েছে জাল সনদ জমা দেয়া সত্ত্বেও পিতামব্রা বুকস প্রাইভেট লিমিটেডকে কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন মহল জোর তৎপরতা চালিয়েছে। সে কারণেই এবার প্রায় দেড় মাস পিছিয়ে গেছে বই ছাপার কাজ।

সূত্র জানিয়েছে, এনসিটিবি থেকে প্রস্তাব পাঠানোর এক মাস পর বিশ্বব্যাংক ৬৩টি লটের বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে ফাইল ফেরত দেয় গত মাসের ১৬ তারিখ। বাকি লটের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত জানায় গত মাসের ২৫ তারিখ। অতীতে সাধারণত বিশ্বব্যাংকের কাছে এনসিটিবি থেকে প্রস্তাব পাঠানোর পর দুই থেকে তিন দিনের মাথায় ফাইল ফেরত দেয়া হতো। নিয়ম অনুযায়ী মূল্যায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক সর্বোচ্চ ১৩ দিন ফাইল ধরে রাখতে পারে; কিন্তু এবার তারা এক মাস পরে ফাইল ছেড়েছে, তা-ও পুরোপুরি নয়। ফলে এনসিটিবি সময়মতো মুদ্রণ শিল্প মালিকদের নোটিফিকেশন অ্যাওয়ার্ড এবং কার্যাদেশ দিতে পারেনি।

গত বছরও বিশ্বব্যাংকের শর্তের কারণে দেশীয় মুদ্রণ শিল্প মালিকদের বই ছাপার কাজ পেতে অনেক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বিলম্বে কাজ পাওয়ার কারণে সময়মতো সব শিক্ষার্থীদের হাতে যেমন বই পৌঁছে দেয়া যায়নি, তেমনি বইয়ের মানও অনেক খারাপ হয়েছে।

কয়েক বছর ধরে সরকার ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের বই তুলে দেয়ার মাধ্যমে বই উৎসব পালন করে। গত বছরও এ উৎসব পালন করা হয়; তবে সর্বত্র সব শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পোছানো সম্ভব হয়নি। এবারো একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে আশঙ্কা করছে সূত্রগুলো।

প্রাথমিকের বই ছাপার কাজে বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণগ্রহণের কারণে বই ছাপার কাজে যোগ্য হিসেবে বাছাই করা দরদাতা প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠাতে হয় তাদের অনুমতি গ্রহণের জন্য।

এনসিটবি সূত্র জানায়, টেকনিক্যাল কমিটি যাচাই-বাছাই করে দরপত্রে অংশ নেয়া ভারতের পিতামব্রা এবং দণি কোরিয়া ও চীনের প্রতিষ্ঠানকে অযোগ্য ঘোষণা করে। এরপর ৯৮টি লটের মধ্যে ৮২টি লট বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ১৬টি লটে ভারতের অপর কিছু প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়। ভারতের কৃষ্ণা ট্রেডার্সকে ১০টি লটে মনোনীত করা হয়। এনসটিবির তৈরি করা এ প্রস্তাব গত ১৭ জুলাই মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয় বিশ্বব্যাংকের কাছে; কিন্তু বিশ্বব্যাংক সময়মতো ফাইল ফেরত না পাঠিয়ে তা দীর্ঘ দিন আটকে রাখে নিয়মবহির্ভূতভাবে।

এনসিটিবি সূত্র জানায় ২৪ ডিসেম্বর উপজেলায় বই পাঠানোর জন্য তারিখ নির্ধারিত; কিন্তু বিশ্বব্যাংক দীর্ঘ দিন ফাইল আটকে রাখায় এখন বাকি প্রক্রিয়া শেষ করে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহের আগে উপজেলায় বই পাঠানো কঠিন হয়ে যাবে।

গত বছর ভারতে বই ছাপা ঠেকাতে বাংলাদেশের মুদ্রণ শিল্প মালিকেরা একজোট হয়ে বই ছাপার দর অনেক কম নির্ধারণ করে। ফলে ভারতের কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ পায়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ তোলা হয় কমদামে মানসম্পন্ন বই সরবরাহ করবে না দেশীয় প্রতিষ্ঠান। তাই বইয়ের মান ঠিক রাখার জন্য বিশ্বব্যাংক অনেক শর্ত আরোপ করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, বর্ণিত শর্তাবলির যা দরপত্রের সম্পূর্ণ বাইরে ছিল। বিশ্বব্যাংকের এ শর্তের বিরুদ্ধে একযোগে রুখে দাঁড়ায় দেশীয় মুদ্রণ শিল্প মালিকেরা এবং বিশ্বব্যাংকের শর্ত পরিহার না করা হলে তারা বই ছাপা বয়কট করার ঘোষণা দেয়। শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলামের নাহিদের মধ্যস্থতায় বিশ্বব্যাংকের শর্ত ছাড়াই বই ছাপার কাজ পায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান। তবে বিশ্বব্যাংকের শর্তের বিষয়টি সুরাহা করতে যেমন অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে, তেমনি বিলম্বও ঘটেছে। সঠিক সময়ে বই পাওয়া নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এবারো বিশ্বব্যাংকের কারণে বই ছাপার কাজে বিলম্ব ঘটতে যাচ্ছে মর্মে অভিযোগ তোলা হয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে।

গত পাঁচ বছরে প্রাাথমিক স্তরের ১৪ কোটি পাঠ্যবই ছাপা হয়েছে ভারতে। ফলে বঞ্চিত হয়েছে দেশের মুদ্রণ শিল্প, গরিব শ্রমিক এবং ছোট ছোট অনেক ব্যবসায়ী। এনসিটিবি ২০১০ সালে সর্বপ্রথম প্রাইমারি স্কুলের বই ছাপার জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে দেশীয় মুদ্রণ শিল্প মালিকদের আপত্তি উপেক্ষা করে। সেই থেকে প্রায় প্রতি বছর ভারতীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যায় দেশের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X