বুধবার, ২২শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং, ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:১১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, October 27, 2017 8:04 am
A- A A+ Print

এবার ব্যাংককে শিক্ষা কর্মকর্তার নারী কেলেঙ্কারি

89338_leaad

এক শিক্ষা কর্মকর্তার নারী কেলেঙ্কারি নিয়ে থাইল্যান্ডে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে থাইল্যান্ডের মাহানস্কার বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সঙ্গে সব প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছে ব্যাংকক। সূত্র মতে শিক্ষা সফরে গিয়ে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন ভোলা সদর উপজেলার শিক্ষা অফিসার জিয়াদ হাসান। তার বিরুদ্ধে ট্যুর গাইড ও থাইল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠার পর জরুরিভিত্তিতে তাকে থাইল্যান্ড থেকে দেশে পাঠানো হয়। ওদিকে জিয়াদ হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) লিখিত অভিযোগসহ চিঠি দিয়েছে সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (সেকায়েপ) প্রকল্প। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে। গত ৩রা অক্টোবর ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ডে যায়। এ দলের একজন ছিলেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা। থাইল্যান্ডের মাহানস্কার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি তাদের প্রশিক্ষণ দেয়। ওই প্রশিক্ষণের ৩০ জনের গাইড হিসেবে ছিলেন একজন নারী। ওই নারী কর্মকর্তা তাদের রিসিভ করতে বিমানবন্দরে আসেন। স্টাডি ট্যুরের দ্বিতীয় দিনে ট্যুরের নারী গাইড দুপুরে খাবারের জন্য এক বিল্ডিং থেকে অন্য বিল্ডিংয়ে নিয়ে যান তাদের। সবাই লিফটে উঠলেও জিয়াদ সবার পরে উঠবেন বলে গাইডকে জানান। ওনি না যাওয়া পর্যন্ত ওই গাইড অপেক্ষা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সবাই চলে গেলে জিয়াদ লিফটে উঠেন। এ সময় নারী গাইডকে লিফটে উঠতে ডাক দেন। এক পর্যায়ে লিফটের মধ্যেই ওই মহিলা গাইডকে জিয়াদ জড়িয়ে ধরেন। গাইড বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সত্যতা পায় কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, থাইল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এডুকেশন কাউন্সিলের একটি শাখার পরিচালক মিস নাটিয়া এম। প্রশিক্ষণের প্রথম দিন থেকেই তার সঙ্গে আপত্তিকর ও অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন জিয়াদ। প্রথম দিনেই জিয়াদ ওই নারী কর্মকর্তার মোবাইল ফোন নাম্বার সংগ্রহ করেন। রাতে ফোন দিয়ে প্রশংসা করেন। দ্বিতীয় দিন থেকে নানা ইশারা ইঙ্গিত দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে তার মোবাইলে এসএমএস দেয়া শুরু করেন। নানা কথাবার্তার এক পর্যায়ে হোটেলে একসঙ্গে থাকার মতো আপত্তিকর এসএমএস দেয়া শুরু হয়। ওই নারী কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়কে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি জানান। লিখিত অভিযোগে ওই নারী কর্মকর্তা জানান, প্রোগ্রামের প্রথম দিন থেকেই সে আমাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে আমার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নানা ধরনের মেসেজ পাঠাতে থাকে। এরমধ্যে কয়েকটি মেসেজ ছিল এ রকম। আপনি কী একা থাকেন? বাসা কোথায়? সঙ্গে কে কে থাকে? আপনার কী জানা আছে, হোটেলের রুম কয়েক ঘণ্টার জন্য ভাড়া হয় কী না? হলে আপনি কী আমার জন্য রুমটা বুকিং দিতে পারেন? এক পর্যায়ে ওই নারী কর্মকর্তাকে এক রুমে থাকার প্রস্তাব দিয়ে এসএমএস দেন, আমরা কী হোটেলের রুম বুকিং দিতে পারি এবং রুমে এক সঙ্গে থাকতে পারি? সর্বশেষ এসএমএস দিয়ে জানতে চায়, আমি যা বুঝাতে চেয়েছি আপনি তা বুঝেছেন কী। এ ধরনের আপত্তিকর মেসেজ দেয়ার পরের দিন ওই নারী কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে জানান। এরপরই তাকে দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে প্রকল্পের টিম লিডার। এবং ১০ দিনের প্রোগ্রামের ৪র্থ দিনে থাই এয়ারওয়েজ বিমানে তাকে দেশে পাঠানো হয় এবং প্রশিক্ষণের সম্মানীসহ আনুষঙ্গিক যে টাকা দেয়া হয়েছিল তা ফেরত নেয়া হয়। প্রশিক্ষণ রেখে দেশে ফিরে আসার বিষয়টি স্বীকার করে জিয়াদ হাসান মানবজমিনকে বলেন, আমি প্রশিক্ষণের মাঝখান থেকে চলে এসেছি এটা সত্য। টাকা ফেরত দিয়েছি এটাও সত্য। তবে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সত্য নয়। তিনি জানান, তার মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় জরুরিভিত্তিতে দেশে আসতে হবে জানালে টিম আমার টিকিটের ব্যবস্থা করে দেয়। লিফটে নারী গাইডকে জড়িয়ে ধরা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা কাউন্সিলের কোনো নারী কর্মকর্তাকে এসএমএস পাঠাননি বলে জানান তিনি। ওই ট্যুরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কনসালটেন্সি কাম ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং ম্যানেজমেন্ট ফার্মের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ আজিজুল ইসলাম আজিজ মানবজমিনকে বলেন, পুরো ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় ওই কর্মকর্তাকে দেশে পাঠানোর জন্য একদিন সময় দেয়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে বিমানের টিকিট খুঁজে শেষে থাই এয়ারওয়েজের টিকিট পাই। ওইদিনই তাকে দেশে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাধিক ট্রেনিং প্রোগ্রাম হয়েছে। কখনও এ ধরনের বিবৃতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। বাংলাদেশের সঙ্গে আর কোনো প্রোগ্রাম না করার কথা আমাদের জানিয়েছে তারা। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে বারবার আমাদের কাছে মেইল পাঠানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে সেকায়েপ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মাহমুদ-উল-হক মানবজমিনকে বলেন, ওই বিশ্ববিদ্যালয় লিখিত অভিযোগটি মাউশির কাছে পাঠিয়েছি। তদন্ত কমিটি করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব মাউশির। আমি মনে করি, তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া উচিত। সেকায়েপ প্রকল্প থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষা সফরে থাইল্যান্ডে গিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নারী কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় ভোলা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ৩০ সদস্যের একটি দলের সঙ্গে তিনি ৩রা অক্টোবর থাইল্যান্ড সফরে যান। ১২ই অক্টোবর দেশে ফেরার কথা থাকলেও তাকে আগেই ফেরত পাঠানো হয়। সফরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ওই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ভোলা সদরের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াদ হাসান থাইল্যান্ডে সফরকালে সেখানে একজন নারী কর্মকর্তা মিস নাটিয়া এম এর-সঙ্গে আপত্তিকর ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিষয়টি অবহিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। ওই টিমে থাকা একজন উপ-পরিচালক বলেন, এ ঘটনার পর বিব্রতকর পরিস্থিতিতে প্রোগ্রাম শেষ করে দেশে এসেছি। এই ঘটনা টিমের আর কাউকে বুঝতে দেইনি। আগামী ডিসেম্বরে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পিছিয়ে পড়া এলাকায় ইংরেজি, গণিত এবং বিজ্ঞান শিক্ষার দুর্বলতা কমানো ও শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো জন্য এই প্রকল্পটি সুনাম অর্জন করেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি পাঠ্যাভ্যাসসহ আরো বেশি কিছু প্রকল্প চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অবস্থায় ওই কর্মকর্তার কারণে আমরা সত্যিই বিব্রত। জানা গেছে, এই স্টাডি ট্যুরের টিম লিডার ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আকতারুজ্জামান। এছাড়াও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক সাঈদ মো. গোলাম ফারুক, সেকায়েপ প্রকল্পের উপ-পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান, কুমিল্লা ও যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। বাকিরা সবাই উপজেলা শিক্ষা অফিসার।

Comments

Comments!

 এবার ব্যাংককে শিক্ষা কর্মকর্তার নারী কেলেঙ্কারিAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

এবার ব্যাংককে শিক্ষা কর্মকর্তার নারী কেলেঙ্কারি

Friday, October 27, 2017 8:04 am
89338_leaad

এক শিক্ষা কর্মকর্তার নারী কেলেঙ্কারি নিয়ে থাইল্যান্ডে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে থাইল্যান্ডের মাহানস্কার বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সঙ্গে সব প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছে ব্যাংকক। সূত্র মতে শিক্ষা সফরে গিয়ে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন ভোলা সদর উপজেলার শিক্ষা অফিসার জিয়াদ হাসান। তার বিরুদ্ধে ট্যুর গাইড ও থাইল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠার পর জরুরিভিত্তিতে তাকে থাইল্যান্ড থেকে দেশে পাঠানো হয়।

ওদিকে জিয়াদ হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) লিখিত অভিযোগসহ চিঠি দিয়েছে সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (সেকায়েপ) প্রকল্প। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে।
গত ৩রা অক্টোবর ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ডে যায়। এ দলের একজন ছিলেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা। থাইল্যান্ডের মাহানস্কার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি তাদের প্রশিক্ষণ দেয়। ওই প্রশিক্ষণের ৩০ জনের গাইড হিসেবে ছিলেন একজন নারী। ওই নারী কর্মকর্তা তাদের রিসিভ করতে বিমানবন্দরে আসেন। স্টাডি ট্যুরের দ্বিতীয় দিনে ট্যুরের নারী গাইড দুপুরে খাবারের জন্য এক বিল্ডিং থেকে অন্য বিল্ডিংয়ে নিয়ে যান তাদের। সবাই লিফটে উঠলেও জিয়াদ সবার পরে উঠবেন বলে গাইডকে জানান। ওনি না যাওয়া পর্যন্ত ওই গাইড অপেক্ষা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সবাই চলে গেলে জিয়াদ লিফটে উঠেন। এ সময় নারী গাইডকে লিফটে উঠতে ডাক দেন। এক পর্যায়ে লিফটের মধ্যেই ওই মহিলা গাইডকে জিয়াদ জড়িয়ে ধরেন। গাইড বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সত্যতা পায় কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, থাইল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে এডুকেশন কাউন্সিলের একটি শাখার পরিচালক মিস নাটিয়া এম। প্রশিক্ষণের প্রথম দিন থেকেই তার সঙ্গে আপত্তিকর ও অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন জিয়াদ। প্রথম দিনেই জিয়াদ ওই নারী কর্মকর্তার মোবাইল ফোন নাম্বার সংগ্রহ করেন। রাতে ফোন দিয়ে প্রশংসা করেন। দ্বিতীয় দিন থেকে নানা ইশারা ইঙ্গিত দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে তার মোবাইলে এসএমএস দেয়া শুরু করেন। নানা কথাবার্তার এক পর্যায়ে হোটেলে একসঙ্গে থাকার মতো আপত্তিকর এসএমএস দেয়া শুরু হয়।
ওই নারী কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়কে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি জানান। লিখিত অভিযোগে ওই নারী কর্মকর্তা জানান, প্রোগ্রামের প্রথম দিন থেকেই সে আমাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে আমার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নানা ধরনের মেসেজ পাঠাতে থাকে। এরমধ্যে কয়েকটি মেসেজ ছিল এ রকম। আপনি কী একা থাকেন? বাসা কোথায়? সঙ্গে কে কে থাকে? আপনার কী জানা আছে, হোটেলের রুম কয়েক ঘণ্টার জন্য ভাড়া হয় কী না? হলে আপনি কী আমার জন্য রুমটা বুকিং দিতে পারেন? এক পর্যায়ে ওই নারী কর্মকর্তাকে এক রুমে থাকার প্রস্তাব দিয়ে এসএমএস দেন, আমরা কী হোটেলের রুম বুকিং দিতে পারি এবং রুমে এক সঙ্গে থাকতে পারি? সর্বশেষ এসএমএস দিয়ে জানতে চায়, আমি যা বুঝাতে চেয়েছি আপনি তা বুঝেছেন কী। এ ধরনের আপত্তিকর মেসেজ দেয়ার পরের দিন ওই নারী কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে জানান। এরপরই তাকে দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে প্রকল্পের টিম লিডার। এবং ১০ দিনের প্রোগ্রামের ৪র্থ দিনে থাই এয়ারওয়েজ বিমানে তাকে দেশে পাঠানো হয় এবং প্রশিক্ষণের সম্মানীসহ আনুষঙ্গিক যে টাকা দেয়া হয়েছিল তা ফেরত নেয়া হয়।
প্রশিক্ষণ রেখে দেশে ফিরে আসার বিষয়টি স্বীকার করে জিয়াদ হাসান মানবজমিনকে বলেন, আমি প্রশিক্ষণের মাঝখান থেকে চলে এসেছি এটা সত্য। টাকা ফেরত দিয়েছি এটাও সত্য। তবে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সত্য নয়। তিনি জানান, তার মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় জরুরিভিত্তিতে দেশে আসতে হবে জানালে টিম আমার টিকিটের ব্যবস্থা করে দেয়। লিফটে নারী গাইডকে জড়িয়ে ধরা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা কাউন্সিলের কোনো নারী কর্মকর্তাকে এসএমএস পাঠাননি বলে জানান তিনি।
ওই ট্যুরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কনসালটেন্সি কাম ইন্টারন্যাশনাল ট্রেনিং ম্যানেজমেন্ট ফার্মের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ আজিজুল ইসলাম আজিজ মানবজমিনকে বলেন, পুরো ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় ওই কর্মকর্তাকে দেশে পাঠানোর জন্য একদিন সময় দেয়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে বিমানের টিকিট খুঁজে শেষে থাই এয়ারওয়েজের টিকিট পাই। ওইদিনই তাকে দেশে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাধিক ট্রেনিং প্রোগ্রাম হয়েছে। কখনও এ ধরনের বিবৃতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। বাংলাদেশের সঙ্গে আর কোনো প্রোগ্রাম না করার কথা আমাদের জানিয়েছে তারা। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে বারবার আমাদের কাছে মেইল পাঠানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সেকায়েপ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মাহমুদ-উল-হক মানবজমিনকে বলেন, ওই বিশ্ববিদ্যালয় লিখিত অভিযোগটি মাউশির কাছে পাঠিয়েছি। তদন্ত কমিটি করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব মাউশির। আমি মনে করি, তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
সেকায়েপ প্রকল্প থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষা সফরে থাইল্যান্ডে গিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নারী কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় ভোলা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ৩০ সদস্যের একটি দলের সঙ্গে তিনি ৩রা অক্টোবর থাইল্যান্ড সফরে যান। ১২ই অক্টোবর দেশে ফেরার কথা থাকলেও তাকে আগেই ফেরত পাঠানো হয়। সফরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ওই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ভোলা সদরের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াদ হাসান থাইল্যান্ডে সফরকালে সেখানে একজন নারী কর্মকর্তা মিস নাটিয়া এম এর-সঙ্গে আপত্তিকর ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিষয়টি অবহিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
ওই টিমে থাকা একজন উপ-পরিচালক বলেন, এ ঘটনার পর বিব্রতকর পরিস্থিতিতে প্রোগ্রাম শেষ করে দেশে এসেছি। এই ঘটনা টিমের আর কাউকে বুঝতে দেইনি। আগামী ডিসেম্বরে এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পিছিয়ে পড়া এলাকায় ইংরেজি, গণিত এবং বিজ্ঞান শিক্ষার দুর্বলতা কমানো ও শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো জন্য এই প্রকল্পটি সুনাম অর্জন করেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি পাঠ্যাভ্যাসসহ আরো বেশি কিছু প্রকল্প চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অবস্থায় ওই কর্মকর্তার কারণে আমরা সত্যিই বিব্রত।
জানা গেছে, এই স্টাডি ট্যুরের টিম লিডার ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আকতারুজ্জামান। এছাড়াও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক সাঈদ মো. গোলাম ফারুক, সেকায়েপ প্রকল্পের উপ-পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান, কুমিল্লা ও যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। বাকিরা সবাই উপজেলা শিক্ষা অফিসার।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X