শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১০:০৯
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Sunday, September 25, 2016 11:43 pm
A- A A+ Print

এভাবেও তাহলে জেতা যায়!

Bangladesh's Shakib Al Hasan walks back to the pavilion after his dismissal by Afghanistan's Dawlat Zadran during their first one-day international cricket match in Dhaka, Bangladesh, Sunday, Sept. 25, 2016. (AP Photo/A.M. Ahad)

এভাবেও তাহলে জেতা যায়! বাংলাদেশ-আফগানিস্তান সিরিজের প্রথম ওয়ানডে দেখার পর এ ছাড়া যে আর অন্য কোনো কিছু মাথায় আসছে না কারও। এভাবেও জেতা যায়? এভাবেও ফেরা যায় ম্যাচে, মাঠে, জীবনে! নিষেধাজ্ঞার দুঃসময় পেরিয়ে ফিরে এসে শেষ ওভারের ভয়ংকর চাপকে উড়িয়ে কীভাবেই না বাংলাদেশকে জিতিয়ে দিলেন তাসকিন আহমেদ। ছয় মাস যে দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়ে পার করে এসেছেন তা যেন উড়িয়ে দিলেন। ৪ উইকেট নিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে বাংলাদেশকে জিতিয়ে দিলেন ৭ রানে। বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনটা দুর্দান্ত হচ্ছিল তাসকিনের। প্রথম বলটি ওয়াইড দিয়ে পরের বলেই ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছিলেন মোহাম্মদ শেহজাদকে। কিন্তু ইমরুল কায়েস কোনোভাবেই বলটা হাতে রাখতে পারলেন না। ষষ্ঠ ওভারে ওই তাসকিনের বলে টানা তিন চার মেরে শেহজাদ ভয়ংকর হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। তাঁকে পরের ওভারেই ফেরালেন অধিনায়ক মাশরাফি। পরের ওভারেই অন্য ওপেনার সাবির নূরিকে ফিরিয়ে দিলেন সাকিব আল হাসান। এরপরই যেন শীতনিদ্রা পেয়ে বসল বাংলাদেশের বোলার-ফিল্ডারদের। লাইন লেংথ ভুলে ছন্নছাড়া বোলিং আর একের পর এক মিস-ফিল্ডিং আফগানদের জন্য রান করাটা একেবারেই সহজ করে দিলেন। পড়ে পাওয়া এমন সুযোগ হাতছাড়া করেননি রহমত শাহ ও হাশমতউল্লাহ শহীদী। তৃতীয় উইকেট জুটিতে এই জুটি এনে দিয়েছেন ১৪৪ রান। শেষ দশ ওভার যখন বাকি, আফগানদের জন্য তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় জয়টা তুলে নেওয়া মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। ​শেষ ১০ ওভারে ৮ উইকেট হাতে রেখে দরকার ছিল মোটে ৭৭। ৪১তম ওভারে ১৯০ রানের মাথায় রহমতকে (৭১) ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আবারও আশা দেখালেন সাকিব। আগের ওভারেই অবশ্য তাইজুলের বলে হাশমতউল্লাহর ক্যাচ ফেলেছেন মাহমুদউল্লাহ। সেই হাসমতউল্লাহ ফিরলেন তাইজুলের বলে। ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিকে ৭২ পর্যন্ত টেনে আফগানিস্তানকে জয়ের প্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। একটু পর নজীবুল্লাহ জাদরানকে ফিরিয়ে আবারও খেলা জমিয়ে দেন মাশরাফি। ৪ ওভারে ২৮ রান দরকার এমন অবস্থায় বোলিংয়ে এলেন সাকিব। প্রথম বলে এক রান, এর পর আর কোনো রান হলো না ওই ওভারে। কিন্তু তৃতীয় বলটিতেই ম্যাচটি বাংলাদেশের দিকে হেলে পড়তে পারত। সাকিবের দুর্দান্ত এক বলে ক্যাচ তুলেছিলেন স্টানিকজাই, কিন্তু মুশফিক যে ক্যাচটি ধরতেই পারলেন না! তবে সেই দুঃখ কাটল পরের ওভারেই। আগের ৬ ওভারে ৪৯ রান নিয়ে কোনো উইকেট নেই। ভয়ংকর চাপে বোলিং করতে এসেও মাত্র ৬ রান দিয়ে দুই দুইটি উইকেট তুলে নিলেন তাসকিন। ২ ওভারে দরকার ২১ রান এমন পরিস্থিতিতে নিজের জাত চেনালেন পুরো ম্যাচে অদৃশ্য থাকা রুবেল হোসেন। একের পর এক ইয়র্কার। প্যাডেল স্কুপে একটি চার খেলেও শেষ বলে বোল্ড রশিদ খান। শেষ ওভারে দরকার ১৩ রান। বোলিংয়ে ফিরলেন তাসকিন। আগের ওভারেই দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ টেনে এনেছেন বাংলাদেশের দিকে। কিন্তু শেষ ওভারে চাপটা তবু কমল না। এই ওভারে হয় হিরো হবেন, নয়তো জিরো। প্রথম বলে ২ রান চাপ আরও বাড়িয়ে দিল। দ্বিতীয় বলেই এলবিডব্লু মিরওয়াইশ আশরাফ। পরের ২ বলে মাত্র ৩ রান। শেষ দুই বলে দরকার ৮ রান। পঞ্চম বলে ডট! কোনো অতিরিক্ত রান না হলে বাংলাদেশ তো জিতেই গেছে। শেষটা সর্বোচ্চ সুন্দর করতেই তাসকিন শেষ বলে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করলেন জাদরানকে। ৭ রানে জিতে গেল বাংলাদেশ।

Comments

Comments!

 এভাবেও তাহলে জেতা যায়!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

এভাবেও তাহলে জেতা যায়!

Sunday, September 25, 2016 11:43 pm
Bangladesh's Shakib Al Hasan walks back to the pavilion after his dismissal by Afghanistan's Dawlat Zadran during their first one-day international cricket match in Dhaka, Bangladesh, Sunday, Sept. 25, 2016. (AP Photo/A.M. Ahad)

এভাবেও তাহলে জেতা যায়! বাংলাদেশ-আফগানিস্তান সিরিজের প্রথম ওয়ানডে দেখার পর এ ছাড়া যে আর অন্য কোনো কিছু মাথায় আসছে না কারও। এভাবেও জেতা যায়? এভাবেও ফেরা যায় ম্যাচে, মাঠে, জীবনে! নিষেধাজ্ঞার দুঃসময় পেরিয়ে ফিরে এসে শেষ ওভারের ভয়ংকর চাপকে উড়িয়ে কীভাবেই না বাংলাদেশকে জিতিয়ে দিলেন তাসকিন আহমেদ। ছয় মাস যে দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়ে পার করে এসেছেন তা যেন উড়িয়ে দিলেন। ৪ উইকেট নিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে বাংলাদেশকে জিতিয়ে দিলেন ৭ রানে।
বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনটা দুর্দান্ত হচ্ছিল তাসকিনের। প্রথম বলটি ওয়াইড দিয়ে পরের বলেই ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছিলেন মোহাম্মদ শেহজাদকে। কিন্তু ইমরুল কায়েস কোনোভাবেই বলটা হাতে রাখতে পারলেন না। ষষ্ঠ ওভারে ওই তাসকিনের বলে টানা তিন চার মেরে শেহজাদ ভয়ংকর হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। তাঁকে পরের ওভারেই ফেরালেন অধিনায়ক মাশরাফি। পরের ওভারেই অন্য ওপেনার সাবির নূরিকে ফিরিয়ে দিলেন সাকিব আল হাসান।
এরপরই যেন শীতনিদ্রা পেয়ে বসল বাংলাদেশের বোলার-ফিল্ডারদের। লাইন লেংথ ভুলে ছন্নছাড়া বোলিং আর একের পর এক মিস-ফিল্ডিং আফগানদের জন্য রান করাটা একেবারেই সহজ করে দিলেন। পড়ে পাওয়া এমন সুযোগ হাতছাড়া করেননি রহমত শাহ ও হাশমতউল্লাহ শহীদী। তৃতীয় উইকেট জুটিতে এই জুটি এনে দিয়েছেন ১৪৪ রান। শেষ দশ ওভার যখন বাকি, আফগানদের জন্য তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় জয়টা তুলে নেওয়া মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। ​শেষ ১০ ওভারে ৮ উইকেট হাতে রেখে দরকার ছিল মোটে ৭৭।
৪১তম ওভারে ১৯০ রানের মাথায় রহমতকে (৭১) ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আবারও আশা দেখালেন সাকিব। আগের ওভারেই অবশ্য তাইজুলের বলে হাশমতউল্লাহর ক্যাচ ফেলেছেন মাহমুদউল্লাহ। সেই হাসমতউল্লাহ ফিরলেন তাইজুলের বলে। ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিকে ৭২ পর্যন্ত টেনে আফগানিস্তানকে জয়ের প্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। একটু পর নজীবুল্লাহ জাদরানকে ফিরিয়ে আবারও খেলা জমিয়ে দেন মাশরাফি।
৪ ওভারে ২৮ রান দরকার এমন অবস্থায় বোলিংয়ে এলেন সাকিব। প্রথম বলে এক রান, এর পর আর কোনো রান হলো না ওই ওভারে। কিন্তু তৃতীয় বলটিতেই ম্যাচটি বাংলাদেশের দিকে হেলে পড়তে পারত। সাকিবের দুর্দান্ত এক বলে ক্যাচ তুলেছিলেন স্টানিকজাই, কিন্তু মুশফিক যে ক্যাচটি ধরতেই পারলেন না!
তবে সেই দুঃখ কাটল পরের ওভারেই। আগের ৬ ওভারে ৪৯ রান নিয়ে কোনো উইকেট নেই। ভয়ংকর চাপে বোলিং করতে এসেও মাত্র ৬ রান দিয়ে দুই দুইটি উইকেট তুলে নিলেন তাসকিন। ২ ওভারে দরকার ২১ রান এমন পরিস্থিতিতে নিজের জাত চেনালেন পুরো ম্যাচে অদৃশ্য থাকা রুবেল হোসেন। একের পর এক ইয়র্কার। প্যাডেল স্কুপে একটি চার খেলেও শেষ বলে বোল্ড রশিদ খান।
শেষ ওভারে দরকার ১৩ রান। বোলিংয়ে ফিরলেন তাসকিন। আগের ওভারেই দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ টেনে এনেছেন বাংলাদেশের দিকে। কিন্তু শেষ ওভারে চাপটা তবু কমল না। এই ওভারে হয় হিরো হবেন, নয়তো জিরো। প্রথম বলে ২ রান চাপ আরও বাড়িয়ে দিল। দ্বিতীয় বলেই এলবিডব্লু মিরওয়াইশ আশরাফ। পরের ২ বলে মাত্র ৩ রান। শেষ দুই বলে দরকার ৮ রান। পঞ্চম বলে ডট! কোনো অতিরিক্ত রান না হলে বাংলাদেশ তো জিতেই গেছে। শেষটা সর্বোচ্চ সুন্দর করতেই তাসকিন শেষ বলে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করলেন জাদরানকে। ৭ রানে জিতে গেল বাংলাদেশ।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X