মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৩১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, September 2, 2016 10:27 am
A- A A+ Print

এমপি বললেন ‘দুডা এডা বেইচ্চা দে গা’, সন্তান বেচলেন অভাবী মা

240196_1

‘কি করুম, অভাবের তাড়নায় সন্তানরা মরবার নাগছে। বাড়ির পাশেই আমগর এমপি অইছে। এমপি’র বাইত্তে গেছিলাম। হ্যায় কইলো- ভোট দেস নাই, তোরে কিছু দিবার পারুম না। এতো বাচ্চা নিছোস কেন? দু’ডা এডা বেইচ্চা দে গা।’ এভাবেই কুড়িগ্রামের রৌমারীর অভাবী মা রেবী খাতুন জানালেন, তার ২২ দিন বয়সি কন্যা সন্তান মোরশেদা আক্তার বন্যাকে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা। রেবী খাতুন জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা উত্তর বারবান্দা গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি রৌমারীর পাথরের চর চেংটিমারী গ্রামের দেলোয়ার-পানফুল খাতুন দম্পতির কাছে নবজাতক বন্যাকে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন মা রেবী। ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সন্তান বিক্রি করলেও রেবী পেয়েছেন ২০ হাজার টাকা। বাকি ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন সিদ্দিক মিয়া নামের এক দালাল। রেবী খাতুনের সন্তান বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে সাড়ে তিনশ’ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লেখা চুক্তির মাধ্যমে। এতে উল্লেখ আছে, রেবী খাতুন ভবিষ্যতে আর ওই সন্তানের কোনো দাবিদার হবেন না। এদিকে সন্তান বিক্রির টাকায় গত ২২ আগস্ট একটা ঘর তুলেছেন রেবী। তবে বৃহস্পতিবার তার বাড়িতে দেখা যায় সন্তান বিক্রির পর তিনি পাগলের মতো হয়ে গেছেন। রেবী খাতুন বলেন, ‘সন্তান বিক্রি ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। চোখের সামনে অন্য ৩ সন্তান না খেয়ে মারা যাবে এটা তিনি সহ্য করতে পারবেন না।’ তিনি বলেন, ‘যারা আমার সন্তানরে নিছে হেরা ভালা মানুষ। আমার বন্যা সুখেই বড় অবো। বুকের ধনরে বেইচা আইতে গুম অয় না। বুকটা খালি খচ্ খচ্ করে। ট্যাহার জন্যি মাইয়াডারে বেইচ্চা দিলাম?’ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর বারবান্দা গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে রেবী খাতুন। বর্তমানে একই গ্রামের নবিন মিয়া নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে তিন বছর ধরে আশ্রয় নিয়েছেন। রেবী খাতুনের প্রথম বিয়ে হয়েছিল একই গ্রামের কলিম উদ্দিনের সঙ্গে। এক সন্তান হওয়ার পর কলিম উদ্দিন রেবী খাতুনকে ছেড়ে দেয়। এ অবস্থায় কিছুদিন চলার পর তার একই এলাকার মজিবর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। এ ঘরে দুই সন্তান জন্ম নেয়। এ স্বামী তাড়িয়ে দেয় তাকে। শেষে বিয়ে হয় জামালপুরের পাথরের চর এলাকার গোলাম মোস্তফার সাথে। গোলাম মোস্তফার আরও পাঁচটি স্ত্রী রয়েছে। ফলে স্ত্রী সন্তানদের কোনো খরচ দিতে পারে না সে। গোলাম মোস্তফার ঘরেই জন্ম নেয় মোরশেদা আক্তার বন্যা। এর আগে রেবী খাতুনের ঘরে মরিয়ম খাতুন (৮), জিহাদ হোসেন (৬) ও মৌসুমী আক্তার (৪) নামের তিন সন্তান রয়েছে। রেবী খাতুনের বৃদ্ধ মা জমেলা খাতুন ভিক্ষা করে। আশ্রয়দাতা নবিন মিয়া জানান, ‘দুনিয়াতে তাদের কোনো কিছুই নেই। এ কারণে আমার জমিতে তাকে আশ্রয় দিয়েছি। তিন বছর থেকে আমার বসত ভিটায় ছোট একটি ছাপড়া ঘরে থাকে। সন্তান বিক্রির ২০ হাজার টাকা দিয়ে আমার জমিতেই ঘর তুলছে সে।’ বারবান্দা গ্রামের ইউপি মেম্বার আসাদুজ্জামান হেলাল বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি অনেক পরে। তবে সন্তানটিকে অনেক অনুরোধ করে নিয়ে গেছে তারা।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার বলেন, ‘ওই ধরনের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। কেউ আমাকে বলেনি। তারপরও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ ঘটনার ব্যাপার স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ‘এটা একটা যড়যন্ত্র। ওই মহিলা সন্তান বিক্রি করেছে কি না আমি জানি না। মহিলা কোনো দিন আমার কাছে সাহায্যের জন্য আসেনি। যদি আমার বিষয়ে কিছু বলে থাকে তাহলে মিথ্যা কথা বলেছে।’

Comments

Comments!

 এমপি বললেন ‘দুডা এডা বেইচ্চা দে গা’, সন্তান বেচলেন অভাবী মাAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

এমপি বললেন ‘দুডা এডা বেইচ্চা দে গা’, সন্তান বেচলেন অভাবী মা

Friday, September 2, 2016 10:27 am
240196_1

‘কি করুম, অভাবের তাড়নায় সন্তানরা মরবার নাগছে। বাড়ির পাশেই আমগর এমপি অইছে। এমপি’র বাইত্তে গেছিলাম। হ্যায় কইলো- ভোট দেস নাই, তোরে কিছু দিবার পারুম না। এতো বাচ্চা নিছোস কেন? দু’ডা এডা বেইচ্চা দে গা।’

এভাবেই কুড়িগ্রামের রৌমারীর অভাবী মা রেবী খাতুন জানালেন, তার ২২ দিন বয়সি কন্যা সন্তান মোরশেদা আক্তার বন্যাকে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা।

রেবী খাতুন জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা উত্তর বারবান্দা গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি রৌমারীর পাথরের চর চেংটিমারী গ্রামের দেলোয়ার-পানফুল খাতুন দম্পতির কাছে নবজাতক বন্যাকে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন মা রেবী।

৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সন্তান বিক্রি করলেও রেবী পেয়েছেন ২০ হাজার টাকা। বাকি ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন সিদ্দিক মিয়া নামের এক দালাল।

রেবী খাতুনের সন্তান বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে সাড়ে তিনশ’ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লেখা চুক্তির মাধ্যমে। এতে উল্লেখ আছে, রেবী খাতুন ভবিষ্যতে আর ওই সন্তানের কোনো দাবিদার হবেন না।

এদিকে সন্তান বিক্রির টাকায় গত ২২ আগস্ট একটা ঘর তুলেছেন রেবী। তবে বৃহস্পতিবার তার বাড়িতে দেখা যায় সন্তান বিক্রির পর তিনি পাগলের মতো হয়ে গেছেন।

রেবী খাতুন বলেন, ‘সন্তান বিক্রি ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। চোখের সামনে অন্য ৩ সন্তান না খেয়ে মারা যাবে এটা তিনি সহ্য করতে পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘যারা আমার সন্তানরে নিছে হেরা ভালা মানুষ। আমার বন্যা সুখেই বড় অবো। বুকের ধনরে বেইচা আইতে গুম অয় না। বুকটা খালি খচ্ খচ্ করে। ট্যাহার জন্যি মাইয়াডারে বেইচ্চা দিলাম?’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর বারবান্দা গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে রেবী খাতুন। বর্তমানে একই গ্রামের নবিন মিয়া নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে তিন বছর ধরে আশ্রয় নিয়েছেন।

রেবী খাতুনের প্রথম বিয়ে হয়েছিল একই গ্রামের কলিম উদ্দিনের সঙ্গে। এক সন্তান হওয়ার পর কলিম উদ্দিন রেবী খাতুনকে ছেড়ে দেয়।

এ অবস্থায় কিছুদিন চলার পর তার একই এলাকার মজিবর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। এ ঘরে দুই সন্তান জন্ম নেয়। এ স্বামী তাড়িয়ে দেয় তাকে।

শেষে বিয়ে হয় জামালপুরের পাথরের চর এলাকার গোলাম মোস্তফার সাথে। গোলাম মোস্তফার আরও পাঁচটি স্ত্রী রয়েছে। ফলে স্ত্রী সন্তানদের কোনো খরচ দিতে পারে না সে। গোলাম মোস্তফার ঘরেই জন্ম নেয় মোরশেদা আক্তার বন্যা।

এর আগে রেবী খাতুনের ঘরে মরিয়ম খাতুন (৮), জিহাদ হোসেন (৬) ও মৌসুমী আক্তার (৪) নামের তিন সন্তান রয়েছে। রেবী খাতুনের বৃদ্ধ মা জমেলা খাতুন ভিক্ষা করে।

আশ্রয়দাতা নবিন মিয়া জানান, ‘দুনিয়াতে তাদের কোনো কিছুই নেই। এ কারণে আমার জমিতে তাকে আশ্রয় দিয়েছি। তিন বছর থেকে আমার বসত ভিটায় ছোট একটি ছাপড়া ঘরে থাকে। সন্তান বিক্রির ২০ হাজার টাকা দিয়ে আমার জমিতেই ঘর তুলছে সে।’

বারবান্দা গ্রামের ইউপি মেম্বার আসাদুজ্জামান হেলাল বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি অনেক পরে। তবে সন্তানটিকে অনেক অনুরোধ করে নিয়ে গেছে তারা।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার বলেন, ‘ওই ধরনের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। কেউ আমাকে বলেনি। তারপরও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ঘটনার ব্যাপার স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ‘এটা একটা যড়যন্ত্র। ওই মহিলা সন্তান বিক্রি করেছে কি না আমি জানি না। মহিলা কোনো দিন আমার কাছে সাহায্যের জন্য আসেনি। যদি আমার বিষয়ে কিছু বলে থাকে তাহলে মিথ্যা কথা বলেছে।’

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X