মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৭:২৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, October 27, 2017 10:41 am
A- A A+ Print

এম কে আনোয়ারের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, তাকে হত্যা করা হয়েছে: মাহমুদুর রহমান

183586_1

ঢাকা: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ারের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি, এম কে আনোয়ারকে কিভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। সংগঠনের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ। মাহমুদুর রহমান বলেন, দৃশ্যত আমরা বলছি, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন। আমার এ ব্যাপারে ভিন্ন মত আছে। আমি বলবো, এম কে আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে। এম কে আনোয়ারকে শেখ হাসিনা সরকার হত্যা করেছে। কারণ তিনি আমার সাথে জেলে ছিলেন। আমরা একই প্রিজনভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগারে যাচ্ছিলাম। আমি দেখেছি, তার দাঁড়িয়ে থাকতে কত কষ্ট হয়েছে। সুতরাং যখন ৮৪ বছর বয়সী মানুষকে জেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়, তখন সেটা হত্যা করা ছাড়া আর কিছু বলায় সুযোগ থাকে না। আমি এই সরকারকে এম কে আনোয়ারের মৃত্যুর জন্য দায়ী করছি- বলেন তিনি। মাহমুদুর রহমান আরো বলেন, রাষ্ট্রের ধ্বংসের কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের মধ্যে একটি সংযোগ তৈরী হয়েছে। এই সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। তিনি এও বলেন, এই আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের সময় বাংলাদেশে রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও জনগণের কোন অধিকার নেই। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। এটা থেকে মুক্তি উপায় কি? এক বক্তা বললেন, ভোট দিতে হবে। কোথায় ভোট দিবেন, কাকে ভোট দিবেন, কে আপনাকে ভোট দিতে দেব? সুতরাং মুক্তির উপায় একটাই। সেটা গণঅভ্যুত্থান। গণঅভ্যুত্থান না হলে মুক্তিও হবে না। তাহলে আপনারা কৃতদাস হিসেবে জীবন-যাপন করবেন, কৃততাস হিসেবে মৃত্যুবরণ করবেন, আপনাদের মুক্তি হবে না। সুতরাং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের মমাধ্যমে বাংলাদেশকে আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। একই অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা জানি এত সহজে সব কিছু হওয়ার কথা নয়। সেই কাজটাকে ঠিক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠলে তাহলেই আমরা গণতন্ত্রের জন্য সফল হবে।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০১৪ সালের আগে সেই ঐক্যের দিকে প্রায় আমরা এগিয়ে গিয়েছিলাম। একেবারে সমস্ত দল, মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। রীতিমতো বিপ্লব হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা সফল হতে পারিনি, এই ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন যেটা ঢাকার মধ্যে হয়েছে। এ জন্য সফল হতে পারিনি। হতে পারিনি বলেই যে আমরা পারব না তা নয়।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল, বিএনপি সব সময় গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করেছে, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ৯৬-এ আওয়ামী লীগের যে আন্দোলন ছিল, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীকে একসাথে মিলে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে হবে সেই আন্দোলনের ফলে যে জনমত সৃষ্টি হয়েছিল, যে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়কের যে ব্যবস্থা তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সব সময় চেষ্টা করেছে। নিজের অবস্থান থেকে প্রয়োজনে সরে গিয়েও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছে। বিএনপির লক্ষ্য হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।’ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোকে এখন পর্যন্ত সরকার কনভিনস পারেনি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার সম্পূর্ণভাবে নতজানু ভূমিকা পালন করছে। সরকার কোনোভাবেই একথা বলতে পারবে না যে তারা যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল তা তারা নিতে পারেনি। রাশিয়া, চীন, ভারত এখনো মায়ানমারের পক্ষে অবস্থান করছে।

Comments

Comments!

 এম কে আনোয়ারের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, তাকে হত্যা করা হয়েছে: মাহমুদুর রহমানAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

এম কে আনোয়ারের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, তাকে হত্যা করা হয়েছে: মাহমুদুর রহমান

Friday, October 27, 2017 10:41 am
183586_1

ঢাকা: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ারের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, তাকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি, এম কে আনোয়ারকে কিভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। সংগঠনের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ।

মাহমুদুর রহমান বলেন, দৃশ্যত আমরা বলছি, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন। আমার এ ব্যাপারে ভিন্ন মত আছে। আমি বলবো, এম কে আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে। এম কে আনোয়ারকে শেখ হাসিনা সরকার হত্যা করেছে। কারণ তিনি আমার সাথে জেলে ছিলেন। আমরা একই প্রিজনভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগারে যাচ্ছিলাম। আমি দেখেছি, তার দাঁড়িয়ে থাকতে কত কষ্ট হয়েছে। সুতরাং যখন ৮৪ বছর বয়সী মানুষকে জেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়, তখন সেটা হত্যা করা ছাড়া আর কিছু বলায় সুযোগ থাকে না। আমি এই সরকারকে এম কে আনোয়ারের মৃত্যুর জন্য দায়ী করছি- বলেন তিনি।

মাহমুদুর রহমান আরো বলেন, রাষ্ট্রের ধ্বংসের কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের মধ্যে একটি সংযোগ তৈরী হয়েছে। এই সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।

তিনি এও বলেন, এই আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের সময় বাংলাদেশে রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও জনগণের কোন অধিকার নেই। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। এটা থেকে মুক্তি উপায় কি? এক বক্তা বললেন, ভোট দিতে হবে। কোথায় ভোট দিবেন, কাকে ভোট দিবেন, কে আপনাকে ভোট দিতে দেব? সুতরাং মুক্তির উপায় একটাই। সেটা গণঅভ্যুত্থান। গণঅভ্যুত্থান না হলে মুক্তিও হবে না। তাহলে আপনারা কৃতদাস হিসেবে জীবন-যাপন করবেন, কৃততাস হিসেবে মৃত্যুবরণ করবেন, আপনাদের মুক্তি হবে না। সুতরাং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের মমাধ্যমে বাংলাদেশকে আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।

একই অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা জানি এত সহজে সব কিছু হওয়ার কথা নয়। সেই কাজটাকে ঠিক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠলে তাহলেই আমরা গণতন্ত্রের জন্য সফল হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০১৪ সালের আগে সেই ঐক্যের দিকে প্রায় আমরা এগিয়ে গিয়েছিলাম। একেবারে সমস্ত দল, মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। রীতিমতো বিপ্লব হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা সফল হতে পারিনি, এই ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন যেটা ঢাকার মধ্যে হয়েছে। এ জন্য সফল হতে পারিনি। হতে পারিনি বলেই যে আমরা পারব না তা নয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল, বিএনপি সব সময় গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করেছে, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ৯৬-এ আওয়ামী লীগের যে আন্দোলন ছিল, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীকে একসাথে মিলে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে হবে সেই আন্দোলনের ফলে যে জনমত সৃষ্টি হয়েছিল, যে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়কের যে ব্যবস্থা তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সব সময় চেষ্টা করেছে। নিজের অবস্থান থেকে প্রয়োজনে সরে গিয়েও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছে। বিএনপির লক্ষ্য হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।’

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোকে এখন পর্যন্ত সরকার কনভিনস পারেনি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার সম্পূর্ণভাবে নতজানু ভূমিকা পালন করছে। সরকার কোনোভাবেই একথা বলতে পারবে না যে তারা যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল তা তারা নিতে পারেনি। রাশিয়া, চীন, ভারত এখনো মায়ানমারের পক্ষে অবস্থান করছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X