শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:৪৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Monday, June 5, 2017 5:16 am
A- A A+ Print

এর নাম নিরাপত্তা!

শনিবার রাতে লন্ডনের যেখানে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, বাংলাদেশ দলের হোটেল থেকে সেটি মাত্র আড়াই-তিন কিলোমিটার দূরে। শ্রীলঙ্কা দলও একই হোটেলে আছে। কদিন আগে ভারত ও নিউজিল্যান্ডও ছিল। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অমন একটা সন্ত্রাসীকাণ্ডের পর গ্র্যাঞ্জ সিটি হোটেল কেমন নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বন্দী হয়ে থাকবে, এটা তো অনুমান করতেই পারেন।

সেই অনুমান একটুও মিলবে না। কাল সকালে হোটেলের লবিতে নামার আগে মনশ্চক্ষে দেখতে পাচ্ছিলাম, হোটেলের চারপাশে পুলিশের গিজগিজে ভিড়। হোটেলে কে ঢুকছে, কে বেরোচ্ছে সেটি ভীষণ নজরদারিতে। কিসের কী! আগের আট দিন যে চিত্র দেখে এসেছি, তার সঙ্গে কোনো পার্থক্যই নেই।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে টিম হোটেলগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে বেসরকারি একটা সংস্থা। খুব খেয়াল করে দেখলে সাদা ইউনিফর্ম দিয়ে তাদের লোকজনকে আলাদা করা যায়। লোকজনই বা বেশি কই! টিম যখন মাঠে যাওয়ার জন্য বাসে ওঠে, তখন চার-পাঁচজনকে দেখা যায়। অন্য সময় কখনো একজন, কখনো বা দুজন অলস ভঙ্গিতে লবিতে পায়চারি করেন। যাঁদের সঙ্গে অস্ত্র-টস্ত্র কিছু নেই।

এই কদিনে তাদের দৃশ্যমান তৎপরতাও খুব একটা দেখিনি। ও হ্যাঁ, একেবারে দেখিনি লেখাটা ঠিক হলো না। এখানে আসার পরদিনই রাস্তার পাশে হোটেলের লাগোয়া পার্কিংয়ের জায়গাটায় সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কথা বলছিলাম। নিরাপত্তাকর্মীদের একজন হোটেল থেকে বেরিয়ে এসে পাশে দাঁড়ালেন। সাকিবকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কে? সাকিব ‘বাংলাদেশের সাংবাদিক’ বলার পর নিশ্চিন্ত হয়ে বললেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, কোনো ফ্যান আপনাকে জ্বালাতন করছে।’

ওই নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে পরে পরিচয়-টরিচয়ও হয়েছে। কাল সকালে তাঁর কাছেই জানতে চাইলাম, আগের রাতের ঘটনার কোনো ছাপ তো এখানে দেখছি না। তিনি নির্বিকার ভঙ্গিতে বললেন, ‘কোনো সমস্যা নেই। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে।’

এরপর তাঁর দাবিটা ব্যাখ্যা করলেন, ‘দেখুন, সন্ত্রাসীরা কিন্তু নির্দিষ্ট কাউকে টার্গেট করে আক্রমণ করেনি। ভয়ের কিছু নেই। যেকোনো শহরেই এমন হতে পারে। এই লন্ডনে আট মিলিয়ন লোকের বাস। আরও হয়তো দুই মিলিয়ন বাইরে থেকে এসেছে। মোট ১০ মিলিয়ন লোকের মধ্যে কাল ছয়জন (পরে সংখ্যাটা আরও বেড়েছে) মারা গেছে। এবার অনুপাতে আসুন। এর মধ্যে আপনার থাকার সম্ভাবনা কতটা? কাজেই একটুও ভয় পাবেন না।’

যুক্তিটা ফেলে দেওয়ার মতো নয়। তা ছাড়া অস্থির এই সময়ে বিশ্বের কোন শহরটাই বা নিরাপদ! লন্ডনের মেয়র সাদিক খান তো এই ঘটনার পরও দাবি করলেন, লন্ডন বিশ্বের নিরাপদতম শহর। তা যদি সত্যিও হয়, প্রশ্ন হলো, ঢাকায় এই ঘটনা হলে কী হতো?

টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ঘাত অনিশ্চিত হয়ে যেত। যদি তা বাতিল না-ও হতো, টিম হোটেল যে দুর্ভেদ্য দুর্গ হয়ে যেত, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর এখানে গ্র্যাঞ্জ সিটি হোটেলে আগেও যেমন যার ইচ্ছা লিফটে উঠে ওপরে চলে যেতে পারত, কালও সেটিতে কোনো পরিবর্তন নেই। বিশ্বের বেশির ভাগ দামি হোটেলেই এখন রুমের দরজা খোলার কার্ড না দিলে লিফট নড়েচড়ে না। এখানে সেসবের ‘বালাই’ নেই। পরশু রাতের সন্ত্রাসী হামলার পর অবশ্য বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে খেলোয়াড়েরা যে ফ্লোরগুলোতে আছেন, সেখানে একজন নিরাপত্তাকর্মী রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীও টিম হোটেলেই আছেন। ব্রেকফাস্ট করতে নেমে লবিতে লাগেজের সারি দেখে তাঁর মনে পড়ল, গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সব টিম হোটেলে লাগেজ স্ক্যানার বসাতে কেমন চাপ দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তা বসাতেও হয়েছিল। আর এখানে লাগেজ স্ক্যানার দূরে থাক, একটা আর্চওয়ে পর্যন্ত নেই। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে কোনো চেকিং-টেকিংয়ের ব্যবস্থাও।

বাংলাদেশে বিদেশি কোনো দল মাঠে যাওয়া-আসার সময় চারপাশ সচকিত হয়ে ওঠে পুলিশের গাড়ির সাইরেনে। সামনে গাড়ি, পেছনে গাড়ি। আর এখানে টিম বাসের আগে-পরে কিছুই নেই। বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার আকরাম খান বলেন, বাসে সিকিউরিটির একজন লোক থাকেন। একটা কথা আছে, সেরা নিরাপত্তা সেটিই, যেটি চোখে দেখা যায় না। তেমন হলে তো ভালোই। হোটেল লবির ওই নিরাপত্তাকর্মীই যেমন মনে করিয়ে দিলেন, লন্ডন ব্রিজের ওই ঘটনার আট মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে।

কাল দুপুরে হোটেল থেকে ট্যাক্সিতে ওভাল আসার পথে রাস্তায়ও পুলিশ তেমন চোখে পড়ল না। দুটি অ্যাম্বুলেন্সকে শুধু সাইরেন বাজিয়ে ছুটে যেতে দেখলাম। রোববার সকাল-দুপুরে এমনিতেই লন্ডন ঝিম মেরে থাকে। রাস্তায় লোকজন কম দেখা যাওয়াটাকে পরশুর হামলার সঙ্গে মেলানো ঠিক হবে না। লন্ডনে জীবন স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে।

তবে ঘটনাস্থল এখনো ঘিরে রেখেছে পুলিশ। নানা তৎপরতাও চলছে। তবে বাংলাদেশে আমরা নিরাপত্তাব্যবস্থা বলতে যা বুঝি, তার সঙ্গে কোনোই মিল নেই। হতেই পারে, একেক দেশে একেক নিয়ম। সমস্যা হলো, একেক দেশের জন্যও একেক নিয়ম! নিরাপত্তা নিয়ে হুমকিকে কারণ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছে। সেই অস্ট্রেলিয়া দলই শহরে এমন একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ভয়ের কারণ দেখছে না। কাল সংবাদ সম্মেলনে স্টিভ স্মিথ জানিয়ে গেলেন, আইসিসির নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা আছে।

মাশরাফির সংবাদ সম্মেলনেও প্রসঙ্গটা উঠল। সরাসরি কাউকে উদ্দেশ করে না বললেও তিনি একটা বার্তা ঠিকই দিয়ে দিলেন, ‘আমাদের ক্রিকেটের জন্য এটা ভালোই হলো। আমাদের দেশে অনেকে খেলতে চায় না। আমরা এখানে খেলছি দেখে সবাই সাহস পাবে।’

Comments

Comments!

 এর নাম নিরাপত্তা!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

এর নাম নিরাপত্তা!

Monday, June 5, 2017 5:16 am

শনিবার রাতে লন্ডনের যেখানে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, বাংলাদেশ দলের হোটেল থেকে সেটি মাত্র আড়াই-তিন কিলোমিটার দূরে। শ্রীলঙ্কা দলও একই হোটেলে আছে। কদিন আগে ভারত ও নিউজিল্যান্ডও ছিল। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অমন একটা সন্ত্রাসীকাণ্ডের পর গ্র্যাঞ্জ সিটি হোটেল কেমন নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বন্দী হয়ে থাকবে, এটা তো অনুমান করতেই পারেন।

সেই অনুমান একটুও মিলবে না। কাল সকালে হোটেলের লবিতে নামার আগে মনশ্চক্ষে দেখতে পাচ্ছিলাম, হোটেলের চারপাশে পুলিশের গিজগিজে ভিড়। হোটেলে কে ঢুকছে, কে বেরোচ্ছে সেটি ভীষণ নজরদারিতে। কিসের কী! আগের আট দিন যে চিত্র দেখে এসেছি, তার সঙ্গে কোনো পার্থক্যই নেই।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে টিম হোটেলগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে বেসরকারি একটা সংস্থা। খুব খেয়াল করে দেখলে সাদা ইউনিফর্ম দিয়ে তাদের লোকজনকে আলাদা করা যায়। লোকজনই বা বেশি কই! টিম যখন মাঠে যাওয়ার জন্য বাসে ওঠে, তখন চার-পাঁচজনকে দেখা যায়। অন্য সময় কখনো একজন, কখনো বা দুজন অলস ভঙ্গিতে লবিতে পায়চারি করেন। যাঁদের সঙ্গে অস্ত্র-টস্ত্র কিছু নেই।

এই কদিনে তাদের দৃশ্যমান তৎপরতাও খুব একটা দেখিনি। ও হ্যাঁ, একেবারে দেখিনি লেখাটা ঠিক হলো না। এখানে আসার পরদিনই রাস্তার পাশে হোটেলের লাগোয়া পার্কিংয়ের জায়গাটায় সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কথা বলছিলাম। নিরাপত্তাকর্মীদের একজন হোটেল থেকে বেরিয়ে এসে পাশে দাঁড়ালেন। সাকিবকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কে? সাকিব ‘বাংলাদেশের সাংবাদিক’ বলার পর নিশ্চিন্ত হয়ে বললেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, কোনো ফ্যান আপনাকে জ্বালাতন করছে।’

ওই নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে পরে পরিচয়-টরিচয়ও হয়েছে। কাল সকালে তাঁর কাছেই জানতে চাইলাম, আগের রাতের ঘটনার কোনো ছাপ তো এখানে দেখছি না। তিনি নির্বিকার ভঙ্গিতে বললেন, ‘কোনো সমস্যা নেই। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে।’

এরপর তাঁর দাবিটা ব্যাখ্যা করলেন, ‘দেখুন, সন্ত্রাসীরা কিন্তু নির্দিষ্ট কাউকে টার্গেট করে আক্রমণ করেনি। ভয়ের কিছু নেই। যেকোনো শহরেই এমন হতে পারে। এই লন্ডনে আট মিলিয়ন লোকের বাস। আরও হয়তো দুই মিলিয়ন বাইরে থেকে এসেছে। মোট ১০ মিলিয়ন লোকের মধ্যে কাল ছয়জন (পরে সংখ্যাটা আরও বেড়েছে) মারা গেছে। এবার অনুপাতে আসুন। এর মধ্যে আপনার থাকার সম্ভাবনা কতটা? কাজেই একটুও ভয় পাবেন না।’

যুক্তিটা ফেলে দেওয়ার মতো নয়। তা ছাড়া অস্থির এই সময়ে বিশ্বের কোন শহরটাই বা নিরাপদ! লন্ডনের মেয়র সাদিক খান তো এই ঘটনার পরও দাবি করলেন, লন্ডন বিশ্বের নিরাপদতম শহর। তা যদি সত্যিও হয়, প্রশ্ন হলো, ঢাকায় এই ঘটনা হলে কী হতো?

টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ঘাত অনিশ্চিত হয়ে যেত। যদি তা বাতিল না-ও হতো, টিম হোটেল যে দুর্ভেদ্য দুর্গ হয়ে যেত, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর এখানে গ্র্যাঞ্জ সিটি হোটেলে আগেও যেমন যার ইচ্ছা লিফটে উঠে ওপরে চলে যেতে পারত, কালও সেটিতে কোনো পরিবর্তন নেই। বিশ্বের বেশির ভাগ দামি হোটেলেই এখন রুমের দরজা খোলার কার্ড না দিলে লিফট নড়েচড়ে না। এখানে সেসবের ‘বালাই’ নেই। পরশু রাতের সন্ত্রাসী হামলার পর অবশ্য বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে খেলোয়াড়েরা যে ফ্লোরগুলোতে আছেন, সেখানে একজন নিরাপত্তাকর্মী রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীও টিম হোটেলেই আছেন। ব্রেকফাস্ট করতে নেমে লবিতে লাগেজের সারি দেখে তাঁর মনে পড়ল, গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সব টিম হোটেলে লাগেজ স্ক্যানার বসাতে কেমন চাপ দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তা বসাতেও হয়েছিল। আর এখানে লাগেজ স্ক্যানার দূরে থাক, একটা আর্চওয়ে পর্যন্ত নেই। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে কোনো চেকিং-টেকিংয়ের ব্যবস্থাও।

বাংলাদেশে বিদেশি কোনো দল মাঠে যাওয়া-আসার সময় চারপাশ সচকিত হয়ে ওঠে পুলিশের গাড়ির সাইরেনে। সামনে গাড়ি, পেছনে গাড়ি। আর এখানে টিম বাসের আগে-পরে কিছুই নেই। বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার আকরাম খান বলেন, বাসে সিকিউরিটির একজন লোক থাকেন। একটা কথা আছে, সেরা নিরাপত্তা সেটিই, যেটি চোখে দেখা যায় না। তেমন হলে তো ভালোই। হোটেল লবির ওই নিরাপত্তাকর্মীই যেমন মনে করিয়ে দিলেন, লন্ডন ব্রিজের ওই ঘটনার আট মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে।

কাল দুপুরে হোটেল থেকে ট্যাক্সিতে ওভাল আসার পথে রাস্তায়ও পুলিশ তেমন চোখে পড়ল না। দুটি অ্যাম্বুলেন্সকে শুধু সাইরেন বাজিয়ে ছুটে যেতে দেখলাম। রোববার সকাল-দুপুরে এমনিতেই লন্ডন ঝিম মেরে থাকে। রাস্তায় লোকজন কম দেখা যাওয়াটাকে পরশুর হামলার সঙ্গে মেলানো ঠিক হবে না। লন্ডনে জীবন স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে।

তবে ঘটনাস্থল এখনো ঘিরে রেখেছে পুলিশ। নানা তৎপরতাও চলছে। তবে বাংলাদেশে আমরা নিরাপত্তাব্যবস্থা বলতে যা বুঝি, তার সঙ্গে কোনোই মিল নেই। হতেই পারে, একেক দেশে একেক নিয়ম। সমস্যা হলো, একেক দেশের জন্যও একেক নিয়ম! নিরাপত্তা নিয়ে হুমকিকে কারণ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছে। সেই অস্ট্রেলিয়া দলই শহরে এমন একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ভয়ের কারণ দেখছে না। কাল সংবাদ সম্মেলনে স্টিভ স্মিথ জানিয়ে গেলেন, আইসিসির নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা আছে।

মাশরাফির সংবাদ সম্মেলনেও প্রসঙ্গটা উঠল। সরাসরি কাউকে উদ্দেশ করে না বললেও তিনি একটা বার্তা ঠিকই দিয়ে দিলেন, ‘আমাদের ক্রিকেটের জন্য এটা ভালোই হলো। আমাদের দেশে অনেকে খেলতে চায় না। আমরা এখানে খেলছি দেখে সবাই সাহস পাবে।’

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X