শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:২৩
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, September 8, 2016 12:39 am
A- A A+ Print

এ কোন বাংলাদেশ, নাকি এটাই বাংলাদেশ!

241467_1

গোলাম মর্তুজা ১. একটি ক্রীড়া সংগঠনে এক প্যাকেট বিরিয়ানির বিল করা হয়েছিল ২ হাজার ৬০০ টাকা। প্রমাণ নেই, শুনেছি- পুরোটা বিশ্বাস করিনি। কয়েক মাস আগে জেনেছিলাম পাবনা জেনারেল হাসপাতালের কী কী চিকিৎসা সরঞ্জাম লাগবে, সেই তালিকা করে দিয়েছিল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। হাসপাতালের জন্যে অপ্রয়োজনীয় সেসব সরঞ্জামের দামও ছিল বাজার মূল্যের চেয়ে কয়েক’শ গুণ বেশি। ঠিকাদারের করা তালিকায় স্বাক্ষর করতে রাজি হননি হাসপাতাল ব্যবস্থাপক। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। এটা অবিশ্বাস করার উপায় ছিল না। সব তথ্য-প্রমাণ- বক্তব্যসহ রিপোর্ট করেছিল সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বাবু। দেশের আরও বহু হাসপাতালে এমন কাণ্ড ঘটেছিল, ঘটছে। কেনাকাটার অভিনব তালিকায় নাম লিখিয়েছে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। ১৫ হাজার টাকার সরঞ্জাম তারা কিনেছে ৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা দিয়ে। ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকার সরঞ্জাম কিনেছে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। এখন বুঝতে পারছি, বিরিয়ানির দাম অবিশ্বাস করা ঠিক হয়নি। ২ হাজার ৬০০ টাকার জায়গায় ২ লাখ ৬ হাজার টাকাও হয়ত দেখানো যেত, এক প্যাকেট বিরিয়ানির দাম। ২. দেশের ডাক্তাররা ১ হাজার টাকা ফি নেন, তার সমালোচনা করি। মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কথা বলি না। চোখ দেখানোর জন্যে দলবল নিয়ে লন্ডন চলে যাই। কেউ পা দেখানোর জন্যে যাই সিঙ্গাপুর। কান দেখানোর জন্যে চলে যাই আমেরিকা। থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুর ছাড়া সাধারণ চেক-আপ করাতে পারি না। জঙ্গি নিয়ে কে কী বললেন, তা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে কত কথা! নিজে চিকিৎসা করান সিঙ্গাপুরে। দেশে ভালো ডাক্তার আছেন, আছে হাসপাতাল। কোনও ব্যবস্থাপনা নেই। কেনা-কাটা বা ব্যবস্থাপনায় ডাক্তারদের কোনও ভূমিকা নেই। এসব করেন রাজনীতিবিদ এবং আমলারা। তাদের বড় অংশ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেন না। তারা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিশ্চিত নন। তাদের সকল চিন্তা কেনাকাটায়। ব্যবস্থাহীন হাসপাতালের ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার ডাক্তাররা। দেশের প্রায় সব মানুষের রাগ-ক্ষোভ-ক্ষুব্ধতা -বিষাদ্গার ডাক্তার প্রতি। ৪০০ রোগী দেখার সামর্থ্য নিয়ে ডাক্তাররা ৪০০০ রোগী নিয়ে হিমশিম খান, সঙ্গে গালিও। অল্প কিছু সংখ্যক ডাক্তার নেতা দলবাজি করে সুযোগ সুবিধা-ভোগ করেন। এই দায়ও নিতে হয় সব ডাক্তারদের। সাধারণ মানুষের কাছে দেশের ডাক্তারদের পরিচিতি প্রায় ‘কসাই’। অথচ ভালো এবং মানবতাবাদী ডাক্তারের সংখ্যা অগণিত। ‘কসাই’ মানসিকতার ডাক্তার যে নেই, তা নয়। তবে ভালোর তুলনায় তাদের সংখ্যা নগণ্য। ৩. সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া, কোমরে দড়ি। সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা প্রায় নিরব-নির্বিকার। একজন সাংবাদিক দুর্নীতির একটি রিপোর্ট করেছেন। সেই রিপোর্টটি সত্য না মিথ্যা তা যাচাই করার আগেই গ্রেফতার! মিথ্যা রিপোর্ট করে কারও সম্মানহানি করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। যাচাই বাছাইয়ের দরকার নেই, আপনি যত বড় দুর্নীতিবাজই হোন না কেন- আইসিটি আইনে মামলা করলেই গ্রেফতার। আর দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বামী বা ভাই যদি এমপি-মন্ত্রী হন, তবে তো কথাই নেই। ৪. স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের পর আমরা এসপি বাবুল আক্তারের দুঃসাহসিকতার কাহিনী বেশি করে জানলাম। আগেও কিছু জানতাম। স্বয়ং পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা জানালেন জঙ্গিবাদবিরোধী বাবুলের দুঃসাহসিকতার কাহিনী। তারপর হঠাৎ করে সবকিছু উল্টে গেল। প্রকাশ্য আলোচনা, কানে কানে চলে এলো। বোঝা গেল কিছু একটা ঘটছে। বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ বিষয়ে গণমাধ্যম কিছু সংবাদ জানাল। পুলিশের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেওয়া হলো। তিন মাস পরে এসে জানা গেল গণমাধ্যম যা জানিয়েছিল সেটাই সত্যি, পুলিশ যা বলেছিল তা সত্যি নয়। ‘বাবুল পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে’, এটা পুলিশের বক্তব্য। ‘পদত্যাগপত্র স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছি। এখন পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে চাকরিতে যোগ দিতে চাই’- বাবুল আক্তারের বক্তব্য। সত্য-মিথ্যা কে যাচাই করবেন? এই রহস্য উন্মোচনই বা করবেন কেন? ‘বাবুল আক্তার স্ত্রী হত্যা মামলার তদন্তের খোঁজ নিচ্ছেন না’- কোন আইনে আছে যে তদন্তের খোঁজ নিতে হবে? না নিলে তদন্ত হবে না? স্ত্রী হত্যার অভিযুক্ত আসামি ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। নিজে চাকরি হারালেন। স্ত্রী হত্যার বিচার? ‘চলছে’ ‘চলবে’- এত প্রশ্ন করার কি আছে! ৫. ছোট বেলায় গ্রামের বাড়ির পাশে একজন মেজরকে চিনতাম। সবাইকে তাকে নিয়ে খুব গর্ব করতে দেখতাম। তারপর একদিন জানলাম তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। একটু বড় হয়ে বুঝলাম তার ব্যাচের সবার প্রমোশন হয়েছে, তার হয়নি। কেন হয়নি? ধর্মীয় পরিচয়ে তিনি ‘হিন্দু’। সম্ভবত সেই অবস্থার অবসান হয়েছে, কতটা হয়েছে, তা যদিও নিশ্চিত করে জানি না। এখন জানছি, ২০১৬ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশে জানছি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চাকরিতে যোগ দিতে পারছেন না। না, তার কোনও অপরাধ নেই। অপরাধ তার বাবার। বাবা মাদ্রাসার শিক্ষক। সুতরাং পুলিশি ছাড়পত্র মিলছে না। চাকরিতে যোগদান করাও হচ্ছে না। ৬. লেখা শেষ করি কোরবানির গরুর প্রসঙ্গ দিয়ে। বাংলাদেশে গরু পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। দেশে গরু পালনও বেড়েছে। কোরবানির মোট চাহিদার গরু দেশেই আছে। ভারতীয় গরু না আসলে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ভারত গরু আসতে দেওয়া গুলি করে মানুষ হত্যার বিনিময়ে বন্ধ করলেও, এখন ঠিকই আসতে দিচ্ছে। ভারতীয় আসলে দাম কমে যাবে। লোকসানে পড়বে দেশের গরু পালনকারীরা। আমাদের দেশপ্রেমিক বিজিবি ভারতীয় গরু আসা বন্ধ করতে পারছে না। দেশের গরু পালনকারীরা স্বর্বশান্ত হয়ে যাবে। গরু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে না দেশ। তাতে কি সীমান্ত পার হয়ে গরু আসবে, আসছে...। লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক

Comments

Comments!

 এ কোন বাংলাদেশ, নাকি এটাই বাংলাদেশ!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

এ কোন বাংলাদেশ, নাকি এটাই বাংলাদেশ!

Thursday, September 8, 2016 12:39 am
241467_1

গোলাম মর্তুজা

১. একটি ক্রীড়া সংগঠনে এক প্যাকেট বিরিয়ানির বিল করা হয়েছিল ২ হাজার ৬০০ টাকা। প্রমাণ নেই, শুনেছি- পুরোটা বিশ্বাস করিনি।

কয়েক মাস আগে জেনেছিলাম পাবনা জেনারেল হাসপাতালের কী কী চিকিৎসা সরঞ্জাম লাগবে, সেই তালিকা করে দিয়েছিল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। হাসপাতালের জন্যে অপ্রয়োজনীয় সেসব সরঞ্জামের দামও ছিল বাজার মূল্যের চেয়ে কয়েক’শ গুণ বেশি। ঠিকাদারের করা তালিকায় স্বাক্ষর করতে রাজি হননি হাসপাতাল ব্যবস্থাপক। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বদলি করে দেওয়া হয়েছিল। এটা অবিশ্বাস করার উপায় ছিল না। সব তথ্য-প্রমাণ- বক্তব্যসহ রিপোর্ট করেছিল সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বাবু। দেশের আরও বহু হাসপাতালে এমন কাণ্ড ঘটেছিল, ঘটছে। কেনাকাটার অভিনব তালিকায় নাম লিখিয়েছে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। ১৫ হাজার টাকার সরঞ্জাম তারা কিনেছে ৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা দিয়ে। ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকার সরঞ্জাম কিনেছে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। এখন বুঝতে পারছি, বিরিয়ানির দাম অবিশ্বাস করা ঠিক হয়নি। ২ হাজার ৬০০ টাকার জায়গায় ২ লাখ ৬ হাজার টাকাও হয়ত দেখানো যেত, এক প্যাকেট বিরিয়ানির দাম।

২. দেশের ডাক্তাররা ১ হাজার টাকা ফি নেন, তার সমালোচনা করি। মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কথা বলি না। চোখ দেখানোর জন্যে দলবল নিয়ে লন্ডন চলে যাই। কেউ পা দেখানোর জন্যে যাই সিঙ্গাপুর। কান দেখানোর জন্যে চলে যাই আমেরিকা। থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুর ছাড়া সাধারণ চেক-আপ করাতে পারি না।

জঙ্গি নিয়ে কে কী বললেন, তা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে কত কথা! নিজে চিকিৎসা করান সিঙ্গাপুরে। দেশে ভালো ডাক্তার আছেন, আছে হাসপাতাল। কোনও ব্যবস্থাপনা নেই। কেনা-কাটা বা ব্যবস্থাপনায় ডাক্তারদের কোনও ভূমিকা নেই। এসব করেন রাজনীতিবিদ এবং আমলারা। তাদের বড় অংশ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেন না। তারা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিশ্চিত নন। তাদের সকল চিন্তা কেনাকাটায়। ব্যবস্থাহীন

হাসপাতালের ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার ডাক্তাররা। দেশের প্রায় সব মানুষের রাগ-ক্ষোভ-ক্ষুব্ধতা -বিষাদ্গার ডাক্তার প্রতি। ৪০০ রোগী দেখার সামর্থ্য নিয়ে ডাক্তাররা ৪০০০ রোগী নিয়ে হিমশিম খান, সঙ্গে গালিও। অল্প কিছু সংখ্যক ডাক্তার নেতা দলবাজি করে সুযোগ সুবিধা-ভোগ করেন। এই দায়ও নিতে হয় সব ডাক্তারদের। সাধারণ মানুষের কাছে দেশের ডাক্তারদের পরিচিতি প্রায় ‘কসাই’। অথচ ভালো এবং মানবতাবাদী ডাক্তারের সংখ্যা অগণিত। ‘কসাই’ মানসিকতার ডাক্তার যে নেই, তা নয়। তবে ভালোর তুলনায় তাদের সংখ্যা নগণ্য।

৩. সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া, কোমরে দড়ি। সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা প্রায় নিরব-নির্বিকার। একজন সাংবাদিক দুর্নীতির একটি রিপোর্ট করেছেন। সেই রিপোর্টটি সত্য না মিথ্যা তা যাচাই করার আগেই গ্রেফতার! মিথ্যা রিপোর্ট করে কারও সম্মানহানি করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। যাচাই বাছাইয়ের দরকার নেই, আপনি যত বড় দুর্নীতিবাজই হোন না কেন- আইসিটি আইনে মামলা করলেই গ্রেফতার। আর দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বামী বা ভাই যদি এমপি-মন্ত্রী হন, তবে তো কথাই নেই।

৪. স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের পর আমরা এসপি বাবুল আক্তারের দুঃসাহসিকতার কাহিনী বেশি করে জানলাম। আগেও কিছু জানতাম। স্বয়ং পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা জানালেন জঙ্গিবাদবিরোধী বাবুলের দুঃসাহসিকতার কাহিনী। তারপর হঠাৎ করে সবকিছু উল্টে গেল। প্রকাশ্য আলোচনা, কানে কানে চলে এলো। বোঝা গেল কিছু একটা ঘটছে। বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ বিষয়ে গণমাধ্যম কিছু সংবাদ জানাল।

পুলিশের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেওয়া হলো। তিন মাস পরে এসে জানা গেল গণমাধ্যম যা জানিয়েছিল সেটাই সত্যি, পুলিশ যা বলেছিল তা সত্যি নয়। ‘বাবুল পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে’, এটা পুলিশের বক্তব্য। ‘পদত্যাগপত্র স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছি। এখন পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে চাকরিতে যোগ দিতে চাই’- বাবুল আক্তারের বক্তব্য।

সত্য-মিথ্যা কে যাচাই করবেন? এই রহস্য উন্মোচনই বা করবেন কেন? ‘বাবুল আক্তার স্ত্রী হত্যা মামলার তদন্তের খোঁজ নিচ্ছেন না’- কোন আইনে আছে যে তদন্তের খোঁজ নিতে হবে? না নিলে তদন্ত হবে না? স্ত্রী হত্যার অভিযুক্ত আসামি ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। নিজে চাকরি হারালেন। স্ত্রী হত্যার বিচার? ‘চলছে’ ‘চলবে’- এত প্রশ্ন করার কি আছে!

৫. ছোট বেলায় গ্রামের বাড়ির পাশে একজন মেজরকে চিনতাম। সবাইকে তাকে নিয়ে খুব গর্ব করতে দেখতাম। তারপর একদিন জানলাম তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। একটু বড় হয়ে বুঝলাম তার ব্যাচের সবার প্রমোশন হয়েছে, তার হয়নি। কেন হয়নি? ধর্মীয় পরিচয়ে তিনি ‘হিন্দু’।

সম্ভবত সেই অবস্থার অবসান হয়েছে, কতটা হয়েছে, তা যদিও নিশ্চিত করে জানি না। এখন জানছি, ২০১৬ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশে জানছি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চাকরিতে যোগ দিতে পারছেন না। না, তার কোনও অপরাধ নেই। অপরাধ তার বাবার। বাবা মাদ্রাসার শিক্ষক। সুতরাং পুলিশি ছাড়পত্র মিলছে না। চাকরিতে যোগদান করাও হচ্ছে না।

৬. লেখা শেষ করি কোরবানির গরুর প্রসঙ্গ দিয়ে। বাংলাদেশে গরু পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। দেশে গরু পালনও বেড়েছে। কোরবানির মোট চাহিদার গরু দেশেই আছে। ভারতীয় গরু না আসলে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ভারত গরু আসতে দেওয়া গুলি করে মানুষ হত্যার বিনিময়ে বন্ধ করলেও, এখন ঠিকই আসতে দিচ্ছে। ভারতীয় আসলে দাম কমে যাবে। লোকসানে পড়বে দেশের গরু পালনকারীরা। আমাদের দেশপ্রেমিক বিজিবি ভারতীয় গরু আসা বন্ধ করতে পারছে না। দেশের গরু পালনকারীরা স্বর্বশান্ত হয়ে যাবে। গরু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে না দেশ।

তাতে কি সীমান্ত পার হয়ে গরু আসবে, আসছে…।

লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X