বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৭:১৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, November 24, 2016 7:14 am
A- A A+ Print

ওদের ঢাকা যাওয়ার টাকা নেই

a72f6d4b2d02783a3b1c7b1bb5c4270c-3

সেমিফাইনালে দুই মিনিটের মাথায় গোল করল সে। ফাইনালেও শেষ গোলটা করল। পায়ে ক্ষিপ্র গতি, অব্যর্থ নিশানা। সে দলের অধিনায়ক। নাম কামরুন্নাহার। তার নেতৃত্বে বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে তাদের দল রাজশাহী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গতকাল তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সবই ঠিক আছে, কিন্তু ঠিক নেই ওদের স্বাস্থ্য। চেহারায় অপুষ্টির ছাপ। অধিনায়কের মতো দলের সবাই উঠে এসেছে হতদরিদ্র পরিবার থেকে। জাতীয় পর্যায়ে খেলার জন্য তাদের আর ঢাকায় যাওয়ার পয়সা নেই। দলের কোচ ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের এত দূর নিয়ে এসেছিলেন। এখন তাঁর চোখেমুখেও হতাশা। এটি হচ্ছে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বড়বড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দল। গত শুক্রবার রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে বিভাগীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বের খেলায় তারা সিরাজগঞ্জ জেলাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বড়বড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চারঘাট উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি নিভৃত গ্রামে। এই গ্রামেই সব খেলোয়াড়ের বাড়ি। কারও কারও বসতবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। কারও বাবা মুদিদোকানি, কারও বাবা সবজি বিক্রি করেন, কারও বাবা দিনমজুরি করেন। এই সব পরিবার থেকেই উঠে এসেছে ২২ জনের একটি ফুটবল দল। তাদের মধ্যে ১৭ জন বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য গত ৩০ অক্টোবর থেকে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামেই রয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে খোলা ট্রাকে করে তাদের রাজশাহী থেকে চারঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। চারঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দলের অধিনায়ক কামরুন্নাহারসহ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে সুমনা খাতুন, বর্ষা খাতুন, বৃষ্টি খাতুন, সাদিয়া ইসলাম, শাপলা খাতুন, পলি খাতুন, তানিয়া খাতুন, অনক ও সাজমনি। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে সাদিয়া তুত্তাইবা, প্রিয়া খাতুন, তাসলিমা খাতুন, মিনু খাতুন, স্বর্ণালী আক্তার, মায়া খাতুন। এ ছাড়া রয়েছে তৃতীয় শ্রেণির শারমিন খাতুন। তাদের মধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে ব্যক্তিগতভাবে শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছে আক্তার। স্বর্ণালী আক্তার ও মিনু খাতুন উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ। বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে রাজশাহী বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন বড়বড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দলের খেলোয়াড়েরাদলের মধ্যে উচ্চতায় সবচেয়ে ছোট মিনু খাতুন। সে দলের সবচেয়ে ক্ষিপ্র গতির খেলোয়াড়। এ কারণে তার নাম হয়ে গেছে খুদে ম্যারাডোনা। দলের আরেক দুর্দান্ত খেলোয়াড় সুমনা। টাইব্রেকারে তার লক্ষ্য অব্যর্থ। জেলা পর্যায় পর্যন্ত দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে সে। গত শুক্রবার রাতে তারা স্টেডিয়ামেই ছিল। সেখানেই কথা হয় তাদের সঙ্গে। দেখা যায়, তাদের কারও গায়েই ভালো পোশাক নেই। যে জার্সি পরে মাঠে খেলেছে, সেই জার্সি পরেই রাতে ঘুমোতে যাচ্ছে। তাদের চেহারায় অপুষ্টির ছাপ। দলের তুখোড় খেলোয়াড় বলে খ্যাত সুমনারা চার বোন, এক ভাই। সে বলল, তার বাবা মৌসুমি ব্যবসায়ী। খেলোয়াড় হিসেবে তার জন্য আলাদা খাবারের কোনো ব্যবস্থা করাই সম্ভব হয় না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি এই বাচ্চাদের এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। তিনি দুঃখ করে বললেন, বিদ্যালয়ের কোনো তহবিল নেই যে এই বাচ্চাদের খেলাধুলার পেছনে ব্যয় করবেন। তিনি ক্রীড়ামোদী মানুষ, তাই নিজের পকেট থেকে খরচ করেই খেলা চালান। তিনি বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া পর্যন্ত তাদের ২৪টি খেলায় অংশ নিতে হয়েছে। জেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গত ৩০ অক্টোবর থেকে ২২ জন খুদে খেলোয়াড় নিয়ে তাঁকে রাজশাহী থেকে নিয়মিত মাঠে অনুশীলন করাতে হয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোচ জহির ইকবাল এখানে অনুশীলন করিয়েছেন। অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছেন। আর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বরখাস্ত হওয়া মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন গত ৬ অক্টোবর থেকে রাতের খাবারটা দিয়েছেন। মাসুদ রানা বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সামাদ ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মামুনুর রহমানের অনুপ্রেরণা ছাড়া তিনি এত দূর আসতে পারতেন না। তবে এরপর ঢাকায় গিয়ে অনুশীলন করা এবং চূড়ান্ত খেলা পর্যন্ত ওদের রাখার মতো সামর্থ্য তাঁর নেই। গতকাল চারঘাট উপজেলা চত্বরে এই কৃতী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের পর অধিনায়ক কামরুন্নাহারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পরিবারের হতদরিদ্র চেহারা। তার বাবা কামাল হোসেন দিনমজুর। খেলোয়াড় হিসেবে মেয়েকে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া সম্ভব হয় কি না, জানতে চাইলে মা গুলনাহার বলেন, তিন বেলা ঠিকমতো ছেলেমেয়েদের খাবারই জোগাড় করতে পারেন না। পুষ্টিকর খাবার কোথায় পাবেন। এই দল ঢাকায় কীভাবে খেলতে যাবে, জানতে চাইলে আব্দুস সামাদ গতকাল সংবর্ধনা শেষে প্রথম আলোকে বলেন, এ জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই। তিনি জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে বলেছেন, তারা কিঞ্চিৎ সহযোগিতা করতে চেয়েছে। তা দিয়ে কিছুই হবে না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দ না থাকায় অর্থাভাবে অনেকেই জেলা পর্যায়ে খেলতে যেতে চায় না।

Comments

Comments!

 ওদের ঢাকা যাওয়ার টাকা নেইAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

ওদের ঢাকা যাওয়ার টাকা নেই

Thursday, November 24, 2016 7:14 am
a72f6d4b2d02783a3b1c7b1bb5c4270c-3

সেমিফাইনালে দুই মিনিটের মাথায় গোল করল সে। ফাইনালেও শেষ গোলটা করল। পায়ে ক্ষিপ্র গতি, অব্যর্থ নিশানা। সে দলের অধিনায়ক। নাম কামরুন্নাহার। তার নেতৃত্বে বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে তাদের দল রাজশাহী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গতকাল তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সবই ঠিক আছে, কিন্তু ঠিক নেই ওদের স্বাস্থ্য। চেহারায় অপুষ্টির ছাপ। অধিনায়কের মতো দলের সবাই উঠে এসেছে হতদরিদ্র পরিবার থেকে। জাতীয় পর্যায়ে খেলার জন্য তাদের আর ঢাকায় যাওয়ার পয়সা নেই। দলের কোচ ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের এত দূর নিয়ে এসেছিলেন। এখন তাঁর চোখেমুখেও হতাশা। এটি হচ্ছে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বড়বড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দল। গত শুক্রবার রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে বিভাগীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বের খেলায় তারা সিরাজগঞ্জ জেলাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
বড়বড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চারঘাট উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি নিভৃত গ্রামে। এই গ্রামেই সব খেলোয়াড়ের বাড়ি। কারও কারও বসতবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। কারও বাবা মুদিদোকানি, কারও বাবা সবজি বিক্রি করেন, কারও বাবা দিনমজুরি করেন। এই সব পরিবার থেকেই উঠে এসেছে ২২ জনের একটি ফুটবল দল। তাদের মধ্যে ১৭ জন বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য গত ৩০ অক্টোবর থেকে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামেই রয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে খোলা ট্রাকে করে তাদের রাজশাহী থেকে চারঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। চারঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
দলের অধিনায়ক কামরুন্নাহারসহ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে সুমনা খাতুন, বর্ষা খাতুন, বৃষ্টি খাতুন, সাদিয়া ইসলাম, শাপলা খাতুন, পলি খাতুন, তানিয়া খাতুন, অনক ও সাজমনি। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে সাদিয়া তুত্তাইবা, প্রিয়া খাতুন, তাসলিমা খাতুন, মিনু খাতুন, স্বর্ণালী আক্তার, মায়া খাতুন। এ ছাড়া রয়েছে তৃতীয় শ্রেণির শারমিন খাতুন। তাদের মধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে ব্যক্তিগতভাবে শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছে আক্তার। স্বর্ণালী আক্তার ও মিনু খাতুন উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ।
বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে রাজশাহী বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন বড়বড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দলের খেলোয়াড়েরাদলের মধ্যে উচ্চতায় সবচেয়ে ছোট মিনু খাতুন। সে দলের সবচেয়ে ক্ষিপ্র গতির খেলোয়াড়। এ কারণে তার নাম হয়ে গেছে খুদে ম্যারাডোনা। দলের আরেক দুর্দান্ত খেলোয়াড় সুমনা। টাইব্রেকারে তার লক্ষ্য অব্যর্থ। জেলা পর্যায় পর্যন্ত দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে সে। গত শুক্রবার রাতে তারা স্টেডিয়ামেই ছিল। সেখানেই কথা হয় তাদের সঙ্গে। দেখা যায়, তাদের কারও গায়েই ভালো পোশাক নেই। যে জার্সি পরে মাঠে খেলেছে, সেই জার্সি পরেই রাতে ঘুমোতে যাচ্ছে। তাদের চেহারায় অপুষ্টির ছাপ। দলের তুখোড় খেলোয়াড় বলে খ্যাত সুমনারা চার বোন, এক ভাই। সে বলল, তার বাবা মৌসুমি ব্যবসায়ী। খেলোয়াড় হিসেবে তার জন্য আলাদা খাবারের কোনো ব্যবস্থা করাই সম্ভব হয় না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি এই বাচ্চাদের এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। তিনি দুঃখ করে বললেন, বিদ্যালয়ের কোনো তহবিল নেই যে এই বাচ্চাদের খেলাধুলার পেছনে ব্যয় করবেন। তিনি ক্রীড়ামোদী মানুষ, তাই নিজের পকেট থেকে খরচ করেই খেলা চালান। তিনি বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া পর্যন্ত তাদের ২৪টি খেলায় অংশ নিতে হয়েছে। জেলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গত ৩০ অক্টোবর থেকে ২২ জন খুদে খেলোয়াড় নিয়ে তাঁকে রাজশাহী থেকে নিয়মিত মাঠে অনুশীলন করাতে হয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোচ জহির ইকবাল এখানে অনুশীলন করিয়েছেন। অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছেন। আর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বরখাস্ত হওয়া মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন গত ৬ অক্টোবর থেকে রাতের খাবারটা দিয়েছেন। মাসুদ রানা বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সামাদ ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মামুনুর রহমানের অনুপ্রেরণা ছাড়া তিনি এত দূর আসতে পারতেন না। তবে এরপর ঢাকায় গিয়ে অনুশীলন করা এবং চূড়ান্ত খেলা পর্যন্ত ওদের রাখার মতো সামর্থ্য তাঁর নেই।
গতকাল চারঘাট উপজেলা চত্বরে এই কৃতী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের পর অধিনায়ক কামরুন্নাহারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পরিবারের হতদরিদ্র চেহারা। তার বাবা কামাল হোসেন দিনমজুর। খেলোয়াড় হিসেবে মেয়েকে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া সম্ভব হয় কি না, জানতে চাইলে মা গুলনাহার বলেন, তিন বেলা ঠিকমতো ছেলেমেয়েদের খাবারই জোগাড় করতে পারেন না। পুষ্টিকর খাবার কোথায় পাবেন।
এই দল ঢাকায় কীভাবে খেলতে যাবে, জানতে চাইলে আব্দুস সামাদ গতকাল সংবর্ধনা শেষে প্রথম আলোকে বলেন, এ জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই। তিনি জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে বলেছেন, তারা কিঞ্চিৎ সহযোগিতা করতে চেয়েছে। তা দিয়ে কিছুই হবে না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দ না থাকায় অর্থাভাবে অনেকেই জেলা পর্যায়ে খেলতে যেতে চায় না।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X