সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:১৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, September 9, 2016 6:39 pm
A- A A+ Print

কঠোর নিরাপত্তায় হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

cr5wkutvmaashxe

মক্কা: কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুক্রবার পবিত্র হজের ৫ দিনের আনুষ্ঠানিকতার প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ হাজি মক্কা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিনার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। আজ মিনায় সারাদিন ও সারারাত অবস্থানের মধ্য দিয়ে তারা পালন করবেন পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। এদিকে হজ উপলক্ষে এবার মক্কা ও মদীনায় নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে হাজিদের ভাগ ভাগ করে সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে সৌদি হজ কর্তৃপক্ষ । গত বছর মিনায় পাথর নিক্ষেপের সময় পদদলিত হয়ে ৭১৭ জন হাজির মৃত্যু হয়। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা দাবি করেছে এ সংখ্যা ২ হাজার ছাঁড়িয়েছিল। এরপরই হজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার পবিত্র মসজিদুল হারামে জুমার নামাজ আদায়ের পর পবিত্র হজ পালন করতে মিনায় যাবেন হাজিরা। ৭ থেকে ১২ জিলহজ তারা মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফায় অবস্থান করবেন। ৮ জিলহজ মিনায় সারা দিন অবস্থানের পর ৯ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায়ের পর প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তারা। সেখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করতে হবে। আরাফাহ থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে রাতযাপন করতে হবে। এরপর মিনায় জামারতে শয়তানকে মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করতে হবে। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরবেন হাজিরা। এখানে বড় শয়তানকে পাথর মেরে, কোরবানি করে ও মাথা মুণ্ডন করতে হবে। পরে কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন তারা। তাওয়াফ ও সাঈ শেষে মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ সেখানে অবস্থান করবেন তারা। এখানে প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন তারা। এ বছর হাজিদের পরিচয় নিশ্চিতের জন্য ইলেকট্রনিক ব্রেসলেট সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্রেসলেটে বারকোড রয়েছে এবং এটি অ্যাপসের মাধ্যমে স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযুক্ত। এই ব্রেসলেটে হাজিদের ব্যক্তিগত এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য রয়েছে। এটি তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা দেবে। সেই সঙ্গে তাদের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হবে এই ব্রেসলেটের মাধ্যমে। মক্কা ও মদীনায় দ্রুত ভীড় অপসারণ ও যে কোনো ধরণের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মক্কা ও মদীনায় হাজিদের পথ চলা ও দিক নির্দেশনার জন্য সাড়ে চার হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হজের অনুমতি নেই এমন কেউ যাতে মক্কায় প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারি বার্তা সংস্থা সৌদি গেজেট জানিয়েছে, অবৈধ হজযাত্রীদের আটকে বাহিতা ও হাদা এলাকায় ১ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে হাজিদের নিরাপত্তায় দ্রুত তিন হাজার উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র স্থানান্তরে ১৭ হাজার কর্মী মোতায়েন করেছে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। হজের পাঁচদিন মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলো পরিস্কারের জন্য ২৬ হাজার কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজিদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য মক্কায় পর্যাপ্ত জনবল, ওষুধ ও যন্ত্রপাতিসহ আটটি হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মিনা, আরফাতের ময়দান ও মুজদালিফায ২৫টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। চলতি বছর মাতাফের (পবিত্র কাবার চারপার্শ্বে তাওয়াফের স্থান) স্থানও সম্প্রসারিত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। মক্কা শরীফের রক্ষাণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার ঘন্টায় ৩০ হাজার হাজি একসঙ্গে তাওয়াফ করতে পারবে। এর আগে এখানে ১৯ হাজার হাজি একসঙ্গে তাওয়াফ করতে পারতো। এছাড়াও আরফাহ ও মুজদালিফায় হাজিদের পিপাসা নিবারণের জন্য ১৫ লাখ গ্যালন জমজমের পানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এদিকে, তাবুর শহর মিনায় এখন লাখ লাখ মুসল্লির কণ্ঠে একযোগে ধ্বনিত হচ্ছে 'লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক'-প্রভু হে বান্দা হাজির তোমার দরবারে। মহান আল্লাহর নৈকট্য ও রহমত পাওয়ার উদ্দেশ্যে হাজি সাহেবরা নামাজ আদায়, জিকির-আজকার ও ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। পাপ থেকে মুক্তি ও কল্যাণময় জীবন লাভের জন্য মহান আল্লাহর কৃপা কামনা করে কান্নাকাটি করছেন।
 

Comments

Comments!

 কঠোর নিরাপত্তায় হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

কঠোর নিরাপত্তায় হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

Friday, September 9, 2016 6:39 pm
cr5wkutvmaashxe

মক্কা: কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুক্রবার পবিত্র হজের ৫ দিনের আনুষ্ঠানিকতার প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ হাজি মক্কা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিনার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। আজ মিনায় সারাদিন ও সারারাত অবস্থানের মধ্য দিয়ে তারা পালন করবেন পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

এদিকে হজ উপলক্ষে এবার মক্কা ও মদীনায় নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে হাজিদের ভাগ ভাগ করে সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে সৌদি হজ কর্তৃপক্ষ ।

গত বছর মিনায় পাথর নিক্ষেপের সময় পদদলিত হয়ে ৭১৭ জন হাজির মৃত্যু হয়। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা দাবি করেছে এ সংখ্যা ২ হাজার ছাঁড়িয়েছিল। এরপরই হজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার পবিত্র মসজিদুল হারামে জুমার নামাজ আদায়ের পর পবিত্র হজ পালন করতে মিনায় যাবেন হাজিরা। ৭ থেকে ১২ জিলহজ তারা মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফায় অবস্থান করবেন। ৮ জিলহজ মিনায় সারা দিন অবস্থানের পর ৯ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায়ের পর প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তারা। সেখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করতে হবে।

আরাফাহ থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে রাতযাপন করতে হবে। এরপর মিনায় জামারতে শয়তানকে মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করতে হবে। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরবেন হাজিরা। এখানে বড় শয়তানকে পাথর মেরে, কোরবানি করে ও মাথা মুণ্ডন করতে হবে। পরে কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন তারা। তাওয়াফ ও সাঈ শেষে মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ সেখানে অবস্থান করবেন তারা। এখানে প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন তারা।

এ বছর হাজিদের পরিচয় নিশ্চিতের জন্য ইলেকট্রনিক ব্রেসলেট সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্রেসলেটে বারকোড রয়েছে এবং এটি অ্যাপসের মাধ্যমে স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযুক্ত। এই ব্রেসলেটে হাজিদের ব্যক্তিগত এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য রয়েছে। এটি তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা দেবে। সেই সঙ্গে তাদের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হবে এই ব্রেসলেটের মাধ্যমে।

মক্কা ও মদীনায় দ্রুত ভীড় অপসারণ ও যে কোনো ধরণের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মক্কা ও মদীনায় হাজিদের পথ চলা ও দিক নির্দেশনার জন্য সাড়ে চার হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হজের অনুমতি নেই এমন কেউ যাতে মক্কায় প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সরকারি বার্তা সংস্থা সৌদি গেজেট জানিয়েছে, অবৈধ হজযাত্রীদের আটকে বাহিতা ও হাদা এলাকায় ১ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে হাজিদের নিরাপত্তায় দ্রুত তিন হাজার উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র স্থানান্তরে ১৭ হাজার কর্মী মোতায়েন করেছে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। হজের পাঁচদিন মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলো পরিস্কারের জন্য ২৬ হাজার কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজিদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য মক্কায় পর্যাপ্ত জনবল, ওষুধ ও যন্ত্রপাতিসহ আটটি হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মিনা, আরফাতের ময়দান ও মুজদালিফায ২৫টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

চলতি বছর মাতাফের (পবিত্র কাবার চারপার্শ্বে তাওয়াফের স্থান) স্থানও সম্প্রসারিত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। মক্কা শরীফের রক্ষাণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার ঘন্টায় ৩০ হাজার হাজি একসঙ্গে তাওয়াফ করতে পারবে। এর আগে এখানে ১৯ হাজার হাজি একসঙ্গে তাওয়াফ করতে পারতো। এছাড়াও আরফাহ ও মুজদালিফায় হাজিদের পিপাসা নিবারণের জন্য ১৫ লাখ গ্যালন জমজমের পানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে, তাবুর শহর মিনায় এখন লাখ লাখ মুসল্লির কণ্ঠে একযোগে ধ্বনিত হচ্ছে ‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’-প্রভু হে বান্দা হাজির তোমার দরবারে। মহান আল্লাহর নৈকট্য ও রহমত পাওয়ার উদ্দেশ্যে হাজি সাহেবরা নামাজ আদায়, জিকির-আজকার ও ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। পাপ থেকে মুক্তি ও কল্যাণময় জীবন লাভের জন্য মহান আল্লাহর কৃপা কামনা করে কান্নাকাটি করছেন।

 

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X