মঙ্গলবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৩৮
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, July 18, 2017 9:32 am
A- A A+ Print

কমিকস বইয়ের কল্পজগৎ থেকে জঙ্গি আস্তানায়

3

 শেখ সাবিহা আলম : সদ্য ‘ও লেভেল’ পাস করা আহমেদ আজওয়াদ ইমতিয়াজ তালুকদার একজন ‘রোল মডেল’ খুঁজছিল। বাবা শৌর্য-বীর্যে সবার সেরা হবেন, এমনটাই আশা ছিল আজওয়াদের। কিন্তু কৈশোর পেরোনোর আগেই সেই রোল মডেলের জায়গাটা নিয়ে নেন আশিকুর রহমান জিলানী নামের এক জঙ্গি। এই আশিকুর পরে সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হন। আশিকুর বিডিআর বিদ্রোহে নিহত কর্নেল মশিউর রহমানের ছেলে। আহমেদ আজওয়াদ ইমতিয়াজ তালুকদার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে গত ৮ মার্চ কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। আজওয়াদ ও তার সহযোগী দুটি বোমা নিয়ে ঢাকায় আসছিল। একেকটি বোমার ওজন ছিল প্রায় চার কেজি। কয়েক দফায় পুলিশের রিমান্ডে আজওয়াদ জঙ্গিগোষ্ঠী সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেয়। আজওয়াদ ২০১৬ সালের ১ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিল। প্রায় একই সময়ে ঘর ছেড়েছিল হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী তিনজনসহ বেশ কিছু তরুণ। তাদের বেশির ভাগই পুলিশের অভিযানে নিহত বা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। আজওয়াদের বিরুদ্ধে এখন পাঁচটি মামলার কার্যক্রম চলছে।

আজওয়াদের সঙ্গে কথা বলেছেন এমন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে সম্প্রতি এই প্রতিবেদকের কথা হয়। আজওয়াদ জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়া থেকে শুরু করে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত তার জঙ্গিজীবনের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বলেছে। আজওয়াদ কর্মকর্তাদের জানিয়েছে, জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে বিভিন্ন জায়গায়।

জঙ্গিবাদে দীক্ষা

আহমেদ আজওয়াদ ইমতিয়াজ তালুকদার পুলিশকে জানায়, সে মা-বাবার একমাত্র সন্তান। কিন্তু একমাত্র সন্তান হিসেবে যতটা মনোযোগ পাওয়ার কথা ছিল, ততটা সে পাচ্ছিল না। আজওয়াদ তার বন্ধুদের মতো বাবার সঙ্গে বসে কার্টুন বা সিনেমা দেখতে চাইত। তেমনটা হয়নি। যে জিনিসটা আজওয়াদকে সবচেয়ে ব্যথিত করত, তা হলো বাবা সব সময় সত্য বলতেন না। মা-বাবার মধ্যে বনিবনাও হচ্ছিল না। একপর্যায়ে তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন। আজওয়াদ কখনো নানার বাড়িতে মায়ের সঙ্গে, কখনো বাবার সঙ্গে থাকত। মায়ের মেজাজও খুব খিটখিটে হয়ে গিয়েছিল। ঝগড়াঝাঁটি হলেই বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলতেন মা। অনেক বন্ধুই তখন পার্টিতে যেতে শুরু করেছে, অনেকে মাদকাসক্ত। বন্ধুদের সঙ্গও তার আর ভালো লাগছিল না। এই পরিস্থিতিতে আজওয়াদ মসজিদে যেতে শুরু করে। একদিন নামাজের পরও আজওয়াদ অনেকক্ষণ মসজিদে বসে ছিল। তখন তাকে ডেকে নেন আশিকুর রহমান জিলানী।

আশিকুর রহমান জিলানী ছিলেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ছাত্র। আশিকুরের মাধ্যমে আজওয়াদের সঙ্গে আরও কিছু তরুণের পরিচয় হয়। তাদের একজন রোহান ইমতিয়াজ, যে হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিল। আশিকুরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে মিশতে আজওয়াদ তার বাবাকে অনুরোধ করে পুরোনো গৃহশিক্ষককে বিদায় করে দেয়। তাঁর জায়গায় পড়াতে আসেন আশিকুর। ঘরে বসেই সিরিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিনের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতো। আইএসের ভিডিও দেখত ও নিয়মিত জাকির নায়েকের বক্তৃতা শুনত। কেন জিহাদ করতে হবে, কেন হিজরত করা জরুরি—এসব নিয়েও কথাবার্তা বলতেন আশিকুর। হঠাৎ একদিন আশিকুর দেশ ছেড়ে যান। এরপরও আজওয়াদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। যোগাযোগের সুযোগটা তৈরি করে দিয়েছিল রোহান ইমতিয়াজ। বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে নিয়মিত তারা কথাবার্তা বলত।

একপর্যায়ে আজওয়াদও আশিকুরের মতো বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার ধারণা ছিল, বাড়ি ছাড়াটা একটা অ্যাডভেঞ্চারের মতো হবে। আর তার মা-বাবাকেও একটা শাস্তি দেওয়া হবে। আজওয়াদ জানায়, যুদ্ধের ভিডিও গেমস খেলে আর ডিসি কমিকস পড়ে তার সময় কাটত। তার কাছে আইএসের যোদ্ধারা তখন স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যানদের মতো সুপার হিরো চরিত্র।

আশিকুর রহমান জিলানী দেশ ছাড়ার বছরখানেকের মধ্যে ঢাকায় ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা খুন হন, শিয়াদের ইমামবাড়া হোসেনি দালানে হামলা হয় এবং আইএস তার দায় স্বীকার করে। আজওয়াদ বুঝতে পারে, এখানে জঙ্গিগোষ্ঠী সক্রিয় হচ্ছে। আজওয়াদ ইন্টারনেট ব্যবহার করে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায়, তাদের জানায় যে ঘর ছাড়ার জন্য সে প্রস্তুত। এরপর তাকে (২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বা ২০১৬ সালের শুরুর দিকে) ধানমন্ডি লেকের ধারে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়। সময় সন্ধ্যা ছয়টা। নির্ধারিত সময়ে কালো রঙের টি-শার্ট, প্যান্ট ও জ্যাকেট পরা এক তরুণ আসে। লেকের ধারে একটি হোটেলে আজওয়াদ ওই তরুণের সঙ্গে গল্প করে। ওই তরুণ বলে, বিশ্বব্যাপী তারা মুসলমানদের রক্ষার জন্য লড়ছে। সে আজওয়াদকে বলে, মাসখানেক পরে আজওয়াদকে জানানো হবে, সে জঙ্গিগোষ্ঠীতে যুক্ত হওয়ার উপযোগী কি না। পরে ১ মার্চ আজওয়াদকে ঘর ছাড়তে বলা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘর ছাড়ার ব্যাপারে যে ব্যক্তি আজওয়াদের সঙ্গে কথা বলে, সেই একই ব্যক্তি রোহানের সঙ্গেও কথা বলেছিল। তবে ব্যক্তিটি কে, সে সম্পর্কে পুলিশের কাছ থেকে কিছু জানা যায়নি।

জঙ্গি আস্তানায় স্বপ্নভঙ্গ

বাড়ি ছাড়ার আগে আজওয়াদ মা-বাবার উদ্দেশে চিঠি লেখে। তাতে বলে, তার বাড়ি ছাড়ার ব্যাপারে পুলিশকে যেন জানানো না হয়। সে মুঠোফোন ভেঙে ফেলে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে আজওয়াদ চলে যায় মোহাম্মদপুরে। কেউ একজন তাকে সালাম দেয় এবং কোনো কথা না বলে তাকে অনুসরণ করতে বলে। মোহাম্মদপুর থেকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে বাসে করে আজওয়াদ চলে যায় মিরপুর শাহ আলী মার্কেটে। বাস থেকে নামার পর আরেক ব্যক্তি তাকে রিকশায় তুলে শক্তিশালী চশমা পরিয়ে দেয়। পরে আজওয়াদ জানতে পারে, সে যাতে রাস্তা চিনতে না পারে, সে জন্য এই ব্যবস্থা। অনেকটা পথ ঘুরে রিকশাটি একটি পুরোনো বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। ওই বাড়ির ভেতরে কোনো আসবাব ছিল না। পাঁচ-সাতজনের একটা দল মেঝেতে শুয়ে-বসে ছিল। সবাই প্রায় এক বয়সী। আজওয়াদকে বলা হয়, সে যেন তার ব্যক্তিগত কোনো তথ্য কাউকে না জানায়, নিজেও যেন কারও সম্পর্কে জানতে না চায়। আজওয়াদের নাম হয়ে যায় হায়দার। আজওয়াদদের সবাইকে একটি ভিডিওতে পক্ষত্যাগকারী আল-কায়েদার এক কর্মীকে নৃশংস হত্যার দৃশ্য দেখানো হয়। বলা হয়, কেউ যদি কখনো ওই আস্তানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে কোনো না কোনো একদিন তাকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে।

মিরপুরের ওই আস্তানায় ‘কোর্স’ শেষে আজওয়াদকে আইএসের বিভিন্ন প্রচারপত্র ও লেখা বাংলায় অনুবাদ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার ধারণা ছিল, জঙ্গিগোষ্ঠীতে যোগ দিলেই সে একটি একে-৪৭ রাইফেল পাবে এবং যারা অন্যায় করছে, তাদের মেরে ফেলবে। তার বদলে তাকে দেওয়া হয় আইএসের প্রচারপত্র ও ভিডিওতে বিভিন্ন নৃশংসতার বিবরণ বাংলায় অনুবাদের দায়িত্ব। অপারেশনাল কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আজওয়াদের সঙ্গে একই আস্তানায় থাকা ‘নাফিজ’ নামের এক তরুণকে। সে-ও ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করা। নাফিজ কোথায় আজওয়াদ এখন আর জানে না।

মিরপুরের আস্তানা থেকে আজওয়াদ ও নাফিজ চলে যায় পাবনায়। আজওয়াদের হাতে একটি নোটবুক আর নাফিজের হাতে একটি ল্যাপটপ ধরিয়ে দেওয়া হয়। জঙ্গি সংগঠনটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে নাফিজ যোগাযোগ রাখত। আর গোপন আস্তানার দেখাশোনা, বাজার-সদাই করার দায়িত্ব ছিল আলম নামের এক ব্যক্তির ওপর। এই আলম মাসখানেকের মাথায় পালিয়ে যায়। আস্তানার খবর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পৌঁছে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় নাফিজ ও আজওয়াদকে ঢাকায় চলে আসতে বলা হয়।

হোলি আর্টিজানে হামলার কুশীলবদের সঙ্গে

এবারের আস্তানাও ছিল মিরপুরে। রোজার মাসের শুরুর দিকে এই আস্তানাতেই আসে হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী অন্তত দুজন। তারা হলো নিবরাস ইসলাম ও রোহান ইমতিয়াজ। সেবারের ঈদের আনন্দকে তারা তিতা বানিয়ে ফেলবে বলে জানায়। বড় একটা অপারেশন হবে বলে শোনে তারা।

হোলি আর্টিজানে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে ঈদের সপ্তাহ দুয়েক আগে ঢাকা থেকে বেশির ভাগ আস্তানা গুটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। রাশেদ ও আজওয়াদকে পাঠানো হয় সিলেটের সুবিদবাজারে। হোলি আর্টিজানে হামলার খবর তারা জানতে পারে ইন্টারনেট থেকে। সংগঠনের নির্দেশে ঈদের পর তারা শেওড়াপাড়ার আশপাশে একটি আস্তানায় গিয়ে ওঠে। ওই আস্তানায় ছিলেন আকাশ, তাঁর স্ত্রী ও সন্তান।

গত বছরের ২৬ জুলাই রাতে কল্যাণপুরে পুলিশের অভিযানের পরপরই আবার তাদের শেওড়াপাড়া ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। রাশেদকে সঙ্গে করে আজওয়াদ সিলেটের দিকে রওনা হয়। পথে আজওয়াদ নারায়ণগঞ্জে তামিম চৌধুরীর আস্তানায় গিয়ে ওঠে। সেখানে মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামের সঙ্গেও দেখা হয় তার। তামিমের বাংলা ও নর্থ আমেরিকান উচ্চারণের ইংরেজিতে ধর্মের ব্যাখ্যা শুনে আজওয়াদ আরও উজ্জীবিত হয়। সে নারায়ণগঞ্জের ওই বাড়িতে আরও দুজনকে দেখে। তাদের একজন ময়মনসিংহের ভাষায় কথা বলত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, ময়মনসিংহের ভাষায় কথা বলা লোকটির সূত্র ধরেই তামিমের আস্তানার খোঁজ পায় পুলিশ। গোপন আস্তানায় থাকলেও ময়মনসিংহের ওই লোকটি যে তামিমকে ধরিয়ে দিয়েছে, সে খবর আজওয়াদ জানে।

পালানোর চিন্তা

নারায়ণগঞ্জ হয়ে সিলেটের ঝালোপাড়া নামের একটা জায়গায় গিয়ে ওঠে আজওয়াদ ও রাশেদ। সেখানে আগে থেকেই ছিল মাহবুব নামে এক ব্যক্তি। আজওয়াদকে ১৫ হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন দিয়ে পুরো সিলেট অঞ্চল ঘুরে দেখতে বলে মাহবুব। আজওয়াদের ই-মেইল ঠিকানায় তখন বাড়ি ফেরার অনুরোধ জানিয়ে মা-বাবার লেখা অনেক ই-মেইল। কিন্তু ধরা পড়ার ভয়ে সে উত্তর দিতে পারছে না। পোস্ট অফিস থেকে আজওয়াদ মা-বাবাকে চিঠি দেয়। জানায়, সে বাড়ি ফিরতে চায়। আবার ভয় ছিল, সে ফিরে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। সে জানায়, আফিফ নামে তার এক বন্ধু জঙ্গি আস্তানা থেকে কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আটকে ফেলে। আফিফ যেদিন পালায়, সেদিন নিজে থেকে রুটি বানানোর দায়িত্ব নিয়েছিল। খামির করার সময় আটায় বেশি করে পানি ঢেলে বলে আরও আটা লাগবে। আটা আনার কথা বলে আফিফ পালিয়ে যায়। প্রথমে সবাই ধরে নিয়েছিল যে আফিফ হারিয়ে গেছে। পরে জানতে পারে, সে পালিয়ে গেছে। সে যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিম্মায় আছে, সে খবরও জঙ্গিরা জানত।

বোমা বহন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার

গত বছরের ২৬ জুলাই ঢাকার কল্যাণপুরের অভিযানের পরও আজওয়াদদের সঙ্গে সংগঠনের নেতৃস্থানীয় জঙ্গিদের যোগাযোগ ছিল। তবে গাজীপুরে র‍্যাব-পুলিশের অভিযানের পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই অভিযানে তাদের বেশ কয়েকজন নিহত হয়। সপ্তাহ দুয়েক পর তাদের কাছে একটি খুদে বার্তা আসে। মাহবুব ও রাশেদ কোথাও বৈঠক করতে যায়। আজওয়াদকে চট্টগ্রামের পটিয়ায় যেতে বলা হয়। পটিয়া থেকে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নির্দেশে আজওয়াদ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাগে করে বোমা পৌঁছে দিয়েছে। সর্বশেষ ছিল মিরসরাইতে। সেখানে ফরহাদ নামের সংগঠনের এক নেতা আজওয়াদ ও তার সহযোগী হাসানকে দুটি ব্যাগে বোমা নিয়ে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে পাঠায়। পথে কুমিল্লার চান্দিনার কাছে পুলিশের হাতে দুজন ধরা পড়ে।

জঙ্গি কার্যক্রম নিয়ে এখন আজওয়াদের মন্তব্য কী, হোলি আর্টিজানে হামলা নিয়েই বা সে কী বলছে—এ বিষয়ে কর্মকর্তারা বলেন, আজওয়াদ বলেছে যে হোলি আর্টিজানে এত মানুষকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে মারা ঠিক হয়নি। এমনকি ইসলাম ধর্মাবলম্বী না হলে কাউকে মারতে হবে, এটাও ঠিক নয়।

আজওয়াদের মা-বাবা এখন এক–সঙ্গে থাকেন। দুজনে মিলে ছেলেকে কারাগারে দেখতে গিয়েছিলেন।

Comments

Comments!

 কমিকস বইয়ের কল্পজগৎ থেকে জঙ্গি আস্তানায়AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

কমিকস বইয়ের কল্পজগৎ থেকে জঙ্গি আস্তানায়

Tuesday, July 18, 2017 9:32 am
3

 শেখ সাবিহা আলম : সদ্য ‘ও লেভেল’ পাস করা আহমেদ আজওয়াদ ইমতিয়াজ তালুকদার একজন ‘রোল মডেল’ খুঁজছিল। বাবা শৌর্য-বীর্যে সবার সেরা হবেন, এমনটাই আশা ছিল আজওয়াদের। কিন্তু কৈশোর পেরোনোর আগেই সেই রোল মডেলের জায়গাটা নিয়ে নেন আশিকুর রহমান জিলানী নামের এক জঙ্গি। এই আশিকুর পরে সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হন। আশিকুর বিডিআর বিদ্রোহে নিহত কর্নেল মশিউর রহমানের ছেলে।

আহমেদ আজওয়াদ ইমতিয়াজ তালুকদার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে গত ৮ মার্চ কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। আজওয়াদ ও তার সহযোগী দুটি বোমা নিয়ে ঢাকায় আসছিল। একেকটি বোমার ওজন ছিল প্রায় চার কেজি। কয়েক দফায় পুলিশের রিমান্ডে আজওয়াদ জঙ্গিগোষ্ঠী সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেয়।

আজওয়াদ ২০১৬ সালের ১ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিল। প্রায় একই সময়ে ঘর ছেড়েছিল হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী তিনজনসহ বেশ কিছু তরুণ। তাদের বেশির ভাগই পুলিশের অভিযানে নিহত বা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। আজওয়াদের বিরুদ্ধে এখন পাঁচটি মামলার কার্যক্রম চলছে।

আজওয়াদের সঙ্গে কথা বলেছেন এমন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে সম্প্রতি এই প্রতিবেদকের কথা হয়। আজওয়াদ জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়া থেকে শুরু করে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত তার জঙ্গিজীবনের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বলেছে। আজওয়াদ কর্মকর্তাদের জানিয়েছে, জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে বিভিন্ন জায়গায়।

জঙ্গিবাদে দীক্ষা

আহমেদ আজওয়াদ ইমতিয়াজ তালুকদার পুলিশকে জানায়, সে মা-বাবার একমাত্র সন্তান। কিন্তু একমাত্র সন্তান হিসেবে যতটা মনোযোগ পাওয়ার কথা ছিল, ততটা সে পাচ্ছিল না। আজওয়াদ তার বন্ধুদের মতো বাবার সঙ্গে বসে কার্টুন বা সিনেমা দেখতে চাইত। তেমনটা হয়নি। যে জিনিসটা আজওয়াদকে সবচেয়ে ব্যথিত করত, তা হলো বাবা সব সময় সত্য বলতেন না। মা-বাবার মধ্যে বনিবনাও হচ্ছিল না। একপর্যায়ে তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন। আজওয়াদ কখনো নানার বাড়িতে মায়ের সঙ্গে, কখনো বাবার সঙ্গে থাকত। মায়ের মেজাজও খুব খিটখিটে হয়ে গিয়েছিল। ঝগড়াঝাঁটি হলেই বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলতেন মা। অনেক বন্ধুই তখন পার্টিতে যেতে শুরু করেছে, অনেকে মাদকাসক্ত। বন্ধুদের সঙ্গও তার আর ভালো লাগছিল না। এই পরিস্থিতিতে আজওয়াদ মসজিদে যেতে শুরু করে। একদিন নামাজের পরও আজওয়াদ অনেকক্ষণ মসজিদে বসে ছিল। তখন তাকে ডেকে নেন আশিকুর রহমান জিলানী।

আশিকুর রহমান জিলানী ছিলেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ছাত্র। আশিকুরের মাধ্যমে আজওয়াদের সঙ্গে আরও কিছু তরুণের পরিচয় হয়। তাদের একজন রোহান ইমতিয়াজ, যে হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিল। আশিকুরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে মিশতে আজওয়াদ তার বাবাকে অনুরোধ করে পুরোনো গৃহশিক্ষককে বিদায় করে দেয়। তাঁর জায়গায় পড়াতে আসেন আশিকুর। ঘরে বসেই সিরিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিনের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতো। আইএসের ভিডিও দেখত ও নিয়মিত জাকির নায়েকের বক্তৃতা শুনত। কেন জিহাদ করতে হবে, কেন হিজরত করা জরুরি—এসব নিয়েও কথাবার্তা বলতেন আশিকুর। হঠাৎ একদিন আশিকুর দেশ ছেড়ে যান। এরপরও আজওয়াদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। যোগাযোগের সুযোগটা তৈরি করে দিয়েছিল রোহান ইমতিয়াজ। বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে নিয়মিত তারা কথাবার্তা বলত।

একপর্যায়ে আজওয়াদও আশিকুরের মতো বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার ধারণা ছিল, বাড়ি ছাড়াটা একটা অ্যাডভেঞ্চারের মতো হবে। আর তার মা-বাবাকেও একটা শাস্তি দেওয়া হবে। আজওয়াদ জানায়, যুদ্ধের ভিডিও গেমস খেলে আর ডিসি কমিকস পড়ে তার সময় কাটত। তার কাছে আইএসের যোদ্ধারা তখন স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যানদের মতো সুপার হিরো চরিত্র।

আশিকুর রহমান জিলানী দেশ ছাড়ার বছরখানেকের মধ্যে ঢাকায় ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা খুন হন, শিয়াদের ইমামবাড়া হোসেনি দালানে হামলা হয় এবং আইএস তার দায় স্বীকার করে। আজওয়াদ বুঝতে পারে, এখানে জঙ্গিগোষ্ঠী সক্রিয় হচ্ছে। আজওয়াদ ইন্টারনেট ব্যবহার করে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায়, তাদের জানায় যে ঘর ছাড়ার জন্য সে প্রস্তুত। এরপর তাকে (২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বা ২০১৬ সালের শুরুর দিকে) ধানমন্ডি লেকের ধারে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়। সময় সন্ধ্যা ছয়টা। নির্ধারিত সময়ে কালো রঙের টি-শার্ট, প্যান্ট ও জ্যাকেট পরা এক তরুণ আসে। লেকের ধারে একটি হোটেলে আজওয়াদ ওই তরুণের সঙ্গে গল্প করে। ওই তরুণ বলে, বিশ্বব্যাপী তারা মুসলমানদের রক্ষার জন্য লড়ছে। সে আজওয়াদকে বলে, মাসখানেক পরে আজওয়াদকে জানানো হবে, সে জঙ্গিগোষ্ঠীতে যুক্ত হওয়ার উপযোগী কি না। পরে ১ মার্চ আজওয়াদকে ঘর ছাড়তে বলা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘর ছাড়ার ব্যাপারে যে ব্যক্তি আজওয়াদের সঙ্গে কথা বলে, সেই একই ব্যক্তি রোহানের সঙ্গেও কথা বলেছিল। তবে ব্যক্তিটি কে, সে সম্পর্কে পুলিশের কাছ থেকে কিছু জানা যায়নি।

জঙ্গি আস্তানায় স্বপ্নভঙ্গ

বাড়ি ছাড়ার আগে আজওয়াদ মা-বাবার উদ্দেশে চিঠি লেখে। তাতে বলে, তার বাড়ি ছাড়ার ব্যাপারে পুলিশকে যেন জানানো না হয়। সে মুঠোফোন ভেঙে ফেলে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে আজওয়াদ চলে যায় মোহাম্মদপুরে। কেউ একজন তাকে সালাম দেয় এবং কোনো কথা না বলে তাকে অনুসরণ করতে বলে। মোহাম্মদপুর থেকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে বাসে করে আজওয়াদ চলে যায় মিরপুর শাহ আলী মার্কেটে। বাস থেকে নামার পর আরেক ব্যক্তি তাকে রিকশায় তুলে শক্তিশালী চশমা পরিয়ে দেয়। পরে আজওয়াদ জানতে পারে, সে যাতে রাস্তা চিনতে না পারে, সে জন্য এই ব্যবস্থা। অনেকটা পথ ঘুরে রিকশাটি একটি পুরোনো বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। ওই বাড়ির ভেতরে কোনো আসবাব ছিল না। পাঁচ-সাতজনের একটা দল মেঝেতে শুয়ে-বসে ছিল। সবাই প্রায় এক বয়সী। আজওয়াদকে বলা হয়, সে যেন তার ব্যক্তিগত কোনো তথ্য কাউকে না জানায়, নিজেও যেন কারও সম্পর্কে জানতে না চায়। আজওয়াদের নাম হয়ে যায় হায়দার। আজওয়াদদের সবাইকে একটি ভিডিওতে পক্ষত্যাগকারী আল-কায়েদার এক কর্মীকে নৃশংস হত্যার দৃশ্য দেখানো হয়। বলা হয়, কেউ যদি কখনো ওই আস্তানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে কোনো না কোনো একদিন তাকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে।

মিরপুরের ওই আস্তানায় ‘কোর্স’ শেষে আজওয়াদকে আইএসের বিভিন্ন প্রচারপত্র ও লেখা বাংলায় অনুবাদ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার ধারণা ছিল, জঙ্গিগোষ্ঠীতে যোগ দিলেই সে একটি একে-৪৭ রাইফেল পাবে এবং যারা অন্যায় করছে, তাদের মেরে ফেলবে। তার বদলে তাকে দেওয়া হয় আইএসের প্রচারপত্র ও ভিডিওতে বিভিন্ন নৃশংসতার বিবরণ বাংলায় অনুবাদের দায়িত্ব। অপারেশনাল কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আজওয়াদের সঙ্গে একই আস্তানায় থাকা ‘নাফিজ’ নামের এক তরুণকে। সে-ও ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করা। নাফিজ কোথায় আজওয়াদ এখন আর জানে না।

মিরপুরের আস্তানা থেকে আজওয়াদ ও নাফিজ চলে যায় পাবনায়। আজওয়াদের হাতে একটি নোটবুক আর নাফিজের হাতে একটি ল্যাপটপ ধরিয়ে দেওয়া হয়। জঙ্গি সংগঠনটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে নাফিজ যোগাযোগ রাখত। আর গোপন আস্তানার দেখাশোনা, বাজার-সদাই করার দায়িত্ব ছিল আলম নামের এক ব্যক্তির ওপর। এই আলম মাসখানেকের মাথায় পালিয়ে যায়। আস্তানার খবর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পৌঁছে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় নাফিজ ও আজওয়াদকে ঢাকায় চলে আসতে বলা হয়।

হোলি আর্টিজানে হামলার কুশীলবদের সঙ্গে

এবারের আস্তানাও ছিল মিরপুরে। রোজার মাসের শুরুর দিকে এই আস্তানাতেই আসে হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী অন্তত দুজন। তারা হলো নিবরাস ইসলাম ও রোহান ইমতিয়াজ। সেবারের ঈদের আনন্দকে তারা তিতা বানিয়ে ফেলবে বলে জানায়। বড় একটা অপারেশন হবে বলে শোনে তারা।

হোলি আর্টিজানে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে ঈদের সপ্তাহ দুয়েক আগে ঢাকা থেকে বেশির ভাগ আস্তানা গুটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। রাশেদ ও আজওয়াদকে পাঠানো হয় সিলেটের সুবিদবাজারে। হোলি আর্টিজানে হামলার খবর তারা জানতে পারে ইন্টারনেট থেকে। সংগঠনের নির্দেশে ঈদের পর তারা শেওড়াপাড়ার আশপাশে একটি আস্তানায় গিয়ে ওঠে। ওই আস্তানায় ছিলেন আকাশ, তাঁর স্ত্রী ও সন্তান।

গত বছরের ২৬ জুলাই রাতে কল্যাণপুরে পুলিশের অভিযানের পরপরই আবার তাদের শেওড়াপাড়া ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। রাশেদকে সঙ্গে করে আজওয়াদ সিলেটের দিকে রওনা হয়। পথে আজওয়াদ নারায়ণগঞ্জে তামিম চৌধুরীর আস্তানায় গিয়ে ওঠে। সেখানে মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামের সঙ্গেও দেখা হয় তার। তামিমের বাংলা ও নর্থ আমেরিকান উচ্চারণের ইংরেজিতে ধর্মের ব্যাখ্যা শুনে আজওয়াদ আরও উজ্জীবিত হয়। সে নারায়ণগঞ্জের ওই বাড়িতে আরও দুজনকে দেখে। তাদের একজন ময়মনসিংহের ভাষায় কথা বলত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, ময়মনসিংহের ভাষায় কথা বলা লোকটির সূত্র ধরেই তামিমের আস্তানার খোঁজ পায় পুলিশ। গোপন আস্তানায় থাকলেও ময়মনসিংহের ওই লোকটি যে তামিমকে ধরিয়ে দিয়েছে, সে খবর আজওয়াদ জানে।

পালানোর চিন্তা

নারায়ণগঞ্জ হয়ে সিলেটের ঝালোপাড়া নামের একটা জায়গায় গিয়ে ওঠে আজওয়াদ ও রাশেদ। সেখানে আগে থেকেই ছিল মাহবুব নামে এক ব্যক্তি। আজওয়াদকে ১৫ হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোন দিয়ে পুরো সিলেট অঞ্চল ঘুরে দেখতে বলে মাহবুব। আজওয়াদের ই-মেইল ঠিকানায় তখন বাড়ি ফেরার অনুরোধ জানিয়ে মা-বাবার লেখা অনেক ই-মেইল। কিন্তু ধরা পড়ার ভয়ে সে উত্তর দিতে পারছে না। পোস্ট অফিস থেকে আজওয়াদ মা-বাবাকে চিঠি দেয়। জানায়, সে বাড়ি ফিরতে চায়। আবার ভয় ছিল, সে ফিরে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। সে জানায়, আফিফ নামে তার এক বন্ধু জঙ্গি আস্তানা থেকে কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আটকে ফেলে। আফিফ যেদিন পালায়, সেদিন নিজে থেকে রুটি বানানোর দায়িত্ব নিয়েছিল। খামির করার সময় আটায় বেশি করে পানি ঢেলে বলে আরও আটা লাগবে। আটা আনার কথা বলে আফিফ পালিয়ে যায়। প্রথমে সবাই ধরে নিয়েছিল যে আফিফ হারিয়ে গেছে। পরে জানতে পারে, সে পালিয়ে গেছে। সে যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিম্মায় আছে, সে খবরও জঙ্গিরা জানত।

বোমা বহন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার

গত বছরের ২৬ জুলাই ঢাকার কল্যাণপুরের অভিযানের পরও আজওয়াদদের সঙ্গে সংগঠনের নেতৃস্থানীয় জঙ্গিদের যোগাযোগ ছিল। তবে গাজীপুরে র‍্যাব-পুলিশের অভিযানের পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই অভিযানে তাদের বেশ কয়েকজন নিহত হয়। সপ্তাহ দুয়েক পর তাদের কাছে একটি খুদে বার্তা আসে। মাহবুব ও রাশেদ কোথাও বৈঠক করতে যায়। আজওয়াদকে চট্টগ্রামের পটিয়ায় যেতে বলা হয়। পটিয়া থেকে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নির্দেশে আজওয়াদ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাগে করে বোমা পৌঁছে দিয়েছে। সর্বশেষ ছিল মিরসরাইতে। সেখানে ফরহাদ নামের সংগঠনের এক নেতা আজওয়াদ ও তার সহযোগী হাসানকে দুটি ব্যাগে বোমা নিয়ে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে পাঠায়। পথে কুমিল্লার চান্দিনার কাছে পুলিশের হাতে দুজন ধরা পড়ে।

জঙ্গি কার্যক্রম নিয়ে এখন আজওয়াদের মন্তব্য কী, হোলি আর্টিজানে হামলা নিয়েই বা সে কী বলছে—এ বিষয়ে কর্মকর্তারা বলেন, আজওয়াদ বলেছে যে হোলি আর্টিজানে এত মানুষকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে মারা ঠিক হয়নি। এমনকি ইসলাম ধর্মাবলম্বী না হলে কাউকে মারতে হবে, এটাও ঠিক নয়।

আজওয়াদের মা-বাবা এখন এক–সঙ্গে থাকেন। দুজনে মিলে ছেলেকে কারাগারে দেখতে গিয়েছিলেন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X