শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১০:২১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, June 27, 2017 8:35 pm
A- A A+ Print

কাতার সঙ্কটে ইসরাইলের সাথে দুই যুবরাজের গোপন পরিকল্পনার তথ্য ফাঁসে বিশ্বে তোলপাড়!

177423_1

ঢাকা: কাতার সঙ্কট দুই সপ্তাহ পার হতে চলেছে। কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি নয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের অারোপ করা অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল। ভুক্তভোগী হচ্ছে কোটি মানুষ। একই সাথে কাতারি ও আশপাশের দেশের সাধারণ মানুষ। কিন্তু সঙ্কটের বরফ গলফে কোনো মতেই। এদিকে এই সঙ্কটের পেছনে গোপন তথ্য ক্রমেই বেরিয়ে আসছে। ফাঁস হয়ে গেছে ইসরাইলের সাথে মিলে দুই যুবরাজের পরিকল্পনার কথা। এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আর এই সঙ্কটে আড়ালে বসে দাঁত কেলিয়ে হাসছে ইসরাইল। মুসলমানদের মধ্যে বিরোধের সুযোগে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে নিচ্ছে ইহুদীবাদী রাষ্ট্র। ইসরাইলের চিরশত্রু ইরানকে দুর্বল করতে চায় যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদী প্রভাবিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে দুর্বল করতে প্রয়োজন মধ্যপ্রাচ্যের বাকি মুসলিম দেশের কাছ থেকে এই দেশকে পুরোপুরি একঘরে করা। সেই প্রক্রিয়া চলছে। ইরানের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি ও আমেরিকান আধিপত্যের বিরুদ্ধে আরেকটি জোরালো শক্তি হচ্ছে মুসলমি ব্রাদারহুড। গাজা উপত্যকায় ব্রাদারহুডের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে হামাস। এই শক্তিগুলোকে দুর্বল করা চাই-ই চাই আমেরিকা-ইসরাইলের। আর ব্রাদারহুড-হামাসকে একচেটিয়া সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক ও কাতার। তুরস্কে ক্ষমতাসীন এরদোগান সরকারকে সরানোর জন্য সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক ক্যু'সহ নানা চেষ্টা করেছে আমেরিকা ও ইসরাইল। কিন্তু ভাগ্যক্রমে সফল হতে পারেনি। তাই এখন চোখ দিয়েছে অপেক্ষাকৃত ছোট রাষ্ট্র কাতারের ওপর। কাতারকে ঘায়েল করে ফেলতে পারলে তুরস্ক আরও একা হয়ে পড়বে। তখন নতুনভাবে হামলে পড়া যাবে দেশটির ওপর। পরিকল্পনা এভাবেই নিয়ে আগাচ্ছে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা। আর সেই পরিকল্পনায় নেপথ্যে নায়ক হিসেবে কাজ করছেন সৌদি আর আমিরাতে দুই যুবরাজ। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের তরুণ পুত্র মোহাম্মাদ বিন সালমান এখন দেশটির ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স। সৌদি রাজপরিবারের সর্বেসর্ব এখন তিনি। তার পরবর্তী চোখ বাপের গদিতে। সৌদি বাদশাহ হওয়ার খায়েশ এখনই নাকি প্রকাশ করেন তিনি নির্দ্বধায়। খায়েশ পূর্ণ করতে যে কোনো কিছু করতে রাজি মোহাম্মদ বিন সালমান। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক এক সাংবাদিক সম্প্রতি একটি কলামে লিখেছেন, বাদশাহ হওয়ার খায়েশ পূর্ণ করতে নিজের বাবাকেও বিক্রি করতে রাজি হবেন এই যুবরাজ। ইসরাইলের জন্য তাই সালমানের পুত্রকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা সহজ হয়েছে। পরবর্তী বা তার পরবর্তী বাদশাহ হতে আমেরিকার সমর্থন নিশ্চিত করা, এবং সৌদি চিরশত্রু ইরান ও ব্রাদারহুডকে দমিয়ে রাখার শর্তে ইসরাইলের ছক অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্য সাজাতে দিতেও আপত্তি নেই মোহাম্মদ বিন সালমানের। কাতার সঙ্কটে এই বিষয়টিই কাজ করছে সৌদির সিদ্ধান্তের পেছনে। মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আরেক যুবরাজ এবং বর্তমান ক্রাউন্স প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানও। এই ব্যক্তিও উচ্চাবিলাসী তার দেশের পরবর্তী আমির হওয়ার ব্যাপারে। বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা ফ্রাংক গার্ডনারের জানাচ্ছেন, আমিরাতের যুবরাজ তার কাছে বলেছেন, ব্রাদারহুড হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অস্তিত্বের হুমকি। আমিরাতের যুবরাজ অবশ্য ঠিক বলেছেন। তার মতো ইসরাইলের অনুগত শাসকদের অস্তিত্ব বিলিন করতেই কাজ করে যাচ্ছে মুসলিম ব্রাদারহুড। মোহাম্মদ বিন জায়েদও নিজের ক্ষমতায় যেতে সহায়তার বিষয়ে ইসরাইলের সাথে পাকাপাকি সমঝোতার পর এখন ইরান ও ব্রাদারহুড এবং তাদের বন্ধুদের বিরুদ্ধে লেগেছেন। ইরান, ব্রাদারহুড এবং কাতার-তুরস্কের মতো দেশগুলো না থাকলে বা দুর্বল হলেই কেবল সৌদি-আমিরাতি যুবরাজ ও শাসকদের এবং একই সাথে ইসরাইলের দৌরাত্ম্য নিরুপদ্রব হয়। ইসরাইলের সাথে মিলে এটাই করতে চেষ্টা করছেন মোহাম্মদ বিন সালমান এবং মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।

Comments

Comments!

 কাতার সঙ্কটে ইসরাইলের সাথে দুই যুবরাজের গোপন পরিকল্পনার তথ্য ফাঁসে বিশ্বে তোলপাড়!AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

কাতার সঙ্কটে ইসরাইলের সাথে দুই যুবরাজের গোপন পরিকল্পনার তথ্য ফাঁসে বিশ্বে তোলপাড়!

Tuesday, June 27, 2017 8:35 pm
177423_1

ঢাকা: কাতার সঙ্কট দুই সপ্তাহ পার হতে চলেছে। কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি নয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের অারোপ করা অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল। ভুক্তভোগী হচ্ছে কোটি মানুষ। একই সাথে কাতারি ও আশপাশের দেশের সাধারণ মানুষ। কিন্তু সঙ্কটের বরফ গলফে কোনো মতেই।

এদিকে এই সঙ্কটের পেছনে গোপন তথ্য ক্রমেই বেরিয়ে আসছে। ফাঁস হয়ে গেছে ইসরাইলের সাথে মিলে দুই যুবরাজের পরিকল্পনার কথা। এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

আর এই সঙ্কটে আড়ালে বসে দাঁত কেলিয়ে হাসছে ইসরাইল। মুসলমানদের মধ্যে বিরোধের সুযোগে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে নিচ্ছে ইহুদীবাদী রাষ্ট্র। ইসরাইলের চিরশত্রু ইরানকে দুর্বল করতে চায় যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদী প্রভাবিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে দুর্বল করতে প্রয়োজন মধ্যপ্রাচ্যের বাকি মুসলিম দেশের কাছ থেকে এই দেশকে পুরোপুরি একঘরে করা। সেই প্রক্রিয়া চলছে।

ইরানের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি ও আমেরিকান আধিপত্যের বিরুদ্ধে আরেকটি জোরালো শক্তি হচ্ছে মুসলমি ব্রাদারহুড। গাজা উপত্যকায় ব্রাদারহুডের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে হামাস। এই শক্তিগুলোকে দুর্বল করা চাই-ই চাই আমেরিকা-ইসরাইলের।

আর ব্রাদারহুড-হামাসকে একচেটিয়া সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক ও কাতার। তুরস্কে ক্ষমতাসীন এরদোগান সরকারকে সরানোর জন্য সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক ক্যু’সহ নানা চেষ্টা করেছে আমেরিকা ও ইসরাইল। কিন্তু ভাগ্যক্রমে সফল হতে পারেনি।

তাই এখন চোখ দিয়েছে অপেক্ষাকৃত ছোট রাষ্ট্র কাতারের ওপর। কাতারকে ঘায়েল করে ফেলতে পারলে তুরস্ক আরও একা হয়ে পড়বে। তখন নতুনভাবে হামলে পড়া যাবে দেশটির ওপর। পরিকল্পনা এভাবেই নিয়ে আগাচ্ছে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা।

আর সেই পরিকল্পনায় নেপথ্যে নায়ক হিসেবে কাজ করছেন সৌদি আর আমিরাতে দুই যুবরাজ। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের তরুণ পুত্র মোহাম্মাদ বিন সালমান এখন দেশটির ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স। সৌদি রাজপরিবারের সর্বেসর্ব এখন তিনি। তার পরবর্তী চোখ বাপের গদিতে। সৌদি বাদশাহ হওয়ার খায়েশ এখনই নাকি প্রকাশ করেন তিনি নির্দ্বধায়। খায়েশ পূর্ণ করতে যে কোনো কিছু করতে রাজি মোহাম্মদ বিন সালমান। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক এক সাংবাদিক সম্প্রতি একটি কলামে লিখেছেন, বাদশাহ হওয়ার খায়েশ পূর্ণ করতে নিজের বাবাকেও বিক্রি করতে রাজি হবেন এই যুবরাজ।

ইসরাইলের জন্য তাই সালমানের পুত্রকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা সহজ হয়েছে। পরবর্তী বা তার পরবর্তী বাদশাহ হতে আমেরিকার সমর্থন নিশ্চিত করা, এবং সৌদি চিরশত্রু ইরান ও ব্রাদারহুডকে দমিয়ে রাখার শর্তে ইসরাইলের ছক অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্য সাজাতে দিতেও আপত্তি নেই মোহাম্মদ বিন সালমানের। কাতার সঙ্কটে এই বিষয়টিই কাজ করছে সৌদির সিদ্ধান্তের পেছনে।

মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আরেক যুবরাজ এবং বর্তমান ক্রাউন্স প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানও। এই ব্যক্তিও উচ্চাবিলাসী তার দেশের পরবর্তী আমির হওয়ার ব্যাপারে। বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা ফ্রাংক গার্ডনারের জানাচ্ছেন, আমিরাতের যুবরাজ তার কাছে বলেছেন, ব্রাদারহুড হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অস্তিত্বের হুমকি।

আমিরাতের যুবরাজ অবশ্য ঠিক বলেছেন। তার মতো ইসরাইলের অনুগত শাসকদের অস্তিত্ব বিলিন করতেই কাজ করে যাচ্ছে মুসলিম ব্রাদারহুড।

মোহাম্মদ বিন জায়েদও নিজের ক্ষমতায় যেতে সহায়তার বিষয়ে ইসরাইলের সাথে পাকাপাকি সমঝোতার পর এখন ইরান ও ব্রাদারহুড এবং তাদের বন্ধুদের বিরুদ্ধে লেগেছেন। ইরান, ব্রাদারহুড এবং কাতার-তুরস্কের মতো দেশগুলো না থাকলে বা দুর্বল হলেই কেবল সৌদি-আমিরাতি যুবরাজ ও শাসকদের এবং একই সাথে ইসরাইলের দৌরাত্ম্য নিরুপদ্রব হয়। ইসরাইলের সাথে মিলে এটাই করতে চেষ্টা করছেন মোহাম্মদ বিন সালমান এবং মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X