সোমবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৩০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Tuesday, November 1, 2016 8:25 pm
A- A A+ Print

‘কেন আমি মাঝে মাঝে হিজাব খুলে চলাফেরা করি’

158215_1

   
নিউইয়র্ক: অনেক মুসলিম মহিলা তাদের বিশ্বাসের কারণে হিজাব পরিধান করে থাকেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে, পর্দা তাদের জীবনকে কঠিন জটিলতার মধ্যে ফেলে দেয়। হিজাব ঘিরে কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন এমন দু’জন নারী এ বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। যদিও তাদের গল্প ভিন্ন হতে পারে কিন্তু তারা একটি সাধারণ বার্তা শেয়ার করেছেন। নুরাইনি ব্লেক, সান ফ্রান্সিসকো ৩৬ বছর বয়সী নুরাইনি ব্লেক জানান, দুই বছর আগে তিনি হিজাব পরিত্যাগ করেছিলেন কারণ তিনি অনুভব করেন এটি তার জীবনকে একটা ‘বধ্যভূমিতে’ পরিণত করেছে।
নুরাইনি ব্লেক বলেন, ‘আমার জীবনে যা কিছু ঘটেছে তা নিয়ে আক্ষরিক অর্থে আমি খুবই ক্লান্ত ছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘কোনো কিছুই আমার জন্য কাজ করেনি। আমার মনে হল আমি মারা যাচ্ছি। আমার বাগদত্তের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়। এটা ছিল দ্বিতীয়বারের মতো আমার বিবাহের বাগদান ভেঙ্গে যাওয়া।’ এসব স্মৃতি স্মরণ করে তার কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে আসে। ধর্মীয় এবং পরিবারিক অনুষ্ঠানে তিনি হিজাব পরা শুরু করেন। কিন্তু তিনি মনে করেছিলেন যে, তার শালীন পোশাক তার সামাজিক জীবনকে ব্যাহত করছে এবং তাই তিনি সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হিজাব পরাকে এড়িয়ে চলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো অবিবাহিত এবং মাঝে মাঝে খুবই একা লাগে। একারণে আমি বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়ায় প্রচর বন্ধু তৈরি করি।’ নুরাইনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি যে, হিজাব পরিধানের কারনে আমার সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মান হ্রাস পেয়েছে। মানুষজন আমার সঙ্গে কথা বলতে এমনকি আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে আপত্তি করে। এই ভাবে নতুন বন্ধু তৈরি করা আমার জন্য কষ্টকর ছিল।’ যদিও সে এখনো স্থায়ীভাবে হিজাব পরিধানের ধারণা সঙ্গে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তবে, নুরাইনি সম্পূর্ণভাবে এধারণাকে পরিহার করতে পারেননি এবং তার ধর্মীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে এটা গ্রহণ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে আমি এটি সম্পর্কে খুব দৃঢ়ভাবে চিন্তা করি। অন্য সময়ে আমার মনে হয় এটা সবসময় আমাকে পিছনে ঠেলে দিচ্ছে।’ নুরাইনি বলেন, ‘কিছু দিন অন্য দিনের চেয়ে খারাপ যায় যখন দোলাচল আমার মনকে অসহায় করে তোলে। কিন্তু আমি এখনো এটা ছেড়ে দেইনি কারণ আমি মনে করি না এটা আমার জন্য ভুল। এটা আমার কাছে ‘ভুল পরিচয়ের’ মতো মনে হয় না।’ শরিফা, কুয়ালালামপুর ১৩ বছর বয়স থেকে শরীফা হিজাব পরেন। তার বয়স এখন ৩৯। পারিবারিক ক্ষোভ প্রকাশের উপায় হিসেবে তিনি হিজাব খুলে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘সব সময় একই ধরনের কাজের জন্য আমার কাছে খুবই তিক্ততা অনুভূত হয়। আমি আমার পারিবারিক জীবন নিয়ে ক্ষুব্ধ। আমার ছোটরা ছিল বিদ্রোহী এবং আমাকে অসম্মান করত। আমার স্বামী একজন বাবা হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করত না। আমি তার কাছে যা আশা করতাম তিনি তা করতেন না। শারীর প্রদর্শনের উপায় হিসেবে আমি হিজাব খুলে ফেলি। আমি তাদের দেখাতে চেয়েছি আমি কতটা অযৌক্তিক হতে পারি।’ তার অনুভূতি হয়ত অনেককে নাড়া দিতে পারে। শরীফা তার হিজাব পরিত্যাগ উচিত হয়নি বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম আমি আমার দুঃখ-ব্যথা খুবই বোকার মতন প্রদর্শন করছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু আল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ আমার ওপর তার রহমত বর্ষণের জন্য। আমার পরিবারের সহায়তায় পুনরায় হিজাব পরিধান করি এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমার জীবন অনেক সহনীয় হয়ে ওঠে।’ তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল করে। বিশ্বাস এবং ভালবাসার সাথে আমাদের সবাই আবার সঠিক পথে ফিরে আসতে পারেন।’ এ বিষয়ে ‘আকিলা স্টাইলের’ ধর্মীয় উপদেষ্টা আবদুল মজিদ বলেন, সূরা আন-নূর এর ৩১ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হিজাব পরার উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহকে খুশি করা। হিজাব প্রভু ও আমাদের মধ্যে একটি ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক সংযোগ ঘটায়।’ তিনি বলেন, ভুল করা মানুষের একটি স্বভাব। তাই আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হলে অস্থির হওয়া যাবে না। সম্ভবত আপনি খারাপ পথে চলে গেছেন এবং বুঝতে পারছেন অন্তরের ভুল উদ্দেশ্য আপনি একটি কাজ করে ফেলেছেন। নিজের ভুল বুঝতে পারা একটা ভাল গুন। আল্লাহ অভিমুখী হও এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং নতুন করে আরম্ভ করার জন্য তার নিকট আরেকটি সুযোগ চাও। সূরা হুজরাতে বলা হয়েছে, আমরা একে অপরের ভাই ও বোন ছাড়া কিছুই হয়। তাই একে অপরের ভাল দিকের পরামর্শ করা উচিত। তিনি আরো বলেন, এছাড়াও, অন্যদের হিজাব পরিধানের মাধ্যমে তাদের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরস্থ সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করে অনেক বোন আছেন যারা হিজাব পরার সিদ্ধান্তে উপনীত হন।

Comments

Comments!

 ‘কেন আমি মাঝে মাঝে হিজাব খুলে চলাফেরা করি’AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

‘কেন আমি মাঝে মাঝে হিজাব খুলে চলাফেরা করি’

Tuesday, November 1, 2016 8:25 pm
158215_1

 

 

নিউইয়র্ক: অনেক মুসলিম মহিলা তাদের বিশ্বাসের কারণে হিজাব পরিধান করে থাকেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে, পর্দা তাদের জীবনকে কঠিন জটিলতার মধ্যে ফেলে দেয়। হিজাব ঘিরে কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন এমন দু’জন নারী এ বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। যদিও তাদের গল্প ভিন্ন হতে পারে কিন্তু তারা একটি সাধারণ বার্তা শেয়ার করেছেন।

নুরাইনি ব্লেক, সান ফ্রান্সিসকো

৩৬ বছর বয়সী নুরাইনি ব্লেক জানান, দুই বছর আগে তিনি হিজাব পরিত্যাগ করেছিলেন কারণ তিনি অনুভব করেন এটি তার জীবনকে একটা ‘বধ্যভূমিতে’ পরিণত করেছে।

নুরাইনি ব্লেক বলেন, ‘আমার জীবনে যা কিছু ঘটেছে তা নিয়ে আক্ষরিক অর্থে আমি খুবই ক্লান্ত ছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘কোনো কিছুই আমার জন্য কাজ করেনি। আমার মনে হল আমি মারা যাচ্ছি। আমার বাগদত্তের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়। এটা ছিল দ্বিতীয়বারের মতো আমার বিবাহের বাগদান ভেঙ্গে যাওয়া।’ এসব স্মৃতি স্মরণ করে তার কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে আসে।

ধর্মীয় এবং পরিবারিক অনুষ্ঠানে তিনি হিজাব পরা শুরু করেন। কিন্তু তিনি মনে করেছিলেন যে, তার শালীন পোশাক তার সামাজিক জীবনকে ব্যাহত করছে এবং তাই তিনি সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হিজাব পরাকে এড়িয়ে চলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি এখনো অবিবাহিত এবং মাঝে মাঝে খুবই একা লাগে। একারণে আমি বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়ায় প্রচর বন্ধু তৈরি করি।’

নুরাইনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি যে, হিজাব পরিধানের কারনে আমার সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মান হ্রাস পেয়েছে। মানুষজন আমার সঙ্গে কথা বলতে এমনকি আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে আপত্তি করে। এই ভাবে নতুন বন্ধু তৈরি করা আমার জন্য কষ্টকর ছিল।’

যদিও সে এখনো স্থায়ীভাবে হিজাব পরিধানের ধারণা সঙ্গে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তবে, নুরাইনি সম্পূর্ণভাবে এধারণাকে পরিহার করতে পারেননি এবং তার ধর্মীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে এটা গ্রহণ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে আমি এটি সম্পর্কে খুব দৃঢ়ভাবে চিন্তা করি। অন্য সময়ে আমার মনে হয় এটা সবসময় আমাকে পিছনে ঠেলে দিচ্ছে।’

নুরাইনি বলেন, ‘কিছু দিন অন্য দিনের চেয়ে খারাপ যায় যখন দোলাচল আমার মনকে অসহায় করে তোলে। কিন্তু আমি এখনো এটা ছেড়ে দেইনি কারণ আমি মনে করি না এটা আমার জন্য ভুল। এটা আমার কাছে ‘ভুল পরিচয়ের’ মতো মনে হয় না।’

শরিফা, কুয়ালালামপুর

১৩ বছর বয়স থেকে শরীফা হিজাব পরেন। তার বয়স এখন ৩৯। পারিবারিক ক্ষোভ প্রকাশের উপায় হিসেবে তিনি হিজাব খুলে ফেলেন।

তিনি বলেন, ‘সব সময় একই ধরনের কাজের জন্য আমার কাছে খুবই তিক্ততা অনুভূত হয়। আমি আমার পারিবারিক জীবন নিয়ে ক্ষুব্ধ। আমার ছোটরা ছিল বিদ্রোহী এবং আমাকে অসম্মান করত। আমার স্বামী একজন বাবা হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করত না। আমি তার কাছে যা আশা করতাম তিনি তা করতেন না। শারীর প্রদর্শনের উপায় হিসেবে আমি হিজাব খুলে ফেলি। আমি তাদের দেখাতে চেয়েছি আমি কতটা অযৌক্তিক হতে পারি।’

তার অনুভূতি হয়ত অনেককে নাড়া দিতে পারে। শরীফা তার হিজাব পরিত্যাগ উচিত হয়নি বলে স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম আমি আমার দুঃখ-ব্যথা খুবই বোকার মতন প্রদর্শন করছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ আমার ওপর তার রহমত বর্ষণের জন্য। আমার পরিবারের সহায়তায় পুনরায় হিজাব পরিধান করি এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমার জীবন অনেক সহনীয় হয়ে ওঠে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল করে। বিশ্বাস এবং ভালবাসার সাথে আমাদের সবাই আবার সঠিক পথে ফিরে আসতে পারেন।’

এ বিষয়ে ‘আকিলা স্টাইলের’ ধর্মীয় উপদেষ্টা আবদুল মজিদ বলেন, সূরা আন-নূর এর ৩১ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হিজাব পরার উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহকে খুশি করা। হিজাব প্রভু ও আমাদের মধ্যে একটি ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক সংযোগ ঘটায়।’

তিনি বলেন, ভুল করা মানুষের একটি স্বভাব। তাই আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হলে অস্থির হওয়া যাবে না। সম্ভবত আপনি খারাপ পথে চলে গেছেন এবং বুঝতে পারছেন অন্তরের ভুল উদ্দেশ্য আপনি একটি কাজ করে ফেলেছেন। নিজের ভুল বুঝতে পারা একটা ভাল গুন। আল্লাহ অভিমুখী হও এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং নতুন করে আরম্ভ করার জন্য তার নিকট আরেকটি সুযোগ চাও।

সূরা হুজরাতে বলা হয়েছে, আমরা একে অপরের ভাই ও বোন ছাড়া কিছুই হয়। তাই একে অপরের ভাল দিকের পরামর্শ করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, এছাড়াও, অন্যদের হিজাব পরিধানের মাধ্যমে তাদের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরস্থ সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করে অনেক বোন আছেন যারা হিজাব পরার সিদ্ধান্তে উপনীত হন।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X