বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৪:৪৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, January 14, 2017 9:38 pm
A- A A+ Print

কেন আমি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে নিলাম?

47

ভারতের উত্তর প্রদেশের ২১ বছর বয়সী সাম্য গুপ্তা। সেদিন তিনি বাসের পেছনের দিকের একটি আসনে জায়গা পেয়েছিলেন। বাসের দুলুনিতে একটু ঘুম ঘুম পাচ্ছিল তাঁর। ঝিমাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ তিনি অনুভব করলেন তাঁর বুকের ওপর কিছু একটা। এই ‘একটা’ ছিল তাঁর পেছনের আসনে বসা লোকটির হাত। ওই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আইনের ছাত্রী সাম্য তাঁর ফেসবুকে বড় স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, ‘বিষয়টি বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গে আমি আসন থেকে উঠে দাঁড়ালাম, চিৎকার করলাম এবং লোকটিকে তার পরিচয়পত্র দেখাতে বললাম।’ সাম্য লেখেন, ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তখন তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছিলেন। কিন্তু বাসের প্রায় ৩০ জন যাত্রী তাঁকে (সাম্য) সমর্থন করেছেন। একই সঙ্গে তাঁদের অনেকে বিষয়টিকে নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ না করার পরামর্শ দেন। সাম্য বলেন, ‘আমার অনেক সহযাত্রী আমাকে বিষয়টি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করতে বলেন। কিন্তু আমি তাকে ছাড়ব না বলে সিদ্ধান্ত নিই। ক্ষমা চেয়ে তার মতো এ ধরনের এক অপরাধী ছাড়া পেয়ে যাবে, তা আমি হতে দেব না।’ এরপর সাম্য ওই বাসের চালককে বুঝিয়ে বাসটিকে ঘুরিয়ে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যান। অভিযোগ করেন। ফেসবুকে যাঁরা সাম্যর এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, তাঁরা হতাশ হবেন এরপর সাম্য কী করলেন তা জেনে। ফেসবুক পোস্টে সাম্য বলেন, ‘আমি চাই না এই অপরাধীর সাহস দিন দিন বেড়ে যাক। আর ভবিষ্যতে ধর্ষণের মতো অপরাধ করে বসুক। তাই আমি এ বিষয়টি সবাইকে জানানোর সিদ্ধান্ত নিই।’ সাম্য বিবিসিকে বলেন, পুলিশ স্টেশনে যাওয়ার পর যাত্রীরা ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ছিল। এরপর তিনি হয়রানির অভিযোগ নথিভুক্ত করেন। তবে ওই ব্যক্তির নাম গণমাধ্যম বা সাম্যের লেখা পোস্টে কোথাও আসেনি। সাম্যকে অভিযোগ হিন্দিতে লিখতে বলা হয়। কিন্তু তিনি হিন্দি ভালো লিখতে পারেন না। এ ঘটনায় অবাক হয়ে যান সাম্য। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘আমি অবাক হয়ে গেলাম যদি কোনো নিরক্ষর নারী সাহস করে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে যান, তাহলে কী হবে? আইনের ছাত্রী হওয়ার পরও আমার কাছে অভিযোগ করার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ও জটিল মনে হয়েছে।’ সাম্য লেখেন, পুলিশ স্টেশন ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সমস্যার শেষ হয়ে যায়নি। তিনি যখন আরেকটি বাস ধরতে গেলেন, তখন অনেকেই ওই নিপীড়কের হয়ে অভিযোগ তুলে নিতে বলেন। এমনকি অনেকে তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের ভাষ্য, নানা রকমের ছেলেদের সঙ্গে যাঁর সব সময় ওঠা বাসা, তাঁর এমন অভিযোগ করা মানায় না। যত কিছুই হোক, এই অভিযোগ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালত শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন, কিন্তু ওই আদেশনামা সাম্যের কাছে পৌঁছানোর আগেই তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। অভিযোগ প্রত্যাহারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বিবিসিকে বলেন, দাপ্তরিক জটিলতার কারণে তাঁর মুঠোফোন নম্বরটি ওই অপরাধীর পরিবারের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে ওই পক্ষ থেকে ফোন করে তাঁকে অভিযোগটি তুলে নিতে চাপ দেওয়া হয়। বলা হয়, ওই ব্যক্তি দুই সন্তানের বাবা। সাম্য বলেন, শুধু ওই ব্যক্তির পরিবারই চাপ দিচ্ছিল তা নয়, তাঁর নিজের পরিবারও অভিযোগটি তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছিল। তাঁরা মনে করেন, ইভ টিজিং আদালতে বিচার হওয়ার মতো অপরাধ নয়। সাম্য বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষার্থী। আমার নিজের রোজগার নেই। আমার পড়াশোনার খরচ পরিবারই জোগায়। আমার পরিবারের কেউ আইন পেশার সঙ্গে জড়িত নয়। তাই পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করাটাই তাদের কাছে অনেক বড় বিষয়। এটা আমার পরিবারের জন্য অনেক বড় চাপ হয়ে গিয়েছিল।’

Comments

Comments!

 কেন আমি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে নিলাম?AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

কেন আমি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে নিলাম?

Saturday, January 14, 2017 9:38 pm
47

ভারতের উত্তর প্রদেশের ২১ বছর বয়সী সাম্য গুপ্তা। সেদিন তিনি বাসের পেছনের দিকের একটি আসনে জায়গা পেয়েছিলেন। বাসের দুলুনিতে একটু ঘুম ঘুম পাচ্ছিল তাঁর। ঝিমাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ তিনি অনুভব করলেন তাঁর বুকের ওপর কিছু একটা। এই ‘একটা’ ছিল তাঁর পেছনের আসনে বসা লোকটির হাত।
ওই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আইনের ছাত্রী সাম্য তাঁর ফেসবুকে বড় স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, ‘বিষয়টি বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গে আমি আসন থেকে উঠে দাঁড়ালাম, চিৎকার করলাম এবং লোকটিকে তার পরিচয়পত্র দেখাতে বললাম।’
সাম্য লেখেন, ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তখন তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছিলেন। কিন্তু বাসের প্রায় ৩০ জন যাত্রী তাঁকে (সাম্য) সমর্থন করেছেন। একই সঙ্গে তাঁদের অনেকে বিষয়টিকে নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ না করার পরামর্শ দেন।
সাম্য বলেন, ‘আমার অনেক সহযাত্রী আমাকে বিষয়টি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করতে বলেন। কিন্তু আমি তাকে ছাড়ব না বলে সিদ্ধান্ত নিই। ক্ষমা চেয়ে তার মতো এ ধরনের এক অপরাধী ছাড়া পেয়ে যাবে, তা আমি হতে দেব না।’ এরপর সাম্য ওই বাসের চালককে বুঝিয়ে বাসটিকে ঘুরিয়ে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যান। অভিযোগ করেন।

ফেসবুকে যাঁরা সাম্যর এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, তাঁরা হতাশ হবেন এরপর সাম্য কী করলেন তা জেনে।

ফেসবুক পোস্টে সাম্য বলেন, ‘আমি চাই না এই অপরাধীর সাহস দিন দিন বেড়ে যাক। আর ভবিষ্যতে ধর্ষণের মতো অপরাধ করে বসুক। তাই আমি এ বিষয়টি সবাইকে জানানোর সিদ্ধান্ত নিই।’

সাম্য বিবিসিকে বলেন, পুলিশ স্টেশনে যাওয়ার পর যাত্রীরা ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ছিল। এরপর তিনি হয়রানির অভিযোগ নথিভুক্ত করেন। তবে ওই ব্যক্তির নাম গণমাধ্যম বা সাম্যের লেখা পোস্টে কোথাও আসেনি। সাম্যকে অভিযোগ হিন্দিতে লিখতে বলা হয়। কিন্তু তিনি হিন্দি ভালো লিখতে পারেন না।

এ ঘটনায় অবাক হয়ে যান সাম্য। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘আমি অবাক হয়ে গেলাম যদি কোনো নিরক্ষর নারী সাহস করে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে যান, তাহলে কী হবে? আইনের ছাত্রী হওয়ার পরও আমার কাছে অভিযোগ করার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ও জটিল মনে হয়েছে।’

সাম্য লেখেন, পুলিশ স্টেশন ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সমস্যার শেষ হয়ে যায়নি। তিনি যখন আরেকটি বাস ধরতে গেলেন, তখন অনেকেই ওই নিপীড়কের হয়ে অভিযোগ তুলে নিতে বলেন। এমনকি অনেকে তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের ভাষ্য, নানা রকমের ছেলেদের সঙ্গে যাঁর সব সময় ওঠা বাসা, তাঁর এমন অভিযোগ করা মানায় না।

যত কিছুই হোক, এই অভিযোগ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালত শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন, কিন্তু ওই আদেশনামা সাম্যের কাছে পৌঁছানোর আগেই তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

অভিযোগ প্রত্যাহারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বিবিসিকে বলেন, দাপ্তরিক জটিলতার কারণে তাঁর মুঠোফোন নম্বরটি ওই অপরাধীর পরিবারের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে ওই পক্ষ থেকে ফোন করে তাঁকে অভিযোগটি তুলে নিতে চাপ দেওয়া হয়। বলা হয়, ওই ব্যক্তি দুই সন্তানের বাবা। সাম্য বলেন, শুধু ওই ব্যক্তির পরিবারই চাপ দিচ্ছিল তা নয়, তাঁর নিজের পরিবারও অভিযোগটি তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছিল। তাঁরা মনে করেন, ইভ টিজিং আদালতে বিচার হওয়ার মতো অপরাধ নয়।

সাম্য বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষার্থী। আমার নিজের রোজগার নেই। আমার পড়াশোনার খরচ পরিবারই জোগায়। আমার পরিবারের কেউ আইন পেশার সঙ্গে জড়িত নয়। তাই পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করাটাই তাদের কাছে অনেক বড় বিষয়। এটা আমার পরিবারের জন্য অনেক বড় চাপ হয়ে গিয়েছিল।’

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X