রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সকাল ৭:৪৬
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Saturday, September 10, 2016 8:37 am
A- A A+ Print

কেন মহাযানজট?

242198_1

ঈদের আনন্দযাত্রা মহাসড়কে যানজটে দুর্ভোগে রূপ নিয়েছে। গতকাল শুক্রবারও ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কে ছিল মহাযানজট। সেতুতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়েছেন যাত্রীরা। যানজটে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বাস ফিরতে পারছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারছে না গাড়ি। যাত্রীদের টার্মিনালে কাটছে অপেক্ষার প্রহর। মহাসড়কের অবস্থা অতীতের তুলনায় ভালো হলেও কেন এই যানজট? এর উত্তর খুঁজতে সরেজমিনে দেখা যায়, মূলত চার কারণে যানজট ভয়াবহ দুর্ভোগের কারণ হয়েছে : সেতুর টোলপ্লাজা ও ফেরি পারাপারে দীর্ঘ লাইন, ঈদের ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে মহাসড়কে আগেভাগে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান বন্ধ না করা, লক্কড়ঝক্কড় ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে বিকল হওয়া। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন উন্নীত হলেও প্রধান তিন সেতু কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী এখনও দুই লেনের রয়ে গেছে। ভালো সড়কে গাড়ি দ্রুত পথ পাড়ি দিয়ে আটকা পড়ছে সেতুতে। শত শত গাড়ি একসঙ্গে টোলপ্লাজার লাইনে দাঁড়াচ্ছে। এ কারণে সৃষ্টি হচ্ছে কয়েক কিলোমিটার যানজট। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন মেঘনা সেতুতে দেখা যায়, সেতুর পূর্বপ্রান্তের টোলপ্লাজা থেকে নারায়ণগঞ্জের মোগড়াপাড়া পর্যন্ত চার কিলোমিটার দীর্ঘ গাড়ির লাইন। একই অবস্থা সেতুর পশ্চিমপ্রান্তে। গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামছুল হক বলেন, সড়ক প্রশস্ত হওয়ায় গাড়ি সহজেই সেতু পর্যন্ত পেঁৗছে যাচ্ছে। সেতু সরু হওয়ায় 'বটল-নেক' সমস্যায় পড়ছে গাড়িগুলো। এ কারণে দীর্ঘ গাড়ির লাইন সৃষ্টি হচ্ছে সেতুর টোলপ্লাজায়। সাধারণ যাত্রীদের দাবি, যানজট কমাতে ঈদের কয়েকদিন টোল আদায় বন্ধ থাকা উচিত। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যাত্রী কল্যাণ সমিতি এরই মধ্যে দাবি জানিয়েছে, যানজট থেকে মুক্তি পেতে ঈদের সময় যেন আগের মতো হাতে হাতে টোল নেওয়া হয়। অনেকে মনে করেন, ঈদের সাত দিন আগে থেকে টোল গ্রহণ বন্ধ রাখা হলে যানজট কিছুটা কমবে। অধ্যাপক শামছুল হক বলেন, টোল মওকুফ সমাধান নয়। বরং উন্নত দেশের মতো ই-টোল ব্যবস্থা চালু করলে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। গাড়িগুলো মোবাইলের কার্ডের মতো টোল টোকেন কিনতে পারবে। গাড়ির কাচে লাগানো থাকবে স্টিকার। ফলে টোল দিতে সেতুতে থামতে হবে না। তবে সড়ক পরিবহন সচিব এম এ এন ছিদ্দিক বলেছেন, ঈদের আগে-পরে কয়েকদিনের জন্যও টোল মওকুফ সম্ভব নয়। কারণ সেতুতে যারা টোল ব্যবস্থাপক, তাদের মূল আয় ঈদে। সরকারেরও বড় অর্থ আসে টোল থেকে। তা থেকেই সেতুর নির্মাণ ব্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় নির্বাহ করা হয়। ঈদের আগে-পরে তিন দিন করে মোট ছয় দিন জরুরি পণ্যবাহী ব্যতীত অন্যান্য ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। আজ সকাল থেকে কার্যকর হবে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু এবার দীর্ঘ ছুটির কারণে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে বুধবার রাত থেকেই। বৃহস্পতিবার ছিল শেষ কর্মদিবস। সরেজমিন দেখা যায়, গত দু'দিন মহাসড়কে বাসের চেয়ে বেশি চলাচল করেছে পণ্যবাহী ট্রাক। মেঘনা সেতুতে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন কাদের রানা জানান, 'সেতুতে উঠার পথ খাড়া হওয়ায় কাভার্ড, ট্রাক ও লরি ধীরে ধীরে উঠে। এতেও যানজট সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, সরকারিভাবে শনিবার থেকে ট্রাক চলাচল বন্ধ, এর আগে আমরা চলাচল বন্ধ করতে পারি না।' অধ্যাপক শামছুল হক বলেন, ঈদের ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে ট্রাক বন্ধ করা উচিত। ঈদের আগের দু'দিন না হলেও বৃহস্পতি ও শুক্রবার ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকলে মহাসড়কে বাস নির্বিঘ্নে চলতে পারত। তবে সচিব বলেছেন, ব্যবসা সচল রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, 'শুধু ঘরে ফেরা নয়, ব্যবসাও নির্বিঘ্ন করতে হবে।' গতকালও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরির জন্য গাড়ির সারি ছিল কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ। ভাঙনের কারণে এবার চারটি ঘাটই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকালও তিন নম্বর ঘাট কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। তীব্র স্রোতের কারণে দুই নম্বর ঘাটে ফেরি পারাপার ব্যাহত হয়। এতে ঘাটে সৃষ্টি হয় চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার যানজট। ফেরি পারাপার ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো ঢাকায় ফিরতে পারছে না বাস। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। রাজধানীর গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে সরেজমিন দেখা যায়, যাত্রীরা দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা জানান, সকাল ৬টায় যে বাস ছাড়ার কথা ছিল, পরদিন দুপুরেও তার দেখে মেলেনি। কখন আসবে বাস? অপেক্ষায় অধৈর্য যাত্রীদের এ প্রশ্নের উত্তর নেই বাস কাউন্টারের লোকজনের কাছেও। তারা বারবার বলছেন, ঢাকা থেকে আগের দিন যে বাস ছেড়ে গেছে, সেগুলো মহাসড়কে যানজটের কারণে ফিরতে পারেনি। গাবতলীতে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, তিনি যাবেন নাটোর। তার বাস ছাড়ার কথা ছিল সকাল ৭টায়। কিন্তু সাড়ে ১০টার সময়ও ডিপজল পরিবহনের সেই বাসের দেখা নেই। একই অবস্থা উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলার বেলায়ও। নির্ধারিত সময়ে গাড়ি না আসার কারণ জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রুটের কেয়া পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মফিদুল ইসলাম বলেন, পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি চলছে না ঠিকমতো। তাই খুলনা-যশোর-সাতক্ষীরার বাসগুলো সব যমুনা সেতু হয়ে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা দিয়ে ঢাকায় আসছে। এ কারণে এলেঙ্গা থেকেই যানজট। তাদের একটি বাস বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড় থেকে রওনা হয়ে বিকেলে এলেঙ্গা পেঁৗছায়। সেখান থেকে ঢাকা এসেছে শুক্রবার সকাল ৭টায়। ফিটনেসবিহীন গাড়ি মহাসড়কে বিকল হয়ে যানজটের সূত্রপাত ঘটাচ্ছে। মেঘনা সেতুতে কর্তব্যরত হাইওয়ে পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন কাদের বলেন, 'ঈদের সময় যাত্রীদের সুবিধার্থে মানবিক কারণে গাড়ি কম ধরপাকড় করা হয়। এ সুযোগে যেখানে যত ফিটনেসবিহীন গাড়ি ছিল, সব রাস্তায় নেমে এসেছে।' একই চিত্র সব জায়গাতে। টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আনারসবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যায়। বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্তে সল্লায় বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে কেউ আহত না হলেও যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অতিরিক্ত গাড়ির চাপে পুলিশের রেকার যথাসময়ে সেখানে পেঁৗছাতে পারেনি। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে সল্লা ও নাটিয়াপাড়ায় দুটি ট্রাক মহাসড়কের ওপর উল্টে যানজটের সূত্রপাত হয়। পুরাতন ও লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি রাস্তার ওপর বিকল হয়ে পড়ছে। ফলে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সকাল থেকেই ছিল যানজট। কখনও মহাসড়ক ছিল স্থবির। কখনও থেমে থেমে চলেছে গাড়ি। গাজীপুরের নাওজোড়, বোর্ডবাজার, কোনাবাড়ী, কালিয়াকৈরের মৌচাক, সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানা গতকাল ছুটি হয়। এ কারণে গাড়ির চাপ ছিল বেশি। সরেজমিন দেখা যায়, উত্তরবঙ্গ থেকে শত শত গরুর ট্রাক যাচ্ছে ঢাকায়। এসব ট্রাক মহাসড়কের ওপর থামিয়ে গরু ওঠানামা করায় যান চলাচল বিঘি্নত হচ্ছে। গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, মহাসড়কে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা, যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ও মেঘনা সেতুর ওপর দুটি ট্রাক বিকল হওয়ার আগের দু'দিনের মতো যানজট ছিল চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশে। সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, মেঘনা সেতু এলাকায় যানজট ছিল আগের দু'দিনের মতোই। চাঁদপুরের কচুয়ার যাত্রী মো. আসাদউল্লাহ ঢাকার আরামবাগ থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এশিয়া লাইনের বাসে রওনা করেন। এক ঘণ্টায় পেঁৗছে যান মেঘনা সেতু এলাকায়। কিন্তু এর পর সেতু পার হতেই লেগেছে চার ঘণ্টা। দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির রায়পুর থেকে মেঘনা-গোমতী সেতু পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট ছিল। যাত্রীদের দুর্ভোগ যেমন হয়েছে, তেমনি কোরবানির পশুবাহী গাড়ি নিয়ে বিপাকে পড়েন ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, আট ঘণ্টা সময় লেগেছে ঢাকা থেকে দাউদকান্দি পেঁৗছতে।

Comments

Comments!

 কেন মহাযানজট?AmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

কেন মহাযানজট?

Saturday, September 10, 2016 8:37 am
242198_1

ঈদের আনন্দযাত্রা মহাসড়কে যানজটে দুর্ভোগে রূপ নিয়েছে। গতকাল শুক্রবারও ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কে ছিল মহাযানজট। সেতুতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়েছেন যাত্রীরা। যানজটে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বাস ফিরতে পারছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারছে না গাড়ি। যাত্রীদের টার্মিনালে কাটছে অপেক্ষার প্রহর।

মহাসড়কের অবস্থা অতীতের তুলনায় ভালো হলেও কেন এই যানজট? এর উত্তর খুঁজতে সরেজমিনে দেখা যায়, মূলত চার কারণে যানজট ভয়াবহ দুর্ভোগের কারণ হয়েছে : সেতুর টোলপ্লাজা ও ফেরি পারাপারে দীর্ঘ লাইন, ঈদের ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে মহাসড়কে আগেভাগে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান বন্ধ না করা, লক্কড়ঝক্কড় ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে বিকল হওয়া।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন উন্নীত হলেও প্রধান তিন সেতু কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী এখনও দুই লেনের রয়ে গেছে। ভালো সড়কে

গাড়ি দ্রুত পথ পাড়ি দিয়ে আটকা পড়ছে সেতুতে। শত শত গাড়ি একসঙ্গে টোলপ্লাজার লাইনে দাঁড়াচ্ছে। এ কারণে সৃষ্টি হচ্ছে কয়েক কিলোমিটার যানজট।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন মেঘনা সেতুতে দেখা যায়, সেতুর পূর্বপ্রান্তের টোলপ্লাজা থেকে নারায়ণগঞ্জের মোগড়াপাড়া পর্যন্ত চার কিলোমিটার দীর্ঘ গাড়ির লাইন। একই অবস্থা সেতুর পশ্চিমপ্রান্তে। গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামছুল হক বলেন, সড়ক প্রশস্ত হওয়ায় গাড়ি সহজেই সেতু পর্যন্ত পেঁৗছে যাচ্ছে। সেতু সরু হওয়ায় ‘বটল-নেক’ সমস্যায় পড়ছে গাড়িগুলো।

এ কারণে দীর্ঘ গাড়ির লাইন সৃষ্টি হচ্ছে সেতুর টোলপ্লাজায়। সাধারণ যাত্রীদের দাবি, যানজট কমাতে ঈদের কয়েকদিন টোল আদায় বন্ধ থাকা উচিত। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যাত্রী কল্যাণ সমিতি এরই মধ্যে দাবি জানিয়েছে, যানজট থেকে মুক্তি পেতে ঈদের সময় যেন আগের মতো হাতে হাতে টোল নেওয়া হয়। অনেকে মনে করেন, ঈদের সাত দিন আগে থেকে টোল গ্রহণ বন্ধ রাখা হলে যানজট কিছুটা কমবে।

অধ্যাপক শামছুল হক বলেন, টোল মওকুফ সমাধান নয়। বরং উন্নত দেশের মতো ই-টোল ব্যবস্থা চালু করলে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। গাড়িগুলো মোবাইলের কার্ডের মতো টোল টোকেন কিনতে পারবে। গাড়ির কাচে লাগানো থাকবে স্টিকার। ফলে টোল দিতে সেতুতে থামতে হবে না।

তবে সড়ক পরিবহন সচিব এম এ এন ছিদ্দিক বলেছেন, ঈদের আগে-পরে কয়েকদিনের জন্যও টোল মওকুফ সম্ভব নয়। কারণ সেতুতে যারা টোল ব্যবস্থাপক, তাদের মূল আয় ঈদে। সরকারেরও বড় অর্থ আসে টোল থেকে। তা থেকেই সেতুর নির্মাণ ব্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় নির্বাহ করা হয়।

ঈদের আগে-পরে তিন দিন করে মোট ছয় দিন জরুরি পণ্যবাহী ব্যতীত অন্যান্য ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। আজ সকাল থেকে কার্যকর হবে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু এবার দীর্ঘ ছুটির কারণে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে বুধবার রাত থেকেই। বৃহস্পতিবার ছিল শেষ কর্মদিবস। সরেজমিন দেখা যায়, গত দু’দিন মহাসড়কে বাসের চেয়ে বেশি চলাচল করেছে পণ্যবাহী ট্রাক। মেঘনা সেতুতে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন কাদের রানা জানান, ‘সেতুতে উঠার পথ খাড়া হওয়ায় কাভার্ড, ট্রাক ও লরি ধীরে ধীরে উঠে। এতেও যানজট সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, সরকারিভাবে শনিবার থেকে ট্রাক চলাচল বন্ধ, এর আগে আমরা চলাচল বন্ধ করতে পারি না।’

অধ্যাপক শামছুল হক বলেন, ঈদের ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে ট্রাক বন্ধ করা উচিত। ঈদের আগের দু’দিন না হলেও বৃহস্পতি ও শুক্রবার ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকলে মহাসড়কে বাস নির্বিঘ্নে চলতে পারত।

তবে সচিব বলেছেন, ব্যবসা সচল রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘শুধু ঘরে ফেরা নয়, ব্যবসাও নির্বিঘ্ন করতে হবে।’

গতকালও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরির জন্য গাড়ির সারি ছিল কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ। ভাঙনের কারণে এবার চারটি ঘাটই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকালও তিন নম্বর ঘাট কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। তীব্র স্রোতের কারণে দুই নম্বর ঘাটে ফেরি পারাপার ব্যাহত হয়। এতে ঘাটে সৃষ্টি হয় চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার যানজট।

ফেরি পারাপার ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো ঢাকায় ফিরতে পারছে না বাস। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। রাজধানীর গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে সরেজমিন দেখা যায়, যাত্রীরা দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা জানান, সকাল ৬টায় যে বাস ছাড়ার কথা ছিল, পরদিন দুপুরেও তার দেখে মেলেনি। কখন আসবে বাস? অপেক্ষায় অধৈর্য যাত্রীদের এ প্রশ্নের উত্তর নেই বাস কাউন্টারের লোকজনের কাছেও। তারা বারবার বলছেন, ঢাকা থেকে আগের দিন যে বাস ছেড়ে গেছে, সেগুলো মহাসড়কে যানজটের কারণে ফিরতে পারেনি।

গাবতলীতে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, তিনি যাবেন নাটোর। তার বাস ছাড়ার কথা ছিল সকাল ৭টায়। কিন্তু সাড়ে ১০টার সময়ও ডিপজল পরিবহনের সেই বাসের দেখা নেই। একই অবস্থা উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলার বেলায়ও। নির্ধারিত সময়ে গাড়ি না আসার কারণ জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রুটের কেয়া পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মফিদুল ইসলাম বলেন, পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি চলছে না ঠিকমতো। তাই খুলনা-যশোর-সাতক্ষীরার বাসগুলো সব যমুনা সেতু হয়ে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা দিয়ে ঢাকায় আসছে। এ কারণে এলেঙ্গা থেকেই যানজট। তাদের একটি বাস বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড় থেকে রওনা হয়ে বিকেলে এলেঙ্গা পেঁৗছায়। সেখান থেকে ঢাকা এসেছে শুক্রবার সকাল ৭টায়।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি মহাসড়কে বিকল হয়ে যানজটের সূত্রপাত ঘটাচ্ছে। মেঘনা সেতুতে কর্তব্যরত হাইওয়ে পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন কাদের বলেন, ‘ঈদের সময় যাত্রীদের সুবিধার্থে মানবিক কারণে গাড়ি কম ধরপাকড় করা হয়। এ সুযোগে যেখানে যত ফিটনেসবিহীন গাড়ি ছিল, সব রাস্তায় নেমে এসেছে।’ একই চিত্র সব জায়গাতে।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আনারসবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যায়। বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্তে সল্লায় বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে কেউ আহত না হলেও যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অতিরিক্ত গাড়ির চাপে পুলিশের রেকার যথাসময়ে সেখানে পেঁৗছাতে পারেনি।

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে সল্লা ও নাটিয়াপাড়ায় দুটি ট্রাক মহাসড়কের ওপর উল্টে যানজটের সূত্রপাত হয়। পুরাতন ও লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি রাস্তার ওপর বিকল হয়ে পড়ছে। ফলে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সকাল থেকেই ছিল যানজট। কখনও মহাসড়ক ছিল স্থবির। কখনও থেমে থেমে চলেছে গাড়ি। গাজীপুরের নাওজোড়, বোর্ডবাজার, কোনাবাড়ী, কালিয়াকৈরের মৌচাক, সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানা গতকাল ছুটি হয়। এ কারণে গাড়ির চাপ ছিল বেশি। সরেজমিন দেখা যায়, উত্তরবঙ্গ থেকে শত শত গরুর ট্রাক যাচ্ছে ঢাকায়। এসব ট্রাক মহাসড়কের ওপর থামিয়ে গরু ওঠানামা করায় যান চলাচল বিঘি্নত হচ্ছে।

গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, মহাসড়কে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা, যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ও মেঘনা সেতুর ওপর দুটি ট্রাক বিকল হওয়ার আগের দু’দিনের মতো যানজট ছিল চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশে।

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, মেঘনা সেতু এলাকায় যানজট ছিল আগের দু’দিনের মতোই। চাঁদপুরের কচুয়ার যাত্রী মো. আসাদউল্লাহ ঢাকার আরামবাগ থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এশিয়া লাইনের বাসে রওনা করেন। এক ঘণ্টায় পেঁৗছে যান মেঘনা সেতু এলাকায়। কিন্তু এর পর সেতু পার হতেই লেগেছে চার ঘণ্টা।

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির রায়পুর থেকে মেঘনা-গোমতী সেতু পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট ছিল। যাত্রীদের দুর্ভোগ যেমন হয়েছে, তেমনি কোরবানির পশুবাহী গাড়ি নিয়ে বিপাকে পড়েন ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, আট ঘণ্টা সময় লেগেছে ঢাকা থেকে দাউদকান্দি পেঁৗছতে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X