রবিবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:০০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, November 10, 2016 11:37 am
A- A A+ Print

কেন হারলেন হিলারি ক্লিনটন? : বিবিসির বিশ্লেষণ

160674_1

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসির সংবাদদাতা নিক ব্রায়ান্ট। তিনি দেখার চেষ্টা করেছেন, কি কারণে আমেরিকার ভোটাররা হিলারির তুলনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেছে নিলেন। আমেরিকার এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় ব্যতিক্রমী, সন্দেহ নেই। এটা ছিলো রাজনৈতিক আভিজাত্যের বিরুদ্ধে একটি বিপ্লবের মতো। আমেরিকার ভোটাররা হিলারি ক্লিনটনের মধ্যে সেই আভিজাত্যের ছাপই দেখতে পেয়েছেন, যেখানে ভঙ্গুর রাজনীতির ছাপ রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই ভঙ্গুরতা ঠিক করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ভোটারদের ভোট পেয়েছেন। অসংখ্য মানুষ তাকে ভোট দিয়েছে, কারণ তিনি প্রচলিত রাজনীতির বাইরে থেকে এসেছেন। আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায়, রাস্তায়, দোকানে সাধারণ মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিবিসির সংবাদদাতা। তারা বলেছে, তারা হোয়াইট হাউজে একজন ব্যবসায়ীকে দেখতে চায়, কোন পেশাদার রাজনীতিবিদকে নয়। ওয়াশিংটনের মানুষজনের প্রতি তাদের বিরাগ অকল্পনীয়। ইমেইল কেলেঙ্কারির কারণে হিলারি ক্লিনটনের উপর আমেরিকানদের বিশ্বাসের ঘাটতি আছে। এই ঘটনাটি অনেক ভোটারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাধারণ আমেরিকানরা তাকে নিজেদের নয়, বরং বরাবরই এলিট গোষ্ঠীর একজন সদস্য হিসাবে দেখেছেন। ভাবা হতো যে, আমেরিকার নারীরা হিলারিকেই বেছে নেবেন। কিন্তু প্রাইমারিতে বার্নি স্যান্ডার্সের সাথে প্রতিযোগিতার সময়েই টের পাওয়া গেছে, দেশের তরুণ নারী ভোটারদের টানতে পারা তার জন্য কতটা কঠিন। বিল ক্লিনটনের নারী কেলেঙ্কারিকে প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগ বা ক্লিনটনের ওই ঘটনাগুলোও হিলারির জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। আবার অনেক পুরনো ধ্যানধারণার পুরুষ ভোটার, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে একজন নারীকে দেখতে চাননি।  বারাক ওবামা এবং হিলারি পক্ষের অন্য নেতারা বরাবরই ফাস্ট লেডি হিসাবে তার অভিজ্ঞতা, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তার যোগ্যতার কথা তুলে ধরেছেন। কিন্তু আমেরিকার ভোটাররা চেয়েছিলেন নতুন কাউকে। যখন অনেক আমেরিকান পরিবর্তন চাইছে, তখন তিনি যেন পুরনো জিনিসগুলো ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমেরিকার ইতিহাসে কোন পার্টির পক্ষেই পরপর তিনবার হোয়াইট হাউজে যাওয়া বরাবরই কঠিন। ১৯৪০ সালের পর ডেমোক্রেটরা এটা পারেনি। আবার অনেক ভোটারই 'ক্লিনটন'দের উপর বিরক্ত হয়ে গেছে। হিলারি ক্লিনটনের শ্লোগান ছিলো, একত্রে শক্তিশালী হয়ে উঠবো। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শ্লোগান, আমেরিকাকে আবার শ্রেষ্ঠ করে তোলো। প্রচারণার দিক থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শ্লোগান অনেক সুবিধা পেয়েছে। হিলারির প্রচারণায় অনেক কৌশলগত ক্রুটি ছিলো। তিনি এমন সব রাজ্যের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন, যেখানে তার জয়ের দরকার ছিলো না। যেমন নর্থ ক্যারোলিনা বা ওহিও। বরং তার ওই ১৮টি রাজ্যে বেশি সময় দেয়া দরকার ছিলো, যারা গত ছয়টি নির্বাচন ধরে ডেমোক্রেটদের ভোট দিয়ে আসছে। অন্যদিকে পেনসিলভানিয়া বা উইসকনসিনের মতো রাজ্য, যেগুলোর ভোট ১৯৮৪ সালের পর আর রিপাবলিকানরা পায়নি, তোর ভোট দখল করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সর্বশেষ কথা হলো, এটা শুধু মাত্র যে হিলারি ক্লিনটনকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তা নয়, এর মাধ্যমে আসলে বারাক ওবামার আমেরিকাকেই প্রত্যাখ্যান করেছেন আমেরিকান ভোটাররা।

Comments

Comments!

 কেন হারলেন হিলারি ক্লিনটন? : বিবিসির বিশ্লেষণAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

কেন হারলেন হিলারি ক্লিনটন? : বিবিসির বিশ্লেষণ

Thursday, November 10, 2016 11:37 am
160674_1

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসির সংবাদদাতা নিক ব্রায়ান্ট। তিনি দেখার চেষ্টা করেছেন, কি কারণে আমেরিকার ভোটাররা হিলারির তুলনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেছে নিলেন।

আমেরিকার এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় ব্যতিক্রমী, সন্দেহ নেই। এটা ছিলো রাজনৈতিক আভিজাত্যের বিরুদ্ধে একটি বিপ্লবের মতো।

আমেরিকার ভোটাররা হিলারি ক্লিনটনের মধ্যে সেই আভিজাত্যের ছাপই দেখতে পেয়েছেন, যেখানে ভঙ্গুর রাজনীতির ছাপ রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই ভঙ্গুরতা ঠিক করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ভোটারদের ভোট পেয়েছেন। অসংখ্য মানুষ তাকে ভোট দিয়েছে, কারণ তিনি প্রচলিত রাজনীতির বাইরে থেকে এসেছেন।

আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায়, রাস্তায়, দোকানে সাধারণ মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিবিসির সংবাদদাতা। তারা বলেছে, তারা হোয়াইট হাউজে একজন ব্যবসায়ীকে দেখতে চায়, কোন পেশাদার রাজনীতিবিদকে নয়। ওয়াশিংটনের মানুষজনের প্রতি তাদের বিরাগ অকল্পনীয়।

ইমেইল কেলেঙ্কারির কারণে হিলারি ক্লিনটনের উপর আমেরিকানদের বিশ্বাসের ঘাটতি আছে। এই ঘটনাটি অনেক ভোটারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাধারণ আমেরিকানরা তাকে নিজেদের নয়, বরং বরাবরই এলিট গোষ্ঠীর একজন সদস্য হিসাবে দেখেছেন।

ভাবা হতো যে, আমেরিকার নারীরা হিলারিকেই বেছে নেবেন। কিন্তু প্রাইমারিতে বার্নি স্যান্ডার্সের সাথে প্রতিযোগিতার সময়েই টের পাওয়া গেছে, দেশের তরুণ নারী ভোটারদের টানতে পারা তার জন্য কতটা কঠিন। বিল ক্লিনটনের নারী কেলেঙ্কারিকে প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগ বা ক্লিনটনের ওই ঘটনাগুলোও হিলারির জন্য ক্ষতিকর হয়েছে।

আবার অনেক পুরনো ধ্যানধারণার পুরুষ ভোটার, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসাবে একজন নারীকে দেখতে চাননি।  বারাক ওবামা এবং হিলারি পক্ষের অন্য নেতারা বরাবরই ফাস্ট লেডি হিসাবে তার অভিজ্ঞতা, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তার যোগ্যতার কথা তুলে ধরেছেন। কিন্তু আমেরিকার ভোটাররা চেয়েছিলেন নতুন কাউকে। যখন অনেক আমেরিকান পরিবর্তন চাইছে, তখন তিনি যেন পুরনো জিনিসগুলো ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আমেরিকার ইতিহাসে কোন পার্টির পক্ষেই পরপর তিনবার হোয়াইট হাউজে যাওয়া বরাবরই কঠিন। ১৯৪০ সালের পর ডেমোক্রেটরা এটা পারেনি। আবার অনেক ভোটারই ‘ক্লিনটন’দের উপর বিরক্ত হয়ে গেছে।

হিলারি ক্লিনটনের শ্লোগান ছিলো, একত্রে শক্তিশালী হয়ে উঠবো। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শ্লোগান, আমেরিকাকে আবার শ্রেষ্ঠ করে তোলো।

প্রচারণার দিক থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শ্লোগান অনেক সুবিধা পেয়েছে। হিলারির প্রচারণায় অনেক কৌশলগত ক্রুটি ছিলো। তিনি এমন সব রাজ্যের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন, যেখানে তার জয়ের দরকার ছিলো না। যেমন নর্থ ক্যারোলিনা বা ওহিও। বরং তার ওই ১৮টি রাজ্যে বেশি সময় দেয়া দরকার ছিলো, যারা গত ছয়টি নির্বাচন ধরে ডেমোক্রেটদের ভোট দিয়ে আসছে।

অন্যদিকে পেনসিলভানিয়া বা উইসকনসিনের মতো রাজ্য, যেগুলোর ভোট ১৯৮৪ সালের পর আর রিপাবলিকানরা পায়নি, তোর ভোট দখল করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

সর্বশেষ কথা হলো, এটা শুধু মাত্র যে হিলারি ক্লিনটনকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তা নয়, এর মাধ্যমে আসলে বারাক ওবামার আমেরিকাকেই প্রত্যাখ্যান করেছেন আমেরিকান ভোটাররা।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X