শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ১২:২০
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, January 20, 2017 7:10 am
A- A A+ Print

কেমন হবে ট্রাম্প দুনিয়া

1

ডনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে কেমন হবে দুনিয়া! তিনি কি শত্রুকে মিত্রে, মিত্রকে আরো ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত করবেন? গড়ে তুলবেন এক অহিংস বিশ্বসমাজ! মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তা কি শুধুই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি! মেক্সিকো, ইরান, ইরাক, চীন, রাশিয়ার সঙ্গে কী হবে তার পররাষ্ট্রনীতি? ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতেই বা তার মনোভাব কী? সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে তিনি কী ভূমিকা নেবেন? ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া দখলে রাশিয়াকে কি সমর্থন করবেন? উত্তর কোরিয়া, তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কি বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়বে? ব্রেক্সিট, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান কি পাল্টে যাবে? এমনই প্রশ্নের পর প্রশ্ন জড়ো হয়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রশ্নমালা। এর উত্তর পাওয়ার জন্য বিশ্ববাসীকে অপেক্ষা করতে হবে। আজ স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশের সময় শুক্রবার রাত ১১টায়) যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিচ্ছেন রিপাবলিকান দল থেকে নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্প। এখন শুধু সময় গণনার পালা। এরপরই শপথ গ্রহণ করে তিনি হয়ে যাবেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তিধর প্রেসিডেন্ট। আজ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ট্রাম্প। জর্জ ওয়াশিংটনের সময় থেকে প্রচলিত শপথ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে তার নামের আগে যুক্ত হবে ‘প্রেসিডেন্ট’ শব্দ। আর বারাক ওবামা মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হবেন ‘সাবেক প্রেসিডেন্টে’। আজকের শপথ অনুষ্ঠানে বিশ্ববাসী তাকিয়ে থাকবে ডনাল্ড ট্রাম্পের দিকে। তিনি শপথ অনুষ্ঠানে প্রথম বক্তব্যে কী শোনান তার চলবে চুলচেরা বিশ্লেষণ। হোয়াইট হাউসে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ের সিঁড়িতে হবে এই শপথ অনুষ্ঠান। শপথ বাক্য পাঠ করাবেন যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। ট্রাম্পকে শপথ পাঠ করানোর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স শপথ নেবেন। শপথ নেয়ার পর ডনাল্ড ট্রাম্প তার উদ্বোধনী ভাষণ রাখবেন। বিশেষ করে তার এই ভাষণের দিকে নজর সবার। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী এই ভাষণই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের পাতায় রেকর্ড হবে। উল্লেখ্য, এমন দ্বিতীয় উদ্বোধনী বক্তব্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন ঘোষণা দিয়েছিলেন, কারো প্রতি বৈরিতা নয়, উদারতা সবার জন্য। ওই সময় গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে দেশ বেরিয়ে আসছিল। জন এফ কেনেডি দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, দেশ আপনার জন্য কী করতে পারছে তা জানতে চাইবেন না। বরং আপনি দেশের জন্য কী করছেন তা-ই জিজ্ঞেস করুন। সাবেক এসব প্রেসিডেন্টের পদাঙ্ক ডনাল্ড ট্রাম্প অনুসরণ করবেন বলে প্রত্যাশা করছেন বোদ্ধারা। তিনি যদি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে অনুসরণ করেন তাহলে তার বক্তব্যের পরিধি হতে পারে প্রায় ২০ মিনিট। নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হাজির থাকার রীতি প্রচলিত। তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। আজ ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু যদি ওবামা উপস্থিত না থাকেন তাহলে তা হবে ৯৬ বছরের মধ্যে প্রথম এমন ঘটনা। প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক টান টান। ট্রাম্প প্রথমেই ওবামার দিকে যে তীর ছুড়েছেন তা হলো- তিনি জন্মেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে। তাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। এরপর তিনি ওবামাকে আইসিসের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তার প্রথম কাজ হবে ওবামার প্রেসিডেন্টের প্রভাবকে মুছে দেয়া। ওবামা যেসব নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন, মেমোরেন্ডাম দিয়েছেন, আদেশ দিয়েছেন তার সবটাই তিনি বাতিল করবেন। পরে অবশ্য কিছু ইস্যু থেকে তিনি পশ্চাৎধাবন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার শেষের দিকে ওবামাকে তিনি দুর্বল, বিপর্যয়কারী, অকার্যকর, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে অজ্ঞ প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। জবাবে ট্রাম্পকে ওবামা দায়িত্বজ্ঞানহীন, ভয়ানক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন, ট্রাম্পের অধীনে বিশ্বের পরিণতি ঝুঁকিতে পড়বে। ফলে বলা যায়, তাদের সম্পর্কে ভীষণ তিক্ততা রয়েছে। এ জন্য আজকের শপথে ওবামা যোগ দেবেন কি না তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন, জিমি কার্টার ও তাদের সাবেক স্ত্রী, সাবেক ফার্স্টলেডি লরা বুশ, হিলারি ক্লিনটন ও রোজালিন কার্টারের। সিনিয়র বুশ অর্থাৎ জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও তার স্ত্রী বারবারা বুশ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না। তারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানে থাকতে পারে সংগীতশিল্পীদের পারফরমেন্স। বক্তব্য রাখতে পারেন ধর্মীয় নেতারা। এসব শেষ হলে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হবে। তারপর ট্রাম্প যোগ দেবেন কংগ্রেসের আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজে। এরপর হবে শোভাযাত্রা। ক্যাপিটল হিল থেকে পেনসিলভ্যানিয়া এভিনিউ হয়ে মোটর শোভাযাত্রাসহ হোয়াইট হাউসে যাবেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস হস্তান্তর ২০শে জানুয়ারিই হবে হোয়াইট হাউসে বারাক ওবামার শেষ দিন। এদিন সকালে শেষ দিনের মতো হোয়াইট হাউস থেকে ঘুম থেকে উঠবেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। একই দিন রাতে এখানেই প্রথমবারে মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাত্রিযাপন করবেন ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে হোয়াইট হাউসের হাতবদল হবে। প্রেসিডেন্ট ওবামার অধীনে যারা কাজ করতেন তারা সবাই এদিন হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে যার যার নতুন ঠিকানায় চলে যাবেন। শনিবার সকালে হোয়াইট হাউসে নতুন বিছানা থেকে ঘুম থেকে জাগবেন ট্রাম্প। তারপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্ব পালন শুরু হবে। আজ শপথ অনুষ্ঠানের আগে ওয়াশিংটন শহরের বিভিন্ন স্থানে হবে ‘ইনঅগুরাল বলস’। গতকাল ১৯শে জানুয়ারি আরলিংটন ন্যাশনাল সেমেটারিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করার কথা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত মাইক পেন্সের। এরপর লিঙ্কন মেমোরিয়ালে হবে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ কনসার্ট। কেমন হবে ট্রাম্পবিশ্ব নির্বাচনী প্রচারণা ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ডনাল্ড ট্রাম্প যেসব বক্তব্য রেখেছেন তাতে সচেতন বিশ্ববাসী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়ার কথা বলেছেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বের করে দেবেন। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করবেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। প্রেসিডেন্ট ওবামার সব নির্বাহী নির্দেশ বাতিল করবেন। ইরাকযুদ্ধের ঘোর বিরোধিতা করেছেন। বলেছেন, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সবচেয়ে বাজে চুক্তি। তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন যেসব নারী তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ব্রেক্সিটের মাধ্যমে বৃটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আরও অনেক দেশ একই পথ অনুসরণ করবে। এরই মধ্যে একটি বিষয় মার্কিনি, রাজনৈতিক বোদ্ধাদের চোখে স্পষ্ট। তাহলো ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন নেতা, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নেতার সমালোচনা করলেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচনা করেননি কখনো। উল্টো তিনি তার প্রশংসা করেছেন। অভিযোগ আছে, এবারের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দল ও এ দলের অনেক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ই-মেইল হ্যাক করেছিল রাশিয়া। তারা ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিজয়ী হতে সহায়তা করেছিল। হিলারি ক্লিনটনের ওপর প্রতিশোধ নিতে তার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন পুতিন। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এর পক্ষে প্রমাণ হাজির করেছে। বলা হয়েছে, রাশিয়ার হাতে ট্রাম্পের রগরগে ভিডিও আছে। প্রয়োজনে তাকে ব্লাকমেইল করতে রাশিয়া তা ব্যবহার করতে পারে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতার শেষের দিকে এসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন করে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালানো ও ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া দখল করার কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ দিয়েছেন। এর পরপরই ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওই অবরোধ তিনি প্রত্যাহার করতে পারেন। পারমাণবিক অস্ত্র কমিয়ে আনার শর্তে রাশিয়া রাজি হলে ওই অবরোধ উঠিয়ে নেবেন তিনি। দৃশ্যত, পুতিনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রকাশ পাচ্ছে। পুতিনের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করা রেক্স টিলারসনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছেন ট্রাম্প। এসবই বলে দেয়, তিনি রাশিয়া ইস্যুতে নমনীয় ভূমিকা নিতে পারেন। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের এক নম্বর শত্রু রাষ্ট্র বলে বিশ্বে পরিচিত যে রাশিয়া তার সঙ্গে তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ এক সম্পর্ক গড়তে যাচ্ছেন বলেই মনে হচ্ছে। যদি তা-ই হয় তাহলে কি পাল্টে যাবে বিশ্বসমাজ, রাজনীতি! প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প ফোনে কথা বলেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে। তার সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করার কথাও বলেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছে চীন। এ ছাড়া দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের সঙ্গে এক রকম উত্তেজনা আছে যুক্তরাষ্ট্রের। এসব পরিস্থিতিকে কীভাবে সামাল দেবেন ট্রাম্প তা এখন দেখার বিষয়। তিনি ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিকে সবচেয়ে বাজে বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাহলে তিনি কী এই চুক্তি বাতিল করবেন! কিউবার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দীর্ঘ কয়েক দশকের বরফ সম্পর্ককে গলাতে সক্ষম হয়েছেন। তারও সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এখন অপেক্ষা করার সময়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প কোন পথে নিয়ে যান বিশ্বকে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি থাকবে বিশ্ববাসীর।

Comments

Comments!

 কেমন হবে ট্রাম্প দুনিয়াAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

কেমন হবে ট্রাম্প দুনিয়া

Friday, January 20, 2017 7:10 am
1

ডনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে কেমন হবে দুনিয়া! তিনি কি শত্রুকে মিত্রে, মিত্রকে আরো ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত করবেন? গড়ে তুলবেন এক অহিংস বিশ্বসমাজ! মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তা কি শুধুই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি! মেক্সিকো, ইরান, ইরাক, চীন, রাশিয়ার সঙ্গে কী হবে তার পররাষ্ট্রনীতি? ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতেই বা তার মনোভাব কী? সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে তিনি কী ভূমিকা নেবেন? ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া দখলে রাশিয়াকে কি সমর্থন করবেন? উত্তর কোরিয়া, তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কি বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়বে? ব্রেক্সিট, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান কি পাল্টে যাবে? এমনই প্রশ্নের পর প্রশ্ন জড়ো হয়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রশ্নমালা। এর উত্তর পাওয়ার জন্য বিশ্ববাসীকে অপেক্ষা করতে হবে। আজ স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশের সময় শুক্রবার রাত ১১টায়) যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিচ্ছেন রিপাবলিকান দল থেকে নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্প। এখন শুধু সময় গণনার পালা। এরপরই শপথ গ্রহণ করে তিনি হয়ে যাবেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তিধর প্রেসিডেন্ট। আজ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ট্রাম্প। জর্জ ওয়াশিংটনের সময় থেকে প্রচলিত শপথ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে তার নামের আগে যুক্ত হবে ‘প্রেসিডেন্ট’ শব্দ। আর বারাক ওবামা মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হবেন ‘সাবেক প্রেসিডেন্টে’। আজকের শপথ অনুষ্ঠানে বিশ্ববাসী তাকিয়ে থাকবে ডনাল্ড ট্রাম্পের দিকে। তিনি শপথ অনুষ্ঠানে প্রথম বক্তব্যে কী শোনান তার চলবে চুলচেরা বিশ্লেষণ। হোয়াইট হাউসে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ের সিঁড়িতে হবে এই শপথ অনুষ্ঠান। শপথ বাক্য পাঠ করাবেন যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। ট্রাম্পকে শপথ পাঠ করানোর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স শপথ নেবেন। শপথ নেয়ার পর ডনাল্ড ট্রাম্প তার উদ্বোধনী ভাষণ রাখবেন। বিশেষ করে তার এই ভাষণের দিকে নজর সবার। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী এই ভাষণই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের পাতায় রেকর্ড হবে। উল্লেখ্য, এমন দ্বিতীয় উদ্বোধনী বক্তব্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন ঘোষণা দিয়েছিলেন, কারো প্রতি বৈরিতা নয়, উদারতা সবার জন্য। ওই সময় গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে দেশ বেরিয়ে আসছিল। জন এফ কেনেডি দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, দেশ আপনার জন্য কী করতে পারছে তা জানতে চাইবেন না। বরং আপনি দেশের জন্য কী করছেন তা-ই জিজ্ঞেস করুন। সাবেক এসব প্রেসিডেন্টের পদাঙ্ক ডনাল্ড ট্রাম্প অনুসরণ করবেন বলে প্রত্যাশা করছেন বোদ্ধারা। তিনি যদি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে অনুসরণ করেন তাহলে তার বক্তব্যের পরিধি হতে পারে প্রায় ২০ মিনিট। নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হাজির থাকার রীতি প্রচলিত। তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। আজ ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু যদি ওবামা উপস্থিত না থাকেন তাহলে তা হবে ৯৬ বছরের মধ্যে প্রথম এমন ঘটনা। প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক টান টান। ট্রাম্প প্রথমেই ওবামার দিকে যে তীর ছুড়েছেন তা হলো- তিনি জন্মেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে। তাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। এরপর তিনি ওবামাকে আইসিসের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তার প্রথম কাজ হবে ওবামার প্রেসিডেন্টের প্রভাবকে মুছে দেয়া। ওবামা যেসব নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন, মেমোরেন্ডাম দিয়েছেন, আদেশ দিয়েছেন তার সবটাই তিনি বাতিল করবেন। পরে অবশ্য কিছু ইস্যু থেকে তিনি পশ্চাৎধাবন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার শেষের দিকে ওবামাকে তিনি দুর্বল, বিপর্যয়কারী, অকার্যকর, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে অজ্ঞ প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। জবাবে ট্রাম্পকে ওবামা দায়িত্বজ্ঞানহীন, ভয়ানক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন, ট্রাম্পের অধীনে বিশ্বের পরিণতি ঝুঁকিতে পড়বে। ফলে বলা যায়, তাদের সম্পর্কে ভীষণ তিক্ততা রয়েছে। এ জন্য আজকের শপথে ওবামা যোগ দেবেন কি না তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন, জিমি কার্টার ও তাদের সাবেক স্ত্রী, সাবেক ফার্স্টলেডি লরা বুশ, হিলারি ক্লিনটন ও রোজালিন কার্টারের। সিনিয়র বুশ অর্থাৎ জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও তার স্ত্রী বারবারা বুশ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন না। তারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানে থাকতে পারে সংগীতশিল্পীদের পারফরমেন্স। বক্তব্য রাখতে পারেন ধর্মীয় নেতারা। এসব শেষ হলে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হবে। তারপর ট্রাম্প যোগ দেবেন কংগ্রেসের আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজে। এরপর হবে শোভাযাত্রা। ক্যাপিটল হিল থেকে পেনসিলভ্যানিয়া এভিনিউ হয়ে মোটর শোভাযাত্রাসহ হোয়াইট হাউসে যাবেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউস হস্তান্তর
২০শে জানুয়ারিই হবে হোয়াইট হাউসে বারাক ওবামার শেষ দিন। এদিন সকালে শেষ দিনের মতো হোয়াইট হাউস থেকে ঘুম থেকে উঠবেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। একই দিন রাতে এখানেই প্রথমবারে মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাত্রিযাপন করবেন ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে হোয়াইট হাউসের হাতবদল হবে। প্রেসিডেন্ট ওবামার অধীনে যারা কাজ করতেন তারা সবাই এদিন হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে যার যার নতুন ঠিকানায় চলে যাবেন। শনিবার সকালে হোয়াইট হাউসে নতুন বিছানা থেকে ঘুম থেকে জাগবেন ট্রাম্প। তারপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্ব পালন শুরু হবে। আজ শপথ অনুষ্ঠানের আগে ওয়াশিংটন শহরের বিভিন্ন স্থানে হবে ‘ইনঅগুরাল বলস’। গতকাল ১৯শে জানুয়ারি আরলিংটন ন্যাশনাল সেমেটারিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করার কথা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত মাইক পেন্সের। এরপর লিঙ্কন মেমোরিয়ালে হবে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ কনসার্ট।
কেমন হবে ট্রাম্পবিশ্ব
নির্বাচনী প্রচারণা ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ডনাল্ড ট্রাম্প যেসব বক্তব্য রেখেছেন তাতে সচেতন বিশ্ববাসী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়ার কথা বলেছেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বের করে দেবেন। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করবেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। প্রেসিডেন্ট ওবামার সব নির্বাহী নির্দেশ বাতিল করবেন। ইরাকযুদ্ধের ঘোর বিরোধিতা করেছেন। বলেছেন, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সবচেয়ে বাজে চুক্তি। তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন যেসব নারী তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ব্রেক্সিটের মাধ্যমে বৃটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আরও অনেক দেশ একই পথ অনুসরণ করবে। এরই মধ্যে একটি বিষয় মার্কিনি, রাজনৈতিক বোদ্ধাদের চোখে স্পষ্ট। তাহলো ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন নেতা, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নেতার সমালোচনা করলেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচনা করেননি কখনো। উল্টো তিনি তার প্রশংসা করেছেন। অভিযোগ আছে, এবারের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দল ও এ দলের অনেক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ই-মেইল হ্যাক করেছিল রাশিয়া। তারা ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিজয়ী হতে সহায়তা করেছিল। হিলারি ক্লিনটনের ওপর প্রতিশোধ নিতে তার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন পুতিন। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এর পক্ষে প্রমাণ হাজির করেছে। বলা হয়েছে, রাশিয়ার হাতে ট্রাম্পের রগরগে ভিডিও আছে। প্রয়োজনে তাকে ব্লাকমেইল করতে রাশিয়া তা ব্যবহার করতে পারে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতার শেষের দিকে এসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন করে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালানো ও ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া দখল করার কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ দিয়েছেন। এর পরপরই ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওই অবরোধ তিনি প্রত্যাহার করতে পারেন। পারমাণবিক অস্ত্র কমিয়ে আনার শর্তে রাশিয়া রাজি হলে ওই অবরোধ উঠিয়ে নেবেন তিনি। দৃশ্যত, পুতিনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রকাশ পাচ্ছে। পুতিনের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করা রেক্স টিলারসনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছেন ট্রাম্প। এসবই বলে দেয়, তিনি রাশিয়া ইস্যুতে নমনীয় ভূমিকা নিতে পারেন। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের এক নম্বর শত্রু রাষ্ট্র বলে বিশ্বে পরিচিত যে রাশিয়া তার সঙ্গে তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ এক সম্পর্ক গড়তে যাচ্ছেন বলেই মনে হচ্ছে। যদি তা-ই হয় তাহলে কি পাল্টে যাবে বিশ্বসমাজ, রাজনীতি!
প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প ফোনে কথা বলেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে। তার সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করার কথাও বলেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছে চীন। এ ছাড়া দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের সঙ্গে এক রকম উত্তেজনা আছে যুক্তরাষ্ট্রের। এসব পরিস্থিতিকে কীভাবে সামাল দেবেন ট্রাম্প তা এখন দেখার বিষয়। তিনি ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিকে সবচেয়ে বাজে বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাহলে তিনি কী এই চুক্তি বাতিল করবেন! কিউবার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দীর্ঘ কয়েক দশকের বরফ সম্পর্ককে গলাতে সক্ষম হয়েছেন। তারও সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এখন অপেক্ষা করার সময়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প কোন পথে নিয়ে যান বিশ্বকে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি থাকবে বিশ্ববাসীর।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X