বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:২১
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Thursday, September 1, 2016 9:30 pm
A- A A+ Print

কে এই ঘাতক ওবায়দুল

240135_1

পর পর চার মেয়ের জন্মের পর হতদ্ররিদ্র আব্দুস সামাদের ঘরে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। ১৯৮৭ সালে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রামে তার জন্ম। শত কষ্টের মধ্যেও একমাত্র ছেলে সন্তানের সব চাহিদা পূরণ করতেন মৌসুমী ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ। ওবায়দুলের ৬ বছর বয়স হওয়ার পর একমাত্র ছেলে ওবায়দুলকে বাড়ির পাশে অবস্থিত চকদফর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি করে দেন বাবা-মা। মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে পড়াশোনা শেষ করে বড় চাকরি করবে। কিন্তু সে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেলো। ওবায়দুল দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মা চন্দনী বেগম পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। এই ছেলেই রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির বাংলা ভার্সনের ছাত্রী রিশা হত্যার ঘাতক ওবায়দুল। পাঁচ সন্তানের জনক আব্দুস সামাদ দিশাহারা হয়ে নিকট আত্মীয়দের অনুরোধে এক স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে বিয়ে করেন। এরইমধ্যে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ওবায়দুলকে ঠাকুরগাঁও ম্যাজিক কার্ট টেইলার্সে কাজ শেখার জন্য নিয়ে যান তার বাবা। অভাবের সংসারের কথা শুনে শিশু ওবায়দুলকে কাজের সুযোগ দেন টেইলার্সের মালিক গৌরাঙ্গ। সেখানে ৬ বছর কাজ করার পর সহকারী কিছু দর্জি শ্রমিকের সহযোগিতায় ভালো বেতন ও সুযোগ সুবিধা পাওয়ার আশায় ঢাকায় চলে যায় ওবায়দুল। পাঁচ বছর আগে ওবায়দুলের বাবা আব্দুস সামাদ পাইকার মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর ওবায়দুল ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসলেও বেশিদিন থাকতো না। পার্শ্ববর্তী গ্রামে বড় বোনের বাড়িতে দু-চারদিন থাকার পর আবার ঢাকায় চলে যেত। ওবায়দুলের বাল্য বন্ধু আব্দুল রহিম জানান, বাবার মৃত্যুর পরও ওবায়দুল গ্রামে আসতো। প্রতিটি ঈদ সে এখানে পালন করেছে। তাকে সর্বশেষ সোমবার দুপুরে লাটের হাট বাজারে দেখা গেছে। তখন পর্যন্ত আমার জানা ছিল না যে, সে হত্যাকাণ্ডের মতো একটি জঘন্য কাজ করেছে। বিষয়টি জানান পর আমরা হতবাক হয়েছি। এমনিতে ওবায়দুল কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল না। এর আগে এলাকায় সে কোনো মেয়েকে উত্ত্যক্ত করেছে এমন কথাও শুনিনি। গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় রমনা থানার এসআই মো. মোশারফ হোসেন বীরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ঘাতক ওবায়দুলের নিজ বাড়ি মিরাটঙ্গী গ্রামে অভিযান চালায়। তখন অভিযানের আগেই বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে যায় পরিবারের অন্য সদস্যরা। পরে বুধবার (৩১ আগস্ট) সকালে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পথে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার সোনারাই বাজারে নাস্তা খাওয়ার সময় মাংস বিক্রেতা দুলাল রিশা হত্যাকারী ওবায়দুলকে চিনতে পারে। পরে ডোমার থানার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মজিদুল ইসলাম মাস্টার জানান, এই ছেলে একটি মেয়েকে শুধু হত্যা করেনি। আমাদেরকে কলঙ্কিত করেছে। আমরা তার শাস্তি দাবি করি। প্রসঙ্গত, রাজধানীর কাকরাইলে গত বুধবার বখাটে যুবক ওবায়দুলের ছুরিকাঘাতে আহত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে রিশার মা ওইদিনেই ওবায়দুলকে আসামি করে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গ্রেফতার ওবায়দুল বর্তমানে ৬ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। তবে রিশাকে হত্যা করেছে বলে ওবায়দুল পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।

Comments

Comments!

 কে এই ঘাতক ওবায়দুলAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

কে এই ঘাতক ওবায়দুল

Thursday, September 1, 2016 9:30 pm
240135_1

পর পর চার মেয়ের জন্মের পর হতদ্ররিদ্র আব্দুস সামাদের ঘরে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। ১৯৮৭ সালে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রামে তার জন্ম।

শত কষ্টের মধ্যেও একমাত্র ছেলে সন্তানের সব চাহিদা পূরণ করতেন মৌসুমী ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ। ওবায়দুলের ৬ বছর বয়স হওয়ার পর একমাত্র ছেলে ওবায়দুলকে বাড়ির পাশে অবস্থিত চকদফর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি করে দেন বাবা-মা। মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে পড়াশোনা শেষ করে বড় চাকরি করবে। কিন্তু সে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেলো। ওবায়দুল দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মা চন্দনী বেগম পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।

এই ছেলেই রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির বাংলা ভার্সনের ছাত্রী রিশা হত্যার ঘাতক ওবায়দুল।

পাঁচ সন্তানের জনক আব্দুস সামাদ দিশাহারা হয়ে নিকট আত্মীয়দের অনুরোধে এক স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে বিয়ে করেন। এরইমধ্যে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ওবায়দুলকে ঠাকুরগাঁও ম্যাজিক কার্ট টেইলার্সে কাজ শেখার জন্য নিয়ে যান তার বাবা। অভাবের সংসারের কথা শুনে শিশু ওবায়দুলকে কাজের সুযোগ দেন টেইলার্সের মালিক গৌরাঙ্গ।

সেখানে ৬ বছর কাজ করার পর সহকারী কিছু দর্জি শ্রমিকের সহযোগিতায় ভালো বেতন ও সুযোগ সুবিধা পাওয়ার আশায় ঢাকায় চলে যায় ওবায়দুল।

পাঁচ বছর আগে ওবায়দুলের বাবা আব্দুস সামাদ পাইকার মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর ওবায়দুল ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসলেও বেশিদিন থাকতো না। পার্শ্ববর্তী গ্রামে বড় বোনের বাড়িতে দু-চারদিন থাকার পর আবার ঢাকায় চলে যেত।

ওবায়দুলের বাল্য বন্ধু আব্দুল রহিম জানান, বাবার মৃত্যুর পরও ওবায়দুল গ্রামে আসতো। প্রতিটি ঈদ সে এখানে পালন করেছে। তাকে সর্বশেষ সোমবার দুপুরে লাটের হাট বাজারে দেখা গেছে। তখন পর্যন্ত আমার জানা ছিল না যে, সে হত্যাকাণ্ডের মতো একটি জঘন্য কাজ করেছে। বিষয়টি জানান পর আমরা হতবাক হয়েছি। এমনিতে ওবায়দুল কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল না। এর আগে এলাকায় সে কোনো মেয়েকে উত্ত্যক্ত করেছে এমন কথাও শুনিনি।

গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় রমনা থানার এসআই মো. মোশারফ হোসেন বীরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ঘাতক ওবায়দুলের নিজ বাড়ি মিরাটঙ্গী গ্রামে অভিযান চালায়। তখন অভিযানের আগেই বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে যায় পরিবারের অন্য সদস্যরা।

পরে বুধবার (৩১ আগস্ট) সকালে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পথে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার সোনারাই বাজারে নাস্তা খাওয়ার সময় মাংস বিক্রেতা দুলাল রিশা হত্যাকারী ওবায়দুলকে চিনতে পারে। পরে ডোমার থানার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মজিদুল ইসলাম মাস্টার জানান, এই ছেলে একটি মেয়েকে শুধু হত্যা করেনি। আমাদেরকে কলঙ্কিত করেছে। আমরা তার শাস্তি দাবি করি।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর কাকরাইলে গত বুধবার বখাটে যুবক ওবায়দুলের ছুরিকাঘাতে আহত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে রিশার মা ওইদিনেই ওবায়দুলকে আসামি করে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গ্রেফতার ওবায়দুল বর্তমানে ৬ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। তবে রিশাকে হত্যা করেছে বলে ওবায়দুল পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X