বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৩৭
শিরোনাম
  • ঘৃণাকে বিজয়ী হতে দেয়া যাবে না, ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে জর্জ ক্লুনি
  • আমার একটাই চিন্তা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা: প্রধানমন্ত্রী
  • ‘কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে কাশ্মীরকে হারাতে হবে’
  • সাড়ে চারমাস পর মুখোমুখি, খাদিজাকে উদ্দেশ্য করে যা বলল বদরুল
  • খালেদার ‘সাজা’ বিরোধী নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গার কৌশল!
  • বিএনপির কর্মসূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে: রিজভী
  • দলের জন্য বোলিং করতেও রাজি মুশফিক
  • শিশু জিহাদের মৃত্যু: চার জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড
  • অবশেষে বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে
  • সাক্ষ্য দিলেন খাদিজা, চাইলেন বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি
  • বদরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে খাদিজা
  • আজ বগুড়ায় যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত মানবাধিকার কমিশনের
  • মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’
  • হোয়াইট হাউসে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এই বাংলাদেশি সাংবাদিক
Friday, September 9, 2016 11:04 am
A- A A+ Print

কোরবানি ঈদ এবং কোলেস্টেরল

sajal1473387319

কোরবানি ঈদ এবং কোলেস্টেরল-এ দুয়ের মাঝে নীরব একটা সম্পর্ক রয়েছে। কোরবানি মানেই খাবার দাবারের ক্ষেত্রে বাড়তি চর্বির উপস্থিতি। লালমাংস, পোলাও এবং চর্বি-ঘি এর মিলনমেলা হচ্ছে কোরবানি ঈদের ডাইনিং টেবিল। শুধু কোরবানিই নয়, যে কোন নিমন্ত্রণের ভোজন পর্বেও একই দৃশ্য চোখে পড়বে। তেলে মাথায় তেল দেয়ার মতো করে অভিজাত মানুষের ভোজনপর্বকে আলো করে থাকে চর্বির ঝলক। তাই যে কোন নিমন্ত্রণ মানেই চর্বিযুক্ত খাবারের বিপুল সমাহার। খাওয়ার পর এই চর্বি বাসা বাঁধে মানুষের রক্তে, বেড়ে যায় রক্তের কোলেস্টেরল মাত্রা। কোলেস্টেরল মাত্রা বেশি থাকা মানেই রক্তে শত্রুর সঙ্গে বসবাস। রক্তের বাড়তি কোলেস্টেরল হৃদুপিণ্ডের মাংসপেশিকে নির্জীব মৃতাবস্থায় নেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। এ কারণেই কোরবানির ভোজনে কোলেস্টেরলের কথা মনে রাখতে হবে, বিশেষ করে যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি কিংবা বিপদসীমার কাছাকাছি রয়েছে। উৎসব আনন্দের আতিশয্যে শত্রু কোলেস্টেরলের কথা যেন ভুলে না যান সেটাই স্মরণ করিয়ে দিতে চাই এ লেখার মাধ্যমে। কোলেস্টেরল একটি আলোচিত বিষয়। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে কোলেস্টেরল একটি ভীতিকর উপাদান। বয়স চল্লিশের কোঠায় পৌঁছানোর পর রক্তের কোলেস্টেরল মাত্রা জেনে নেয়া প্রয়োজন। কারণ কোলেস্টেরল নীরবে আপনার মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। মানুষের শরীরের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী দুটি অঙ্গের অসুস্থতার জন্যই কোলেস্টেরলকে দায়ী করা যায়। হৃদপিণ্ডের হার্ট অ্যাটাক এবং মস্তিষ্কের স্ট্রোক এ দুয়ের জন্য অনেক সময়েই কোলেস্টেরলকে দোষারোপ করা হয়ে থাকে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ে অনেকের মাঝেই বিভ্রান্তি রয়েছে। কেউ কেউ রক্তে টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা ২০০ মিগ্রা/ডিএল থাকলেই নিরাপদ বলে মনে করেন। আসলে ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০ মিগ্রা/ডিএল বা তার নিচে হলে তাকে নিরাপদ মাত্রা বলা যায়। সাধারণভাবে নিরাপদ মাত্রার কোলেস্টেরল থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কম। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০-২০০ থাকা সত্বেও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি যখন কোলেস্টেরল মাত্রা ৩০০ থাকে তারচেয়েও দ্বিগুণ হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে ১৬ বছর মেয়াদী আমেরিকার এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০-২০০ এর মধ্যে তাদের প্রায় শতকরা ৩৫ ভাগ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। তাই কোলেস্টেরল নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে এ সম্পর্কে সচেতন হওয়াটাই হচ্ছে আসল কাজ। সেই সঙ্গে কোলেস্টেরল মাত্রা কমানোর ব্যবস্থাও নিতে হবে।   চর্বি বাড়লে ক্ষতি কী? রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা ১৫০-এর বেশি হলে ধমনীর অভ্যন্তরীণ দেয়ালে তা জমতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে পুঞ্জীভূত হয়ে প্লাক বা পিণ্ডের মত হয়ে সেখানে লেগে থাকে। ফলে রক্ত প্রবাহের পথ সংকীর্ণ হয়ে বাধাগ্রস্ত হতে থাকে। এভাবে রক্তনালী বিশেষ করে ধমনীর পথ বন্ধ হয়ে যায় কিংবা রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা হৃদপিণ্ডে ঘটলেই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।   কোলেস্টেরল মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঘটনাকে সিঁড়ির সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০ থেকে যত উপরে উঠবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তত বেশি বাড়বে। কিন্তু কোলেস্টেরল মাত্রার এই উর্ধ্বগতি রোধ করা সম্ভব বা কমিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়া শুধু টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা সম্পর্কে ধারণা নিলেই চলবে না, সার্বিক কোলেস্টেরল সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে। তবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে হলে টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০ এর নিচে রাখতে হবে।   কোলেস্টেরল মাত্রা পুনরায় গণনা ধরুন আপনি সুস্থ আছেন কিন্তু কোলেস্টেরল মাত্রা ১৯৮ অথবা ১৮৯। কোলেস্টেরলের এই মাত্রা নিয়ে বিমর্ষ হওয়ার কিছু নেই। দেখে নিন আপনার এইচডিএল (হাইডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) বা ভাল কোলেস্টেরল মাত্রা। তারপর হিসেব করে নিন টোটাল কোলেস্টেরল এবং এইচডিএল-এর। যদি এই অনুপাত ৪ এর নিচে থাকে তবে আপনি রিলাক্স মুডে থাকতে পারেন। তখন সত্যিকার অর্থেই আপাতত হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থেকে আপনি মুক্ত বলে ধরে নিতে পারেন। কাজেই টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা ২০০ -র বেশি হলেই যে তা ঝুঁকিপূর্ণ হবে এক্ষেত্রে সেটা প্রযোজ্য নয়। কারণ উচ্চ মাত্রার এইচডিএল (ভাল জাতের কোলেস্টেরল) হার্ট অ্যাটাকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। কিন্তু কোলেস্টেরল মাত্রা ৩০০-এর বেশি থাকাটা আসলেই খুব বেশি বলে ধরে নিতে হবে।   জেনে নিন আসল অবস্থা কোলেস্টেরল মাত্রা বারবার পরখ করতে অনীহা করবেন না। কারণ অধিকাংশ ডাক্তারই রক্তের লিপিড প্রোফাইল জেনে নেয়ার উপদেশ দিয়ে থাকেন। কিন্তু একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না যে ঝুঁকিটা হৃদপিণ্ড নিয়ে। হৃদপিণ্ড নিয়ে কতটুকু ঝুঁকি নেয়া  উচিত হবে সে বিষয়টা অবশ্যই আপনাকে ভাবতে হবে। হৃদপিণ্ডের করোনারি আর্টারি বা ধমনীগুলো হচ্ছে বিপজ্জনক চরিত্রের। অসুস্থ করোনারি আর্টারি আপনার কর্মচাঞ্চল্য কেড়ে নেবে। বঞ্চিত করবে আনন্দ থেকে। সবার কাছ থেকে অকালে আপনাকে সরিয়ে নিয়ে যেতে পারে।   কাজেই সন্দেহ দূর করে স্বস্তিতে জীবন যাপনের জন্য কোলেস্টেরলের সার্বিক চিত্রটি জেনে নেয়া দরকার। শুধু কোলেস্টেরলের মাত্রা জানলেই চলবে না। সেই সঙ্গে জানতে হবে এইচ.ডি.এল., এল.ডি.এল. ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা এবং টোটাল কোলেস্টেরল ও এইচডিএল এর অনুপাত। বিশেষজ্ঞরা প্রথমবার কোলেস্টেরল মাত্রা দেখার ৮ সপ্তাহ পর দ্বিতীয়বার কোলেস্টেরল মাত্রা দেখে থাকেন।   যদি কারো কোলেস্টেরল মাত্রা স্বাভাবিক থাকে তাহলে প্রতি ৫ বছর অন্তর কোলেস্টেরলের বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে হবে। আর কোলেস্টেরল মাত্রা অস্বাভাবিক থাকলে একই পরীক্ষাগুলো ১ বছর অন্তর কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করানো উচিত।   প্রলোভন ত্যাগ করতে হবে চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি। অবাক ব্যাপার হচ্ছে পশুদের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে শোনা যায় না। যদিও অনেক পশু শুধু মাংস খেয়েই  বেঁচে থাকে। কিন্তু তারপরও পশুদের হার্ট অ্যাটাক জাতীয় রোগ হয় না। কারণ পশুর স্বল্পদৈর্ঘে্যর খাদ্য নালিটি এমনভাবে ডিজাইন করা যা শাক সবজি হজমের জন্য বেশি উপযোগী। যার ফলে পশুর শরীরে শোষিত কোলেস্টেরলের প্রায় পুরোটাই ভাল জাতের কোলেস্টেরল এইচ.ডি.এল.। কিন্তু মানুষের পরিপাকতন্ত্র সে তুলনায় অনেক দীর্ঘ বলে অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর খারাপ জাতের কোলেস্টেরল এইচ.ডি.এলই বেশি শোষিত হয়। কাজেই কোলেস্টেরল মাত্রা কমানোর মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে চাইলে পশুচর্বি বর্জন করতে হবে বিশেষভাবে। এতে রক্তে খারাপ জাতের কোলেস্টেরল এল.ডি.এল-এর মাত্রা কমে যাবে। পাশাপাশি যদি শাক সবজি খাওয়ার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়া যায় সে ক্ষেত্রে শাক সবজির এন্টি অক্সিডেন্ট রক্তনালীর ভিতরের দেয়ালে খারাপজাতের কোলেস্টেরল এল.ডি.এল-এর আঠালোভাবে লেগে থাকার প্রবনতা হ্রাস করে।   চর্বি পরিহার এবং ব্যায়াম একসঙ্গে চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার এবং ব্যায়াম একসঙ্গে চালাতে হবে। কারণ চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললে খারাপ জাতের কোলেস্টেরল এল.ডি.এল-এর মাত্রা কমে। অন্যদিকে ব্যায়াম করলে ভালো জাতের কোলেস্টেরল এইচ.ডি.এল-এর মাত্রা বাড়ে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ১ মি.গ্রা. এল.ডি.এল-এ যে পরিমাণ ক্ষতি হয়, একই পরিমান এইচ.ডি.এল-এ তার চেয়ে তিনগুণ উপকার হয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিদিন অন্তত ২ মাইল হাঁটা উচিত।   যা হোক কথা হচ্ছিল কোরবানি নিয়ে। কোরবানি অর্থাৎ কোরবানির মাংস নিয়ে বলতে গিয়ে বলা হয়ে গেছে কোলেস্টেরল সম্পর্কে, সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক সম্পর্কেও বলা হয়েছে। শেষ করার আগে একটা কথা বলে রাখি, কোরবানির মর্মকথা হচ্ছে আত্মত্যাগ। কোরবানিতে মাংস ভোজনের ব্যাপারে আত্মত্যাগের মহিমাকে অনুসরণ করলেই কিন্তু বাড়তি কোলেস্টেরলের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। কোলেস্টেরল নিয়ে আলোচনার ইতি টানতে চাই এখানেই।

Comments

Comments!

 কোরবানি ঈদ এবং কোলেস্টেরলAmarbangladeshonlineAmarbangladeshonline | Amarbangladeshonline

কোরবানি ঈদ এবং কোলেস্টেরল

Friday, September 9, 2016 11:04 am
sajal1473387319

কোরবানি ঈদ এবং কোলেস্টেরল-এ দুয়ের মাঝে নীরব একটা সম্পর্ক রয়েছে। কোরবানি মানেই খাবার দাবারের ক্ষেত্রে বাড়তি চর্বির উপস্থিতি। লালমাংস, পোলাও এবং চর্বি-ঘি এর মিলনমেলা হচ্ছে কোরবানি ঈদের ডাইনিং টেবিল। শুধু কোরবানিই নয়, যে কোন নিমন্ত্রণের ভোজন পর্বেও একই দৃশ্য চোখে পড়বে। তেলে মাথায় তেল দেয়ার মতো করে অভিজাত মানুষের ভোজনপর্বকে আলো করে থাকে চর্বির ঝলক। তাই যে কোন নিমন্ত্রণ মানেই চর্বিযুক্ত খাবারের বিপুল সমাহার। খাওয়ার পর এই চর্বি বাসা বাঁধে মানুষের রক্তে, বেড়ে যায় রক্তের কোলেস্টেরল মাত্রা। কোলেস্টেরল মাত্রা বেশি থাকা মানেই রক্তে শত্রুর সঙ্গে বসবাস। রক্তের বাড়তি কোলেস্টেরল হৃদুপিণ্ডের মাংসপেশিকে নির্জীব মৃতাবস্থায় নেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। এ কারণেই কোরবানির ভোজনে কোলেস্টেরলের কথা মনে রাখতে হবে, বিশেষ করে যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি কিংবা বিপদসীমার কাছাকাছি রয়েছে। উৎসব আনন্দের আতিশয্যে শত্রু কোলেস্টেরলের কথা যেন ভুলে না যান সেটাই স্মরণ করিয়ে দিতে চাই এ লেখার মাধ্যমে।

কোলেস্টেরল একটি আলোচিত বিষয়। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে কোলেস্টেরল একটি ভীতিকর উপাদান। বয়স চল্লিশের কোঠায় পৌঁছানোর পর রক্তের কোলেস্টেরল মাত্রা জেনে নেয়া প্রয়োজন। কারণ কোলেস্টেরল নীরবে আপনার মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। মানুষের শরীরের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী দুটি অঙ্গের অসুস্থতার জন্যই কোলেস্টেরলকে দায়ী করা যায়। হৃদপিণ্ডের হার্ট অ্যাটাক এবং মস্তিষ্কের স্ট্রোক এ দুয়ের জন্য অনেক সময়েই কোলেস্টেরলকে দোষারোপ করা হয়ে থাকে।

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ে অনেকের মাঝেই বিভ্রান্তি রয়েছে। কেউ কেউ রক্তে টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা ২০০ মিগ্রা/ডিএল থাকলেই নিরাপদ বলে মনে করেন। আসলে ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০ মিগ্রা/ডিএল বা তার নিচে হলে তাকে নিরাপদ মাত্রা বলা যায়। সাধারণভাবে নিরাপদ মাত্রার কোলেস্টেরল থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কম। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০-২০০ থাকা সত্বেও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি যখন কোলেস্টেরল মাত্রা ৩০০ থাকে তারচেয়েও দ্বিগুণ হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে ১৬ বছর মেয়াদী আমেরিকার এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০-২০০ এর মধ্যে তাদের প্রায় শতকরা ৩৫ ভাগ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। তাই কোলেস্টেরল নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে এ সম্পর্কে সচেতন হওয়াটাই হচ্ছে আসল কাজ। সেই সঙ্গে কোলেস্টেরল মাত্রা কমানোর ব্যবস্থাও নিতে হবে।

 

চর্বি বাড়লে ক্ষতি কী?
রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা ১৫০-এর বেশি হলে ধমনীর অভ্যন্তরীণ দেয়ালে তা জমতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে পুঞ্জীভূত হয়ে প্লাক বা পিণ্ডের মত হয়ে সেখানে লেগে থাকে। ফলে রক্ত প্রবাহের পথ সংকীর্ণ হয়ে বাধাগ্রস্ত হতে থাকে। এভাবে রক্তনালী বিশেষ করে ধমনীর পথ বন্ধ হয়ে যায় কিংবা রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা হৃদপিণ্ডে ঘটলেই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।

 

কোলেস্টেরল মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঘটনাকে সিঁড়ির সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০ থেকে যত উপরে উঠবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তত বেশি বাড়বে। কিন্তু কোলেস্টেরল মাত্রার এই উর্ধ্বগতি রোধ করা সম্ভব বা কমিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়া শুধু টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা সম্পর্কে ধারণা নিলেই চলবে না, সার্বিক কোলেস্টেরল সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে। তবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে হলে টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০ এর নিচে রাখতে হবে।

 

কোলেস্টেরল মাত্রা পুনরায় গণনা
ধরুন আপনি সুস্থ আছেন কিন্তু কোলেস্টেরল মাত্রা ১৯৮ অথবা ১৮৯। কোলেস্টেরলের এই মাত্রা নিয়ে বিমর্ষ হওয়ার কিছু নেই। দেখে নিন আপনার এইচডিএল (হাইডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন) বা ভাল কোলেস্টেরল মাত্রা। তারপর হিসেব করে নিন টোটাল কোলেস্টেরল এবং এইচডিএল-এর। যদি এই অনুপাত ৪ এর নিচে থাকে তবে আপনি রিলাক্স মুডে থাকতে পারেন। তখন সত্যিকার অর্থেই আপাতত হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থেকে আপনি মুক্ত বলে ধরে নিতে পারেন। কাজেই টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা ২০০ -র বেশি হলেই যে তা ঝুঁকিপূর্ণ হবে এক্ষেত্রে সেটা প্রযোজ্য নয়। কারণ উচ্চ মাত্রার এইচডিএল (ভাল জাতের কোলেস্টেরল) হার্ট অ্যাটাকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। কিন্তু কোলেস্টেরল মাত্রা ৩০০-এর বেশি থাকাটা আসলেই খুব বেশি বলে ধরে নিতে হবে।

 

জেনে নিন আসল অবস্থা
কোলেস্টেরল মাত্রা বারবার পরখ করতে অনীহা করবেন না। কারণ অধিকাংশ ডাক্তারই রক্তের লিপিড প্রোফাইল জেনে নেয়ার উপদেশ দিয়ে থাকেন। কিন্তু একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না যে ঝুঁকিটা হৃদপিণ্ড নিয়ে। হৃদপিণ্ড নিয়ে কতটুকু ঝুঁকি নেয়া  উচিত হবে সে বিষয়টা অবশ্যই আপনাকে ভাবতে হবে। হৃদপিণ্ডের করোনারি আর্টারি বা ধমনীগুলো হচ্ছে বিপজ্জনক চরিত্রের। অসুস্থ করোনারি আর্টারি আপনার কর্মচাঞ্চল্য কেড়ে নেবে। বঞ্চিত করবে আনন্দ থেকে। সবার কাছ থেকে অকালে আপনাকে সরিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

 

কাজেই সন্দেহ দূর করে স্বস্তিতে জীবন যাপনের জন্য কোলেস্টেরলের সার্বিক চিত্রটি জেনে নেয়া দরকার। শুধু কোলেস্টেরলের মাত্রা জানলেই চলবে না। সেই সঙ্গে জানতে হবে এইচ.ডি.এল., এল.ডি.এল. ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা এবং টোটাল কোলেস্টেরল ও এইচডিএল এর অনুপাত।
বিশেষজ্ঞরা প্রথমবার কোলেস্টেরল মাত্রা দেখার ৮ সপ্তাহ পর দ্বিতীয়বার কোলেস্টেরল মাত্রা দেখে থাকেন।

 

যদি কারো কোলেস্টেরল মাত্রা স্বাভাবিক থাকে তাহলে প্রতি ৫ বছর অন্তর কোলেস্টেরলের বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে হবে। আর কোলেস্টেরল মাত্রা অস্বাভাবিক থাকলে একই পরীক্ষাগুলো ১ বছর অন্তর কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করানো উচিত।

 

প্রলোভন ত্যাগ করতে হবে চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি। অবাক ব্যাপার হচ্ছে পশুদের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে শোনা যায় না। যদিও অনেক পশু শুধু মাংস খেয়েই  বেঁচে থাকে। কিন্তু তারপরও পশুদের হার্ট অ্যাটাক জাতীয় রোগ হয় না। কারণ পশুর স্বল্পদৈর্ঘে্যর খাদ্য নালিটি এমনভাবে ডিজাইন করা যা শাক সবজি হজমের জন্য বেশি উপযোগী। যার ফলে পশুর শরীরে শোষিত কোলেস্টেরলের প্রায় পুরোটাই ভাল জাতের কোলেস্টেরল এইচ.ডি.এল.। কিন্তু মানুষের পরিপাকতন্ত্র সে তুলনায় অনেক দীর্ঘ বলে অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর খারাপ জাতের কোলেস্টেরল এইচ.ডি.এলই বেশি শোষিত হয়। কাজেই কোলেস্টেরল মাত্রা কমানোর মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে চাইলে পশুচর্বি বর্জন করতে হবে বিশেষভাবে। এতে রক্তে খারাপ জাতের কোলেস্টেরল এল.ডি.এল-এর মাত্রা কমে যাবে। পাশাপাশি যদি শাক সবজি খাওয়ার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়া যায় সে ক্ষেত্রে শাক সবজির এন্টি অক্সিডেন্ট রক্তনালীর ভিতরের দেয়ালে খারাপজাতের কোলেস্টেরল এল.ডি.এল-এর আঠালোভাবে লেগে থাকার প্রবনতা হ্রাস করে।

 

চর্বি পরিহার এবং ব্যায়াম একসঙ্গে
চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার এবং ব্যায়াম একসঙ্গে চালাতে হবে। কারণ চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললে খারাপ জাতের কোলেস্টেরল এল.ডি.এল-এর মাত্রা কমে। অন্যদিকে ব্যায়াম করলে ভালো জাতের কোলেস্টেরল এইচ.ডি.এল-এর মাত্রা বাড়ে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ১ মি.গ্রা. এল.ডি.এল-এ যে পরিমাণ ক্ষতি হয়, একই পরিমান এইচ.ডি.এল-এ তার চেয়ে তিনগুণ উপকার হয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিদিন অন্তত ২ মাইল হাঁটা উচিত।

 

যা হোক কথা হচ্ছিল কোরবানি নিয়ে। কোরবানি অর্থাৎ কোরবানির মাংস নিয়ে বলতে গিয়ে বলা হয়ে গেছে কোলেস্টেরল সম্পর্কে, সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক সম্পর্কেও বলা হয়েছে। শেষ করার আগে একটা কথা বলে রাখি, কোরবানির মর্মকথা হচ্ছে আত্মত্যাগ। কোরবানিতে মাংস ভোজনের ব্যাপারে আত্মত্যাগের মহিমাকে অনুসরণ করলেই কিন্তু বাড়তি কোলেস্টেরলের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। কোলেস্টেরল নিয়ে আলোচনার ইতি টানতে চাই এখানেই।

Comments

comments

সম্পাদক : মোহাম্মদ আবদুল বাছির
প্রকাশক: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম
ফোন : ‎০১৭১৩৪০৯০৯০
৩৪৫/১, দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা-১০০০
X
 
নিয়মিত খবর পড়তে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন
X